শিবগঞ্জে মজুরির আড়াই কোটি টাকা আটকা প্রকল্প কর্মকর্তার হাতে
jugantor
হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি
শিবগঞ্জে মজুরির আড়াই কোটি টাকা আটকা প্রকল্প কর্মকর্তার হাতে

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো  

২২ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের ৩ হাজার ২৮৭ জন দিনমজুরের ২ কোটি ৬৩ লাখ ৬ হাজার টাকা চার মাস ধরে আটকে রেখেছে উপজেলা প্রশাসন।

এসব দিনমজুর ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪০ দিন দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে ‘অতি হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ নামের একটি সরকারি প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ করেছিলেন।

৪০ দিনের মজুরি হিসাবে প্রত্যেকের ৮ হাজার টাকা করে পাওয়ার কথা। করোনা মহামারীর এই কঠিন সময়ে কোনো কারণ ছাড়াই টাকা আটকে রাখায় দরিদ্র মানুষগুলো চরম সংকটের মধ্যে আছেন। টাকার জন্য ঘুরতে ঘুরতে তারা ক্লান্ত।

প্রকল্পের মূল তদারকি কর্মকর্তা শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দিনমজুরদের পাওনা থেকে অর্ধেক টাকা কেটে রাখার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই টাকা আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার দরিদ্র কর্মহীন মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থানের জন্য ২০১৭ সাল থেকে ১৫টি ইউনিয়নে সরকারি এ প্রকল্পটি চালু রয়েছে। বছরে দুইবার ৪০ দিন করে মোট ৮০ দিন দরিদ্ররা গ্রামীণ সড়কসহ সরকারের বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে শ্রমিকের কাজ করার সুযোগ পান।

বছরের মার্চ থেকে মে প্রথম পর্যায়ে ও নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ করেন তারা। ১৫ ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ২৮৭ জন অতিদরিদ্র কর্মহীন দিনমজুর এ কাজের জন্য তালিকাভুক্ত। কাজ শেষের দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের মজুরি ব্যাংকের হিসাবে পাঠিয়ে দেয়ার কথা। সেই হিসাবে গত ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রত্যেকের ব্যাংক হিসাবে টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু জানুয়ারি মাসে কাজ শেষ করলেও বুধবার (২০ মে) ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসেও তাদের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়নি। উপজেলার একাধিক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, মজুরির অর্ধেক টাকা কেটে রাখার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিন মাস ধরে শ্রমিকদের মজুরি আটকে রাখা হয়েছে। কারোনাকালেও এ টাকা ছাড় করেনি উপজেলা প্রশাসন।

জনসংখ্যা ও আয়তনে শিবগঞ্জের বৃহৎ ইউনিয়ন দুর্লভপুরের চেয়ারম্যান আবদুর রাজিব রাজু যুগান্তরকে বলেন, কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দফতরে শ্রমিকদের নামের তালিকা, ব্যাংক হিসাব নম্বর ও সিরিয়াল আইডি জমা করেছি।

উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সভাতেও আমরা চেয়ারম্যানরা এ টাকা ছাড় দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) টাকা ছাড়েননি। তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বড় গণ্ডগোল আছে। সবকিছু ফোনে খুলে বলা যাবে না। বলতে পারেন অজ্ঞাত কারণে দিনমজুরদের টাকা আটকে রেখেছে উপজেলা প্রশাসন।’

হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি

শিবগঞ্জে মজুরির আড়াই কোটি টাকা আটকা প্রকল্প কর্মকর্তার হাতে

 আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো 
২২ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের ৩ হাজার ২৮৭ জন দিনমজুরের ২ কোটি ৬৩ লাখ ৬ হাজার টাকা চার মাস ধরে আটকে রেখেছে উপজেলা প্রশাসন।
 

এসব দিনমজুর ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪০ দিন দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে ‘অতি হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ নামের একটি সরকারি প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ করেছিলেন।

৪০ দিনের মজুরি হিসাবে প্রত্যেকের ৮ হাজার টাকা করে পাওয়ার কথা। করোনা মহামারীর এই কঠিন সময়ে কোনো কারণ ছাড়াই টাকা আটকে রাখায় দরিদ্র মানুষগুলো চরম সংকটের মধ্যে আছেন। টাকার জন্য ঘুরতে ঘুরতে তারা ক্লান্ত।
 

প্রকল্পের মূল তদারকি কর্মকর্তা শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দিনমজুরদের পাওনা থেকে অর্ধেক টাকা কেটে রাখার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই টাকা আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার দরিদ্র কর্মহীন মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থানের জন্য ২০১৭ সাল থেকে ১৫টি ইউনিয়নে সরকারি এ প্রকল্পটি চালু রয়েছে। বছরে দুইবার ৪০ দিন করে মোট ৮০ দিন দরিদ্ররা গ্রামীণ সড়কসহ সরকারের বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে শ্রমিকের কাজ করার সুযোগ পান।
 

বছরের মার্চ থেকে মে প্রথম পর্যায়ে ও নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ করেন তারা। ১৫ ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ২৮৭ জন অতিদরিদ্র কর্মহীন দিনমজুর এ কাজের জন্য তালিকাভুক্ত। কাজ শেষের দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের মজুরি ব্যাংকের হিসাবে পাঠিয়ে দেয়ার কথা। সেই হিসাবে গত ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রত্যেকের ব্যাংক হিসাবে টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল।
 

কিন্তু জানুয়ারি মাসে কাজ শেষ করলেও বুধবার (২০ মে) ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসেও তাদের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়নি। উপজেলার একাধিক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, মজুরির অর্ধেক টাকা কেটে রাখার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিন মাস ধরে শ্রমিকদের মজুরি আটকে রাখা হয়েছে। কারোনাকালেও এ টাকা ছাড় করেনি উপজেলা প্রশাসন।

জনসংখ্যা ও আয়তনে শিবগঞ্জের বৃহৎ ইউনিয়ন দুর্লভপুরের চেয়ারম্যান আবদুর রাজিব রাজু যুগান্তরকে বলেন, কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দফতরে শ্রমিকদের নামের তালিকা, ব্যাংক হিসাব নম্বর ও সিরিয়াল আইডি জমা করেছি।

উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সভাতেও আমরা চেয়ারম্যানরা এ টাকা ছাড় দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) টাকা ছাড়েননি। তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বড় গণ্ডগোল আছে। সবকিছু ফোনে খুলে বলা যাবে না। বলতে পারেন অজ্ঞাত কারণে দিনমজুরদের টাকা আটকে রেখেছে উপজেলা প্রশাসন।’