Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

পারিবারিক আইন সংস্কার না করার দাবি হিন্দু মহাজোটের

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পারিবারিক আইন সংস্কার না করার দাবি হিন্দু মহাজোটের

Advertisement

কিছু এনজিও কর্তৃক হিন্দু আইন পরিবর্তন প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শুক্রবার এক মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিলের আয়োজন করে এ দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি এনজিও হাজার বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে চলে আসা সুসংহত হিন্দু বিধিবিধান নষ্ট করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে দ্বন্দ্ব ও অশান্তির বীজ বপন করছে। তারা হিন্দু পরিবার ব্যবস্থা ধ্বংস করতে মাঠে নেমেছে। তাদের দুরভিসন্ধি হাসিলে হিন্দু আইনের খসড়া তৈরি করে আইন কমিশনে জমা দিয়েছিল। সেখানে ব্যর্থ হয়ে এখন হাইকোর্টে রিট করেছে। যার নেতৃত্বে আছে আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি এনজিও। তারা হিন্দু পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজন করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সম্পত্তি বণ্টন, বিবাহ বিচ্ছেদ, হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক ও শাস্তির বিধান, দত্তক, ভরণপোষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে হিন্দু ধর্মশাস্ত্রীয় পবিত্র বিধি বিধান পরিবর্তনের চক্রান্ত করছে। তারা এটা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভেদ ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে হিন্দু সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এনজিওরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার করে হিন্দু বিধিবিধান সম্পর্কে মিথ্যা, কাল্পনিক ও বিদ্বেষমূলক তথ্য দিয়ে হিন্দু জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ঘৃণ্য অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। তথাকথিত সুশীল সমাজ ও এনজিওকর্মীরা হিন্দু আইনে তালাক ব্যবস্থা সংযুক্ত করার প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। তারা হিন্দু বিবাহের মূল ভিত্তি নষ্ট করতে তৎপর। এনজিওদের চাপাচাপির কারণে সরকার অপশোনাল বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করেছে। সেই রেজিস্ট্রেশনও হচ্ছে মুসলিম বিবাহ রেজিস্টারে। তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদ যে নামেই হোক না কেন কোনোটাই হিন্দু সমাজ মেনে নেবে না।

বক্তারা বলেন, গুটিকয়েক পাশ্চাত্য চিন্তা-চেতনার অসুস্থ মস্তিষ্ক ও বিকৃত রুচির নরনারীর কারণে লাখ লাখ নারী ও শিশুর জীবন বিপন্ন হতে দেওয়া যায় না। পৈতৃক সম্পত্তি বিষয়ে হিন্দু বিধিবিধানে কোনো বৈষম্য না থাকা সত্ত্বেও তারা নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে হিন্দু সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। হিন্দু আইনের মূল ভিত্তি বেদ। হিন্দু বিবাহ, উত্তরাধিকারসহ সব বিধিবিধান বেদ থেকে এসেছে। হিন্দু আইনের ওপর হস্তক্ষেপের অর্থ সরাসরি হিন্দু ধর্মের ওপর হস্তক্ষেপ। আইন ও সালিশ কেন্দ্র, নারী পক্ষ, মহিলা পরিষদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসহ যে সব এনজিও হিন্দু পরিবার, সমাজ ও ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের নিবন্ধন বাতিল করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় বক্তারা হিন্দু আইনে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না মর্মে সরকারকে ৩০ মে মধ্যে স্পষ্ট ঘোষণার দাবি জানান।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি দীনবন্ধু রায়, সহসভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, প্রেসিডিয়াম মেম্বার অভয় কুমার রায়, যুগ্ম মহাসচিব পল্টন দাস, যুব বিষয়ক সম্পাদক কিশোর বর্মন, দপ্তর সম্পাদক কঙ্কন মৃধা, হিন্দু মহিলা মহাজোটের সভাপতি লাকী বাছাড়, নির্বাহী সভাপতি বহ্নি শিখা দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সমাপিকা দাস, প্রণব মঠের অধ্যক্ষ স্বামী সঙ্গীতানন্দ মহারাজ, হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক নির্বাহী সভাপতি মিল্টন বিশ্বাস, হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি গৌতম সরকার অপু, হিন্দু মহাজোট ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সজিব কুন্ডু তপু, সাধারণ সম্পাদক রনি রাজবংশী, প্রকাশনা সম্পাদক বিধান সরকার অর্ঘ্য প্রমুখ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম