দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় চাকরিচ্যুতির সাজানো আয়োজন চূড়ান্ত
jugantor
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় চাকরিচ্যুতির সাজানো আয়োজন চূড়ান্ত
সুইসাইড নোটে সবার মুখোশ খুলে দেব -ভুক্তভোগী নারী কর্মচারী * অডিও রেকর্ডে সাব-রেজিস্ট্রারের সব কারসাজি ফাঁস

  বিএম জাহাঙ্গীর  

০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় চাকরিচ্যুতির সাজানো আয়োজন চূড়ান্ত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় সিনিয়র কর্মকর্তার রোষানলে পড়েছেন অফিস সহকারী এক নারী কর্মচারী। চক্রান্ত করে দলিল লেখকদের মিথ্যা অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছেন সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার ও তার অন্যতম সহযোগী উমেদার লিয়াকত হোসেন।

চাকরিচ্যুত করার সব আয়োজনও এক রকম চূড়ান্ত। তড়িঘড়ি তদন্ত শেষে একেবারে বিভাগীয় মামলা দায়ের। তবে ষড়যন্ত্রের সব কিছু ফাঁস হয়ে গেছে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীদের ফোনালাপে। তারা বলছেন, সাব-রেজিস্ট্রার ও তার অনৈতিক কাজের সহযোগীরা তাদের মিথ্যা অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছেন। এমনকি দলিল আটকে রেখে এ স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত ফোনকলের রেকর্ডসহ ঘটনার আদ্যোপান্ত যুগান্তরের হাতে এসেছে।

এদিকে এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী কর্মচারী। সেখানে তিনি এও জানিয়েছেন, নিজেকে বাঁচাতে শোকজের জবাবও প্রভাব খাটিয়ে পরিবর্তন করে দিয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার। ভুক্তভোগীর প্রথম প্রস্তুত করা কপি যুগান্তরের হাতে এসেছে। তথ্যানুসন্ধানে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার অবস্থা। দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বেশ কিছু দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তথ্য গোপন করে ফাঁকি দেয়া হয়েছে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে।

ভুক্তভোগী কর্মচারীর নাম লায়লা আক্তার তুলি। তিনি কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী। গত বছর ২৭ অক্টোবর যোগ দেন এ কর্মস্থলে। এর আগে ছিলেন ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে। কিন্তু বিধি বাম। কাজ করতে গিয়ে দেখতে পান পদে পদে জালিয়াতি, দুর্নীতি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই জমি রেজিস্ট্রির জন্য অহরহ দলিল সাবমিট করা হচ্ছে। তবে চাহিদামতো টাকা দিলেই সব জায়েজ। এসব কাজের আসল কাজী সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারির বিশ্বস্ত ডান হস্ত বলে পরিচিত উমেদার লিয়াকত। প্রতিবাদ করলে খোদ সাব-রেজিস্ট্রার তাকে চুপ থাকতে নির্দেশ দেন।

কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অফিস সহকারী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি থাকাকালে এসব অন্যায়-দুর্নীতির সহযোগী হতে পারবেন না। এরপর তার ওপর নেমে আসে হয়রানি নাজেহালের খক্ষ। উল্টো চক্রান্ত করে তার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করার মিথ্যা অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়।

দলিল লেখকদের কাছ থেকে সাজানো অভিযোগপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া হয়। কেউ কেউ বলেছেন, সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। দলিলদাতাদের হয়রানি করা হয় মর্মে অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলির বিরুদ্ধে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়। অভিযোগপত্রের মূল বক্তব্য, অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলি দলিল লেখকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করাসহ দলিল আটকে ঘুষ দাবি করেন।

সাব-রেজিস্ট্রারের এহেন চক্রান্তের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ভুক্তভোগী অফিস সহকারী স্বেচ্ছায় অন্যত্র বদলির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ২৩ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেন। হয়রানি-নাজেহালের মাত্রা বেড়ে গেলে ভুক্তভোগী চাকরির নিরাপত্তা চেয়ে নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত আবেদন করেন ৮ মার্চ।

এতে তিনি এক স্থানে উল্লেখ করেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পর হতে দেখতে পাই কিছু কিছু বহিরাগত দলিল লেখক রেজিস্ট্রির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দলিল দাখিল করে। আমি অফিস সহকারী হিসেবে এ অনিয়মগুলো দেখে সাব-রেজিস্ট্রার স্যারকে বললে তিনি আমাকে চুপ থাকতে বলেন এবং জেলা রেজিস্ট্রার মহোদয়ের দোহাই দিয়ে আমাকে আমার কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন।’ আরও বলা হয়, ‘অফিসের উমেদার লিয়াকতের মাধ্যমে অফিসের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়। লিয়াকত অবৈধ সুবিধা নিয়ে ভুয়া কাগজ দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রার স্যারকে বাধ্য করে। আমাদের সাব-রেজিস্ট্রার স্যার অজ্ঞাত কারণে লিয়াকতকে ভয় পান, কিছু বলেন না।’

অপর এক স্থানে উল্লেখ করেন, ‘রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী অফিস সহকারী দলিলের টিপ গ্রহণ করবে, ক্যাশ বই লিখবে এবং ৫২ ধারায় রশিদ লিখবে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে ৫২ ধারায় রশিদ লেখা বন্ধ করে একজন নকলনবিসকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে।’

উদ্দেশ্য ছিল, অফিস সহকারীর ডায়রিতে কাজের হিসাব সঠিক না থাকলে কর্তৃপক্ষ যাতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এছাড়া ১ জুলাই জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেয়া লিখিত জবাবপত্রে একস্থানে লায়লা আক্তার তুলি উল্লেখ করেন, নৈতিক কারণে কিছু অনৈতিক বিষয়ের প্রতিবাদ করায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের রোষানলে পড়েছেন।

সূত্র জানায়, এ অভিযোগপত্র এখন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে শোকজ ও প্রাথমিক তদন্ত পর্ব শেষ করে ১৭ জুন লায়লা আক্তার তুলির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা পরবর্তী অভিযোগপত্রও দেয়া হয়েছে। সেখানে তুলির উত্থাপন করা ঘুষ- দুর্নীতির বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা সাব-রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার স্বাক্ষরিত চার্জশিটে বিষয়গুলোকে অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পুরো বিষয়টি সাজানো ও ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা কেউ জানতেন না এটি অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র। রীতিমতো দলিল আটকে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পরে অভিযোগপত্র সাজানো হয়।

অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী ৮ জনের মধ্যে দ্বিতীয়জন হলেন কেএম সাখাওয়াত হোসেন। স্বাক্ষরের বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই কাগজটা কিসের ছিল- জানতাম না। দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে স্যার বলেন, এখানে স্বাক্ষর দেন। বললাম কিসের। বললেন, লাগবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার স্বাক্ষরে উনার (অফিস সহকারী তুলি) বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা হবে কেন? আমি তো উনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করিনি। আমার সঙ্গে কোনো বিরোধও নেই।’ তৃতীয় স্বাক্ষরকারী দলিল লেখক আবদুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ‘দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে একটা কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়া হয়। আসলে তখন বুঝতে পারিনি। এখন তো বুঝতাছি কাজটা ঠিক হয়নি।’ কার কথামতো স্বাক্ষর দিলেন জানতে চাইলে তিনি নামটা বলতে চাননি।

এছাড়া অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী দলিল লেখকদের কয়েকজনের ফোনালাপের রেকর্ড যুগান্তরের হাতে এসেছে। সেখান থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হল-

ফোনালাপে একজন দলিল লেখক বলেন, ‘না কাগজ আমি পড়ি নাই। পড়ার কোনো সুযোগ দেয়নি। স্যার (সাব-রেজিস্ট্রার) আর লিয়াকত (উমেদার) চাপ দিয়ে সই করতে বাধ্য করেছেন।’ দলিল যদি আটকে দেয়, এই ভয়ে সই করেছি। কিন্তু ম্যাডাম আপার বিন্দুমাত্র কোনো দোষ নেই। একশ’ বার বলব, ডেকে নিয়ে সই দিতে বাধ্য করেছে। আমি এ ব্যাপারে জানি না। লিয়াকত আমার কাছ থেকে সই নিয়েছে।’

অপর একজন দলিল লেখক বলেন, ‘আল্লাহর কসম, ম্যাডাম আমি মাফ চাই। শুধু সাদা কাগজে সিরিয়াল নাম্বার দেয়া ছিল ১, ২, ৩, ৫, এভাবে। কিন্তু পরে যখন ঘটনা শুনলাম, তখন লজ্জায় আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করি নাই। আমি আপনার পা ধরে ক্ষমা চাই। আমি ভুল করেছি। সাদা কাগজে উনারা সই নিয়েছে ম্যাডাম।’

অপর একজন বলেন ‘দরজা লাগাইয়া লিয়াকত স্বাক্ষর নিছে। সাদা কাগজ ছিল। কোনো কিছু লেখা ছিল না। ভালো মানুষ না তারা, শুধু শয়তানি-দুষ্টামি করতে থাকে। এজন্য তারা দলিল আটকিয়ে আমাদের স্বাক্ষর নিছে। ওরা আপনারে ভয় পায়। বলে- ম্যাডাম কাজ খুব ভালো বোঝে। কিন্তু ওরা যে সিস্টেম করে টাকা খায়। এর বড় বাধা ছিলেন আপনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলিল গেলেই আটকে দেয়। কোনো সমস্যা না থাকলেও সমস্যার কথা বলে। দলিলপ্রতি ঘুষ দিলেই ছাড়ে।’ তিনি বলেন, ‘তুলি ম্যাডাম ডিআর অফিসে ছিল। কাজকাম অনেক বোঝে। ওরে এখানে রাখা যাবে না।’

‘একজন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ বড় স্যারের (সাব-রেজিস্ট্রার) কাজ। সবাইরে লইয়া দরজা আটকাইয়া করছে।’

এ ফোনালাপের এক স্থানে বলা হয়, ‘যে দলিল হবে না বলে ফেরত দিয়েছে। ১০ মিনিট পরে জানতে পারলাম দলিল হয়ে গেছে। কিভাবে হল জানতে চাইলাম, বলল, লিয়াকতকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়ার পরে দ্রুত হয়ে গেছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগপত্রটি সাজানো কিনা তা তার জানা নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়েছে। এরপর এখন বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এ মামলা তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। এখন পর্যন্ত যা কিছু করা হয়েছে তা আমার প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে করেছি। এর বেশি আপাতত কিছু বলতে পারছি না।’

কেরানীগঞ্জের (দক্ষিণ) সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারি যুগান্তরকে বলেন, ‘আপনিই বলেন এভাবে কী কেউ জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে দরখাস্ত প্রস্তুত করতে পারে? আমি বলব, আমার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই এবং এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করাও উচিত না।’

দৈনিক মজুরিভিত্তিক হিসেবে নিয়োজিত উমেদার লিয়াকত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে প্রতিবেদকের পরিচয় বারবার নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বলেন, উনারা তার নিকটাত্মীয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় নিজে থেকে ফোন করে প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি তো আমার বড় ভাই। ভুল-ত্রুটি হইলে মাফ কইরা দিয়েন। তুলি ম্যাডামের বিরুদ্ধে আমি কিছু করি নাই।’

পরিস্থিতির শিকার অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলি যুগান্তরকে বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আজ ৬টা মাস পাগলের মতো জীবনযাপন করছি। আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। সব আমি বলব না। কিন্তু যদি এভাবে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে আমাকে ফাঁসানো হয়, তাহলে কাউকে ছাড়ব না। কারা, কিভাবে, কোথায় কোথায় অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। সব জানি। কিন্তু সৎ থেকে কী পেলাম। শুধু তিরস্কার, মিথ্যা অভিযোগ। উনারা আমার বৃদ্ধ বাবাকেও অপমান করে কথা বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি আইনমন্ত্রীসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একজন নারী কর্মচারী হিসেবে আমার প্রতি যেন অন্যায়-অবিচার করা না হয়। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমাকে জিম্মি করে কেউ যেন ফায়দা নিতে না পারে। প্রকৃতপক্ষে কারা দুর্নীতিবাজ তাদের ধরা হোক। কিন্তু অন্যায়ভাবে আমাকে চাকরিচ্যুত করলে সুইসাইড নোট লিখে যাব। সবার মুখোশ খুলে দেব।’

লায়লা আক্তার তুলির বিরুদ্ধে আটজন দলিল লেখকের স্বাক্ষর করা অভিযোগপত্রটি নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শক বরাবর জমা দেয়া হয় ১১ ফেব্রুয়ারি। এতে স্বাক্ষর করেন বিশ্বজিৎ সরকার, কেএম সাখাওয়াত হোসেন, আবদুল মান্নান, আতাউর রহমান, মো. রাজু, জসিম উদ্দিন, হাজী মো. হাসমত আলী এবং গোলাম মোস্তফা।

এরপর নিবন্ধন পরিদফতরের নির্দেশে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে ১৩ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারিকে চিঠি দেয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি অফিসের সংশ্লিষ্ট কাউকে জানাননি। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে সাক্ষীদের প্রকাশ্য সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য একইদিন নোটিশ জারি করেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় চাকরিচ্যুতির সাজানো আয়োজন চূড়ান্ত

সুইসাইড নোটে সবার মুখোশ খুলে দেব -ভুক্তভোগী নারী কর্মচারী * অডিও রেকর্ডে সাব-রেজিস্ট্রারের সব কারসাজি ফাঁস
 বিএম জাহাঙ্গীর 
০৫ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় চাকরিচ্যুতির সাজানো আয়োজন চূড়ান্ত
প্রতীকী ছবি

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় সিনিয়র কর্মকর্তার রোষানলে পড়েছেন অফিস সহকারী এক নারী কর্মচারী। চক্রান্ত করে দলিল লেখকদের মিথ্যা অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছেন সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার ও তার অন্যতম সহযোগী উমেদার লিয়াকত হোসেন।

চাকরিচ্যুত করার সব আয়োজনও এক রকম চূড়ান্ত। তড়িঘড়ি তদন্ত শেষে একেবারে বিভাগীয় মামলা দায়ের। তবে ষড়যন্ত্রের সব কিছু ফাঁস হয়ে গেছে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীদের ফোনালাপে। তারা বলছেন, সাব-রেজিস্ট্রার ও তার অনৈতিক কাজের সহযোগীরা তাদের মিথ্যা অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছেন। এমনকি দলিল আটকে রেখে এ স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত ফোনকলের রেকর্ডসহ ঘটনার আদ্যোপান্ত যুগান্তরের হাতে এসেছে।

এদিকে এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী কর্মচারী। সেখানে তিনি এও জানিয়েছেন, নিজেকে বাঁচাতে শোকজের জবাবও প্রভাব খাটিয়ে পরিবর্তন করে দিয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার। ভুক্তভোগীর প্রথম প্রস্তুত করা কপি যুগান্তরের হাতে এসেছে। তথ্যানুসন্ধানে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার অবস্থা। দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বেশ কিছু দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তথ্য গোপন করে ফাঁকি দেয়া হয়েছে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে।

ভুক্তভোগী কর্মচারীর নাম লায়লা আক্তার তুলি। তিনি কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী। গত বছর ২৭ অক্টোবর যোগ দেন এ কর্মস্থলে। এর আগে ছিলেন ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে। কিন্তু বিধি বাম। কাজ করতে গিয়ে দেখতে পান পদে পদে জালিয়াতি, দুর্নীতি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই জমি রেজিস্ট্রির জন্য অহরহ দলিল সাবমিট করা হচ্ছে। তবে চাহিদামতো টাকা দিলেই সব জায়েজ। এসব কাজের আসল কাজী সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারির বিশ্বস্ত ডান হস্ত বলে পরিচিত উমেদার লিয়াকত। প্রতিবাদ করলে খোদ সাব-রেজিস্ট্রার তাকে চুপ থাকতে নির্দেশ দেন।

কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অফিস সহকারী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি থাকাকালে এসব অন্যায়-দুর্নীতির সহযোগী হতে পারবেন না। এরপর তার ওপর নেমে আসে হয়রানি নাজেহালের খক্ষ। উল্টো চক্রান্ত করে তার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করার মিথ্যা অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়।

দলিল লেখকদের কাছ থেকে সাজানো অভিযোগপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া হয়। কেউ কেউ বলেছেন, সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। দলিলদাতাদের হয়রানি করা হয় মর্মে অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলির বিরুদ্ধে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়। অভিযোগপত্রের মূল বক্তব্য, অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলি দলিল লেখকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করাসহ দলিল আটকে ঘুষ দাবি করেন।

সাব-রেজিস্ট্রারের এহেন চক্রান্তের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ভুক্তভোগী অফিস সহকারী স্বেচ্ছায় অন্যত্র বদলির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ২৩ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেন। হয়রানি-নাজেহালের মাত্রা বেড়ে গেলে ভুক্তভোগী চাকরির নিরাপত্তা চেয়ে নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত আবেদন করেন ৮ মার্চ।

এতে তিনি এক স্থানে উল্লেখ করেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পর হতে দেখতে পাই কিছু কিছু বহিরাগত দলিল লেখক রেজিস্ট্রির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দলিল দাখিল করে। আমি অফিস সহকারী হিসেবে এ অনিয়মগুলো দেখে সাব-রেজিস্ট্রার স্যারকে বললে তিনি আমাকে চুপ থাকতে বলেন এবং জেলা রেজিস্ট্রার মহোদয়ের দোহাই দিয়ে আমাকে আমার কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন।’ আরও বলা হয়, ‘অফিসের উমেদার লিয়াকতের মাধ্যমে অফিসের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়। লিয়াকত অবৈধ সুবিধা নিয়ে ভুয়া কাগজ দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রার স্যারকে বাধ্য করে। আমাদের সাব-রেজিস্ট্রার স্যার অজ্ঞাত কারণে লিয়াকতকে ভয় পান, কিছু বলেন না।’

অপর এক স্থানে উল্লেখ করেন, ‘রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী অফিস সহকারী দলিলের টিপ গ্রহণ করবে, ক্যাশ বই লিখবে এবং ৫২ ধারায় রশিদ লিখবে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে ৫২ ধারায় রশিদ লেখা বন্ধ করে একজন নকলনবিসকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে।’

উদ্দেশ্য ছিল, অফিস সহকারীর ডায়রিতে কাজের হিসাব সঠিক না থাকলে কর্তৃপক্ষ যাতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এছাড়া ১ জুলাই জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেয়া লিখিত জবাবপত্রে একস্থানে লায়লা আক্তার তুলি উল্লেখ করেন, নৈতিক কারণে কিছু অনৈতিক বিষয়ের প্রতিবাদ করায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের রোষানলে পড়েছেন।

সূত্র জানায়, এ অভিযোগপত্র এখন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে শোকজ ও প্রাথমিক তদন্ত পর্ব শেষ করে ১৭ জুন লায়লা আক্তার তুলির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা পরবর্তী অভিযোগপত্রও দেয়া হয়েছে। সেখানে তুলির উত্থাপন করা ঘুষ- দুর্নীতির বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা সাব-রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার স্বাক্ষরিত চার্জশিটে বিষয়গুলোকে অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পুরো বিষয়টি সাজানো ও ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা কেউ জানতেন না এটি অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র। রীতিমতো দলিল আটকে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পরে অভিযোগপত্র সাজানো হয়।

অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী ৮ জনের মধ্যে দ্বিতীয়জন হলেন কেএম সাখাওয়াত হোসেন। স্বাক্ষরের বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই কাগজটা কিসের ছিল- জানতাম না। দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে স্যার বলেন, এখানে স্বাক্ষর দেন। বললাম কিসের। বললেন, লাগবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার স্বাক্ষরে উনার (অফিস সহকারী তুলি) বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা হবে কেন? আমি তো উনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করিনি। আমার সঙ্গে কোনো বিরোধও নেই।’ তৃতীয় স্বাক্ষরকারী দলিল লেখক আবদুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ‘দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে একটা কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়া হয়। আসলে তখন বুঝতে পারিনি। এখন তো বুঝতাছি কাজটা ঠিক হয়নি।’ কার কথামতো স্বাক্ষর দিলেন জানতে চাইলে তিনি নামটা বলতে চাননি।

এছাড়া অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী দলিল লেখকদের কয়েকজনের ফোনালাপের রেকর্ড যুগান্তরের হাতে এসেছে। সেখান থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হল-

ফোনালাপে একজন দলিল লেখক বলেন, ‘না কাগজ আমি পড়ি নাই। পড়ার কোনো সুযোগ দেয়নি। স্যার (সাব-রেজিস্ট্রার) আর লিয়াকত (উমেদার) চাপ দিয়ে সই করতে বাধ্য করেছেন।’ দলিল যদি আটকে দেয়, এই ভয়ে সই করেছি। কিন্তু ম্যাডাম আপার বিন্দুমাত্র কোনো দোষ নেই। একশ’ বার বলব, ডেকে নিয়ে সই দিতে বাধ্য করেছে। আমি এ ব্যাপারে জানি না। লিয়াকত আমার কাছ থেকে সই নিয়েছে।’

অপর একজন দলিল লেখক বলেন, ‘আল্লাহর কসম, ম্যাডাম আমি মাফ চাই। শুধু সাদা কাগজে সিরিয়াল নাম্বার দেয়া ছিল ১, ২, ৩, ৫, এভাবে। কিন্তু পরে যখন ঘটনা শুনলাম, তখন লজ্জায় আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করি নাই। আমি আপনার পা ধরে ক্ষমা চাই। আমি ভুল করেছি। সাদা কাগজে উনারা সই নিয়েছে ম্যাডাম।’

