ক্ষমতাবানরা বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন
jugantor
সেমিনারে বক্তারা
ক্ষমতাবানরা বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়েই মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ক্ষমতাবানরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন। যাদের যত ক্ষমতা, তারা তত মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন। কমিশন যেন এই ক্ষমতাবানদের ব্যাপারে ভীত না হয়। যেন কমিশনের ওপর সাধারণ মানুষ আস্থা না হারায়।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে মঙ্গলবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘মানবাধিকার ও সুরক্ষায় গণমানুষের প্রত্যাশা: গণমাধ্যম ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সমন্বিত প্রয়াস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। নবগঠিত ষষ্ঠ মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম ও করণীয় বিষয়ে জানাতে গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে কমিশন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। এতে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, প্রথম আলোর যুগ্মসম্পাদক সোহরাব হাসান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, এবি নিউজের প্রধান সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, কমিশনের অবৈতনিক সদস্য ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, আমিনুল ইসলাম, কংজরী চৌধুরী, ড. তানিয়া হক, কমিশনের সচিব নারায়ণ চন্দ্র সরকার প্রমুখ। কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ বলেন, এই বছরটা অনেক খারাপ। কারণ এটি নির্বাচনের বছর। এ বছর অনেক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে। মানবাধিকার কমিশন বা গণমাধ্যম বা আমার মতো উন্নয়নকর্মীরা এটা খুব বেশি কমাতে পারব না। তিনি বলেন, এটা হলো রাজনীতিবিদদের কাজ। রাজনীতিবিদরা বলেন, রাজনীতি করেন মানুষের জন্য। কিন্তু দেখা যায়, তারা অনেক কাজ করেন, যেটা মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে। কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। ক্ষমতাবানরা নিজের স্বার্থে অন্যের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। বাংলাদেশের পাশাপাশি সারা পৃথিবীতে বৈষম্য আছে। ব্যক্তি পর্যায়ের অনেক কথা হয়েছে, ফারদিনের (বুয়েট শিক্ষার্থী) বিষয়ে কথা হয়েছে, সাংবাদিকদের কথা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন এসব বিষয় দেখতে পারে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাস করে না, তাদের ২০১৪ সালের কর্মকাণ্ড আমরা দেখেছি। আগামী নির্বাচনের সময়ে আবার একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়ে তদন্ত করতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা সংশোধনের চেষ্টা করছি। তিনি মূল প্রবন্ধে বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গণমাধ্যমের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। এ দুই প্রতিষ্ঠানের সেতুবন্ধ আরও সুদৃঢ় হওয়া দরকার। আমাদের বিশ্বাস, গণমাধ্যম ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একসঙ্গে কাজ করলে গণমানুষের আকাক্সক্ষা পূরণে আমরা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারব।

দেড় মাসে ১৯০টি অভিযোগ কমিশনে : নবগঠিত ষষ্ঠ মানবাধিকার কমিশন ১ মাস ১৪ দিনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১৯০টি অভিযোগ পেয়েছে। নতুন কমিশনের ১ মাস ১৪ দিনের কার্যক্রম জানিয়ে সেমিনারে বলা হয়, কমিশন ১৯০টি অভিযোগ পেয়েছে। এক জেলায় গণশুনানি, দুই জেলার কারাগার পরিদর্শন, দুই জেলার হাসপাতাল পরিদর্শন করা ছাড়াও পাঁচ জেলায় মানবাধিকার প্রতিরোধ ও সুরক্ষামূলক কাজ করেছে কমিশন। এ সময়েই কমিশন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪টি সুয়োমোটো (স্বতঃপ্রণোদিত) পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সেমিনারে বক্তারা

ক্ষমতাবানরা বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়েই মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ক্ষমতাবানরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন। যাদের যত ক্ষমতা, তারা তত মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন। কমিশন যেন এই ক্ষমতাবানদের ব্যাপারে ভীত না হয়। যেন কমিশনের ওপর সাধারণ মানুষ আস্থা না হারায়।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে মঙ্গলবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘মানবাধিকার ও সুরক্ষায় গণমানুষের প্রত্যাশা: গণমাধ্যম ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সমন্বিত প্রয়াস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। নবগঠিত ষষ্ঠ মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম ও করণীয় বিষয়ে জানাতে গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে কমিশন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। এতে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, প্রথম আলোর যুগ্মসম্পাদক সোহরাব হাসান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, এবি নিউজের প্রধান সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, কমিশনের অবৈতনিক সদস্য ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, আমিনুল ইসলাম, কংজরী চৌধুরী, ড. তানিয়া হক, কমিশনের সচিব নারায়ণ চন্দ্র সরকার প্রমুখ। কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ বলেন, এই বছরটা অনেক খারাপ। কারণ এটি নির্বাচনের বছর। এ বছর অনেক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে। মানবাধিকার কমিশন বা গণমাধ্যম বা আমার মতো উন্নয়নকর্মীরা এটা খুব বেশি কমাতে পারব না। তিনি বলেন, এটা হলো রাজনীতিবিদদের কাজ। রাজনীতিবিদরা বলেন, রাজনীতি করেন মানুষের জন্য। কিন্তু দেখা যায়, তারা অনেক কাজ করেন, যেটা মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে। কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। ক্ষমতাবানরা নিজের স্বার্থে অন্যের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। বাংলাদেশের পাশাপাশি সারা পৃথিবীতে বৈষম্য আছে। ব্যক্তি পর্যায়ের অনেক কথা হয়েছে, ফারদিনের (বুয়েট শিক্ষার্থী) বিষয়ে কথা হয়েছে, সাংবাদিকদের কথা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন এসব বিষয় দেখতে পারে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাস করে না, তাদের ২০১৪ সালের কর্মকাণ্ড আমরা দেখেছি। আগামী নির্বাচনের সময়ে আবার একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়ে তদন্ত করতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা সংশোধনের চেষ্টা করছি। তিনি মূল প্রবন্ধে বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গণমাধ্যমের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। এ দুই প্রতিষ্ঠানের সেতুবন্ধ আরও সুদৃঢ় হওয়া দরকার। আমাদের বিশ্বাস, গণমাধ্যম ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একসঙ্গে কাজ করলে গণমানুষের আকাক্সক্ষা পূরণে আমরা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারব।

দেড় মাসে ১৯০টি অভিযোগ কমিশনে : নবগঠিত ষষ্ঠ মানবাধিকার কমিশন ১ মাস ১৪ দিনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১৯০টি অভিযোগ পেয়েছে। নতুন কমিশনের ১ মাস ১৪ দিনের কার্যক্রম জানিয়ে সেমিনারে বলা হয়, কমিশন ১৯০টি অভিযোগ পেয়েছে। এক জেলায় গণশুনানি, দুই জেলার কারাগার পরিদর্শন, দুই জেলার হাসপাতাল পরিদর্শন করা ছাড়াও পাঁচ জেলায় মানবাধিকার প্রতিরোধ ও সুরক্ষামূলক কাজ করেছে কমিশন। এ সময়েই কমিশন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪টি সুয়োমোটো (স্বতঃপ্রণোদিত) পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন