দ্রুত অবনতি হচ্ছে বন্যার
jugantor
পানিবন্দি ৬৭৯১৭৮ পরিবার
দ্রুত অবনতি হচ্ছে বন্যার
রাজধানীতে ঢুকেছে বানের পানি * ১৯ নদী প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার উপরে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বুধবার নতুন করে আরও পাঁচ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এ নিয়ে এখন ২৫ জেলায় চলছে বন্যা। এদিন রাজধানীতেও বন্যা শুরু হয়েছে। ডেমরা পয়েন্টে বালু নদী বিপদসীমা পার করেছে। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) এ এলাকার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে চলে গেছে। এ মুহূর্তে দেশের ১৯টি নদী অন্তত ৩০ স্থানে প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার উপরে।

শেরপুরে বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর সেতু সোমবার বিকালে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে নদীতে ভেঙে পড়ে। শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। ঘন ঘন বন্যায় ভোগান্তির পাশাপাশি চরম খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানির সংকটে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। চাঁদপুরে ৬ শতাধিক বসতবাড়ি পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে।

সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) বলছে, দেশের চারটি নদী অববাহিকার মধ্যে তিনটিতেই পানিপ্রবাহ বেড়েছে। এগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় পানির সমতল বৃদ্ধির প্রবণতা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। আপার মেঘনা অববাহিকার নদীগুলোর পানির সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে আরও ২৪ ঘণ্টা। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির সমতল স্থিতিশীল আছে। তবে পদ্মা নদী অন্তত চারটি পয়েন্টে বইছে বিপদসীমার উপরে। যমুনা নদী থেকে পদ্মায় পানি নেমে আসার ধারা অব্যাহত আছে। এ কারণে রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ বেড়েছে। পানি বৃদ্ধির এ ধারা আরও ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। সবমিলে দেশে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এবার চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হতে পারে। ১৯৯৮ সালের বন্যার মেয়াদ ছিল ৬৩ দিন। ২০১৬ সালের পর চারটি বন্যা হয়েছে। ২০০৪ ও ২০০৭ সালেও মোটামুটি বড় বন্যা হয়েছে। কিন্তু কোনোটিই এবারের মতো এমন বড় ছিল না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এটি বেশ দীর্ঘস্থায়ী হবে। ইতোমধ্যে এবারের বন্যার বয়স ২৬ দিন হয়েছে। সবমিলে ৩৫ থেকে ৪০ দিন ধরে বন্যা চলতে পারে।

বাংলাদেশে চলমান এ বন্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী জরুরি সাহায্য দিয়েছে। এছাড়া বন্যা নিয়ে পূর্বাভাসও দিয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার জাতিসংঘের কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালের পর এবারের বন্যা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা আছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ মুহূর্তে বন্যা কবলিত জেলাগুলো হচ্ছে- লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ি, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, নেত্রকোনা, ফেনী, শরীয়তপুর, ঢাকা, নওগাঁ, মুন্সীগঞ্জ। তবে এফএফডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, নাটোর, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও বন্যা চলছে। এছাড়া পাবনা, কিশোরগঞ্জ, ও কক্সবাজার বন্যা কবলিত হতে পারে বলে বন্যা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট ও মানিকগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

মূলত এসব এলাকায় প্রবাহিত নদনদীতে পানিপ্রবাহ বেড়ে এ বন্যা সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওইসব জেলার নদীগুলোর মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, ঘাগট, করতোয়া, গুড়, আত্রাই, ধলেশ্বরী, পুরাতন সুরমা, শীতলক্ষ্যা, কালীগঙ্গা, সুরমা, যদুকাটা, তিতাস, সোমেশ্বরী ৩০ স্থানে বিপদসীমার উপরে বইছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জেলার ১০২টি উপজেলা বন্যা উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব উপজেলার মধ্যে আবার ৬৪০ ইউনিয়নের ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৮ পরিবার পানিবন্দি। বন্যায় এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৮৩১ জন। আর মারা গেছেন ২৫ জন। যদিও জাতিসংঘের ওসিএইচএ বলছে, অন্তত ৫৪ জন মারা গেছেন। বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন ৫৬ হাজার মানুষ। ২৭ জুন থেকে দেশে বন্যা চলছে। পরে ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয়। আর তৃতীয় দফার বন্যাটি শুরু হয়েছে সোমবার। যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শেরপুর : শেরপুরের চরাঞ্চলের ১২টি ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে শেরপুর সদর উপজেলার বলাইরচর ইউনিয়নের চরশ্রীপুর গ্রামের উমিলা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে সোবাহান মিয়া ভুষি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়ারদোকান ও শিমুলতলীর দুটি ডাইভারশনের উপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ৬ দিন ধরে শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

নেত্রকোনা ও কলমাকান্দা : নেত্রকোনার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তৃতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা ও খালিয়াজুরিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ওই সব এলাকায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। খালিয়াজুরীর বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ১১৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ধনু ও উব্দাখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টাঙ্গাইল, ভূঞাপুর ও নাগরপুর : টাঙ্গাইলের যুমনা নদীর পানি কমলেও বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। টাঙ্গাইল শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়াও বন্যার পানির তীব্র স্রোতে একের এক সেতু ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বুধবার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পাছ বেতর গ্রামের শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে শহরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর সেতু সোমবার বিকালে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে নদীতে ভেঙে পড়ে।

সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ঝিনাই নদীর ওপর স্থাপিত ২০০ মিটার ব্রিজের মাঝামাঝি একাংশ দেবে স্রোতের তোড়ে নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে ১৫টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর শাহাজাদা হাট এলাকা এ ঘটনা ঘটে।

ধোবাউড়া ও ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের কামলাপুর এলাকায় নেতাই নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে বন্যায় উপজেলা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার : সুনামগঞ্জে সার্বিক বন্যা পারিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সুরমা, সীমান্ত নদী যদুকাটা, চলতি ও রক্তি নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার বিকালে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ষোলোঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৭ সেমি. ও যদুকাটা নদীর পানি শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৬ সেমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

শরীয়তপুর : শরীয়তপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। শরীয়তপুরের ৪টি উপজেলায় কমপক্ষে ৫০টি ইউনিয়নও ৪টি পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক বাসস্ট্যান্ড, রাজনগর, ডগরিসহ ৪টি স্থানে পানি উঠে ঢাকা-শরীয়তপুর যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের গোপালবাড়ী এলাকায় রাস্তায় ফাটল দেখা দেয়ায় বন্যার পানি সামান্য পরিমাণ ঢুকে পড়ায় হুমকিতে রয়েছে শহর রক্ষাবাঁধ ও উড়াকান্দা মোল্লাপাড়া জামে মসজিদ।

বাঘা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভাঙনে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়েছে।

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : বাঁশখালীতে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ঘের মালিক ও সবজিচাষীরা।

নওগাঁ : নওগাঁর আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার ৬টি উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

রংপুর : রংপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। কিন্তু এখনও ভাঙন থামেনি। তিস্তা ও ঘাঘটসহ জেলার অন্যান্য নদ-নদীগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে তিস্তার বন্যা নিয়ন্ত্রণ মূল বাঁধটি।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি আবার বাড়ছে। পানি বেড়ে ধরলার পানি বিপদসীমার ৬৯ সেমি. ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৫৩ সেমি.র উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা।

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : বুধবার পদ্মায় বিপদসীমার ৭০ সেমি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় লৌহজং উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৫১টি গ্রামসহ নিুঞ্চল, চরাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে প্লাবিত হওয়ায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ফরিদপুর : ফরিদপুর সদর উপজেলার সাদীপুর এলাকায় ভেঙে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বাঁধটি মেরামত করার ফলে শহরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বুধবারও পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০৪ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি রয়েছে ছয়টি উপজেলার প্রায় পাঁচশ’ গ্রাম।

লালমনিরহাট : ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার বেলা ৩টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপরে ও হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো আবারও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে পানি কিছুটা কমলেও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি কমতে শুরু করলেও জেলায় ৫১ হাজার পরিবারের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সব নদীর পানি পুনরায় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এর আগে গত কয়েক দিন ধরে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা কবলিত সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাগুলোয় ঘরবাড়ি থেকে পানি কমতে শুরু করেছিল।

চাঁদপুর : ভাঙনের তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের প্রায় আটটি চরের মানুষ। ভিটেবাড়ি হারিয়ে কোথায় যাবেন, এমনি অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের এখন দিন কাটছে। তিন দিনে আরও কয়েকশ’ পরিবারের শেষ সম্বল বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ছয় শতাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

মানিকগঞ্জ : ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৭ সেমি করে বিপদসীমার ৫৭ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার শাখা নদীর পানি দ্রুত হারে বেড়ে চলছে। এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলে বানের পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক এলাকার নিচু সড়কে হাঁটুপানি উঠেছে।

পাবনা : পাবনায় বন্যায় যমুনা নদী তীরবর্তী বেড়া উপজেলার ৪ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম পানিতে ভাসছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ। যমুনা নদীর পানি বেড়া উপজেলার নগরবাড়ি ঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৬ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানিবন্দি ৬৭৯১৭৮ পরিবার

দ্রুত অবনতি হচ্ছে বন্যার

রাজধানীতে ঢুকেছে বানের পানি * ১৯ নদী প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার উপরে
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৩ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বুধবার নতুন করে আরও পাঁচ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এ নিয়ে এখন ২৫ জেলায় চলছে বন্যা। এদিন রাজধানীতেও বন্যা শুরু হয়েছে। ডেমরা পয়েন্টে বালু নদী বিপদসীমা পার করেছে। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) এ এলাকার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে চলে গেছে। এ মুহূর্তে দেশের ১৯টি নদী অন্তত ৩০ স্থানে প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার উপরে।

শেরপুরে বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর সেতু সোমবার বিকালে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে নদীতে ভেঙে পড়ে। শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। ঘন ঘন বন্যায় ভোগান্তির পাশাপাশি চরম খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানির সংকটে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। চাঁদপুরে ৬ শতাধিক বসতবাড়ি পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে।

সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) বলছে, দেশের চারটি নদী অববাহিকার মধ্যে তিনটিতেই পানিপ্রবাহ বেড়েছে। এগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় পানির সমতল বৃদ্ধির প্রবণতা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। আপার মেঘনা অববাহিকার নদীগুলোর পানির সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে আরও ২৪ ঘণ্টা। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির সমতল স্থিতিশীল আছে। তবে পদ্মা নদী অন্তত চারটি পয়েন্টে বইছে বিপদসীমার উপরে। যমুনা নদী থেকে পদ্মায় পানি নেমে আসার ধারা অব্যাহত আছে। এ কারণে রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ বেড়েছে। পানি বৃদ্ধির এ ধারা আরও ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। সবমিলে দেশে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এবার চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হতে পারে। ১৯৯৮ সালের বন্যার মেয়াদ ছিল ৬৩ দিন। ২০১৬ সালের পর চারটি বন্যা হয়েছে। ২০০৪ ও ২০০৭ সালেও মোটামুটি বড় বন্যা হয়েছে। কিন্তু কোনোটিই এবারের মতো এমন বড় ছিল না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এটি বেশ দীর্ঘস্থায়ী হবে। ইতোমধ্যে এবারের বন্যার বয়স ২৬ দিন হয়েছে। সবমিলে ৩৫ থেকে ৪০ দিন ধরে বন্যা চলতে পারে।

বাংলাদেশে চলমান এ বন্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী জরুরি সাহায্য দিয়েছে। এছাড়া বন্যা নিয়ে পূর্বাভাসও দিয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার জাতিসংঘের কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালের পর এবারের বন্যা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা আছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ মুহূর্তে বন্যা কবলিত জেলাগুলো হচ্ছে- লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ি, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, নেত্রকোনা, ফেনী, শরীয়তপুর, ঢাকা, নওগাঁ, মুন্সীগঞ্জ। তবে এফএফডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, নাটোর, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও বন্যা চলছে। এছাড়া পাবনা, কিশোরগঞ্জ, ও কক্সবাজার বন্যা কবলিত হতে পারে বলে বন্যা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট ও মানিকগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

মূলত এসব এলাকায় প্রবাহিত নদনদীতে পানিপ্রবাহ বেড়ে এ বন্যা সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওইসব জেলার নদীগুলোর মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, ঘাগট, করতোয়া, গুড়, আত্রাই, ধলেশ্বরী, পুরাতন সুরমা, শীতলক্ষ্যা, কালীগঙ্গা, সুরমা, যদুকাটা, তিতাস, সোমেশ্বরী ৩০ স্থানে বিপদসীমার উপরে বইছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জেলার ১০২টি উপজেলা বন্যা উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব উপজেলার মধ্যে আবার ৬৪০ ইউনিয়নের ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৮ পরিবার পানিবন্দি। বন্যায় এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৮৩১ জন। আর মারা গেছেন ২৫ জন। যদিও জাতিসংঘের ওসিএইচএ বলছে, অন্তত ৫৪ জন মারা গেছেন। বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছেন ৫৬ হাজার মানুষ। ২৭ জুন থেকে দেশে বন্যা চলছে। পরে ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয়। আর তৃতীয় দফার বন্যাটি শুরু হয়েছে সোমবার। যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শেরপুর : শেরপুরের চরাঞ্চলের ১২টি ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে শেরপুর সদর উপজেলার বলাইরচর ইউনিয়নের চরশ্রীপুর গ্রামের উমিলা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে সোবাহান মিয়া ভুষি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়ারদোকান ও শিমুলতলীর দুটি ডাইভারশনের উপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ৬ দিন ধরে শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

নেত্রকোনা ও কলমাকান্দা : নেত্রকোনার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তৃতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, বারহাট্টা ও খালিয়াজুরিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ওই সব এলাকায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। খালিয়াজুরীর বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ১১৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ধনু ও উব্দাখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টাঙ্গাইল, ভূঞাপুর ও নাগরপুর : টাঙ্গাইলের যুমনা নদীর পানি কমলেও বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। টাঙ্গাইল শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়াও বন্যার পানির তীব্র স্রোতে একের এক সেতু ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বুধবার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পাছ বেতর গ্রামের শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে শহরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর সেতু সোমবার বিকালে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে নদীতে ভেঙে পড়ে।

সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ঝিনাই নদীর ওপর স্থাপিত ২০০ মিটার ব্রিজের মাঝামাঝি একাংশ দেবে স্রোতের তোড়ে নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে ১৫টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর শাহাজাদা হাট এলাকা এ ঘটনা ঘটে।

ধোবাউড়া ও ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের কামলাপুর এলাকায় নেতাই নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে বন্যায় উপজেলা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার : সুনামগঞ্জে সার্বিক বন্যা পারিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সুরমা, সীমান্ত নদী যদুকাটা, চলতি ও রক্তি নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার বিকালে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ষোলোঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৭ সেমি. ও যদুকাটা নদীর পানি শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৬ সেমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

শরীয়তপুর : শরীয়তপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। শরীয়তপুরের ৪টি উপজেলায় কমপক্ষে ৫০টি ইউনিয়নও ৪টি পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক বাসস্ট্যান্ড, রাজনগর, ডগরিসহ ৪টি স্থানে পানি উঠে ঢাকা-শরীয়তপুর যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের গোপালবাড়ী এলাকায় রাস্তায় ফাটল দেখা দেয়ায় বন্যার পানি সামান্য পরিমাণ ঢুকে পড়ায় হুমকিতে রয়েছে শহর রক্ষাবাঁধ ও উড়াকান্দা মোল্লাপাড়া জামে মসজিদ।

বাঘা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভাঙনে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়েছে।

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : বাঁশখালীতে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ঘের মালিক ও সবজিচাষীরা।

নওগাঁ : নওগাঁর আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার ৬টি উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

রংপুর : রংপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। কিন্তু এখনও ভাঙন থামেনি। তিস্তা ও ঘাঘটসহ জেলার অন্যান্য নদ-নদীগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে তিস্তার বন্যা নিয়ন্ত্রণ মূল বাঁধটি।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি আবার বাড়ছে। পানি বেড়ে ধরলার পানি বিপদসীমার ৬৯ সেমি. ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৫৩ সেমি.র উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা।

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : বুধবার পদ্মায় বিপদসীমার ৭০ সেমি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় লৌহজং উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৫১টি গ্রামসহ নিুঞ্চল, চরাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে প্লাবিত হওয়ায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ফরিদপুর : ফরিদপুর সদর উপজেলার সাদীপুর এলাকায় ভেঙে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বাঁধটি মেরামত করার ফলে শহরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বুধবারও পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০৪ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি রয়েছে ছয়টি উপজেলার প্রায় পাঁচশ’ গ্রাম।

লালমনিরহাট : ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার বেলা ৩টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপরে ও হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো আবারও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে পানি কিছুটা কমলেও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি কমতে শুরু করলেও জেলায় ৫১ হাজার পরিবারের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সব নদীর পানি পুনরায় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এর আগে গত কয়েক দিন ধরে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা কবলিত সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাগুলোয় ঘরবাড়ি থেকে পানি কমতে শুরু করেছিল।

চাঁদপুর : ভাঙনের তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের প্রায় আটটি চরের মানুষ। ভিটেবাড়ি হারিয়ে কোথায় যাবেন, এমনি অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের এখন দিন কাটছে। তিন দিনে আরও কয়েকশ’ পরিবারের শেষ সম্বল বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ছয় শতাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

মানিকগঞ্জ : ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৭ সেমি করে বিপদসীমার ৫৭ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার শাখা নদীর পানি দ্রুত হারে বেড়ে চলছে। এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলে বানের পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক এলাকার নিচু সড়কে হাঁটুপানি উঠেছে।

পাবনা : পাবনায় বন্যায় যমুনা নদী তীরবর্তী বেড়া উপজেলার ৪ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম পানিতে ভাসছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ। যমুনা নদীর পানি বেড়া উপজেলার নগরবাড়ি ঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৬ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।