Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২৫০০ টাকা

প্রতিটি শ্রমিকের পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড * ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর * পুনর্বিবেচনার দাবি শ্রমিক সংগঠনগুলোর

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২৫০০ টাকা

Advertisement

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃদ্ধির হার প্রায় ৫৬ শতাংশ। এর সঙ্গে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট (বেতন বৃদ্ধি) পাবেন শ্রমিকরা। ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। যদিও ঘোষিত মজুরি অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলো তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা, বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, বিকেএমইএর সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। মালিক এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এই কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। তিনি শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের রেশনের দাবি আছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একটি পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড নির্ধারিত থাকবে। পরবর্তী সময়ে এই কার্ডের মাধ্যমে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন প্রজ্ঞাপনে মজুরি কাঠামোতে পাঁচটি গ্রেড থাকবে। ন্যূনতম মজুরি ১২৫০০ টাকার মধ্যে মূল বেতন হবে ৭ হাজার ৮৭৫ টাকা। যা শতকরার হিসাবে ৬৩ শতাংশ। এর সঙ্গে যোগ হবে পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট। এছাড়া অন্যান্য ভাতাসহ মোট বেতন দাঁড়াবে ১২৫০০ টাকা। 

বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শ্রমিকরা নতুন কাঠামোতে বেতন পাবেন। শিগগিরিই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হবে। এতে কোনো সংশোধন থাকলে ১৪ দিনের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে হবে। কোনো আপত্তি না থাকলে ২ সপ্তাহ পরের মিটিংয়ে গেজেট চূড়ান্ত করা হবে। শ্রমিক প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, সার্বিক বিবেচনায় সরকার ঘোষিত ১২ হাজার ৫০০ টাকা মজুরি আমরা মেনে নিয়েছি। শ্রমিকদের কাজে যোগদানের অনুরোধ জানান তিনি।

পুনর্বিবেচনার দাবি : এদিকে ঘোষিত মজুরি অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে মজুরি বৃদ্ধিতে গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের ব্যানারে ১১টি সংগঠন। এছাড়াও কয়েকটি সংগঠন মজুরি ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভ মিছিল করে। 

মজুরি বৃদ্ধিতে গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের আহ্বায়ক তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাদেকুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। 

এতে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাসুদ রেজা, গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সবুজ, ওএসকে গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি ইয়াসিন আলী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ, বিপ্লবী গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, জাতীয় সোয়েটার গার্মেন্টস ফেডারেশনের সভাপতি এএম ফয়েজ হোসেন ও গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব ভট্টাচার্য, রাষ্ট্র সংস্কার শ্রমিক আন্দোলনের নেতা শাহ আলম প্রমুখ। সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, গত পাঁচ বছরে শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। অন্যদিকে দেশে মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের অবস্থা ভয়াবহ। 

সাধারণ যৌক্তিক নিয়মেই শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কথা ছিল। ৫ বছর পর মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে। কিন্তু সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রস্তাব দেওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের কশাঘাতে জর্জরিত শ্রমিকদের ক্ষোভকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। বোর্ডের প্রস্তাব শ্রমিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম