ইসিতে তিন শতাধিক ওসি বদলির প্রস্তাব
তালিকায় আরও একশ ইউএনও
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন ও পুলিশে বড় রদবদল আসন্ন। দ্বিতীয় দফায় আরও একশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বদলি হচ্ছেন। এছাড়া সারা দেশের তিন শতাধিক ওসিকে (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বর্তমান কর্মস্থল থেকে অন্য থানায় বদলি করা হবে। এ সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ইউএনও বদলির প্রস্তাব পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং ওসি বদলের প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়াটার্স। গতকাল বুধবার প্রস্তাব দুটি নির্বাচন কমিশনে এসে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশন এতে সম্মতি দিলে বদলির আদেশ জারি হবে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে প্রথম ধাপে গত সোমবার একদিনেই ৪৭ জন ইউএনওকে বদলির জন্য জনপ্রশাসন থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয় ইসিতে। ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেয় ইসি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব নাম গোপন রাখার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, কাজটি ধাপে ধাপে হচ্ছে। একশ ইউএনও’র বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। কমিশন থেকে তা চূড়ান্ত করবে। তিনি আরও জানান, কয়েকদিনের মধ্যে জনপ্রশাসনের রদবদল শেষ হয়ে যাবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে যে কোনো সময় যে কাউকে বদলির ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) বদলির কোনো নির্দেশরা এখনো পাইনি। তবে অনিয়মের নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিশন যখন-তখন ডিসি বদলির নির্দেশ দিতে পারে। যারা এক বছরের বেশি ইউএনও হিসাবে কর্মস্থলে ছিলেন, তাদেরই বদল করা হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। নির্বাচন কমিশন যেভাবে বলেছে, সেই অনুসারে বিভাগীয় কমিশনাররা তালিকা তৈরি করছেন।
নির্বাচন কমিশন ও জনপ্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে আসন্ন রদবদলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম প্রস্তাব পেয়েছেন বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে তিনি যুগান্তরকে বলেন, বদলির প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। ওই প্রস্তাব কমিশনে উত্থাপন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের চিঠি অনুযায়ী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) কামরুল আহসান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী বদলিযোগ্য ওসিদের তালিকা পাঠিয়েছি। তালিকাটি নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করলে সেই অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানান, সারা দেশে চার শতাধিক ওসি রয়েছেন। তাদের মধ্যে একই থানায় ছয় মাসের বেশি ওসি রয়েছে এমন কর্মকর্তার সংখ্যা তিনশর বেশি।
রেঞ্জভিত্তিক তাদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তারা আরও বলেন, পুলিশে একসঙ্গে বড় ধরনের রদবদল করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ কারণে ইসির বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী গত ৫ ডিসেম্বর প্রস্তাব পাঠানো সম্ভব হয়নি। যদিও পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। ইসি ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তাব পাঠাতে বলেছে। আমরা ৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই সঙ্গে এত সংখ্যক ওসি রদবদল করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের চাওয়া অনুযায়ী এবার তা করা হচ্ছে।
গত ১৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হয়। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর। আর ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। নির্বাচনে প্রচার শুরুর আগেই বদলির কাজ শেষ করতে চায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপ্রশাসন ও পুলিশে বড় ধরনের রদবদল করতে সরকারকে চিঠি দিয়েছিল ইসি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে এ চিঠি দেওয়া হয়। দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) পর্যায়ক্রমে বদলি করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে গত ৩০ নভেম্বর পৃথক চিঠি দেয় কমিশন। ওই চিঠিতে এক বছরের বেশি সময় থাকা ইউএনও এবং ছয় মাসের বেশি সময় থাকা ওসিদের বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বলা হয়।
আরও জানা গেছে, বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যদের বেশিরভাগই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন। মাঠপ্রশাসন ও পুলিশের অনেক কর্মকর্তা একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকার কারণে তাদের অনেকের সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এ পদেক্ষপ নিয়েছে।
