আ’লীগে ক্যাপ্টেন তাজের পাল্লাই ভারি : বিএনপির প্রার্থী ৯

  শফিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সাব্বির আহমেদ সুবীর, বাঞ্ছারামপুর ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ব্যানার, ফেস্টুন, পোষ্টার ও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচারে ব্যস্ত। যোগ দিচ্ছেন সভা-সমাবেশেও। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বিএনপি বেকায়দায় থাকলেও মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই। বিএনপির ৯ জন মনোনয়ন লড়াইয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। আওয়ামী লীগে এ সংখ্যা ৬, জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থী সক্রিয়। আওয়ামী লীগে প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলামের পাল্লাই ভারি। তার হাত ধরে ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা আগের চেয়ে শক্তিশালী। তবে কিছু কিছু বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে নীরব ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে কোন্দলে জড়িয়ে পড়া বিএনপি হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এ আসনটিতে কোনো একক দল দীর্ঘ সময় রাজত্ব করতে পারেনি। বিশেষ করে নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথম ১৯৯১ সালের ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির এটিএম ওয়ালী আশরাফ, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির একতরফা নির্বাচনে এমপি হন বিএনপির শাহজাহান হাওলাদার সুজন, ১৯৯৬ সালে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের এবি তাজুল ইসলাম, ২০০১ সালে বিএনপির আবদুল খালেক, ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার এমপি হন তাজুল ইসলাম এবং সবশেষ ২০১৪ সালের ভোটে ফের এমপি হন তাজুল ইসলাম। তবে ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন তাজুল ইসলাম। এ সময় তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বাঞ্ছারামপুরের সঙ্গে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সংযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখেন। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রার্থী তাজুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে এবি তাজুল ইসলাম ছাড়াও রয়েছেনÑ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও শ্রীপুর পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ আবুল খায়ের দুলাল, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা কামাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সাইদ আহমেদ বাবু এলাকায় সক্রিয়।

আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয় বর্তমান এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলামকে সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাঞ্ছারামপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এখানে কোনো কোন্দল নেই, সবার মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছি। এক সময়ের অবহেলিত বাঞ্ছারামপুরে আমি তিন টার্মে এমপি হয়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার কাজ করেছি। বাঞ্ছারামপুরবাসীকে আমি ভালোবাসি, তারাও আমাকে অসম্ভব ভালোবাসে। আগামী দিনেও বাঞ্ছারামপুরবাসীর উন্নয়নে পাশে থাকব।’

জানতে চাইলে আরেক প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আজকের এ অবস্থানে এসেছি। যাত্রাপথে দলের সব দুঃসময়ে রাজপথে থেকে মুজিবের আদর্শকে ধারণ করে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম, মৃত্যুকে ভয় করি নাই। আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নেত্রী আমার বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন বলে আশা করছি। এখানকার মানুষের সুখে দুঃখে সবসময় ছিলাম এবং থাকব। বাঞ্ছারামপুরবাসীর ভালোবাসাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাচ্ছে আমাকে। জননেত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে আমার।’

আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগের মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু। চাকরি জীবনেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলাম। যুগ্ম-সচিব পদ থেকে অবসর নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছি। দলের চরম দুর্দিনেও কাজ করে গেছি। আগামী নির্বাচনে দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।’ জানতে চাইলে আবুল খায়ের দুলাল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আছি উন্নয়নের সঙ্গেও। আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লোক। দলের মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব।’ জানতে চাইলে সাইদ আহামেদ বাবু বলেন, ‘আগেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম, এবারও চাইব। হাইকমান্ডের নির্দেশে এলাকায় কাজ করছি।’ গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুরে আমিই দলের যোগ্য প্রার্থী। দলের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করছি, মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।’

এদিকে স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়েছে, উপজেলা পর্যায়ে দলটির কোনো দলীয় কার্যালয়ও নেই। দলীয় সভা, কমিটি গঠন সবই ঢাকাকেন্দ্রিক। তৃণমূল বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মী সাবেক এমপি আবদুল খালেকের পক্ষে। তবে বিএনপির নতুন মুখ মেহেদী হাসান পলাশ এলাকায় বেশ তৎপর। এরই মধ্যে তিনি একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার প্রার্থী হিসেবে ফেসবুকে বেশ সক্রিয়। তার কিছু পোস্টারও দেখা যায় এলাকায়। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তা ফেসবুকে ‘দলীয় অনুষ্ঠান’ বলে প্রচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এদিকে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে মোস্তফা আজাদও এলাকায় সক্রিয়।

কোন্দলের অভিযোগ মাথায় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে তৎপর রয়েছেন বিএনপির ৯ জন নেতা। এরা হচ্ছেনÑ বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি আবদুল খালেক, উপজেলা বিএনপির সদস্য মেহেদী হাসান পলাশ, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম খোকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউদ্দিন জিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. রফিক সিকদার, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র শাখার যুগ্ম-সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসের খান অপু, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লোণ্ঠন, সহ-সভাপতি বোরহান উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি মেজর সাইদুল ইসলাম সাইদ (অব.)।

কথা হয় বিএনপির সাবেক এমপি আবদুল খালেকের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বাঞ্ছারামপুর বিএনপিকে আমি সংগঠিত করে আজকে একটি ভালো প্ল্যাটফর্মে এনেছি। দলে কোনো কোন্দল নাই। যারা কোন্দলের কথা বলছে দলে তাদের কোনো অবস্থান নাই। তৃণমূল বিএনপির সবাই আমার পক্ষে। আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী।’ জানতে চাইলে মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির দলীয় কর্মকাণ্ডকে চাঙা করতে গত কয়েক বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে সভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কাজ করছি। যেসব নেতাকর্মী মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। প্রতিটি গ্রামে আমার ভালো অবস্থান রয়েছে। দল মনোনয়ন দিলে জয়লাভ করব ইনশাআল্লাহ। তবে শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘আমি অবশ্যই দল থেকে মনোনয়ন চাইব এবং পেলে বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ। দলীয় কোন্দলের কারণে অনেকেই এবার মনোনয়ন চাচ্ছেন। দল বিভক্ত হওয়ায় যার যার মতো প্রচার চালাচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে বের হতে সবাইকে নিয়ে বসা দরকার। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব এটি।’ আগামী নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন উপজেলা জাতীয় পার্টি। দলটির আহ্বায়ক মোস্তফা আজাদ একমাত্র প্রার্থী। জানতে চাইলে মোস্তফা আজাদ বলেন, ‘দল থেকে গত সংসদ নির্বাচনেও আমি মনোনয়ন পেয়েছিলাম। আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন পাব ইনশাআল্লাহ। এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের মানুষের পাশে থাকতে চাই।’ এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন কবি শাহজাহান আবদালী।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×