এক যুগ পর জেআরসির বৈঠক
তিস্তা নয় কুশিয়ারার পানি দিতে পারে ভারত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এক যুগ পর ২৫ আগস্ট দিল্লিতে বসছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। তবে এ বৈঠকে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তার জট খোলা নিয়ে বাংলাদেশের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকছে না। ভারতের চাওয়া-বৈঠকে তিস্তা ইস্যুটি যেন ওঠানোই না হয়। যদিও ঢাকা বলছে, আলোচনায় তিস্তা ইস্যুতে জোর দেওয়া হবে। এবারের জেআরসিতে তিস্তা ইস্যুতে অগ্রগতি হচ্ছে না বলেই ধরে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তিস্তা নয় কুশিয়ারার পানি দিতে পারে ভারত।
জেআরসি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরের কথা রয়েছে। ওই বৈঠককে সামনে রেখে জেআরসিতে কুশিয়ারা নদীর বিষয়ে সমাধানে পৌঁছাতে চায় ঢাকা। প্রধানমন্ত্রীর সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ সমঝোতা স্মারকের আলোকে বাংলাদেশ কুশিয়ারা নদীর পানি রহিমপুর খাল দিয়ে কৃষিকাজে ব্যবহার শুরু করার পর ভারতকে প্রতিদিন ফেনী নদীর ১.৮২ কিউসেক পানি দেবে। ২০১৯ সালে দুদেশের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ফেনী নদী থেকে ওই পানি ত্রিপুরার সাবরুম শহরে সরবরাহ করা হবে, যাতে সেখানে পানীয় জলের প্রয়োজন মেটানো যায়। এছাড়া গঙ্গার পানির সদ্ব্যবহারের যৌথ সমীক্ষার ঘোষণা চূড়ান্ত করা হতে পারে এবারের বৈঠকে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে-তিস্তা, গঙ্গা কিংবা ছয়টি অভিন্ন নদীর বাইরে সাম্প্রতিক বর্ষায় দুদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা প্রসঙ্গও থাকবে আলোচনার টেবিলে। জুন-জুলাইয়ে অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভারতের আসাম ও বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে ব্যাপক বন্যা হয়। বন্যার বিষয়টি আমলে নিয়ে এ ধরনের দুর্যোগ প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করতে চাইবে যৌথ নদী কমিশন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এবার জেআরসির মন্ত্রী পর্যায়ের ৩৮তম বৈঠকে ঢাকার পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক আর নয়াদিল্লির পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির জলশক্তিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। বৈঠকে কুশিয়ারা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে আলোচনা হবে। কোনোটাতে হয়তো অগ্রগতি আসবে, আবার কোনোটাতে নাও আসতে পারে। ২০১০ সালের মার্চে দিল্লিতে সবশেষ জেআরসি বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে তিস্তার অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি চূড়ান্তের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। পরে ২০১১ সালে তিস্তার অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছিল কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতায় ভারতের সে সময়ের সরকার চুক্তিটি সই করতে পারেনি।
