বরিশাল-৬: মহাজোটে এগিয়ে রত্না আমিন কোন্দলে বিএনপি
jugantor
বরিশাল-৬: মহাজোটে এগিয়ে রত্না আমিন কোন্দলে বিএনপি

  আকতার ফারুক শাহিন, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) থেকে  

১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে বরিশাল-৬ আসনটি মূলত মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের এলাকা। দুই লাখ ৩৬ হাজার ভোটার অধ্যুষিত এ আসনেই রুহুল আমিন হাওলাদার ২০০৮ সালে ৮৯ হাজার ২৩৭ পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন খান পান ৫৪ হাজার পাঁচ ভোট।

সবশেষ ২০১৪ সালে এ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন রুহুল আমিনের স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি নাসরিন জাহান রত্না আমিন। পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন এ আসনটি স্ত্রীকে দিয়ে তিনি পটুয়াখালী থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।

আগামী নির্বাচনেও মহাজোটের সাবেক পৌরমেয়র রত্না আমিন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ লক্ষ্যে তিনি মাঠে সক্রিয়। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগও নির্বাচন করতে চাচ্ছে। একসময় এ আসনে এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত মাসুদ রেজা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির কিছুটা বিরোধ রয়েছে। এটা যদি ভোটের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে তাহলে সুযোগ নিতে পারে বিএনপি।

বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ উভয় দলই আসনটি নিজেদের ঘাঁটি বললেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কারণে জাতীয় পার্টির একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে বাকেরগঞ্জে। দলের এই শক্ত অবস্থানের জন্য দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১-এর নির্বাচনে বরিশাল-৬ আসনের এমপি হন বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মো. ইউনুস খান।

তার মৃত্যুতে ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে এমপি হন বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে বহিষ্কৃৃত) অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ খান। ১৯৯৬ সালে এমপি হন আওয়ামী লীগের প্রয়াত মাসুদ রেজা। ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আনোয়ার চৌধুরী। ২০০১ সালে এমপি হন জাসদ থেকে বিএনপিতে আসা আবুল হোসেন খান। ২০০৮ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনকে হারিয়ে জয়লাভ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে এ আসনটি অন্য কোনো দলকে দেয়া হবে না।

নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচন করতে পারেননি দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক। শেষ পর্যন্ত জোটের রাজনীতির স্বার্থে আসনটি জাতীয় পার্টির মহাসচিবকে ছেড়ে দিতে হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হাফিজ মল্লিক যুগান্তরকে বলেছেন, ‘বহু বছর ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়ে আসছে আমাদের দলের লোক।

বহুবার এমপিও হয়েছি আমরা। এ বাস্তবতায় আমাদের ভোটের ঘাঁটি বরিশাল-৬ আসনে এবার আওয়ামী লীগের কাউকেই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে বিশ্বাস। পরপর দু’বার এ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি হওয়ায় কাক্সিক্ষত উন্নয়ন প্রশ্নেও পিছিয়ে আছে এ উপজেলা। নির্বাচনে বিজয় প্রশ্নে কী করা উচিত, কী করা উচিত নয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার সিদ্ধান্তই মেনে নেব আমরা।’

আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, ‘ভোটের মাঠে এখানে যেকোনো দলের চেয়ে এগিয়ে ছাড়া পিছিয়ে নেই আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে জিতলেও তার পেছনেও রয়েছে আওয়ামী লীগের সমর্থন। তবে মনোনয়ন প্রশ্নে নেত্রী এসব বিষয় মাথায় রাখবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।’ এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন বাকেরগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, জেলা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক এমপি প্রয়াত মাসুদ রেজার পত্না আইরীন রেজা এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ড. মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুব্বর আমিনুল।

মনোনয়ন প্রশ্নে সেভাবে ঝামেলা না থাকলেও বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে দলীয় কোন্দলের অভিযোগ রয়েছে। দলে একক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে সাবেক এমপি বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন খানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, বহু দিন ধরেই বাকেরগঞ্জে সক্রিয় বিএনপির দু’টি গ্রুপ। এক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন আবুল হোসেন খান এবং অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান। আবুল হোসেনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি।

আবুল হোসেনের ফর্মুলা মতো উপজেলা কমিটির অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানায় তারা। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জেলা বিএনপির এক নেতা জানান, ‘আমরা চেয়েছিলাম দু’পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিটি করে দিতে। এক পক্ষ রাজি ছিলেন না। এ পর্যায়ে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু শেষ হাসি হাসেন আবুল হোসেনই। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বাকেরগঞ্জ এসে আবুল হোসেনের পছন্দমতো পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দেয়ায় দলের একটি বিশাল অংশ হয় পদ-পদবি বঞ্চিত।’

বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘কেন্দ্রে আবুল হোসেন খান’র প্রভাব এতটাই বেশি যে এক নেতার এক পদ সিদ্ধান্তে আসা বিএনপি তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার সভাপতি করার সময় এটাও খেয়াল করেনি যে তিনি একাধারে বরিশাল জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য পদে রয়েছেন।’ এই ধারাবাহিকতায় তিনিই যে এখানে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন সেটা যেমন মোটামুটি নিশ্চিত তেমনি তিনি নিজেও বলেছেন এ ব্যাপারে কেন্দ্রের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার কথা।

যুগান্তরকে আবুল হোসেন বলেন, ‘এলাকায় বিএনপিতে কোনোরকম অন্তর্দ্বন্দ্ব কিংবা কোন্দল নেই। যদি কেউ তেমন কিছু বলে থাকে তো মিথ্যা বলেছে। তাছাড়া এখানে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে কনফার্ম করা হয়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমাকে এ বিষয়ে কনফার্ম করেছেন। সে অনুযায়ী এলাকায় কাজ করছি আমি।’

আবুল হোসেন খানের এ বক্তব্য মানতে নারাজ এ আসনে মনোনয়নপ্রার্থী অন্য বিএনপি নেতারা। এদের একজন সাবেক ছাত্র নেতা যুবদলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক লায়ন নূরুল ইসলাম খান মাসুদ বলেন, ‘দল কোথাও কারও প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছে এমন কোনো কিছু আমাদের জানা নেই। তা ছাড়া আমাদেরও তো মাঠে কাজ করার ক্ষেত্রে কেউ নিষেধ করেনি। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। দল যে সিদ্ধান্ত দেয় তা মেনে নেব। এ ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না।’ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- শিল্পপতি শুক্কুর নেগাবান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বর্তমানে যুবদলের কেন্দ ীয় নেতা গোলাম মাওলা শাহিন এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের নেতা খাজা সলিমুল্লাহ টিপু।

এছাড়া এ আসনে মনোনয়ন চাইছেন জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা মো. মহসিন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টার্গেট তার বহু বছরের। সে লক্ষ্যে তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা ছাড়াও সামাজিক সাংস্কৃতিক নানা কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করছেন। দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম আল আমিন চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

বরিশাল-৬: মহাজোটে এগিয়ে রত্না আমিন কোন্দলে বিএনপি

 আকতার ফারুক শাহিন, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) থেকে 
১০ নভেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে বরিশাল-৬ আসনটি মূলত মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের এলাকা। দুই লাখ ৩৬ হাজার ভোটার অধ্যুষিত এ আসনেই রুহুল আমিন হাওলাদার ২০০৮ সালে ৮৯ হাজার ২৩৭ পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন খান পান ৫৪ হাজার পাঁচ ভোট।

সবশেষ ২০১৪ সালে এ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন রুহুল আমিনের স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি নাসরিন জাহান রত্না আমিন। পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন এ আসনটি স্ত্রীকে দিয়ে তিনি পটুয়াখালী থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।

আগামী নির্বাচনেও মহাজোটের সাবেক পৌরমেয়র রত্না আমিন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ লক্ষ্যে তিনি মাঠে সক্রিয়। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগও নির্বাচন করতে চাচ্ছে। একসময় এ আসনে এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত মাসুদ রেজা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির কিছুটা বিরোধ রয়েছে। এটা যদি ভোটের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে তাহলে সুযোগ নিতে পারে বিএনপি।

বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ উভয় দলই আসনটি নিজেদের ঘাঁটি বললেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কারণে জাতীয় পার্টির একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে বাকেরগঞ্জে। দলের এই শক্ত অবস্থানের জন্য দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। নব্বইয়ের পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১-এর নির্বাচনে বরিশাল-৬ আসনের এমপি হন বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মো. ইউনুস খান।

তার মৃত্যুতে ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে এমপি হন বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে বহিষ্কৃৃত) অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ খান। ১৯৯৬ সালে এমপি হন আওয়ামী লীগের প্রয়াত মাসুদ রেজা। ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আনোয়ার চৌধুরী। ২০০১ সালে এমপি হন জাসদ থেকে বিএনপিতে আসা আবুল হোসেন খান। ২০০৮ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনকে হারিয়ে জয়লাভ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে এ আসনটি অন্য কোনো দলকে দেয়া হবে না।

নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচন করতে পারেননি দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক। শেষ পর্যন্ত জোটের রাজনীতির স্বার্থে আসনটি জাতীয় পার্টির মহাসচিবকে ছেড়ে দিতে হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হাফিজ মল্লিক যুগান্তরকে বলেছেন, ‘বহু বছর ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়ে আসছে আমাদের দলের লোক।

বহুবার এমপিও হয়েছি আমরা। এ বাস্তবতায় আমাদের ভোটের ঘাঁটি বরিশাল-৬ আসনে এবার আওয়ামী লীগের কাউকেই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে বিশ্বাস। পরপর দু’বার এ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি হওয়ায় কাক্সিক্ষত উন্নয়ন প্রশ্নেও পিছিয়ে আছে এ উপজেলা। নির্বাচনে বিজয় প্রশ্নে কী করা উচিত, কী করা উচিত নয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার সিদ্ধান্তই মেনে নেব আমরা।’

আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, ‘ভোটের মাঠে এখানে যেকোনো দলের চেয়ে এগিয়ে ছাড়া পিছিয়ে নেই আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে জিতলেও তার পেছনেও রয়েছে আওয়ামী লীগের সমর্থন। তবে মনোনয়ন প্রশ্নে নেত্রী এসব বিষয় মাথায় রাখবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।’ এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন বাকেরগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, জেলা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক এমপি প্রয়াত মাসুদ রেজার পত্না আইরীন রেজা এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ড. মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুব্বর আমিনুল।

মনোনয়ন প্রশ্নে সেভাবে ঝামেলা না থাকলেও বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে দলীয় কোন্দলের অভিযোগ রয়েছে। দলে একক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে সাবেক এমপি বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন খানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, বহু দিন ধরেই বাকেরগঞ্জে সক্রিয় বিএনপির দু’টি গ্রুপ। এক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন আবুল হোসেন খান এবং অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান। আবুল হোসেনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি।

আবুল হোসেনের ফর্মুলা মতো উপজেলা কমিটির অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানায় তারা। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জেলা বিএনপির এক নেতা জানান, ‘আমরা চেয়েছিলাম দু’পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিটি করে দিতে। এক পক্ষ রাজি ছিলেন না। এ পর্যায়ে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু শেষ হাসি হাসেন আবুল হোসেনই। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বাকেরগঞ্জ এসে আবুল হোসেনের পছন্দমতো পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দেয়ায় দলের একটি বিশাল অংশ হয় পদ-পদবি বঞ্চিত।’

বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘কেন্দ্রে আবুল হোসেন খান’র প্রভাব এতটাই বেশি যে এক নেতার এক পদ সিদ্ধান্তে আসা বিএনপি তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার সভাপতি করার সময় এটাও খেয়াল করেনি যে তিনি একাধারে বরিশাল জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য পদে রয়েছেন।’ এই ধারাবাহিকতায় তিনিই যে এখানে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন সেটা যেমন মোটামুটি নিশ্চিত তেমনি তিনি নিজেও বলেছেন এ ব্যাপারে কেন্দ্রের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার কথা।

যুগান্তরকে আবুল হোসেন বলেন, ‘এলাকায় বিএনপিতে কোনোরকম অন্তর্দ্বন্দ্ব কিংবা কোন্দল নেই। যদি কেউ তেমন কিছু বলে থাকে তো মিথ্যা বলেছে। তাছাড়া এখানে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে কনফার্ম করা হয়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমাকে এ বিষয়ে কনফার্ম করেছেন। সে অনুযায়ী এলাকায় কাজ করছি আমি।’

আবুল হোসেন খানের এ বক্তব্য মানতে নারাজ এ আসনে মনোনয়নপ্রার্থী অন্য বিএনপি নেতারা। এদের একজন সাবেক ছাত্র নেতা যুবদলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক লায়ন নূরুল ইসলাম খান মাসুদ বলেন, ‘দল কোথাও কারও প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছে এমন কোনো কিছু আমাদের জানা নেই। তা ছাড়া আমাদেরও তো মাঠে কাজ করার ক্ষেত্রে কেউ নিষেধ করেনি। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। দল যে সিদ্ধান্ত দেয় তা মেনে নেব। এ ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না।’ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- শিল্পপতি শুক্কুর নেগাবান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বর্তমানে যুবদলের কেন্দ ীয় নেতা গোলাম মাওলা শাহিন এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের নেতা খাজা সলিমুল্লাহ টিপু।

এছাড়া এ আসনে মনোনয়ন চাইছেন জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা মো. মহসিন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টার্গেট তার বহু বছরের। সে লক্ষ্যে তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা ছাড়াও সামাজিক সাংস্কৃতিক নানা কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করছেন। দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম আল আমিন চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।