Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

কারামুক্তির পরদিনই নৌকায় শাহজাহান

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কারামুক্তির পরদিনই নৌকায় শাহজাহান

ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম

Advertisement

কারামুক্তির পরদিনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে গেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। আসন্ন নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নৌকার টিকিট নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান শাহজাহান ওমর। এ সময় বিএনপি থেকে পদত্যাগের কথাও জানান তিনি। যদিও তার এক ঘণ্টা পর তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। 

গত ৪ নভেম্বর রাতে শাহজাহান ওমরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে বাসে আগুন দেওয়ার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ওই মামলায় তাকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বুধবার বিকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান শাহজাহান ওমর। পরদিন বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। ঢাকা থেকে অনলাইনে ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তার দাবি, স্বেচ্ছায় বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে গেছেন। 
রাজধানীর পান্থপথের নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন শাহজাহান ওমর। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃহস্পতিবার দেখা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখা হতেই পারে।’ জয়ের নিশ্চয়তা পেয়ে নির্বাচন করছেন কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দাখিল করতে বলেছেন, করেছি। নৌকার প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছি, আর কী চান।’

বিএনপি ছাড়ার কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে চলা সম্ভব না হওয়ায় দলটির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। জিয়াউর রহমানের রাজনীতি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতি আরও উন্নত। তাই নৌকার হয়ে ভোট করব।’

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে শাহজাহান ওমর বলেন, ‘ওরা (বিএনপি) যাচ্ছে (নির্বাচনে) না, আমি কী করব? স্বতন্ত্রে যাব কেন? স্বতন্ত্রে যাওয়া মানে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা। যেহেতু বিএনপি করছে (নির্বাচন) না। আর যেখানে আমার অপশন আছে, সেখানে স্বতন্ত্রে যাব কেন, নাচতে নামছি যখন, ঘোমটা দিলে হবে নাকি। স্বতন্ত্র বলতে কোনো জিনিস আছে নাকি? স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশ নেব কেন, যখন বেটার অপশন আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়ার রাজনীতি ছেড়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে আসা, আমি তো মনে করি এটা প্রমোশন। বিএনপির ২০১৪ সালে নির্বাচনে না যাওয়া ভুল ছিল। ২০১৮-তে নির্বাচনে যাওয়া ভুল ছিল। এবারও নির্বাচনে যাওয়া উচিত ছিল। নির্বাচনে গিয়ে দেখতাম কারচুপি হয় কি না?’

শাহজাহান ওমর বলেন, ‘আসলে বিএনপিতে কেউ কোনো কথা বলতে চায় না। শুধু তারেক রহমান বিষয় না। সব মিলিয়ে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছিলাম না। বিএনপি থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে ২০২২-এ আমি চিঠি দিয়েছি। আমি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি।’

একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল-বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা কি মেনে নেবেন? আরেক প্রার্থীকে সরিয়ে আপনাকে মনোনয়ন দেওয়া হলো-আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই কি তা মানবে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘কোয়ালিটি ম্যাটারস। আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কী করবে, সেটা তাদের বিষয়। নির্বাচিত হলে এলাকার জনগণকে শান্তি দিতে চাই।’ 

সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম-এর বিষয়ে মূল্যায়ন জানতে চাইলে শাহজাহান ওমর বলেন, ‘ওগুলো তো ফকিরনি পার্টি। দুই-তিন কোটি টাকা নিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছে। যোগ্যতা থাকলে সরাসরি যাও। যোগ্যতা আছে বিধায় নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন।’

এদিকে শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা দেওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তাই বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এর আগে শাহজাহান ওমর ঝালকাঠি-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া বিএনপি সরকারের আমলে আইন প্রতিমন্ত্রী ও ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

যুগান্তরের ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠি-১ আসনে (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাহজাহান ওমরের চেম্বারের এক আইনজীবী জানান, জামিনে মুক্তির পর বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের বাধা উপেক্ষা করে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শাহজাহান ওমর। সাক্ষাৎ শেষে তিনি নৌকার মনোনয়ন চূড়ান্ত করে চিঠি নিয়ে অনলাইনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পরে তা পূরণ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার ওয়েবসাইটে দাখিল করেন। রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন অনলাইনে মনোনয়নপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‘ওস্তাদের’ সঙ্গে নেই কোনো শিষ্য : আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর শিষ্যদের পাশে পাচ্ছেন না ‘ওস্তাদ’ শাহজাহান ওমর (এলাকায় তাকে সবাই ‘ওস্তাদ’ বলে ডাকে)। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজাপুর বাঘরি এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে শাহজাহান ওমরকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন দীর্ঘ দিনের শিষ্য উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিম আকন। তিনি বলেন, আমরা তাকে অনেক বুঝিয়েছি, তিনি আমাদের কথা শোনেননি। আমরা তার সঙ্গে নেই, যতদিন বেঁচে থাকব বিএনপির সঙ্গে থাকব। তিনি অনেক বড় মানুষ, এখন আমরা ছোট মানুষরা মিলেমিশে বিএনপি করব। 

নাসিম আকন আরও বলেন, শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজাপুরে তার বাসভবনের কেয়ারটেকার বাইপাস মোড়ে বিএনপি অফিস থেকে সাইনবোর্ড খুলে ফেলেছে এবং আসবাবপত্র ফেলে দিয়েছে। আমি একদিন সময় চেয়েছিলাম আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য। শুনছি এখন এই অফিসে নৌকা প্রতীকের কার্যক্রম চালানো হবে। 

দ্বিধাবিভক্ত রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট খাইরুল আলম সরফরাজ বলেন, আমাদের আসনে আগে যাকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল সেই বিএইচ হারুনের সঙ্গে আমরা ছিলাম না, আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী করেছি মনিরুজ্জামান মনিরকে, আমরা এখন পর্যন্ত তার নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড় আছি। তারপরও যদি আনুষ্ঠানিক প্রতীক বরাদ্দের পর কেন্দ্র থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয় তাহলে আমরা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেব। তবে শাহজাহান ওমর আমাদের সঙ্গে একটু কথা বলে যোগ দিলে ভালো হতো। তিনিও আমাদের কিছু বলেননি, দলও আমাদের কিছু জানায়নি।
 

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কক্সবাজারে রিসোর্টে ১০ পর্যটকের মৃত্যু আগুনে শেষ আনন্দভ্রমণ

আগুনে শেষ আনন্দভ্রমণ

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন এমন প্রধানমন্ত্রীই চায় জনগণ

এমন প্রধানমন্ত্রীই চায় জনগণ

এনসিটিবির দরপত্রে বড় কারসাজি বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপতে মিলেমিশে লুটপাট

বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপতে মিলেমিশে লুটপাট

সতর্ক করার পরও ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট: ফায়ার সার্ভিস ডিজি

সতর্ক করার পরও ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট: ফায়ার সার্ভিস ডিজি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম