যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে গলাচিপা পৌরসভার মেয়র

জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করছি

  মশিউর রহমান বাবুল, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গলাচিপা

গলাচিপা পৌরসভার পথচলা শুরু প্রায় দুই যুগ আগে। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত গলাচিপা পৌরসভা ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম শ্রেণির মর্যাদা লাভ করে। এ দীর্ঘ সময়ে অনেক উন্নয়ন কাজ হলেও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে অনেক কাজ বাকি রয়েছে। পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে নয়; জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ করব। যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মেয়র তুহিন এসব কথা বলেন।

গলাচিপা পৌরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ৯টি। তিন দশমিক ৩৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার লোকসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। এর মধ্যে মহিলা ভোটার সাত হাজার ৭৪৪ জন এবং পুরুষ ভোটার সাত হাজার ৩৬২ জন। ২০১৭ সালের ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আহসানুল হক তুহিন মেয়র নির্বাচিত হন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তালেব মিয়াকে তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। সাবেক মেয়র মরহুম আ. ওহাব খলীফার ছেলে তুহিন ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মেয়র তুহিনের দুই বছর সাত মাসে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তার উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে- নয় দশমিক দুই কিলোমিটার বিটুমিনাস কার্পেটিং সড়ক, আট দশমিক ছয় কিলোমিটার আরসিসি সড়ক এবং ১২ কিলোমিটার সিসি সড়ক নির্মাণ। এছাড়া ১৪ দশমিক ৫১ কিলোমিটার ড্রেন ও ১৯৬ মিটার কালভার্ট নির্মাণ এবং রাস্তায় ৬৭৮টি সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। ১০ লাখ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুইটি ওভার হেড ট্যাংকের মাধ্যমে ৬১ কিলোমিটার এলাকায় তিন হাজার ৮৪৭টি পরিবারের ১৯ হাজার ২৩৫ জনকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিকল্প বিদ্যুৎ হিসেবে দুটি জেনারেটরের মাধ্যমে ৯১০টি সংযোগ দেয়া হয়েছে। পৌর মুক্তমঞ্চ এলাকায় আধুনিক দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। শহরের মূল খালে তিনটি এবং হেলিপ্যাড এলাকায় প্রায় চার কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। আড়াই বছরে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। ২৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে।

পৌরবাসী ও সাবেক শিক্ষক আবদুস ছালাম জানান, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যেসব সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা পৌরবাসী তা পুরোপুরি পাচ্ছেন না। পৌর এলাকায় কোনো বিনোদন কেন্দ্র ও পাবলিক লাইব্রেরি নেই। শিশুদের খেলার মাঠ নেই। অটোরিকশা, টেম্পোস্ট্যান্ড নেই। বর্জ্য ফেলার ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি করা হয়নি। পৌরবাসীর অভিযোগ, দিনের বেলায় ট্রাক, ট্রলি চলাচল করায় সদর রোডসহ কয়েকটি সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বেপরোয়া অটো রিকশা চলাচলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে মেয়র তুহিন বলেন, পৌর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার মান ও স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তাসহ নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পৌর এলাকায় শিক্ষার হার শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ। এ হার আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পৌরসভায় ১৩টি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ এবং পাঁচটি মাদ্রাসা রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করা হয়।

তুহিন আরও বলেন, পৌর এলাকার শতভাগ বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। লোডশেডিং হলে পৌরসভার দুইটি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় প্রায় তিন একর জমিতে কবরস্থান নির্মাণ করা হয়েছে। এ কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জায়গা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ পৌরসভায় আরও তিনটি কবরস্থান রয়েছে। দুইটি শ্মশানে লাশ দাহ করার সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

মেয়র তুহিন আরও বলেন, নির্বাচনের সময় অঙ্গীকার ছিল নাগরিক সুবিধা ও সুশাসন নিশ্চিত করার। পৌরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে এক্ষেত্রে আমি সফল হয়েছি। সন্ত্রাসের রাজনীতির বিরুদ্ধে আপসহীন থেকে পৌরসভায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্সে থাকলেও নানা সীমাবদ্ধতায় তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। পানি সরবরাহ, জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ, করের টাকাসহ সব ধরনের লেনদেন এখন ব্যাংকের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সেবা নিতে এসে পৌরবাসী যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে আমার কঠোর নজরদারি রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তুহিন বলেন, নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের সিটিআইপি প্রকল্পের আওতায় অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় পেলে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণ করা হবে।

বিনোদন পার্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বয়স্কদের জন্য বড় বড় পুকুরের পাড়ে ওয়াকওয়ে এবং বসার জন্য পাকা বেঞ্চ নির্মাণ করাসহ সৌন্দর্য বর্ধন করা হবে। শিশুদের খেলার মাঠ ও পার্ক নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জমি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। জমি পেলে জরুরিভিত্তিতে পার্ক নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নাব্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ৬০ ভাগ কাজ শেষ করেছি। বাকি কাজ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শেষ করতে পারব বলে আশা করি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×