যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে জীবননগর পৌরসভার মেয়র
jugantor
মডেল পৌরসভা উপহার দেয়ার চেষ্টা করছি
যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে জীবননগর পৌরসভার মেয়র

  ফয়সাল মাহতাব মানিক, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৭ সালের ৮ অক্টোবর। সীমান্তঘেঁষা পৌরসভাটির আয়তন ১৫ বর্গ কিমি.। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভায় ৪০ হাজার মানুষের বাস।

মোট ভোটার ১৯ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৯৪৫ জন এবং মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৭৫০ জন। পৌরসভাটি ২০০৫ সালে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মনোনীত মো. নোয়াব আলীকে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনের সাড়ে তিন বছরে তিনি উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন।

তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। শহরের বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা থেকে তিনি পৌরবাসীকে মুক্তি দিতে পারেননি। রাস্তাগুলোর বেহাল দশা। সড়ক বাতির অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

জীবননগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিনের অভিযোগ, ‘পৌরসভার বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। ড্রেন ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। অভিযোগ করলেই বলা হয় সুইপার নেই। শহরের রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ।’

জীবননগর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুল আলম বলেন, ‘পৌরসভার সব থেকে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। একটু বৃষ্টি হলেই বাসস্ট্যান্ডসহ শহরে হাঁটুপানি জমে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। সড়কের বেশিরভাগ লাইট নষ্ট। জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও শিশুদের জন্য কোনো বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক নেই। মাছ ও মাংসের বাজার খুবই ছোট। লোকজন বাজার করতে এসে খুবই অসুবিধায় পড়েন।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার ৭৫ ভাগই ইতিমধ্যে পূরণ করেছি। নগর উন্নয়ন বরাদ্দের ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করেছি।

ড্রেন নির্মাণ করেছি। জননিরাপত্তার কথা ভেবে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। মুক্ত মঞ্চ ও ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন নির্মাণ করেছি। জলবায়ু তহবিল থেকে পাওয়া ২ কোটি টাকায় কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। মশক নিধনে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পৌরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতে টেন্ডার হয়ে সে কাজ চলমান আছে।

জলাবদ্ধতা সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘এ সমস্যা সমাধানে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী বর্ষার আগেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’ তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ কম থাকার কারণে সুইপার নিয়োগসহ অনেক কাজই করতে পারছি না। তাই ড্রেন পরিষ্কারের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না।’

ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। কোনো ধরনের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে পৌরসভা দুর্নীতিমুক্ত।’

খাল-নদী দখলদারিত্বের বিষয়ে তার বক্তব্য হল, ‘আমার সময়ে কোনো খাল বা নদী এখন পর্যন্ত দখল হয়নি। সড়ক ফুটপাত দখলমুক্ত।’

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, যৌন হয়রানির মতো সামাজিক অপরাধ প্রসঙ্গে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এসব অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধ আর সংঘটিত হয় না। এখন মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে।’

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পৌরবাসীকে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আমার কাজে পৌরবাসী সন্তুষ্ট। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে পরামর্শ দিচ্ছি। চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত স্থানীয় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছি। সমস্যা হলেই ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

পৌরসভা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পৌরবাসীর সেবা প্রাপ্তি সহজ করার জন্য সেবা দান পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করব। পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

মডেল পৌরসভা উপহার দেয়ার চেষ্টা করছি

যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে জীবননগর পৌরসভার মেয়র

 ফয়সাল মাহতাব মানিক, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৭ সালের ৮ অক্টোবর। সীমান্তঘেঁষা পৌরসভাটির আয়তন ১৫ বর্গ কিমি.। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভায় ৪০ হাজার মানুষের বাস।

মোট ভোটার ১৯ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৯৪৫ জন এবং মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৭৫০ জন। পৌরসভাটি ২০০৫ সালে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মনোনীত মো. নোয়াব আলীকে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনের সাড়ে তিন বছরে তিনি উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন।

তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। শহরের বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা থেকে তিনি পৌরবাসীকে মুক্তি দিতে পারেননি। রাস্তাগুলোর বেহাল দশা। সড়ক বাতির অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

জীবননগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিনের অভিযোগ, ‘পৌরসভার বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। ড্রেন ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। অভিযোগ করলেই বলা হয় সুইপার নেই। শহরের রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ।’

জীবননগর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুল আলম বলেন, ‘পৌরসভার সব থেকে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। একটু বৃষ্টি হলেই বাসস্ট্যান্ডসহ শহরে হাঁটুপানি জমে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। সড়কের বেশিরভাগ লাইট নষ্ট। জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও শিশুদের জন্য কোনো বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক নেই। মাছ ও মাংসের বাজার খুবই ছোট। লোকজন বাজার করতে এসে খুবই অসুবিধায় পড়েন।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার ৭৫ ভাগই ইতিমধ্যে পূরণ করেছি। নগর উন্নয়ন বরাদ্দের ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করেছি।

ড্রেন নির্মাণ করেছি। জননিরাপত্তার কথা ভেবে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। মুক্ত মঞ্চ ও ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন নির্মাণ করেছি। জলবায়ু তহবিল থেকে পাওয়া ২ কোটি টাকায় কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। মশক নিধনে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পৌরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতে টেন্ডার হয়ে সে কাজ চলমান আছে।

জলাবদ্ধতা সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘এ সমস্যা সমাধানে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী বর্ষার আগেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’ তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ কম থাকার কারণে সুইপার নিয়োগসহ অনেক কাজই করতে পারছি না। তাই ড্রেন পরিষ্কারের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না।’

ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। কোনো ধরনের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে পৌরসভা দুর্নীতিমুক্ত।’

খাল-নদী দখলদারিত্বের বিষয়ে তার বক্তব্য হল, ‘আমার সময়ে কোনো খাল বা নদী এখন পর্যন্ত দখল হয়নি। সড়ক ফুটপাত দখলমুক্ত।’

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, যৌন হয়রানির মতো সামাজিক অপরাধ প্রসঙ্গে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এসব অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধ আর সংঘটিত হয় না। এখন মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে।’

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পৌরবাসীকে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আমার কাজে পৌরবাসী সন্তুষ্ট। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে পরামর্শ দিচ্ছি। চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত স্থানীয় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছি। সমস্যা হলেই ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

পৌরসভা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পৌরবাসীর সেবা প্রাপ্তি সহজ করার জন্য সেবা দান পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করব। পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন