পর্দা নামল বেসিস সফটএক্সপোর
jugantor
পর্দা নামল বেসিস সফটএক্সপোর

  সাইফ আহমাদ  

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) জমকালো আয়োজন আর পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ১৬তম বেসিস সফটএক্সপোর পর্দা নেমেছে রোববার রাতে। বেসিস সফটএক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। বেসিসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনশ’ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে এবারের বেসিস সফটএক্সপো ২০২০ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় আইসিটি এক্সপো হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ বছর সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেছেন বেসিস সফটএক্সপো-এর ১৬তম আসরে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নজরকাড়া লেজার শো, এলইডি ড্যান্স এবং স্যান্ড আর্ট প্রদর্শনী হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, তথ্যপ্রযুক্তির পালাবদলে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান এবং স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে বেসিস আয়োজিত বেসিস সফটএক্সপোর সাফল্য তুলে ধরা হয় সেখানে।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে উদ্বোধন করা basisegovhub.info। ওই পোর্টালে সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, সরকারি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের টেন্ডারের বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং টেন্ডারের অংশগ্রহণে যাবতীয় তথ্য খুঁজে পাবেন। পোর্টালটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে বেসিস। এটুআইয়ের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন চিফ ই-গভর্নেন্স স্ট্র্যাটেজিস্ট ফরহাদ জাহিদ শেখ এবং বেসিসের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেসিস পরিচালক তামজিদ সিদ্দিক স্পন্দন।

বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং বেসিস সফটএক্সপো ২০২০-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহানা এ রহমান বলেন, এবারের আসরে আমরা সারা দেশ থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। দেশ-বিদেশ থেকে বক্তারা এসেছেন। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ছিল উইমেন জোন। শিক্ষার্থীরা প্রতিটি স্টলেই সিভি জমা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণে এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়। এতে তিনশ’ প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। চার দিনে আমরা নানা আয়োজনে দেশে-বিদেশে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা তুলে ধরতে সফল হয়েছি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে উইমেন জোন থেকে সেরা এক্সিবিটর হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে এলিগ্যান্ট আইটি লিমিটেড। সেরা মিনি প্যাভিলিয়ন নির্বাচিত হয়েছে টিকন সিস্টেম লিমিটেড।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে জেএএন অ্যাসোসিয়েটস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল এইচ কাফি ও লিডস কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আবদুল আজিজকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বেসিস সফটএক্সপো ২০২০-এর নতুন সংযোজন প্রজেক্ট ইনোভেশন জোনের ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫টি প্রকল্পের মধ্যে শীর্ষ ৫টি প্রকল্পকে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশীয় সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য বেসিস সফটএক্সপো এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ প্লাটফর্ম। সরকারি-বেসরকারি খাতে দেশি সফটওয়্যারের গুণগত আর কৌশলগত মান তুলে ধরতে বেসিস কাজ করে যাবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান অতিথি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বেসিস একে অপরের সঙ্গে জড়িত। গত ১১ বছরে সরকার যতগুলো নীতি গ্রহণ করেছে তার সবই বেসিসের সঙ্গে আলোচনা করেই করেছে। বাংলাদেশ আজ সফটওয়্যার রফতানিতে বিলিয়ন ডলার রফতানি করছে। আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ইতিমধ্যে ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে সফটওয়্যার দরকার তা বিদেশ থেকে আমদানি না করে দেশের তথ্য বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর না করে দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানির মাধ্যমেই দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। আগামী ২ বছরে সরকারের যে ২ হাজার কোটি টাকার সফটওয়্যার প্রয়োজন হবে তা দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে করা হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মেলার শেষ দিনেও ১০টি জোনের প্রতিটিই ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ।

পর্দা নামল বেসিস সফটএক্সপোর

 সাইফ আহমাদ 
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) জমকালো আয়োজন আর পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ১৬তম বেসিস সফটএক্সপোর পর্দা নেমেছে রোববার রাতে। বেসিস সফটএক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। বেসিসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনশ’ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে এবারের বেসিস সফটএক্সপো ২০২০ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় আইসিটি এক্সপো হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ বছর সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেছেন বেসিস সফটএক্সপো-এর ১৬তম আসরে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নজরকাড়া লেজার শো, এলইডি ড্যান্স এবং স্যান্ড আর্ট প্রদর্শনী হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, তথ্যপ্রযুক্তির পালাবদলে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান এবং স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে বেসিস আয়োজিত বেসিস সফটএক্সপোর সাফল্য তুলে ধরা হয় সেখানে।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে উদ্বোধন করা basisegovhub.info। ওই পোর্টালে সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, সরকারি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের টেন্ডারের বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং টেন্ডারের অংশগ্রহণে যাবতীয় তথ্য খুঁজে পাবেন। পোর্টালটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে বেসিস। এটুআইয়ের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন চিফ ই-গভর্নেন্স স্ট্র্যাটেজিস্ট ফরহাদ জাহিদ শেখ এবং বেসিসের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেসিস পরিচালক তামজিদ সিদ্দিক স্পন্দন।

বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং বেসিস সফটএক্সপো ২০২০-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহানা এ রহমান বলেন, এবারের আসরে আমরা সারা দেশ থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। দেশ-বিদেশ থেকে বক্তারা এসেছেন। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ছিল উইমেন জোন। শিক্ষার্থীরা প্রতিটি স্টলেই সিভি জমা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণে এ এক্সপোর আয়োজন করা হয়। এতে তিনশ’ প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। চার দিনে আমরা নানা আয়োজনে দেশে-বিদেশে স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা তুলে ধরতে সফল হয়েছি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে উইমেন জোন থেকে সেরা এক্সিবিটর হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে এলিগ্যান্ট আইটি লিমিটেড। সেরা মিনি প্যাভিলিয়ন নির্বাচিত হয়েছে টিকন সিস্টেম লিমিটেড।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে জেএএন অ্যাসোসিয়েটস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল এইচ কাফি ও লিডস কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আবদুল আজিজকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বেসিস সফটএক্সপো ২০২০-এর নতুন সংযোজন প্রজেক্ট ইনোভেশন জোনের ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫টি প্রকল্পের মধ্যে শীর্ষ ৫টি প্রকল্পকে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশীয় সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য বেসিস সফটএক্সপো এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ প্লাটফর্ম। সরকারি-বেসরকারি খাতে দেশি সফটওয়্যারের গুণগত আর কৌশলগত মান তুলে ধরতে বেসিস কাজ করে যাবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান অতিথি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বেসিস একে অপরের সঙ্গে জড়িত। গত ১১ বছরে সরকার যতগুলো নীতি গ্রহণ করেছে তার সবই বেসিসের সঙ্গে আলোচনা করেই করেছে। বাংলাদেশ আজ সফটওয়্যার রফতানিতে বিলিয়ন ডলার রফতানি করছে। আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ইতিমধ্যে ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে সফটওয়্যার দরকার তা বিদেশ থেকে আমদানি না করে দেশের তথ্য বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর না করে দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানির মাধ্যমেই দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। আগামী ২ বছরে সরকারের যে ২ হাজার কোটি টাকার সফটওয়্যার প্রয়োজন হবে তা দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে করা হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মেলার শেষ দিনেও ১০টি জোনের প্রতিটিই ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ।