‘সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতির প্রতিবাদ’

ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে তৎপর কেরানীগঞ্জের প্রভাবশালী

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাবরেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালী চক্র।

যুগান্তরে তথ্যবহুল রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর চরম ক্ষেপেছে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল। ভুক্তভোগী নারী কর্মচারীকে আরও বেকায়দায় ফেলতে একটি মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। এর ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে। সাজানো অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের করা বিভাগীয় মামলার শুনানি হবে আজ। এদিকে দলিল লেখকদের বিশেষ স্থানে ডেকে নিয়ে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, তুলির বিরুদ্ধে সাক্ষী না দিলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে কাউকে কাজ করতে দেয়া হবে না। শনিবার বেশ কয়েকজন দলিল লেখক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মুঠোফোনে যুগান্তরকে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য দেন।

প্রসঙ্গত, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় চাকরিচ্যুতির সাজানো আয়োজন চূড়ান্ত’ শিরোনামে ৫ আগস্ট যুগান্তরে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় শুরু হয়। রিপোর্টের সপক্ষে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও জেনেছেন। এরপর ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাবরেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী লায়লা আক্তার তুলি গত ২৭ নভেম্বর যোগ দেয়ার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন। জমির শ্রেণির পরিবর্তনসহ জালজালিয়াতি করে জমি রেজিস্ট্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হয়। ৮ জন দলিল লেখকের কাছ থেকে ভিন্ন কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে তার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করার মিথ্যা অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়। এরপর শোকজ, তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা পর্যন্ত দায়ের করা হয়। আজ সকাল ১০টায় বিভাগীয় মামলার শুনানি। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে শুনানি করবেন গুলশান সাবরেজিস্ট্রার মোহাম্মদ রমজান খান। যদিও ন্যায়বিচার পাবেন না মর্মে বিবাদী বেশ কিছু তথ্য ও যুক্তি তুলে ধরে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের জন্য ৪ আগস্ট ঢাকা জেলা সাবরেজিস্ট্রার (ডিআর) বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু পরদিন ৫ আগস্ট তার আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়।

এদিকে দলিল লেখক সমিতির একজন সিনিয়র নেতা শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, অফিস সহকারী তুলির বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে। কিন্তু এত বড় মিথ্যা কথা আমরা তো বলতে পারব না। আমি সমিতির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বলে দিয়েছি, যা সত্য তাই বলার জন্য। কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার সময় তারা তো বলেনি অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র।’ তিনি বলেন, যে অভিযোগপত্রই ভুয়া, সাজানো। সেটি নিয়ে বিভাগীয় মামলা তো দূরের কথা, কোনো তদন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বরং যারা এভাবে চক্রান্ত করেছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন এমন একজন দলিল লেখক গতকাল যুগান্তরকে বলেন, ‘তিনিও ওই কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছেন। কিন্তু স্যার এবং লিয়াকত যখন স্বাক্ষর নিয়েছে তখন বলেছে, দেন লাগবে। পরে যখন জানতে পারলাম, তখন দেখি অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র সাজানো হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘শুক্রবার বিকালে আমাদের দলিল লেখকদের ১০-১৫ জন সিনিয়র নেতাকে এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মাইক্রোবাস পাঠিয়ে তার বাসায় ডেকে নেন। এরপর তিনি প্রত্যেককে বলে দেন, যারা কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছে তাদের তুলির বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে হবে। না হলে এখানে কেউ আর কাজ করতে পারবে না।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই দলিল লেখক প্রভাবশালী ওই ব্যক্তির বিষয়ে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন, তার কথার বাইরে এখানে কিছু হয় না। তিনিই সব নিয়ন্ত্রণ করেন ইত্যাদি।’

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]m

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত