মডেল পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি: যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ঘাটাইল পৌর মেয়র

মেয়াদ শেষের আগেই সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব

  খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান
ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান

টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে ঘাটাইল পৌরসভার অবস্থান। ১১টি গ্রাম ও ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৯৯৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পৌরসভাটির যাত্রা শুরু। এর আয়তন ১১.০২ বর্গকিমি.।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ২৪৫ জন। এর মধ্যে পুুরুষ ১৯ হাজার ৫৯০ ও নারী ১৫ হাজার ৬৫৫ জন।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন শহীদুজ্জামান খান। এরই মধ্যে কেটে গেছে প্রায় তিন বছর।

এ সময়কালে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। পৌরসভাটি ‘খ’ থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করার ক্ষেত্রে বর্তমান মেয়রের অবদান রয়েছে। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেছেন তিনি। এরপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।

অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিংয়ে নৈরাজ্য, ফুটপাত দখল, অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক, অটোরিকশা, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি, ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকা, সন্ত্রাস, মাদক, যৌন হয়রানি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এরকম অনেক সমস্যা ফেস করছেন পৌরবাসী।

পৌরকর বৃদ্ধি করা হলেও পৌরবাসীর সুযোগ-সুবিধা তেমন বৃদ্ধি পায়নি। জলাবদ্ধতা পৌরবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব বিষয়ে যুগান্তরের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি ছিল মডেল পৌরসভা করব। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ করছি। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কর্মচারীদের নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করেছি। নিজেও সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিসে থাকি। ঠিকমতো অফিস কারার কারণেই সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন পৌরসভা কোনো প্রকল্পের আওতাভুক্ত ছিল না।

শুধু এডিপি বরাদ্দের ওপর পৌরসভা নির্ভর করত। ইতিমধ্যে নগর অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। তার মধ্যে পৌনে ২ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকিটা টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়াও নগর উন্নয়নে (কুয়েত ফান্ড) নামে ৫ কোটি টাকার কাজের প্রকল্প দাখিল করেছি যা অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল ওয়াটার সাপ্লাই।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ইতিমধ্যে ২৭ কোটি টাকা মঞ্জুরি দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে পৌরসভার নামে ৪৩ শতাংশ জায়গাও ক্রয় করেছি। এ ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌরসভা এলাকায় লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। সন্ধ্যার পর সড়ক বাতিগুলো জ্বলে যায়। এর সুফল জনগণ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ট্যাক্স পরিশোধে সবাই সজাগ না হলে পৌরসভা মুখ থুবড়ে পড়বে, জনগণ সেবা পাবে না। এ কারণে ট্যাক্স আদায় বাড়িয়েছি। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১১ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন হবে। বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা আছে সেগুলো দিয়েও উন্নয়ন কাজ করা হবে।

পানি নিষ্কাশনের দুরবস্থার কথা শিকার করে তিনি বলেন, পৌরসভার কলেজ পাড়া, খরাবর, পশ্চিম পাড়ার ৩-৪টি মহল্লায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা একেবারেই নেই। আগামী দু’বছরের মধ্যে হয়তো এক বা দুই কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা সম্ভব হবে। যদিও এখানে কমপক্ষে ৮ কিলোমিটার ড্রেন দরকার। এ কাজগুলো করতে আরও সময় লাগবে।

শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আধুনিক উন্নত মডেল পৌরসভা করতে গেলে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। পৌরসভার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দরিদ্র মানুষকে সুদমুক্ত ঋণে ভ্যান-রিকশা কিনে দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করার চেষ্টা চলছে। পৌরসভাকে ভিক্ষুকমুক্ত করারও চেষ্টা চলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শহীদুজ্জামান খান বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সবার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমার কাছে যারা আসে সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সমস্যা সমাধান করে দিচ্ছি। আর দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো খাল বা খাসজমি দখলের ঘটনা ঘটেনি।

সুশীল সমাজের অনেকেই পৌরসভার বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট না। লেখক, গবেষক, সাংবাদিক জুলফিকার হায়দারের মতে, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পৌরবাসীর যে পরিষেবা পাওয়া প্রয়োজন সেটা একেবারেই নেই। আদর্শ একটা পৌরসভা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল সুষ্ঠু পরিকল্পনা। সেটা ঘাটাইল পৌরসভায় আছে বলে মনে হয় না। কারণ এখানে অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি গড়ে উঠছে। যতটুকু রাস্তা থাকা দরকার সেটা নেই। নিয়ম মেনে ভবন নির্মিত হচ্ছে না।

এ অভিযোগের বিষয়ে মেয়র বলেন, আমি জনগণকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে, যদি নির্বাচিত হই ঘাটাইল পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা করব। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আগমী দু’বছরের মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি। এর ফলে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×