ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা

মাসজুড়ে শঙ্কা দাবদাহের

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভ্যাপসা গরম

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে তুলনামূলক শীতল হয়েছিল বাংলার প্রকৃতি। শনিবার রাতে দেশের চৌহদ্দি পার হওয়ার পরদিন সকালেই আগের রুদ্রমূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছে সূর্য। ভ্যাপসা গরমে এখন হাঁসফাঁস অবস্থা।

গরম আগামী এক সপ্তাহে বাড়বে। তামপাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে। অধিক জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির কারণে বাড়বে গরমের অনুভূতি। দু’একদিনের মধ্যে ফের শুরু হতে পারে তাপপ্রবাহ।

আবহাওয়া বিভাগ (বিএমডি) বলছে, মে মাস কাটবে অস্বস্তিকর গরমে। এ মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে। অন্যত্র ২-১টি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

অর্থাৎ রোজার মাসটি উষ্ণতায় কাটবে। গরমের কারণে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে ২টি নিম্নচাপ। যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এছাড়া দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২-৩ দিন মাঝারি বা তীব্র বজ ঝড়সহ কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। অন্যত্র ৩-৪ দিন হালকা/মাঝারি বজ ঝড়সহ কালবৈশাখী বয়ে যাবে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, মে মাসটি এমনিতেই গরম। এরপর চলতি বছর ‘এলনিনো মডোকি’ অবস্থা বিরাজ করছে। প্রশান্ত মহাসাগরের ৩০ ডিগ্রি অবস্থানের এই বিশেষ অবস্থা যে বছর সৃষ্টি হয়, সেই বছর আমাদের অঞ্চলে অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা এবং শুকনো পরিস্থিতি থাকে। তিনি বলেন, যখন ধরণী খুব উত্তপ্ত থাকে, তখন সাগরের পানিও উত্তপ্ত হয়। সাধারণত সাগরের পানির উষ্ণতা ২৭ ডিগ্রি পার হলে তা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির উপযোগী হয়। সে কারণে এ মাসে একদিকে যেমন ব্যাপক গরম থাকতে পারে, আরেকদিকে ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবেলা করা লাগতে পারে। যদিও অতীত রেকর্ড বলছে, প্রতিমাসে সাগর ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে না। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক কিছুই স্বাভাবিকের বাইরে ঘটছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন তুলনামূলক সহনীয় থাকবে প্রকৃতি। কিন্তু এদিনও এপ্রিলের শেষ দুই সপ্তাহের মতো খুব উষ্ণতা অনুভূত হয়েছে। অনেকেই বেশিক্ষণ বাইরে কাটাতে পারেননি। এদিন ঢাকায় ৩৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মোংলায় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কোথাও ৩২ ডিগ্রির নিচে ছিল না। ঢাকায় সন্ধ্যায় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৬১ শতাংশ।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, যে কোনো ঘূর্ণিঝড় দু’ধরনের বৃষ্টি নিয়ে আসে। একটি শীতল, যা গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা থেকে বর্ষিত হয়। কিন্তু তা অল্প জায়গায় বর্ষিত হয়। আরেকটি নিয়ে আসে গরম বর্ষা। ঝড় চলে গেলে বৃষ্টিও চলে যায়। বাতাসে থেকে যায় প্রচুর জলীয় বাষ্প। আকাশ হয়ে পড়ে মেঘমুক্ত। ফলে সূর্য সরাসরি কিরণ দেয়। বাতাসের গতিও কমে যায়। এ অবস্থায় তাপমাত্রা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে বলে গরমের অনুভূতিটাও হয় বেশি।

বিএমডি বলছে, চলতি বছরের এপ্রিলে তুলনামূলক উত্তপ্ত ছিল। এ মাসে দেশে গড় বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে ১২৭ মিলিমিটার। কিন্তু এ মাসে বৃষ্টি হয়েছে ১০১ মিলিমিটার। ২০ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাতের বিচ্যুতি ঘটেছে। যে কারণে এ মাসে মানুষকে গরমে পুড়তে হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাসের শেষে ২৫ এপ্রিল সাগরে ঘূর্ণিঝড় ফণীর উৎপত্তি ঘটে। অপরদিকে এলনিনো পরিস্থিতি এবং স্বাভাবিক গরমের সময় হওয়া সত্ত্বেও মে মাসে অন্তত ১৭ দিন বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস করেছে বিএমডি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×