Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

হেলিকপ্টার নিয়ে পাহাড়ে অভিযান

আরও দুই আসামি গ্রেফতার

হিন্দু সেজে মন্দিরে ২৩ দিন

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আরও দুই আসামি গ্রেফতার

আ.লীগ নেতা গ্যাস বাবুকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে মোবাইল উদ্ধারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ -যুগান্তর

Advertisement

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো- মোস্তাফিজুর রহমান ও ফয়সাল আলী। বুধবার এই দুজনকে ধরতে পার্বত্য এলাকা খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামে হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এদিন পার্বত্য এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পাহাড়ি এলাকার একটি কালী মন্দিরে তারা পলাশ ও শিমুল রায় নামে হিন্দু সেজে গত ২৩ দিন ধরে অবস্থান করছিল। ডিবি জানিয়েছে, সেখান থেকে দেশের বাইরে পালানোর চেষ্টা করছিল তারা। 

ডিএমপির (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, ফয়সাল ও মোস্তাফিজকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আনার হত্যায় সরাসরি জড়িত সাতজনই গ্রেফতার হলো। এখন চাঞ্চল্যকর এই খুনের মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনসহ অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। 

এদিকে ঝিনাইদহে দুটি পুকুরে অভিযান চালিয়েও উদ্ধার করা যায়নি গ্যাস বাবুর তিনটি মোবাইল ফোনের একটিও। বুধবার বাবুকে সঙ্গে নিয়ে ডিবির দল অভিযান চালায়। এর আগে তিনটি মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে বাবু থানায় জিডি করেন। ওই জিডির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গত ৫ জুন তাকে গ্রেফতার করে ডিবি। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার পর ডিবির কাছে স্বীকার করে, তার মোবাইল ফোনগুলো হারিয়ে যায়নি। তিনি নিজেই দুটি পুকুরে মোবাইল ফোনগুলো ফেলে দিয়েছেন। কারণ ওই মোবাইল ফোনে এমপি আনার হত্যার আলামত রয়েছে। ফয়সাল এবং মোস্তাফিজকে গ্রেফতারের পর বুধবার হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নেমে পূর্বাচলে এবং ডিবির নিজ কার্যালয়ে পৃথক ব্রিফিং করেন ডিএমপির ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। 

তিনি বলেন, এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হলেন আক্তারুজ্জামান শাহীন। আর মূল সমন্বয়কারী হলেন আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া। শিমুল ভূঁইয়ার পরই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী তারা হলো ফয়সাল এবং মোস্তাফিজ। কলকাতার সঞ্জীবা গার্ডেনের যে বাসায় এমপি আনারকে হত্যা করা হয়, সেখানে শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফয়সাল, মোস্তাফিজ এবং জিহাদ। ফয়সাল ও মোস্তাফিজের মধ্যে একজন চেতনানাশক দিয়ে এমপিকে অচেতন করেন। অন্যজন এমপির মৃতহেদ উলঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে চেয়ারে বসায়। ১৩ মে হত্যাকাণ্ডের পর তারা ১৯ মে বাংলাদেশে আসে। হত্যাকাণ্ডে এ দুজন মাত্র ৩০ হাজার টাকা পায়। 

সূত্রমতে, এমপি আনার হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত সাতজনের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশে এবং দুজন ভারতে আছেন। ফয়সাল এবং মোস্তাফিজ ছাড়া বাংলাদেশে গ্রেফতার অন্যরা হলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, হত্যাকাণ্ডের সমন্বয়ক আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিমুল ভূঁইয়ার চাচাতো ভাই তানভীর ভূঁইয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক আক্তারুজ্জামান শাহীনের বান্ধবী সেলেস্তি রহমান। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বাবু, শিমুল ভূঁইয়া, তানভীর ভূঁইয়া এবং সেলেস্তি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, শাহীনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা ইতোমধ্যেই আমেরিকান ইন্টেলিজেন্সকে চিঠি দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তি না থাকলেও ভারতের সঙ্গে তাদের চুক্তি রয়েছে। ভারতে যেহেতু হত্যা মামলা হয়েছে, তাই তারাও শাহীনকে ফেরানোর চেষ্টা করছে। আমরাও চেষ্টা করছি।

ঝিনাইদহ থেকে মিজানুর রহমান জানান, গ্যাস বাবুকে নিয়ে বুধবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অভিযান শুরু করে। বেলা দুইটার দিকে এই অভিযান শেষ হলেও মেলেনি গ্যাস বাবুর নিজের ব্যবহার করা তিন মোবাইলের একটিও। সকালে বাবুকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে জেলা শহরের পায়রা চত্বর এলাকার গাঙুলি মিষ্টান্ন ভান্ডারের পেছনে (উত্তর দিক) আনা হয়। সেখানে একটি পরিত্যক্ত পুকুরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাবুর দেখানো মতে, ময়লা আবর্জনা ভর্তি পুকুরটিতে স্থানীয় ডুবুরি, জেলে এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের নামিয়ে জাল টেনে মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মেলেনি গ্যাস বাবুর মোবাইল। এরপর দ্বিতীয় পুকুর গ্যাস বাবুর নিজ বাড়ি থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামসংলগ্ন পুকুরে জেলে নামানো হয়। এক ঘণ্টা জাল টেনে এবং ১১ জন জেলে ডুব দিয়ে মোবাইল পাওয়ার চেষ্টা করেন। বেলা ২টার দিকে সাময়িকভাবে সমাপ্ত করা হয় অভিযান। 

ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফারুক আযমের নেতৃত্বে এই অভিযান চলে। ডিবির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমানসহ ঢাকা ডিবির ১০ সদস্যের একটি দল অভিযানে অংশ নেন। এছাড়া এনএসআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে মানুষের ঢল নামে। বিপুলসংখ্যক পুলিশসহ গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়।

আদালতের নির্দেশে গ্যাস বাবুকে মঙ্গলবার ১০ দিনে জন্য গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে আনা হয়। ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেলার মহিউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, বেলা ১টা ৩০ মিনিটের দিকে গ্যাস বাবুকে অভিযানস্থল থেকে কারাগারে ফেরত আনা হয়েছে। তাকে রাখা হয়েছে কারাগারের পৃথক একটি সেলে (কক্ষে)। 

এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ হেলিকপ্টারযোগে ঝিনাইদহে যান। পরে বাবুর মোবাইল ফোন উদ্ধার অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন। বেলা অনুমান ২টার দিকে একই হেলিকপ্টারযোগে ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন। ওই হেলিকপ্টারেই তিনি চট্টগ্রাম যান। 

ঝিনাইদহে অবস্থানকালে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় কাউকে হয়রানির জন্য গ্রেফতার, আটক কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। কোনো পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে না। চাপ দেওয়া হলে এত দ্রুত আসামি গ্রেফতার করা যেত না। গ্রেফতার ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ফের মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। যার বিরুদ্ধে ডিজিটাল এভিডেন্স পাওয়া যাবে তাকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 

এদিকে ঝিনাইদহ জেলা শহরে সাইদুল করিম মিন্টুর মুক্তির দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন। অন্যদিকে কালীগঞ্জে এমপি আনার হত্যার বিচারের দাবিতে ইউনিয়ন গ্রামগঞ্জ এবং উপজেলা শহরে চলছে টানা আন্দোলন। বুধবার বিকালে কালীগঞ্জ শহরের ভূষণ স্কুল সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে কালীগঞ্জ ক্রীড়া ফেডারেশন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে ক্রীড়া ফেডারেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী, পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম, ক্রীড়া ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

মেয়র আশরাফুল আলম বলেন, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের দুজন নেতা এমপি আনার হত্যায় জড়িত। তাদের ব্যাপারে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবিলম্বে তাদের বহিষ্কার দাবি করেন তিনি। 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী বলেন, একজন ব্যক্তি যদি অপরাধ করে সেটা তার নিজের ঘাড়েই বর্তাবে। দল তার দায়ভার নেবে না। জেলার দুই শীর্ষ নেতা এমপি আনার হত্যায় জড়িত। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমপি আনার হত্যায় গ্রেফতার ওই দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।
 

Advertisement

গ্রেফতার

Advertisement

আরও পড়ুন

রাতে গুজব দাবি, দিনে সত্যতা স্বীকার প্রতিমন্ত্রীর ইশরাকের নাটকীয় পদত্যাগ

ইশরাকের নাটকীয় পদত্যাগ

নিয়ম ভঙ্গকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা

নিয়ম ভঙ্গকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা

ফ্রান্সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কারফিউ জারি

ফ্রান্সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কারফিউ জারি

স্বৈরাচার ফেরার পথ খুলে দেওয়া হবে শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী

স্বৈরাচার ফেরার পথ খুলে দেওয়া হবে শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম