খেলাপি ঋণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ সেল
jugantor
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিপত্র জারি
খেলাপি ঋণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ সেল

  হামিদ বিশ্বাস  

০৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাতে এবং দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করতে একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সেল থেকে নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিদের করা মামলাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রিট, মামলা ও উকিল নোটিশের জবাবও দেয়া হবে এই সেল থেকে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের নির্দেশে ১ এপ্রিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের অধীনে ‘লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স সেল’ নামে একটি নতুন সেল গঠন করা হয়েছে। এতে কাজ করার জন্য পাঁচটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব পদে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে একজন যুগ্ম পরিচালক, একজন উপ-পরিচালক, দুজন সহকারী পরিচালক এবং একজন অফিসার পদায়ন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ সেলের কাজ হবে মামলাসংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে। সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও মতামত সংগ্রহ করবে। সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জরুরি সব মামলা চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনজীবী নিয়োগ করবে। নিয়োগকৃত আইনজীবীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান ও আইনজীবীর পক্ষ থেকে দেয়া বিভিন্ন বিল যাচাই-বাছাই করে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করবে। এছাড়া এ সেল থেকে মামলাসংক্রান্ত ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এগুলো তারা সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে। এর বাইরে রেজিস্ট্রার অফিস, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা অফিসের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করবে। যে কোনো নীতি প্রণয়নের মতামত প্রদানের আগে বা গাইডলাইন ও সার্কুলার জারির আগে এ সেল থেকে আইনগত দিক ভেটিং করা হবে। বিভাগীয় যে কোনো প্রয়োজনে আইনগত মতামত প্রদান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে যে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবে সেল।

জানা গেছে, খেলাপি ঋণ আদায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করে তখন সে মামলার বিরুদ্ধে রিট করে স্থগিতাদেশ পায় ঋণখেলাপিরা। ওই মামলা আর নিষ্পত্তি হয় না। এ ধরনের মামলা জটে আটকে আছে মোটা অঙ্কের খেলাপি ঋণ। সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে ঋণ আদায়ে সহযোগিতা করবে এ সেল। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করবে। এদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে গত বছর নতুন করে কোনো ঋণখেলাপি করা হয়নি। এরপরও এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের বিতরণ করা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিপত্র জারি

খেলাপি ঋণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ সেল

 হামিদ বিশ্বাস 
০৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাতে এবং দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করতে একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সেল থেকে নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপিদের করা মামলাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রিট, মামলা ও উকিল নোটিশের জবাবও দেয়া হবে এই সেল থেকে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের নির্দেশে ১ এপ্রিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের অধীনে ‘লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স সেল’ নামে একটি নতুন সেল গঠন করা হয়েছে। এতে কাজ করার জন্য পাঁচটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব পদে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে একজন যুগ্ম পরিচালক, একজন উপ-পরিচালক, দুজন সহকারী পরিচালক এবং একজন অফিসার পদায়ন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ সেলের কাজ হবে মামলাসংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে। সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও মতামত সংগ্রহ করবে। সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জরুরি সব মামলা চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনজীবী নিয়োগ করবে। নিয়োগকৃত আইনজীবীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান ও আইনজীবীর পক্ষ থেকে দেয়া বিভিন্ন বিল যাচাই-বাছাই করে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করবে। এছাড়া এ সেল থেকে মামলাসংক্রান্ত ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এগুলো তারা সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে। এর বাইরে রেজিস্ট্রার অফিস, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা অফিসের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করবে। যে কোনো নীতি প্রণয়নের মতামত প্রদানের আগে বা গাইডলাইন ও সার্কুলার জারির আগে এ সেল থেকে আইনগত দিক ভেটিং করা হবে। বিভাগীয় যে কোনো প্রয়োজনে আইনগত মতামত প্রদান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে যে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবে সেল।

জানা গেছে, খেলাপি ঋণ আদায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করে তখন সে মামলার বিরুদ্ধে রিট করে স্থগিতাদেশ পায় ঋণখেলাপিরা। ওই মামলা আর নিষ্পত্তি হয় না। এ ধরনের মামলা জটে আটকে আছে মোটা অঙ্কের খেলাপি ঋণ। সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে ঋণ আদায়ে সহযোগিতা করবে এ সেল। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করবে। এদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে গত বছর নতুন করে কোনো ঋণখেলাপি করা হয়নি। এরপরও এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের বিতরণ করা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন