রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ব্যর্থ হলে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা হোক
jugantor
শরণার্থী সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ব্যর্থ হলে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা হোক

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, জাতিসংঘ ও উন্নত দেশগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিরসনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে না পারলে তাদেরকে উন্নত দেশে পুনর্বাসনে জাতিসংঘকে উদ্যোগ নিতে হবে।

যেভাবে অতীতে ফিলিস্তিনি, আফগানিস্তান ও ভুটানি শরণার্থীদের ক্ষেত্রে করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, চীনের মদদেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সেদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘে চীনের বিরোধিতার কারণে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

রোববার ‘রোহিঙ্গা সমস্যা এবং বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের দুর্দশা : বিপন্ন মানবতা’ শীর্ষক অনলাইন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক ও চিত্রনির্মাতা শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন ‘বার্মায় গণহত্যা ও সন্ত্রাস তদন্তে নাগরিক কমিশন’-এর সদস্য সচিব বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, কমিশনের সদস্য ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, তুরস্কের ‘টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিজম’-এর সাধারণ সম্পাদক শাকিল রেজা ইফতি, রুয়ান্ডার গণহত্যার ভুক্তভোগী এমেরি মুগবা, আফগানিস্তানের ছাত্রনেতা সৈয়দ মসিহ উল্লাহ হাশিমি, তুরস্কের মানবাধিকার কর্মী সেরহান গোরেন, সিরিয়ার মানবাধিকার কর্মী রুলা নজর, ঘানার লেখক সাংবাদিক রাজাক মরিয়ম, ফিলিস্তিনের ছাত্রনেতা রামি খলিলি, উইঘুর ছাত্রী সাবো কোসিমোভা এবং তুরস্কের সঙ্গীত ও মঞ্চশিল্পী বিরডাল আরসালান।

সভাপতির বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির রোহিঙ্গাসহ বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘে চীনের উপর্যুপরি বিরোধিতার কারণে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসনের বিষয়টির অগ্রগতি হচ্ছে না। তাই শিগগিরই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছি না।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৮০ লাখ শরণার্থীর মধ্যে ৮৫ ভাগ আশ্রয় পেয়েছে তুরস্ক ও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। অভিবাসীদের দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে শরণার্থী গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা চাই রোহিঙ্গাসহ সব শরণার্থীর দ্রুত নিজ বাসভূমে প্রত্যাবর্তন অথবা উন্নত বিশ্বে স্থানান্তর করা হোক।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে চীনের অস্ত্র ও রাজনৈতিক মদদ না পেলে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী বাংলাদেশে কখনও নজিরবিহীন গণহত্যা চালাতে পারত না। এক কোটি নির্যাতিত মানুষকেও শরণার্থী হিসেবে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হতো না।

একইভাবে চীনের মদদেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সেদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে, যার ফলে প্রায় ২০ লাখ রোহিঙ্গা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে, যাদের ভেতর ৭০ ভাগ অবস্থান করছে বাংলাদেশে।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পাওয়া বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে একটি বিশাল অগ্নিপরীক্ষা। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক কূটনীতিনির্ভর হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় সে সম্ভাবনার প্রত্যাশা বেশ ক্ষীণই বলা চলে।

শরণার্থী সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ব্যর্থ হলে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা হোক

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, জাতিসংঘ ও উন্নত দেশগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিরসনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে না পারলে তাদেরকে উন্নত দেশে পুনর্বাসনে জাতিসংঘকে উদ্যোগ নিতে হবে।

যেভাবে অতীতে ফিলিস্তিনি, আফগানিস্তান ও ভুটানি শরণার্থীদের ক্ষেত্রে করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, চীনের মদদেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সেদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘে চীনের বিরোধিতার কারণে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

রোববার ‘রোহিঙ্গা সমস্যা এবং বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের দুর্দশা : বিপন্ন মানবতা’ শীর্ষক অনলাইন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক ও চিত্রনির্মাতা শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন ‘বার্মায় গণহত্যা ও সন্ত্রাস তদন্তে নাগরিক কমিশন’-এর সদস্য সচিব বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, কমিশনের সদস্য ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, তুরস্কের ‘টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিজম’-এর সাধারণ সম্পাদক শাকিল রেজা ইফতি, রুয়ান্ডার গণহত্যার ভুক্তভোগী এমেরি মুগবা, আফগানিস্তানের ছাত্রনেতা সৈয়দ মসিহ উল্লাহ হাশিমি, তুরস্কের মানবাধিকার কর্মী সেরহান গোরেন, সিরিয়ার মানবাধিকার কর্মী রুলা নজর, ঘানার লেখক সাংবাদিক রাজাক মরিয়ম, ফিলিস্তিনের ছাত্রনেতা রামি খলিলি, উইঘুর ছাত্রী সাবো কোসিমোভা এবং তুরস্কের সঙ্গীত ও মঞ্চশিল্পী বিরডাল আরসালান।

সভাপতির বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির রোহিঙ্গাসহ বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘে চীনের উপর্যুপরি বিরোধিতার কারণে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসনের বিষয়টির অগ্রগতি হচ্ছে না। তাই শিগগিরই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছি না।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৮০ লাখ শরণার্থীর মধ্যে ৮৫ ভাগ আশ্রয় পেয়েছে তুরস্ক ও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। অভিবাসীদের দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে শরণার্থী গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা চাই রোহিঙ্গাসহ সব শরণার্থীর দ্রুত নিজ বাসভূমে প্রত্যাবর্তন অথবা উন্নত বিশ্বে স্থানান্তর করা হোক।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে চীনের অস্ত্র ও রাজনৈতিক মদদ না পেলে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী বাংলাদেশে কখনও নজিরবিহীন গণহত্যা চালাতে পারত না। এক কোটি নির্যাতিত মানুষকেও শরণার্থী হিসেবে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হতো না।

একইভাবে চীনের মদদেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সেদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে, যার ফলে প্রায় ২০ লাখ রোহিঙ্গা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে, যাদের ভেতর ৭০ ভাগ অবস্থান করছে বাংলাদেশে।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পাওয়া বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে একটি বিশাল অগ্নিপরীক্ষা। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক কূটনীতিনির্ভর হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় সে সম্ভাবনার প্রত্যাশা বেশ ক্ষীণই বলা চলে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা