বিটিএমএ’র বাজেট প্রতিক্রিয়া
বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা নতুন জটিলতায় পড়বে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইনে প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকের যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বস্ত্র খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই উদ্যোগ রপ্তানি খাতবান্ধব নয়। এতে বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা নতুন জটিলতায় পড়বে।
বাজেটপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রোববার এ কথা জানিয়েছে বিটিএমএ। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের পক্ষে বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন।
প্রসঙ্গত, অর্থবিলের মাধ্যমে ভ্যাট আইনের বিধিমালায় নতুন বিধি সংযোজন করে পশ্চাৎপদ শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা সরবরাহে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শতভাগ রপ্তানিমুখী বন্ডেড ওয়্যার হাউস বা স্পেশাল বন্ডেড ওয়্যার হাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানকে পণ্য বা সেবা সরবরাহ করলে তা প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসাবে গণ্য করা হবে। কিন্তু বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করে থাকে। যাদের অনেকের বন্ড লাইসেন্স নেই। লিখিত বক্তব্যে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, বাংলাদেশে যারা রপ্তানিমুখী নিট পোশাক এবং ওভেন ফেব্রিক তৈরি ও রপ্তানি করে তাদের মধ্যে অনেকেরই বন্ড লাইসেন্স নেই। স্থানীয়ভাবে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানির জন্য সুতা ও কাপড় সংগ্রহ করে থাকে। নিট খাতের ৭৫ শতাংশের বেশি কারখানা স্থানীয়ভাবে সুতা সংগ্রহ করায় তাদের বন্ড লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। এ বিধান কার্যকর হলে ব্যবসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণও বাধাগ্রস্ত হবে। তাই অংশীজনদের মতামত গ্রহণ ছাড়া এ আইন কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অনুরোধ করছি।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত টেক্সটাইল দেশের সবচাইতে সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে বিবেচিত। তাই বিটিএমএ রপ্তানি বাণিজ্যের খরচ কমানো ও স্থানীয় বস্ত্র শিল্পের স্বার্থে উৎস কর হার ০.২৫ শতাংশ নির্ধারণ, কাপড়ের ট্যারিফ ভ্যালু পুনঃনির্ধারণ ও বস্ত্র খাতে যন্ত্রাংশের ওপর আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করেছিল। বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপের পাশাপাশি এসব প্রস্তাব আমলে নিলে করোনা পরিস্থিতিতে বস্ত্র খাত অর্থনীতিতে আরও অবদার রাখতে পারত।
টেক্সটাইলকে সম্ভাবনাময় খাত উল্লেখ করে খোকন বলেন, সব ধরনের সুতার ভ্যাট ৩ টাকা এবং আঁশের (ফাইবার) সুতায় তৈরি ফেব্রিক্সের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার ও এসব আঁশ আমদানিতে শুল্ককর ছাড় না দেওয়ায় বাজেটে অর্থমন্ত্রী বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা বাধাগ্রস্ত হবে। তাই শিল্পের স্বার্থে আমদানিকৃত কাপড়ের ন্যূনতম মূল্য পুনঃনির্ধারণ, রপ্তানির উৎসে কর হ্রাস, যন্ত্রপাতির আমদানিতে এক শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়গুলো ভেবে দেখা দরকার।
