প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি: বাঘা পৌরসভার মেয়র
jugantor
প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি: বাঘা পৌরসভার মেয়র

  আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)  

৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার আবদুর রাজ্জাক।

রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালের ২৪ জুন। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার আয়তন ১২ বর্গ কিলোমিটার। এখানে ৫৫ হাজার লোকের বাস। ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৮৯।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ১৭ ও নারী ভোটার ১৩ হাজার ৭৭২ জন। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুর রাজ্জাক।

২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আক্কাছ আলীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনের এ অল্প সময়ে তিনি উন্নয়নমূলক কিছু কাজ করেছেন। এখন তার সামনে রয়েছে পাহাড় পরিমাণ সমস্যা।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, ‘একটু বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে। রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, তা রাস্তার চেয়ে উঁচু। ফলে পানি ড্রেনে না নেমে রাস্তায় থেকে যায়।’

আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘রাস্তায় পর্যাপ্ত বাতি নেই। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। শিশুদের জন্য পার্ক নেই। পৌর পাঠাগার নেই। শহরে যানজটের সমস্যা রয়েছে। রয়েছে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য।’

এসব অভিযোগের জবাব এবং পৌরসভা নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘পৌরবাসীর প্রাণের দাবি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ। এ দাবি পূরণে ৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া চলছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পানি নিষ্কাশন দূর হবে। এ প্রকল্পের কাজের কারণে যানজট ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এরপর আর এ সমস্যা থাকবে না।’

মেয়র বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ভ্যান-রিকশা থেকে চাঁদা উঠানো বন্ধ করব। এ প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি। কিছু গ্রাম পৌরসভার আওতায় আনা হয়েছে। ওই গ্রামগুলোতে কাঁচারাস্তা রয়েছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করা হবে। গ্রামগুলো স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ সংযোগ, পানির লাইনের আওতায় আনা হবে। রাস্তায় স্থাপন করা হবে বাতি।’

তিনি বলেন, ‘খেলার মাঠ, রিকশা-অটোরিকশা স্ট্যান্ড নেই। ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট জায়গা নেই। নেই পাঠাগার ও শিশুদের জন্য খেলার মাঠ। অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। রয়েছে মাদক সমস্যা। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করব।’

আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘পৌরসভা গঠনের ২০ বছরে প্রধান প্রধান সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোনো মেয়র করতে পারেননি। আমি দায়িত্ব পালনের ১ বছরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতার মতো অনকে সমস্যাই থাকবে না।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। বিএনপি করি। ফলে প্রতিবন্ধকতা থাকবে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ কারণেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা কঠিন কাজ। তারপরও প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। জনগণ আমার সঙ্গে থাকলে এবং সরকারের সহযোগিতা পেলে নিশ্চয়ই আমি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারব।’

মেয়র বলেন, মেয়াদের আরও ৪ বছর বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে বাঘাকে মডেল পৌরসভায় রূপ দেয়াই আমার লক্ষ্য।

প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি: বাঘা পৌরসভার মেয়র

 আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) 
৩১ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার আবদুর রাজ্জাক।
রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার আবদুর রাজ্জাক। ছবি-যুগান্তর

রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালের ২৪ জুন। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার আয়তন ১২ বর্গ কিলোমিটার। এখানে ৫৫ হাজার লোকের বাস। ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৮৯।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ১৭ ও নারী ভোটার ১৩ হাজার ৭৭২ জন। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুর রাজ্জাক।

২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আক্কাছ আলীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনের এ অল্প সময়ে তিনি উন্নয়নমূলক কিছু কাজ করেছেন। এখন তার সামনে রয়েছে পাহাড় পরিমাণ সমস্যা।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, ‘একটু বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে। রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, তা রাস্তার চেয়ে উঁচু। ফলে পানি ড্রেনে না নেমে রাস্তায় থেকে যায়।’

আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘রাস্তায় পর্যাপ্ত বাতি নেই। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। শিশুদের জন্য পার্ক নেই। পৌর পাঠাগার নেই। শহরে যানজটের সমস্যা রয়েছে। রয়েছে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য।’

এসব অভিযোগের জবাব এবং পৌরসভা নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘পৌরবাসীর প্রাণের দাবি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ। এ দাবি পূরণে ৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া চলছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পানি নিষ্কাশন দূর হবে। এ প্রকল্পের কাজের কারণে যানজট ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এরপর আর এ সমস্যা থাকবে না।’

মেয়র বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ভ্যান-রিকশা থেকে চাঁদা উঠানো বন্ধ করব। এ প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি। কিছু গ্রাম পৌরসভার আওতায় আনা হয়েছে। ওই গ্রামগুলোতে কাঁচারাস্তা রয়েছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করা হবে। গ্রামগুলো স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ সংযোগ, পানির লাইনের আওতায় আনা হবে। রাস্তায় স্থাপন করা হবে বাতি।’

তিনি বলেন, ‘খেলার মাঠ, রিকশা-অটোরিকশা স্ট্যান্ড নেই। ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট জায়গা নেই। নেই পাঠাগার ও শিশুদের জন্য খেলার মাঠ। অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। রয়েছে মাদক সমস্যা। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করব।’

আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘পৌরসভা গঠনের ২০ বছরে প্রধান প্রধান সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোনো মেয়র করতে পারেননি। আমি দায়িত্ব পালনের ১ বছরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতার মতো অনকে সমস্যাই থাকবে না।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। বিএনপি করি। ফলে প্রতিবন্ধকতা থাকবে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ কারণেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা কঠিন কাজ। তারপরও প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। জনগণ আমার সঙ্গে থাকলে এবং সরকারের সহযোগিতা পেলে নিশ্চয়ই আমি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারব।’

মেয়র বলেন, মেয়াদের আরও ৪ বছর বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে বাঘাকে মডেল পৌরসভায় রূপ দেয়াই আমার লক্ষ্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন