অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধান করছি: হালুয়াঘাট পৌরসভার মেয়র
Advertisement
মো. হাতেম আলী, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মো. খায়রুল আলম ভূঞা। ছবি-যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহ জেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের পাদদেশে হালুয়াঘাট পৌরসভার অবস্থান। তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ৯.২৫ বর্গ কিলোমিটার।
প্রয়াত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন এমপির চেষ্টায় ২০১৪ সালে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ৩৫ হাজার লোকের বাস। মোট ভোটার ১৬ হাজার ৩শ’ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৪২ জন ও মহিলা ভোটার ৮ হাজার ১৫৮ জন। প্র
তিষ্ঠার চার বছর পর ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ পৌরসভায় প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. খায়রুল আলম ভূঞা বিএনপির প্রার্থী মো. আবদুল হামিদকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।
এই অল্প সময়ে তিনি বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তবে নবীন পৌরসভাটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে।
হালুয়াঘাট সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি রেজাউল করিম জানান, পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওপর পানি জমে। বর্জ্য ফেলার স্থায়ী জায়গা নেই।
পৌরসভা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক চয়ন সরকার বলেন, ‘রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দ্রুত এগুলো সংস্কার করা দরকার।’
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খুরশেদ আলম মুক্তা বলেন, ‘পৌর শহরের একটিমাত্র প্রধান সড়ক যা দিয়ে কয়লা ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। অনতিবিলম্বে একটি বাইপাস সড়ক দরকার। এছাড়া কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারে সেজন্য একটা বাজার দরকার।’
পৌরসভার এসব সমস্যা নিয়ে কথা হয় মেয়র খায়রুল আলম ভূঞার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘নতুন এই পৌরসভা নানা সমস্যায় জর্জরিত। সব কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।
ইতিমধ্যে ২৪টি ইটের রাস্তা তৈরি করেছি। এলজিইডি’র অর্থায়নে প্রায় ৬০০ মিটার রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ২টি কালভার্ট নির্মাণ করেছি। আগে বাজারের ড্রেনগুলোর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। পরিচ্ছন্নকর্মী দিয়ে পানি যাওয়ার পথ নিয়মিত পরিষ্কার করায় এখন আর পানি দীর্ঘক্ষণ জমে থাকে না।
ইতিমধ্যে ৬০০ সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। পৌরবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিশেষ বিশেষ স্থানে ৩০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। এ কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। ১৪ জন নিয়মিত পরিচ্ছন্নকর্মী দিয়ে রাস্তাঘাট এবং বাড়ির সামনের ময়লা ও বর্জ্য পরিষ্কার করা হচ্ছে।
পৌরসভায় নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে কোথাও কোনো ময়লা-আবর্জনার স্তূপ নেই। স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাজারের সড়কগুলোতে পানি ছিটিয়ে ধুলামুক্ত রাখা হচ্ছে। দরিদ্র ও অসহায়দের চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ প্রকল্প থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার নতুন রাস্তার কার্পেটিং এবং ১ কিলোমিটার আরসিসি বক্স ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে পিডিবির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে খুঁটি ও নতুন তার সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে। পৌর সদরে যানজট কমানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে হাফ ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে পারে তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসন এবং কাউন্সিলরদের সহযোগিতায় মাদক এবং বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিশুপার্ক স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পৌরসভার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দর্শা নদীর পারকে দখলমুক্ত করে হাঁটার রাস্তা করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
অতিরিক্ত কর আদায়ের ব্যাপারে মেয়র বলেন, ‘নবগঠিত পৌরসভার ট্যাক্স পৌর প্রশাসকের সময়ে পৌরবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত করা হয়েছিল, যা আদায়ের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তবে কারও কাছ থেকে বেশি কর আদায় করা হচ্ছে এমনটি মনে হলে আবেদনের প্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।’
মেয়র খায়রুল আলম বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি তথা সবার সহযোগিতা নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপ দিতে চাই।’
