শেয়ারবাজারের উন্নয়ন: বিনা শর্তে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দাবি

অর্থমন্ত্রীকে ৬ দাবি জানিয়ে ডিবিএ’র চিঠি * দেড় হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা চায় সিএসই

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বিনা শর্তে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে দেয়া বাজেট প্রস্তাবে এ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আরও পাঁচটি দাবি করেছে সংগঠনটি।

এদিকে করোনার কারণে শেয়ারবাজার বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা চেয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এর মধ্যে ৯০০ কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ চাওয়া হয়েছে।

করোনা সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় ছয় ধরনের দাবি করেছে ডিবিএ। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারে বিনা শর্তে অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) বিনিয়োগের সুযোগ, মার্জিন ঋণধারী (শেয়ার কেনায় ঋণ) বিনিয়োগকারীদের ৩ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা এবং মার্জিন ঋণের সুদ এক বছরের জন্য স্থগিত করা, ব্রোকারদের এক বছরের অফিস ব্যয় মেটানোর জন্য সহজ শর্তে তহবিলের জোগান দেয়া।

অর্থমন্ত্রীকে দেয়া ডিবিএ’র চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মন্দার কারণে পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ব্রোকারেজ হাউসসহ পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনরা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। এছাড়া করোনার কারণে অন্য সব ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়- ব্রোকারদের অফিস পরিচালনা ব্যয়ভার বিশেষ করে অফিস ভাড়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি মিটিয়ে সব কার্যক্রম সচল রাখতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

ডিবিএ শেয়ার কেনাবেচার ওপর সরকারকে প্রদেয় আগাম করের হার দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ০১৫ শতাংশ নির্ধারণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো ব্রোকারেজ হাউস ১ লাখ টাকা লেনদেন করলে সরকার ৫০ টাকা আগাম কর দিতে হয়।

আগামী বাজাটে তা ১৫ টাকা করতে বলা হয়েছে। মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে তিন বছর মেয়াদে তিন শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, এ ঋণ পেলে বিনিয়োগকারীদের পুনরায় লেনদেনে ফিরিয়ে এনে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তথা ফোর্স সেল বাধ্যতামূলক (শেয়ার বিক্রি) থেকে বিনিয়োগকারীকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে।

মার্জিন ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদ এক বছরের জন্য স্থগিত করা হলে বিনিয়োগকারী তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে এবং চিঠিতে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ সংক্রান্ত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থ ১:১ ভিত্তিতে বন্ড মার্কেট ও সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করতে হবে। বন্ডে বিনিয়োগ করা অর্থ তিন বছরের জন্য বন্ধক থাকবে এবং ওই বন্ড এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে লেনদেনযোগ্য হতে হবে।

এছাড়া প্রস্তাবে ব্রোকার কর্তৃক প্রদেয় সিডিবিএল ফি ও চার্জ, বিনিয়োগকারীদের বিও ফি ইত্যাদি থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অপরদিকে সিএসই ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা চেয়েছে। এর মধ্যে মার্জিন ঋণের সুদে ভর্তুকি ৪০০ কোটি টাকা, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অফিস খরচে ভর্তুকি ৮০ কোটি, কর্পোরেট করে ভর্তুকি ২০ কোটি, বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন ফি মওকুফ ৫০ কোটি এবং সিএসইর ব্রোকারদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা ঋণ চাওয়া হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত