নির্বাচন থেকে চলে যাওয়ার জন্য আসেনি জাতীয় পার্টি
বনানীতে জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলনে মুজিবুল হক চুন্নু
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচন করার জন্য এসেছে। নির্বাচন থেকে চলে যাওয়ার জন্য আসেনি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে শুধু ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ চেয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এটাই আমাদের মূল দাবি। এটুকু হলেই নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
মঙ্গলবার বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মো. মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, নির্বাচনে আসছি নির্বাচন করার জন্য, চলে যাওয়ার জন্য নয়। কেউ যদি বিশ্বাস না করেন, সেটা উনাদের বিষয়। আমরা বিশ্বাস, অবিশ্বাসের প্রশ্নে নেই। নির্বাচন হলো সরকার পরিবর্তনের পথ। এবারের ভোটে যেহেতু বিএনপি আসেনি, অ্যান্টি আওয়ামী লীগ ভোট অনেক বেশি। সেই ভোট আমরা পাব। এটা আশা করে নির্বাচনে এসেছি। সেই ভোটটা পেতে গেলে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ দরকার। পরিবেশ যদি সুষ্ঠু হয়, মানুষ যদি কেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন তাহলে এবার আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি। সমঝোতার বিষয় জানি না। আমরা শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলেছি। আজকে বা কালকেও এ নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
জাতীয় পার্টিকে বিশ্বাস করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারে বলেও তিনি মনে করছেন-গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো কথা বলার সুযোগ নেই। আমাদের বিশ্বাস করবেন কি-না, করেন কি-না, সেটা উনার বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কোনো কমেন্টস নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে আমার নেতাকর্মীদের এলাকায় কারও কাছে ভোট চাওয়া, জনসংযোগ-প্রচার করতে বারণ করেছি। প্রার্থীরা যার যার এলাকায় আছেন। জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সাংগঠনিক কাজকর্ম করে যাচ্ছেন।
পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদের গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার বিষয়ে মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, তিনি (রওশন এরশাদ) গণভবনে গিয়েছেন কিনা সেটি আমি জানি না। তবে উনি যেতেই পারেন। যে কোনো মানুষের যাওয়ার সুযোগ আছে। রওশন এরশাদ সংসদের বিরোধী দলের নেতা। তিনি সংসদ নেতার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে যে কোনো সময়, যে কোনো বিষয়ে দেখা করতেই পারেন। এটা খুব ইজি বিষয়, আনকমন বিষয় নয়।
তিনি বলেন, ম্যাডাম আমাদের পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক। উনি নির্বাচন করুক, উনার ছেলে করুক এবং উনার (রওশন এরশাদ) ইচ্ছামতো আরেকজন করুক। তিনজনের জন্য মনোনয়নপত্র নিয়ে আমরা অপেক্ষা করেছি। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগের দিন রাত ১০টা পর্যন্ত বসেছিলাম। রওশন এরশাদকে বলেছি আপনি চাইলে আমি নিজে আপনার বাসায় মনোনয়নপত্র নিয়ে যাব। কিন্তু উনি আমাকে মনোনয়ন নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেননি। পরে রওশন এরশাদ বলেছেন, তিনি নির্বাচনে যাবেন না। ম্যাডাম ভোটে এলে আমাদের জন্য ভালো হতো, কর্মীরাও খুশি হতো। ম্যাডাম না আসায় আমরা দুঃখিত।
মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, পশ্চিমারা যা চায় বাংলাদেশের মানুষও তা চায়। যদিও আমরা চাই না বাইরের কেউ কথা বলুক। কিন্তু তাদের কথা বলার সুযোগ আমরাই করে দিয়েছি। কিন্তু তাদের বক্তব্যটা সঠিক। আমরাও চাই যাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়। এই দাবির কারণে নির্বাচন কমিশন ও শাসক দলের সঙ্গে বৈঠক করছি।
