Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

উচ্চমূল্যের হজ প্যাকেজ কেন জনস্বার্থবিরোধী নয়: হাইকোর্ট

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উচ্চমূল্যের হজ প্যাকেজ কেন জনস্বার্থবিরোধী নয়: হাইকোর্ট

Advertisement

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের ‘অতিরিক্ত খরচ’ নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন জনস্বার্থ পরিপন্থি বলে কেন আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বিমানভাড়ার ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী বহনে সব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে সুযোগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন উচ্চ আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (হাব) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এক সম্পূরক আবেদনের ভিত্তিতে এ রুল জারি করেছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এর আগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে নির্ধারণ করা হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা থেকে কমানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আশরাফ-উজ-জামান ১২ মার্চ এ রিট করেন। এক সপ্তাহের সময় দিয়ে এর আগে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবরে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন এ আইনজীবী। নোটিশে সাড়া না পেয়ে তিনি রিট করেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে ২২ মার্চ বলা হয়েছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বর্তমান হজ প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৫ টাকা থেকে ১১ হাজার ৭২৫ টাকা কমিয়ে ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা থেকে ১১ হাজার ৭২৫ টাকা কমিয়ে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সচিবালয়ে হজ প্যাকেজ-২০২৩ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভায় ১ ফেব্রুয়ারি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সিদ্ধান্ত জানান প্রতিমন্ত্রী।

চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে সৌদি আরব যেতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের অনুমতি পাবেন।

বিমান ভাড়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস : আগামী বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি রেস্টুরেন্টে রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরামের (আরআরএফ) উদ্যোগে রোববার আয়োজিত হজ প্যাকেজ-২০২৩ ও ব্যবস্থাপনা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন আশ্বাস দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরআরএফের সভাপতি উবায়দুল্লাহ বাদল।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং হজযাত্রীদের ফ্লাইট ডেডিকেটেড হওয়ায় বিমানে অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তারপরও এটা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা হচ্ছে। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন থেকে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করার দাবি উঠেছে। তাই আগামী বছর হজের প্যাকেজ নির্ধারণের আগে বিমান ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।

অনুষ্ঠানে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, হজে প্যাকেজের খরচ বাংলাদেশ ও? সৌদি আরবের ব্যয়ের ওপর নির্ধারণ করা হয়। সৌদি অংশের খরচ সব দেশের জন্য সমান। কিন্তু বাংলাদেশের অংশে খরচ বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ বিমান ভাড়া। বিমান ভাড়া কমানোর জন্য সব জায়গায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করছি। আশা করছি, তিনি মানবিক কারণে এটা দেখবেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরআরএফের সহসভাপতি ও দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার রাশেদুল হাসান। আরআরএফের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলুর সঞ্চালনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব দীপ আজাদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোরসালিন নোমানীসহ বিভিন্ন ইসলামিক দলের নেতারা।

বিমান ভাড়া কমানোর দাবি হাবের : অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্বতন্ত্র টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিমান ভাড়া কমিয়ে হজ প্যাকেজ পুনর্নির্ধারণের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম স্বাক্ষরিত এ চিঠি রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের হজযাত্রীদের অধিকাংশই ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রাক-নিবন্ধিত হয়ে সে সময়ের করা আর্থিক বাজেটে হজে যাওয়ার অপেক্ষা করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বিমান ভাড়া এবং হজ প্যাকেজের উচ্চ মূল্যে ইতোমধ্যে হজযাত্রীসহ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর বিমান ভাড়া ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবতার নিরিখে অনেক বেশি ও অযৌক্তিক। যে কারণে হজ প্যাকেজ ঘোষণার পর সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হয়নি বরং সমালোচিত হয়েছে। পবিত্র হজের সঙ্গে বাংলাদেশের মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতি নিবিড়ভাবে জড়িত। বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভীষণ রকমের স্পর্শকাতরও বটে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বতন্ত্র টেকনিক্যাল কমিটির মাধ্যমে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমিয়ে হজ প্যাকেজ পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংগঠনটি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম