আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে
jugantor
টিআইবির প্রতিবেদন
আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৩ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামের উন্নয়নের জন্য সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। বিশেষ করে প্রকল্পে কার্যকর তদারকির অভাব, সংসদ সদস্যদের (এমপি) অসততা এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে উৎসাহিত করছে। এতে অপচয় হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদের। এছাড়া এসব প্রকল্পের ব্যাপারে এমপিদের একাংশের স্থানীয়ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার, নির্বাচনে ভোট নিশ্চিত করার চেষ্টা এবং অনৈতিকভাবে সুবিধা অর্জনের পথ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

দুর্র্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি) আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বুধবার এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদনের বিষয় ছিল ‘সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দ : অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’।

এ সময় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ৯টি সুপারিশ করে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের জন্য ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রত্যেক সদস্যের অনুকূলে দুই কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে তা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করে পাঁচ বছরে ১৫ কোটি এবং ২০১৫ থেকে ২০২০ সালে আসনপ্রতি ৫ কোটি টাকা করে চার বছরে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ একনেকে অনুমোদন করা হয়েছে। তবে সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নারী সদস্য এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত নন। এই থোক বরাদ্দে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা নেই। কিন্তু বিগত দুইটি সংসদে এই বরাদ্দ সরাসরি অনুমোদনের মাধ্যমে এটি একটি চর্চায় পরিণত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বরাদ্দের লক্ষ্য হল গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং গ্রোথ সেন্টার ও হাটবাজার উন্নয়ন, কৃষি ও অকৃষি পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা এবং এসব পণ্যের বিপণন সুবিধা বাড়িয়ে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করা। অথচ বাস্তবায়িত প্রকল্পের প্রস্তাবে গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং গ্রোথ সেন্টার ও হাটবাজার উন্নয়ন সম্পর্কিত স্কিম থাকলেও অন্য লক্ষ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কোনো ধরনের স্কিম পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় দেখা যায়, সার্বিকভাবে ৩২ শতাংশ স্কিম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হয়ে অতিরিক্ত এক বছর সময় লেগেছে। সার্বিকভাবে ৭৬.২ শতাংশ স্কিমে কাজ চলাকালীন তদারকি হয়েছে। প্রতিবেদনে ‘কাজের মান সন্তোষজনক’ উল্লেখ করা হলেও গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত স্কিম পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাস্তবে শতকরা ৪১.৮ শতাংশ কাজের মান ভালো, ২৮.৬ শতাংশ কাজের মান মোটামুটি আর ২৯.৬ শতাংশ কাজের মান ভালো নয়। এছাড়া এই প্রকল্পে সার্বিকভাবে ১৪.৫ শতাংশ স্কিম সংস্কার করা হয়েছে। যেসব স্কিম এখনও সংস্কার হয়নি, সেখানে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক (৪২.২ শতাংশ) স্কিমের অবস্থা ভালো নয়, সংস্কার প্রয়োজন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কোনো কোনো এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীদের কাছে বছরে ২০-২৫% কাজ বিক্রি (অবৈধভাবে সাব-কন্ট্রাক্ট) হয়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে সাব-কন্ট্রাক্টের কোনো প্রমাণ রাখা হয় না। তদারকি প্রতিষ্ঠানও এই বিষয়টি সম্পর্কে জানে না। এছাড়া স্বজনপ্রীতি, ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন বা লভ্যাংশ প্রাপ্তি এবং ঠিকাদারদের মাধ্যমে ভোটের সময় ও ক্ষমতাসীন থাকাকালীন এলাকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখায় সংসদ সদস্যের একাংশের তদারকির ঘাটতি পাওয়া গেছে।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় অংশীজনদের পারস্পরিক সুবিধা সমঝোতায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে লাভবান হন। আরও দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে স্কিম বাস্তবায়নকালীন কাজের মান সম্পর্কে অভিযোগ থাকলেও ৭৭.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে হুমকি ও হয়রানির ভয়ে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। তবে যেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ জানানো হয়েছে, তার ভিত্তিতে ৭৬.১ শতাংশ স্কিমের ক্ষেত্রে কাজের মানের কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়নি। গবেষণায় পদ্ধতিগত দৈবচয়নের মাধ্যমে ৫০টি সংসদীয় আসনের থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া মোট ৩৪১ জন মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার এবং মোট ১৮০টি দলীয় আলোচনার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এমপিদের মূল দায়িত্ব হল আইন প্রণয়ন, জনগণের হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু তারা সরকারি ক্রয়-বিক্রয়সহ উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত হলে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে জনগণের অর্থে পরিচালিত ঠিকাদারি, ব্যবসা, সরবরাহ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত হলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এতে সরকারি কাজ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়।

ড. জামান বলেন, এমপিরা যেহেতু এরপরও এটি তাদের এখতিয়ার হিসেবে নিয়ে নিয়েছেন, তাই তাদের একাংশ যেমন এই থোক বরাদ্দের প্রকল্পকে নিজেদের অধিকার মনে করেন। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নিজেদের প্রভাববলয় বৃদ্ধি, স্থানীয় নেতাকর্মীদের যোগসাজশে দুর্নীতির সুরক্ষা এবং নিজেদের সম্পদ বিকাশের উপায় হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই গবেষণায় প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে টিআইবির পক্ষ থেকে ৯ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ইতোমধ্যে থোক বরাদ্দে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পৃথকভাবে, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে হবে এবং এগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।

টিআইবির প্রতিবেদন

আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৩ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামের উন্নয়নের জন্য সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। বিশেষ করে প্রকল্পে কার্যকর তদারকির অভাব, সংসদ সদস্যদের (এমপি) অসততা এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে উৎসাহিত করছে। এতে অপচয় হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদের। এছাড়া এসব প্রকল্পের ব্যাপারে এমপিদের একাংশের স্থানীয়ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার, নির্বাচনে ভোট নিশ্চিত করার চেষ্টা এবং অনৈতিকভাবে সুবিধা অর্জনের পথ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

দুর্র্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি) আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বুধবার এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদনের বিষয় ছিল ‘সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দ : অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’।

এ সময় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ৯টি সুপারিশ করে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের জন্য ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রত্যেক সদস্যের অনুকূলে দুই কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে তা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করে পাঁচ বছরে ১৫ কোটি এবং ২০১৫ থেকে ২০২০ সালে আসনপ্রতি ৫ কোটি টাকা করে চার বছরে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ একনেকে অনুমোদন করা হয়েছে। তবে সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নারী সদস্য এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত নন। এই থোক বরাদ্দে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা নেই। কিন্তু বিগত দুইটি সংসদে এই বরাদ্দ সরাসরি অনুমোদনের মাধ্যমে এটি একটি চর্চায় পরিণত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বরাদ্দের লক্ষ্য হল গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং গ্রোথ সেন্টার ও হাটবাজার উন্নয়ন, কৃষি ও অকৃষি পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা এবং এসব পণ্যের বিপণন সুবিধা বাড়িয়ে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করা। অথচ বাস্তবায়িত প্রকল্পের প্রস্তাবে গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং গ্রোথ সেন্টার ও হাটবাজার উন্নয়ন সম্পর্কিত স্কিম থাকলেও অন্য লক্ষ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কোনো ধরনের স্কিম পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় দেখা যায়, সার্বিকভাবে ৩২ শতাংশ স্কিম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হয়ে অতিরিক্ত এক বছর সময় লেগেছে। সার্বিকভাবে ৭৬.২ শতাংশ স্কিমে কাজ চলাকালীন তদারকি হয়েছে। প্রতিবেদনে ‘কাজের মান সন্তোষজনক’ উল্লেখ করা হলেও গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত স্কিম পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাস্তবে শতকরা ৪১.৮ শতাংশ কাজের মান ভালো, ২৮.৬ শতাংশ কাজের মান মোটামুটি আর ২৯.৬ শতাংশ কাজের মান ভালো নয়। এছাড়া এই প্রকল্পে সার্বিকভাবে ১৪.৫ শতাংশ স্কিম সংস্কার করা হয়েছে। যেসব স্কিম এখনও সংস্কার হয়নি, সেখানে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক (৪২.২ শতাংশ) স্কিমের অবস্থা ভালো নয়, সংস্কার প্রয়োজন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কোনো কোনো এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীদের কাছে বছরে ২০-২৫% কাজ বিক্রি (অবৈধভাবে সাব-কন্ট্রাক্ট) হয়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে সাব-কন্ট্রাক্টের কোনো প্রমাণ রাখা হয় না। তদারকি প্রতিষ্ঠানও এই বিষয়টি সম্পর্কে জানে না। এছাড়া স্বজনপ্রীতি, ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন বা লভ্যাংশ প্রাপ্তি এবং ঠিকাদারদের মাধ্যমে ভোটের সময় ও ক্ষমতাসীন থাকাকালীন এলাকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখায় সংসদ সদস্যের একাংশের তদারকির ঘাটতি পাওয়া গেছে।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় অংশীজনদের পারস্পরিক সুবিধা সমঝোতায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে লাভবান হন। আরও দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে স্কিম বাস্তবায়নকালীন কাজের মান সম্পর্কে অভিযোগ থাকলেও ৭৭.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে হুমকি ও হয়রানির ভয়ে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। তবে যেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ জানানো হয়েছে, তার ভিত্তিতে ৭৬.১ শতাংশ স্কিমের ক্ষেত্রে কাজের মানের কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়নি। গবেষণায় পদ্ধতিগত দৈবচয়নের মাধ্যমে ৫০টি সংসদীয় আসনের থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া মোট ৩৪১ জন মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার এবং মোট ১৮০টি দলীয় আলোচনার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এমপিদের মূল দায়িত্ব হল আইন প্রণয়ন, জনগণের হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু তারা সরকারি ক্রয়-বিক্রয়সহ উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত হলে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে জনগণের অর্থে পরিচালিত ঠিকাদারি, ব্যবসা, সরবরাহ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত হলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এতে সরকারি কাজ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়।

ড. জামান বলেন, এমপিরা যেহেতু এরপরও এটি তাদের এখতিয়ার হিসেবে নিয়ে নিয়েছেন, তাই তাদের একাংশ যেমন এই থোক বরাদ্দের প্রকল্পকে নিজেদের অধিকার মনে করেন। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নিজেদের প্রভাববলয় বৃদ্ধি, স্থানীয় নেতাকর্মীদের যোগসাজশে দুর্নীতির সুরক্ষা এবং নিজেদের সম্পদ বিকাশের উপায় হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই গবেষণায় প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে টিআইবির পক্ষ থেকে ৯ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ইতোমধ্যে থোক বরাদ্দে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পৃথকভাবে, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে হবে এবং এগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।