বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
jugantor
১২ জেলার ৯ নদীর পানি বিপদসীমার উপরে
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
বিস্তারের শঙ্কা আরও ৮ জেলায় * নদীভাঙন অব্যাহত * ঢাকার আশপাশের নদীর পানির সমতল বাড়তে পারে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে একযোগে শুরু হওয়া বন্যার অবনতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। আরও আটটিতে বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। রোববার পর্যন্ত নতুন করে আরও দুটি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে, মোট নয়টি নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে একযোগে শুরু হওয়া বন্যার অবনতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। আরও আটটিতে বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। রোববার পর্যন্ত নতুন করে আরও দুটি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে, মোট নয়টি নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। রোববারও বাড়িঘর, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেড় শতাধিক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেয়া পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কিছু জেলায় ত্রাণ দেয়া হলেও অনেক জেলায় ত্রাণের জন্য হাহাকার রয়েছে।

বন্যাকবলিত জেলার শুধু নিম্নাঞ্চলই নয়, অনেক উঁচু স্থানও চলে গেছে পানির নিচে। কোথাও বানের পানি ঢুকে গেছে শহরে। সেখানে রাস্তায় নৌকা চলছে। ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে নেমে আসা বানের পানি, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা ৭ জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

বন্যাকবলিত জেলাগুলো হচ্ছে : নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা বিপদসীমা পার হতে পারে। মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুলেও পদ্মা বিপদসীমা পার করতে পারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে।

এতে রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জও যুক্ত হবে বন্যাকবলিত জেলার তালিকায়। অপরদিকে বিপদসীমার উপরে নতুন করে প্রবাহিত নদী দুটি হচ্ছে- গাইবান্ধার ঘাগট ও নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ধরলা, সুরমা, কুশিয়ারা, যদুকাটাও বইছে বিপদসীমার উপরে।

ভূগাই ও কংস ২৪-৪৮ ঘণ্টায় বিপদসীমা পার করতে পারে। ঢাকার আশপাশের নদ-নদীর পানি সমতলে বাড়তে পারে। তবে বিপদসীমা পার করার আশঙ্কা নেই। সব মিলিয়ে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটবে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ভারতের মেঘালয়, আসাম, দার্জিলিংসহ পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ও বাংলাদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে। বৃষ্টির পানিই স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

সরকারি সংস্থা ৭ জুলাই পর্যন্ত বন্যা চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের যে প্রবণতা, তাতে এটা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। এতে মানুষের ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বন্যা মধ্যাঞ্চলের ঢাকা, নরসিংদী, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে ২০ জেলা।

এফএফডব্লিউসির বুলেটিনে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা অববাহিকায় অবস্থিত উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বর্তমানে বিপদসীমার সবচেয়ে উপরে বইছে যদুকাটা লাউরেরগড় পয়েন্টে। অপরদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে লাউরের গড়ে ৩৬০ মিলিমিটার।

এ ছাড়া মহেশখোলা, সুনামগঞ্জ, লালাখাল, ছাতক ও জারিয়াজঞ্জাইলেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। আর ভারতের পূর্বাঞ্চলের জেলার মধ্যে চেরাপুঞ্জিতে একদিনে বৃষ্টি হয়েছে ৫৭২ মিলিমিটার। শিলংয়ে বৃষ্টি হয়েছে ৮৮ মিলিমিটার। দার্জিলিংয়ে ৬৯ এবং কৈলাসরে ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড দেশের ১০১ স্থানে পানি সমতল পর্যবেক্ষণ করে থাকে। এর মধ্যে ১৪ স্থানে পানি বইছে বিপদসীমার উপরে। ৮৬ স্থানেই বেড়েছে পানির সমতল।

যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে মানুষ। ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৬ সেমি. ও ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪১ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জেলায় ৪টি উপজেলার সুন্দরগঞ্জের ৩টি ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদরের ২টি, ফুলছড়ির ৫টি ও সাঘাটার ৫টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গাইবান্ধা-বালাসীঘাট পাকা সড়কটির আধা কিলোমিটার এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সড়কের ওপর দিয়ে এখন নৌকা চলাচল করছে।

কুড়িগ্রাম, নাগেশ্বরী ও চিলমারী : ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ দুটি নদীর অববাহিকার তিন শতাধিক চর ও নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত দেড় লাখ মানুষ। রোববার দুপুরে ধরলার পানি বিপদসীমার ৬৭ ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান প্রধান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কসহ জেলা সদরের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নাগেশ্বরীতে ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন করে তলিয়ে গেছে অনেক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ সহস্রাধিক মানুষ। ভেঙে গেছে বামনডাঙ্গার ধনিটারী ব্রিজসহ অনেক ব্রিজ। চিলমারীর অষ্টমীরচর ও নয়ারহাট ইউনিয়নে কয়েকদিনে নদীভাঙনে শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু স্থাপনা। নয়ারহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ খাউরিয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে ও ২শ’ বিঘা আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি ব্যারাক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : রোববার বেলা ৩টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বিকালে এ তথ্য জানান। এদিকে, সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি একটানা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলে হুহু করে পানি প্রবেশ করছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি করতোয়া ও বড়ালসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের গুনেরগাঁতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরাতন বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে যমুনা নদীর পানি প্রবেশ করে গুনেরগাঁতি গ্রাম ও সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল রাণীগ্রামের ৫ শতাধিক বাড়িঘর তলিয়ে গেছে।

নেত্রকোনা, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর : নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা এবং কলমাকান্দা উপজেলার শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে যাতে কৃষকদের আমন বীজতলার কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীতে গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের কালিকাবর বেড়িবাঁধ ভেঙে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয়রা। কলমাকান্দায় আটটি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন।

দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর (জামালপুর) : যমুনা নদীর পানি হুহু করে বাড়ছে। রোববার দুপুরে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন সড়ক গুজিমারী সড়কসহ উপজেলা প্রশাসন চত্বর পানিতে তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার : সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার দুপুরে সুরমার পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের অধিকাংশ বাসাবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সীমান্তবর্তী উপজেলা তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারে গ্রামীণ সড়ক ডুবে বন্যা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরের সব কটি রাস্তা ডুবে গিয়ে উপজেলা সদরের বাসাবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তাহিরপুরে ৬০-৭০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে, ছাতক উপজেলায় ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্লাবিত হয়ে এ উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ উপজেলায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ৪১০ টন চাল এবং ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা জিআর চাল ও নগদ বরাদ্দ এবং উপজেলাগুলোয় ৪ হাজার ৭৫টি পরিবারের মাঝে শিশুখাদ্য বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫০ সেমি. এবং চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ১৬৫ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ ইউনিয়নের লাখো বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সিলেট : সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতায় বেশ কয়েকটি দোকান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে গোলশান হোটেলের সামনে ও মেইন সড়কেও পানি উঠেছে। রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে সিলেটে বড় আকারের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, জৈন্তা, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে, দেখা দিয়েছে বন্যা।

বগুড়া : সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বহুলাডাঙা কমিউনিটি ক্লিনিক, আউচারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাকালিহাতা জামে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শিমুলতাইড় চরের খায়ের উদ্দিন মণ্ডল জানান, তার একটি গরু ও ঘর নদীতে ভেসে গেছে।

১২ জেলার ৯ নদীর পানি বিপদসীমার উপরে

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

বিস্তারের শঙ্কা আরও ৮ জেলায় * নদীভাঙন অব্যাহত * ঢাকার আশপাশের নদীর পানির সমতল বাড়তে পারে
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে একযোগে শুরু হওয়া বন্যার অবনতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। আরও আটটিতে বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। রোববার পর্যন্ত নতুন করে আরও দুটি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে, মোট নয়টি নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে একযোগে শুরু হওয়া বন্যার অবনতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। আরও আটটিতে বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। রোববার পর্যন্ত নতুন করে আরও দুটি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে, মোট নয়টি নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। রোববারও বাড়িঘর, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেড় শতাধিক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেয়া পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কিছু জেলায় ত্রাণ দেয়া হলেও অনেক জেলায় ত্রাণের জন্য হাহাকার রয়েছে।

বন্যাকবলিত জেলার শুধু নিম্নাঞ্চলই নয়, অনেক উঁচু স্থানও চলে গেছে পানির নিচে। কোথাও বানের পানি ঢুকে গেছে শহরে। সেখানে রাস্তায় নৌকা চলছে। ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে নেমে আসা বানের পানি, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা ৭ জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

বন্যাকবলিত জেলাগুলো হচ্ছে : নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা বিপদসীমা পার হতে পারে। মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুলেও পদ্মা বিপদসীমা পার করতে পারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে।

এতে রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জও যুক্ত হবে বন্যাকবলিত জেলার তালিকায়। অপরদিকে বিপদসীমার উপরে নতুন করে প্রবাহিত নদী দুটি হচ্ছে- গাইবান্ধার ঘাগট ও নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ধরলা, সুরমা, কুশিয়ারা, যদুকাটাও বইছে বিপদসীমার উপরে।

ভূগাই ও কংস ২৪-৪৮ ঘণ্টায় বিপদসীমা পার করতে পারে। ঢাকার আশপাশের নদ-নদীর পানি সমতলে বাড়তে পারে। তবে বিপদসীমা পার করার আশঙ্কা নেই। সব মিলিয়ে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটবে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ভারতের মেঘালয়, আসাম, দার্জিলিংসহ পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ও বাংলাদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে। বৃষ্টির পানিই স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

সরকারি সংস্থা ৭ জুলাই পর্যন্ত বন্যা চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের যে প্রবণতা, তাতে এটা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। এতে মানুষের ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বন্যা মধ্যাঞ্চলের ঢাকা, নরসিংদী, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে ২০ জেলা।

এফএফডব্লিউসির বুলেটিনে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা অববাহিকায় অবস্থিত উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বর্তমানে বিপদসীমার সবচেয়ে উপরে বইছে যদুকাটা লাউরেরগড় পয়েন্টে। অপরদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে লাউরের গড়ে ৩৬০ মিলিমিটার।

এ ছাড়া মহেশখোলা, সুনামগঞ্জ, লালাখাল, ছাতক ও জারিয়াজঞ্জাইলেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। আর ভারতের পূর্বাঞ্চলের জেলার মধ্যে চেরাপুঞ্জিতে একদিনে বৃষ্টি হয়েছে ৫৭২ মিলিমিটার। শিলংয়ে বৃষ্টি হয়েছে ৮৮ মিলিমিটার। দার্জিলিংয়ে ৬৯ এবং কৈলাসরে ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড দেশের ১০১ স্থানে পানি সমতল পর্যবেক্ষণ করে থাকে। এর মধ্যে ১৪ স্থানে পানি বইছে বিপদসীমার উপরে। ৮৬ স্থানেই বেড়েছে পানির সমতল।

যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে মানুষ। ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৬ সেমি. ও ঘাঘট নদীর পানি নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪১ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জেলায় ৪টি উপজেলার সুন্দরগঞ্জের ৩টি ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদরের ২টি, ফুলছড়ির ৫টি ও সাঘাটার ৫টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গাইবান্ধা-বালাসীঘাট পাকা সড়কটির আধা কিলোমিটার এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সড়কের ওপর দিয়ে এখন নৌকা চলাচল করছে।

কুড়িগ্রাম, নাগেশ্বরী ও চিলমারী : ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ দুটি নদীর অববাহিকার তিন শতাধিক চর ও নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত দেড় লাখ মানুষ। রোববার দুপুরে ধরলার পানি বিপদসীমার ৬৭ ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান প্রধান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কসহ জেলা সদরের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নাগেশ্বরীতে ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন করে তলিয়ে গেছে অনেক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ সহস্রাধিক মানুষ। ভেঙে গেছে বামনডাঙ্গার ধনিটারী ব্রিজসহ অনেক ব্রিজ। চিলমারীর অষ্টমীরচর ও নয়ারহাট ইউনিয়নে কয়েকদিনে নদীভাঙনে শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু স্থাপনা। নয়ারহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ খাউরিয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে ও ২শ’ বিঘা আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি ব্যারাক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : রোববার বেলা ৩টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বিকালে এ তথ্য জানান। এদিকে, সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি একটানা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলে হুহু করে পানি প্রবেশ করছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি করতোয়া ও বড়ালসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের গুনেরগাঁতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরাতন বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে যমুনা নদীর পানি প্রবেশ করে গুনেরগাঁতি গ্রাম ও সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল রাণীগ্রামের ৫ শতাধিক বাড়িঘর তলিয়ে গেছে।

নেত্রকোনা, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর : নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা এবং কলমাকান্দা উপজেলার শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে যাতে কৃষকদের আমন বীজতলার কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীতে গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের কালিকাবর বেড়িবাঁধ ভেঙে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয়রা। কলমাকান্দায় আটটি ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন।

দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর (জামালপুর) : যমুনা নদীর পানি হুহু করে বাড়ছে। রোববার দুপুরে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন সড়ক গুজিমারী সড়কসহ উপজেলা প্রশাসন চত্বর পানিতে তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার : সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার দুপুরে সুরমার পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের অধিকাংশ বাসাবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সীমান্তবর্তী উপজেলা তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারে গ্রামীণ সড়ক ডুবে বন্যা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরের সব কটি রাস্তা ডুবে গিয়ে উপজেলা সদরের বাসাবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তাহিরপুরে ৬০-৭০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে, ছাতক উপজেলায় ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্লাবিত হয়ে এ উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ উপজেলায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ৪১০ টন চাল এবং ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা জিআর চাল ও নগদ বরাদ্দ এবং উপজেলাগুলোয় ৪ হাজার ৭৫টি পরিবারের মাঝে শিশুখাদ্য বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫০ সেমি. এবং চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ১৬৫ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ ইউনিয়নের লাখো বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। 

সিলেট : সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতায় বেশ কয়েকটি দোকান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে গোলশান হোটেলের সামনে ও মেইন সড়কেও পানি উঠেছে। রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে সিলেটে বড় আকারের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, জৈন্তা, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে, দেখা দিয়েছে বন্যা।

বগুড়া : সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বহুলাডাঙা কমিউনিটি ক্লিনিক, আউচারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাকালিহাতা জামে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শিমুলতাইড় চরের খায়ের উদ্দিন মণ্ডল জানান, তার একটি গরু ও ঘর নদীতে ভেসে গেছে।