অপর একজন বলেন ‘দরজা লাগাইয়া লিয়াকত স্বাক্ষর নিছে। সাদা কাগজ ছিল। কোনো কিছু লেখা ছিল না। ভালো মানুষ না তারা, শুধু শয়তানি-দুষ্টামি করতে থাকে। এজন্য তারা দলিল আটকিয়ে আমাদের স্বাক্ষর নিছে। ওরা আপনারে ভয় পায়। বলে- ম্যাডাম কাজ খুব ভালো বোঝে। কিন্তু ওরা যে সিস্টেম করে টাকা খায়। এর বড় বাধা ছিলেন আপনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলিল গেলেই আটকে দেয়। কোনো সমস্যা না থাকলেও সমস্যার কথা বলে। দলিলপ্রতি ঘুষ দিলেই ছাড়ে।’ তিনি বলেন, ‘তুলি ম্যাডাম ডিআর অফিসে ছিল। কাজকাম অনেক বোঝে। ওরে এখানে রাখা যাবে না।’

‘একজন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ বড় স্যারের (সাব-রেজিস্ট্রার) কাজ। সবাইরে লইয়া দরজা আটকাইয়া করছে।’

এ ফোনালাপের এক স্থানে বলা হয়, ‘যে দলিল হবে না বলে ফেরত দিয়েছে। ১০ মিনিট পরে জানতে পারলাম দলিল হয়ে গেছে। কিভাবে হল জানতে চাইলাম, বলল, লিয়াকতকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়ার পরে দ্রুত হয়ে গেছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন নাহার মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগপত্রটি সাজানো কিনা তা তার জানা নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়েছে। এরপর এখন বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এ মামলা তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। এখন পর্যন্ত যা কিছু করা হয়েছে তা আমার প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে করেছি। এর বেশি আপাতত কিছু বলতে পারছি না।’

কেরানীগঞ্জের (দক্ষিণ) সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারি যুগান্তরকে বলেন, ‘আপনিই বলেন এভাবে কী কেউ জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে দরখাস্ত প্রস্তুত করতে পারে? আমি বলব, আমার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই এবং এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করাও উচিত না।’

দৈনিক মজুরিভিত্তিক হিসেবে নিয়োজিত উমেদার লিয়াকত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে প্রতিবেদকের পরিচয় বারবার নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বলেন, উনারা তার নিকটাত্মীয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় নিজে থেকে ফোন করে প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি তো আমার বড় ভাই। ভুল-ত্রুটি হইলে মাফ কইরা দিয়েন। তুলি ম্যাডামের বিরুদ্ধে আমি কিছু করি নাই।’

পরিস্থিতির শিকার অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলি যুগান্তরকে বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আজ ৬টা মাস পাগলের মতো জীবনযাপন করছি। আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। সব আমি বলব না। কিন্তু যদি এভাবে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে আমাকে ফাঁসানো হয়, তাহলে কাউকে ছাড়ব না। কারা, কিভাবে, কোথায় কোথায় অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। সব জানি। কিন্তু সৎ থেকে কী পেলাম। শুধু তিরস্কার, মিথ্যা অভিযোগ। উনারা আমার বৃদ্ধ বাবাকেও অপমান করে কথা বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি আইনমন্ত্রীসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একজন নারী কর্মচারী হিসেবে আমার প্রতি যেন অন্যায়-অবিচার করা না হয়। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমাকে জিম্মি করে কেউ যেন ফায়দা নিতে না পারে। প্রকৃতপক্ষে কারা দুর্নীতিবাজ তাদের ধরা হোক। কিন্তু অন্যায়ভাবে আমাকে চাকরিচ্যুত করলে সুইসাইড নোট লিখে যাব। সবার মুখোশ খুলে দেব।’

লায়লা আক্তার তুলির বিরুদ্ধে আটজন দলিল লেখকের স্বাক্ষর করা অভিযোগপত্রটি নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শক বরাবর জমা দেয়া হয় ১১ ফেব্রুয়ারি। এতে স্বাক্ষর করেন বিশ্বজিৎ সরকার, কেএম সাখাওয়াত হোসেন, আবদুল মান্নান, আতাউর রহমান, মো. রাজু, জসিম উদ্দিন, হাজী মো. হাসমত আলী এবং গোলাম মোস্তফা।

এরপর নিবন্ধন পরিদফতরের নির্দেশে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে ১৩ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয় শিকারিকে চিঠি দেয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি অফিসের সংশ্লিষ্ট কাউকে জানাননি। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে সাক্ষীদের প্রকাশ্য সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য একইদিন নোটিশ জারি করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন