সোয়া কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে আট লাখ ছেঁড়া বস্তা গ্রহণ
jugantor
সোয়া কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে আট লাখ ছেঁড়া বস্তা গ্রহণ

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে আট লাখ পুরনো ও ছেঁড়া-ফাটা বস্তা গুদামে সংরক্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এজন্য তারা বস্তাপ্রতি ১৬ টাকা করে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম (এলএসডি) থেকে রংপুর ও নীলফামারী জেলা খাদ্য বিভাগে দুই লাখ বস্তা পাঠানো হয়। বস্তাগুলো পুরনো ও ছেঁড়া-ফাটা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদাম গ্রহণ না করায় বস্তা কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে যায়।

জানা গেছে, নতুন বস্তার পরিবর্তে ছেড়া-ফাঁটা ও নিম্নমানের প্রায় আট লাখ বস্তা জেলার বিভিন্ন খাদ্যগুদামে সরবরাহ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ, ঘুষ নিয়ে পুরনো বস্তা গ্রহণ করেছেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এর আগে গম, ধান ও চাল ক্রয়ে কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে।

৮ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সদর এলএসডি থেকে নীলফামারী সদর এলএসডিতে এক লাখ (৩০ কেজি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন) খালি বস্তা পাঠায়। কিন্তু বস্তাগুলো পুরনো ও ছেঁড়া-ফাটা হওয়ায় নীলফামারী খাদ্য বিভাগ ফেরত দেয়। নীলফামারী সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান জানান, নিম্নমানের এক লাখ বস্তা কুড়িগ্রামে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গ্রহণ না করার জন্য পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, বস্তাগুলো ২০১৫-১৬ সালে মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত। অধিকাংশ ছেঁড়া-ফাটা ও সেলাই করা।

কুড়িগ্রাম সদর এলএসডি থেকে দুই ট্রাক বস্তা রংপুর শঠিবাড়ী এলএসডিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকেও বস্তাগুলো ফেরত পাঠানো হয়। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে রংপুরের কাউনিয়া এলএসডিতে পাঠানো দুই ট্রাক বস্তার ক্ষেত্রেও। নীলফামারী ও রংপুর জেলা খাদ্য বিভাগ থেকে দুই লাখ বস্তা ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান কুড়িগ্রাম সদর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা। অনুমতি না নিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করায় এ প্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে তিনি উল্টো প্রশ্ন ছোড়েন? কোনো কথা না বলে ব্যক্তিগত ‘কারে’ তিনি এলএসডি গুদাম এলাকা ত্যাগ করেন। কানিজ ফাতেমার বিরুদ্ধে পচা চাল ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। ছেঁড়া-ফাটা ও নিম্নমানের বস্তার কথা স্বীকার করেছেন ফুলবাড়ী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম। তবে কেন ছেঁড়া-ফাটা বস্তা নিয়ে ভালো ও নতুন বস্তার প্রত্যয়ন দিয়েছেন এমন প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি।

পুরনো ও ছেঁড়া-ফাটা বস্তা খাদ্যগুদামে সরবরাহের অভিযোগ পাওয়ার কথা কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া মাত্র ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে টেলিফোনে জানিয়েছেন। ফলে বস্তা সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে গেছে।

জানা গেছে, ঢাকা খাদ্য বিভাগের টেন্ডারের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগে আট লাখ বস্তা সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা উৎকোচের বিনিময়ে পাঁচ লাখ বস্তা গ্রহণ করেন এবং শতভাগ ভালো বস্তা হিসেবে সার্টিফিকেট দেন। এজন্য বস্তাপ্রতি ছয় টাকা হিসেবে তিনি ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। একইভাবে অন্য খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘুষের বিনিময়ে নিম্নমানের বস্তা গ্রহণ করেন। অভিযোগ, জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে বস্তাপ্রতি সাত টাকা হিসেবে আট লাখ বস্তায় ৫৬ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। অফিস খরচ বাবদ তিন টাকা হারে ২৪ লাখ টাকা দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কোনো পক্ষই ঘুষ দেয়া-নেয়ার অভিযোগ স্বীকার করেনি। অভিযোগ, নতুন বস্তার টেন্ডারে দর ছিল ৬০-৮০ টাকা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরনো বস্তা ১০-১৫ টাকায় কিনে সরবরাহ করেছে।

সোয়া কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে আট লাখ ছেঁড়া বস্তা গ্রহণ

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে আট লাখ পুরনো ও ছেঁড়া-ফাটা বস্তা গুদামে সংরক্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এজন্য তারা বস্তাপ্রতি ১৬ টাকা করে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম (এলএসডি) থেকে রংপুর ও নীলফামারী জেলা খাদ্য বিভাগে দুই লাখ বস্তা পাঠানো হয়। বস্তাগুলো পুরনো ও ছেঁড়া-ফাটা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদাম গ্রহণ না করায় বস্তা কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে যায়।

জানা গেছে, নতুন বস্তার পরিবর্তে ছেড়া-ফাঁটা ও নিম্নমানের প্রায় আট লাখ বস্তা জেলার বিভিন্ন খাদ্যগুদামে সরবরাহ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ, ঘুষ নিয়ে পুরনো বস্তা গ্রহণ করেছেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এর আগে গম, ধান ও চাল ক্রয়ে কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে।

৮ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সদর এলএসডি থেকে নীলফামারী সদর এলএসডিতে এক লাখ (৩০ কেজি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন) খালি বস্তা পাঠায়। কিন্তু বস্তাগুলো পুরনো ও ছেঁড়া-ফাটা হওয়ায় নীলফামারী খাদ্য বিভাগ ফেরত দেয়। নীলফামারী সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান জানান, নিম্নমানের এক লাখ বস্তা কুড়িগ্রামে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গ্রহণ না করার জন্য পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, বস্তাগুলো ২০১৫-১৬ সালে মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত। অধিকাংশ ছেঁড়া-ফাটা ও সেলাই করা।

কুড়িগ্রাম সদর এলএসডি থেকে দুই ট্রাক বস্তা রংপুর শঠিবাড়ী এলএসডিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকেও বস্তাগুলো ফেরত পাঠানো হয়। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে রংপুরের কাউনিয়া এলএসডিতে পাঠানো দুই ট্রাক বস্তার ক্ষেত্রেও। নীলফামারী ও রংপুর জেলা খাদ্য বিভাগ থেকে দুই লাখ বস্তা ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান কুড়িগ্রাম সদর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা। অনুমতি না নিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করায় এ প্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে তিনি উল্টো প্রশ্ন ছোড়েন? কোনো কথা না বলে ব্যক্তিগত ‘কারে’ তিনি এলএসডি গুদাম এলাকা ত্যাগ করেন। কানিজ ফাতেমার বিরুদ্ধে পচা চাল ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। ছেঁড়া-ফাটা ও নিম্নমানের বস্তার কথা স্বীকার করেছেন ফুলবাড়ী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম। তবে কেন ছেঁড়া-ফাটা বস্তা নিয়ে ভালো ও নতুন বস্তার প্রত্যয়ন দিয়েছেন এমন প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি।

পুরনো ও ছেঁড়া-ফাটা বস্তা খাদ্যগুদামে সরবরাহের অভিযোগ পাওয়ার কথা কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া মাত্র ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে টেলিফোনে জানিয়েছেন। ফলে বস্তা সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে গেছে।

জানা গেছে, ঢাকা খাদ্য বিভাগের টেন্ডারের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগে আট লাখ বস্তা সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা উৎকোচের বিনিময়ে পাঁচ লাখ বস্তা গ্রহণ করেন এবং শতভাগ ভালো বস্তা হিসেবে সার্টিফিকেট দেন। এজন্য বস্তাপ্রতি ছয় টাকা হিসেবে তিনি ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। একইভাবে অন্য খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘুষের বিনিময়ে নিম্নমানের বস্তা গ্রহণ করেন। অভিযোগ, জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে বস্তাপ্রতি সাত টাকা হিসেবে আট লাখ বস্তায় ৫৬ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। অফিস খরচ বাবদ তিন টাকা হারে ২৪ লাখ টাকা দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কোনো পক্ষই ঘুষ দেয়া-নেয়ার অভিযোগ স্বীকার করেনি। অভিযোগ, নতুন বস্তার টেন্ডারে দর ছিল ৬০-৮০ টাকা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরনো বস্তা ১০-১৫ টাকায় কিনে সরবরাহ করেছে।