যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কেশবপুর পৌরসভার মেয়র: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করব
jugantor
যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কেশবপুর পৌরসভার মেয়র: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করব

  আজিজুর রহমান, কেশবপুর  

১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম

যশোর জেলার সর্বদক্ষিণের পৌরসভা কেশবপুর। কপোতাক্ষ ও হরিহর নদবিধৌত এই পৌরসভার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। বাংলা সাহিত্যের অমর কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, সুসাহিত্যিক মনোজ বসু ও ধীরজ ভট্টাচার্যের জন্মস্থান এই কেশবপুর।

১৯৯৮ সালে পৌরসভাটির যাত্রা শুরু। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার আয়তন ১১ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে জনসংখ্যা ৪৬ হাজার ১৬৯ জন। মোট ভোটার ১৯ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৫৭৯ জন এবং মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৮৬৬ জন। এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা।

বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন মো. রফিকুল ইসলাম। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি বিএনপির প্রার্থী আবদুস সামাদ বিশ্বাসকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নিয়ে তিনি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা, সড়ক বাতির ব্যবস্থা, নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।

কেশবপুর নাগরিক সমাজের সভাপতি ও পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকীর অভিযোগ, ‘মেয়রের নির্বাচনী ইশতেহারে শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে। পৌর এলাকার বেশিরভাগ পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’

১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল আহাদ বলেন,‘ শহরের ফুটপাত হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দখলে। সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ত্রিমোহিনী মোড়ে থাকে যানজট লেগে থাকে।’ ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভ্যান চালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এই ওয়ার্ডে রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলা হয়। বর্জ্যরে দুর্গন্ধে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের নাকে কাপড় দিয়ে হাঁটতে হয়। এই ওয়ার্ডের রাস্তার ওপর বাস-ট্রাক রাখা হয়।’

এসব অভিযোগের জবাব ও নিজের সফলতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পৌর এলাকায় শতভাগ পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পেরেছি। এর জন্য ২২ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের সার্বিক সহযোগিতায় পৌর এলাকায় ‘রোড লাইটের’ ব্যবস্থা করেছি। ২০ কিলোমিটার পানির লাইন ও ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ করেছি।

প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাবাসপেল রাস্তা, ৯টি ওয়ার্ডে ৫৪টি আরসিসি-সিসি ও পিচের রাস্তা এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে ৬টি আধুনিক ফুটপাত নির্মাণ করেছি। ফুটপাতের পাশ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন ও ৫টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছি। ধান হাট ও মাছ বাজারের উন্নয়ন করেছি। পৌরসভার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণ, ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৬টি মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নসহ বায়সা গুচ্ছগ্রামের প্রতিটি পরিবারে সোলার লাইটের সংযোগ দেয়া হয়েছে।’

মেয়র বলেন, ‘শহরে জমি না পাওয়ায় শিশুপার্ক নির্মাণ করা যায়নি। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একটি শিশু পার্ক ও বয়স্কদের প্রাতঃভ্রমণের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করতে পারব। ১০ জন ট্রাফিক পৌরসভার বেতন ভাতায় কাজ করেন। ফুটপাত দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ে, মাদক ব্যবসায়ী ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কমিশনারগণ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।’

জলাবদ্ধতার বিষয়ে তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিআরডি ও সড়ক বিভাগের সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার।’ শতভাগ বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে না পারার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পৌর এলাকার কোথাও কোথাও গভীর নলকূপেও পানি পাওয়া যায় না। যে কারণে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূর থেকে মাটির নিচে দিয়ে পাইপ দিয়ে পানি আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পৌরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা দিতে নেয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘শহরের গরিব মানুষের চিকিৎসায় অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকি। পৌরসভার পক্ষে কুকুরে কামড়ানো রোগীদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে চক্ষু শিবির পরিচালনা করা হয়েছে। শিশুদের চিকিৎসা দিতে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে।’

শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পৌর এলাকার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকি।’

পৌর এলাকার ২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়ের দেয়া মশা মারার ওষুধ দিয়ে এলাকায় এডিস মশা ও লার্ভা নিধন কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।’

রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলা প্রসঙ্গে মেয়র করেন, ‘আমি মেয়র হওয়ার আগ থেকেই রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা হয়। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে।’ যানজট নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।’

এ প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘পৌরসভা শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত। কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’

আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের সহযোগিতায় মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ চলছে। নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেছি, যা বাকি আছে তা আগামী নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আশা করছি।’

যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কেশবপুর পৌরসভার মেয়র: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করব

 আজিজুর রহমান, কেশবপুর 
১২ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কেশবপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম
কেশবপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম। ছবি: যুগান্তর

যশোর জেলার সর্বদক্ষিণের পৌরসভা কেশবপুর। কপোতাক্ষ ও হরিহর নদবিধৌত এই পৌরসভার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। বাংলা সাহিত্যের অমর কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, সুসাহিত্যিক মনোজ বসু ও ধীরজ ভট্টাচার্যের জন্মস্থান এই কেশবপুর।

১৯৯৮ সালে পৌরসভাটির যাত্রা শুরু। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার আয়তন ১১ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে জনসংখ্যা ৪৬ হাজার ১৬৯ জন। মোট ভোটার ১৯ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৫৭৯ জন এবং মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৮৬৬ জন। এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা।

বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন মো. রফিকুল ইসলাম। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি বিএনপির প্রার্থী আবদুস সামাদ বিশ্বাসকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নিয়ে তিনি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা, সড়ক বাতির ব্যবস্থা, নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।

কেশবপুর নাগরিক সমাজের সভাপতি ও পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকীর অভিযোগ, ‘মেয়রের নির্বাচনী ইশতেহারে শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে। পৌর এলাকার বেশিরভাগ পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’

১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল আহাদ বলেন,‘ শহরের ফুটপাত হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দখলে। সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ত্রিমোহিনী মোড়ে থাকে যানজট লেগে থাকে।’ ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভ্যান চালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এই ওয়ার্ডে রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলা হয়। বর্জ্যরে দুর্গন্ধে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের নাকে কাপড় দিয়ে হাঁটতে হয়। এই ওয়ার্ডের রাস্তার ওপর বাস-ট্রাক রাখা হয়।’

এসব অভিযোগের জবাব ও নিজের সফলতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পৌর এলাকায় শতভাগ পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পেরেছি। এর জন্য ২২ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের সার্বিক সহযোগিতায় পৌর এলাকায় ‘রোড লাইটের’ ব্যবস্থা করেছি। ২০ কিলোমিটার পানির লাইন ও ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ করেছি।

প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাবাসপেল রাস্তা, ৯টি ওয়ার্ডে ৫৪টি আরসিসি-সিসি ও পিচের রাস্তা এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে ৬টি আধুনিক ফুটপাত নির্মাণ করেছি। ফুটপাতের পাশ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন ও ৫টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছি। ধান হাট ও মাছ বাজারের উন্নয়ন করেছি। পৌরসভার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণ, ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৬টি মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নসহ বায়সা গুচ্ছগ্রামের প্রতিটি পরিবারে সোলার লাইটের সংযোগ দেয়া হয়েছে।’

মেয়র বলেন, ‘শহরে জমি না পাওয়ায় শিশুপার্ক নির্মাণ করা যায়নি। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একটি শিশু পার্ক ও বয়স্কদের প্রাতঃভ্রমণের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করতে পারব। ১০ জন ট্রাফিক পৌরসভার বেতন ভাতায় কাজ করেন। ফুটপাত দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ে, মাদক ব্যবসায়ী ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কমিশনারগণ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।’

জলাবদ্ধতার বিষয়ে তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিআরডি ও সড়ক বিভাগের সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার।’ শতভাগ বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে না পারার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পৌর এলাকার কোথাও কোথাও গভীর নলকূপেও পানি পাওয়া যায় না। যে কারণে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূর থেকে মাটির নিচে দিয়ে পাইপ দিয়ে পানি আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পৌরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা দিতে নেয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘শহরের গরিব মানুষের চিকিৎসায় অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকি। পৌরসভার পক্ষে কুকুরে কামড়ানো রোগীদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে চক্ষু শিবির পরিচালনা করা হয়েছে। শিশুদের চিকিৎসা দিতে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে।’

শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পৌর এলাকার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকি।’

পৌর এলাকার ২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়ের দেয়া মশা মারার ওষুধ দিয়ে এলাকায় এডিস মশা ও লার্ভা নিধন কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।’

রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলা প্রসঙ্গে মেয়র করেন, ‘আমি মেয়র হওয়ার আগ থেকেই রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা হয়। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে।’ যানজট নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।’

এ প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘পৌরসভা শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত। কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’

আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের সহযোগিতায় মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ চলছে। নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেছি, যা বাকি আছে তা আগামী নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আশা করছি।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন