Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

ঝড়-জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলা: সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেই

জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন উপকূলবাসী

Icon

শেখ মামুনূর রশীদ

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঝড়-জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলা: সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেই

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করেই জীবন চলে দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলার কয়েক কোটি মানুষের। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বলতে গেলে জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে চলেন। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে একবার সর্বস্ব হারান, তো পরেরবার বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে নতুন করে বাসাবাড়ি গড়েন। কিন্তু একটু সচেতন হলে, কিংবা সচেতন করা গেলে- মানুষগুলোর জানমালের ক্ষতি কম হতো।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক একেএম সাইফুল ইসলামের মতে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করতে শুরু করেছে। ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ছি আমরা। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকার মানুষ বেশি ঝুঁকি পোহাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত তাদের বৈরী পরিবেশে লড়াই করে বাঁচতে হয়। জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি যেমন সম্পদহানি ঘটছে, তেমনি মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটছে।’ তিনি বলেন, এ অবস্থায় একদিকে যেমন আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে উপকূলবর্তী এবং ঝুঁকিপ্রবণ এলাকার মানুষকে সচেতন করতে হবে। তাহলে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসে ক্ষয়ক্ষতি কম হবে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব পুরো বিশ্বের ওপর পড়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে এ দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং সেখানে বসবাসরত কয়েক কোটি মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসে এখানকার মানুষ বেশি নিঃস্ব হন, জীবন হারান, সম্পদ হারান। অথচ প্রত্যন্ত এসব অঞ্চলের মানুষ দুর্যোগের প্রস্তুতির কৌশল সম্পর্কে কিছুই জানেন না। সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলে কয়েক লাখ মানুষ সমুদ্র এবং সমুদ্র নিকটকর্তী স্থানে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন। প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠী জানে না দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস, সুনামি, ভূমিকম্প, বজ পাত, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস কি? ফি বছর সরকার দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে। কিন্তু যাদের সচেতন করা দরকার তাদের কাছে পৌঁছেনি কোনো সতর্কবাণী।

বরগুনার প্রবীণ আইনজীবী আবদুস সালাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় নিয়মিত ঘটনা। ১৯৭০ সালে ১২ নভেম্বর উপকূলবর্তী আমতলী ও তালতলীর উপর বয়ে যাওয়া ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে শুধু আমতলী ও তালতলীতেই ২৯৭ জন প্রাণ হারান।

তিনি বলেন, আমতলী ও তালতলী এলাকায় শিক্ষা নেই, আধুনিকতার ছোঁয়া নেই। এখানে বেশিরভাগ মানুষ জানেন না সচেতনতা তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের সমুদ্র্র উপকূলীয় অঞ্চল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত তিন দশকে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদী ভাঙনে সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদগুলো লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে একদিকে যেমন সমুদ্র পৃষ্ঠের তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে নদ-নদীর নাব্য হারিয়ে গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রের পানি উপকূলীয় এলাকায় উপচে পড়ছে। ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাখ লাখ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে।

তাদের মতে, ১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বর সুন্দরবন উপকূলে প্রলয়ঙ্করী সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম কক্সবাজার অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনার উপকূলে সিডরের তাণ্ডব এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনা, সাতক্ষীরা উপকূলে আইলার ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে গোটা উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। এ অবস্থায় উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। এতে অন্তত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কম হবে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘পরিবেশ নিয়ে আমাদের আরও ভাবতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি। মানুষকেও বিরূপ আবহাওয়া এবং বৈরী পরিবেশে বাঁচার উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।’

সচেতনতা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম