কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভালো ও মন্দ

  ড. মো. আবুবকর সিদ্দিক ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা- রোবট সোফিয়া
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা- রোবট সোফিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার আগামী দিনগুলোয় বিশ্ববাসীর জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে, না দুর্ভোগ বাড়াবে- তা নিয়ে বোদ্ধা মহলে রয়েছে প্রাঞ্জল বিতর্ক। বিজ্ঞানের দ্রুত উন্নতি মানব জীবনে যে প্রশান্তির পরশ বইয়ে দিয়েছে, তা আরও বেগবান হবে; নাকি মানব সভ্যতাকেই কোনো এক অজানা বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে- এ নিয়ে ভাববার অবকাশ রয়েছে।

মেশিন যখন মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা দেখায়, সেটিই তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তি, সমস্যা সমাধান, মানুষের ভাষা বোঝার ক্ষমতা, উপলব্ধি, শিক্ষণ, পরিকল্পনা, কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটানো বা কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার মতো সামর্থ্যসম্পন্ন মেশিনই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মেশিন।

উচ্চতর ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার, রোবট ও অন্যান্য যন্ত্র এর অন্তর্ভুক্ত। জন ম্যাক্যার্থি সর্বপ্রথম Artificial Intelligence নামক টার্মটি ব্যবহার করেন ১৯৫৫ সালে। পরের বছর নিউ হ্যামশায়ারের হ্যানোভার শহরস্থ ডার্টমাউথ কলেজে অনুষ্ঠিত এক একাডেমিক কনফারেন্সে তিনি তা প্রথম প্রকাশ করেন। এজন্য জন ম্যাক্যার্থিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম জনক বলা হয়। তার অন্যান্য সহযোগীরা হলেন- মার্ভিন মিনস্কি, অ্যালেন নিউয়েল এবং হার্বাট এ সায়মন।

সেই থেকে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে চলা ধারণাটি আজকের দুনিয়ায় এক বিষ্ময় জাগানিয়া পরিস্থিতি তৈরি করেছে। জগৎকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলার পাশাপাশি জন্ম দিয়েছে এক প্রশ্নের- এর ক্রমাগত প্রসার বিশ্ব সভ্যতার জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে; নাকি হুমকির মুখে ঠেলে দেবে গোটা দুনিয়াকে? জগৎবরেণ্য বিজ্ঞানীদের কপালে তাই চিন্তার ভাঁজ পড়ছে।

বিজ্ঞানের দুনিয়ায় তরঙ্গায়িত সে ধারণাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা শিল্পের কল্যাণে উন্নত দেশগুলো মুনাফা লুটছে এবং মুনাফা অর্জনের এ খাতকে আরও পরিব্যাপ্ত করায় সদাব্যস্ত রয়েছে। যেমনটি দেখা যায় মাসাওসি সন-এর ক্ষেত্রে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জাপান; আর সন হচ্ছেন সে দেশের শীর্ষ ধনী।

টেলিকম কোম্পানি সফট ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মাসাওসি সন বেশি আলোচিত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসায় তার বিনিয়োগ, জাপানের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখা ও মানবহিতৈষী কর্মকাণ্ডের জন্য। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাবে তার ব্যবসায়ের পরিমাণ ২২.৪ বিলিয়ন ডলার। সফট ব্যাংক মূল ব্যবসা হলেও ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা এবং ফরাসি রোবটিক প্রতিষ্ঠান আলদেবারানের সঙ্গে রয়েছে তার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব।

সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাইড শেয়ার কোম্পানি উবারেরও ১৫ শতাংশ ইকুইটি ক্রয়ে চুক্তি করেছেন। ইতিমধ্যে সনের সফট ব্যাংক ১০০ বিলিয়ন ডলারের ভেঞ্চার তহবিল গঠন করেছে স্টার্টআপ ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য। তার এ প্রয়াস প্রযুক্তি বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, সনের গড়ে তোলা এ তহবিলটি ব্যবহৃত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের জন্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সন বলেন, ‘আমি মনে করি আজ থেকে ৩০ বছর পরে বিশ্বে স্মার্ট রোবটের সংখ্যা হবে ১০ বিলিয়ন। এই রোবটরা ব্যাপকভাবে মানুষের চাকরি নিয়ে নেবে। যতগুলো শিল্প মানুষ গড়ে তুলেছে, সবগুলোই নতুন করে পুনর্বিন্যাস্ত হবে।’

অপরদিকে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে ই-কমার্সের দিকপাল বলে খ্যাত আলিবাবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু ঝুঁকি এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।

জ্যাক মা বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান, প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ব এখন বড় রূপান্তরের পথে। এ প্রযুক্তি অনেক সফল ব্যক্তিত্ব তৈরি করবে, আগ্রহ উদ্দীপক ক্যারিয়ারও তৈরি করবে; কিন্তু সত্যিকার অর্থে প্রত্যেক নতুন প্রযুক্তি সামাজিক সমস্যাও তৈরি করে। যদি এর মোকাবেলায় আমরা এক হতে না পারি, তবে মানুষ একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। কারণ প্রত্যেক প্রযুক্তিগত বিপ্লব বিশ্বকে ভারসাম্যহীন করে দেয়।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিগ ডাটাকে তিনি বিশ্ব মুক্তির জন্য হুমকি মনে করার পাশাপাশি একে সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে তার মূল্যায়ন হচ্ছে- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবট অসংখ্য চাকরি কেড়ে নেবে। কারণ ভবিষ্যতে অনেক কিছুই করা হবে মেশিন দিয়ে।

আগামী দিনগুলোয় চিকিৎসাসেবায়, অফিস-আদালতে, শিল্প-কারখানায়, সংবাদসংস্থা বা গণমাধ্যমে, ভাষান্তর প্রক্রিয়ায়, টেলিফোন সেবায়, বৈজ্ঞানিক গবেষণায়, হোটেল-রেস্তোরাঁ এমনকি বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্র তথা রোবটের ব্যাপক ব্যবহারের আভাস দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

রায়ান আয়ারস- যিনি ব্যবসায়িক কৌশলের গুরু হিসেবে খ্যাত, এক নিবন্ধে দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সম্পর্কে ছয়টি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন-

১. স্বয়ংক্রিয় পরিবহন ব্যবস্থায় ২. সাইবর্গ টেকনোলজি- যান্ত্রিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যা মস্তিষ্ক দ্বারা চালিত হবে ৩. বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ৪. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ৫. বন্ধুভাবাপন্ন রোবট ৬. বয়োবৃদ্ধদের উন্নত পরিচর্যায়। জানা যায়, জাপানে ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সংবাদ মাধ্যম কোম্পানি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক বড় বড় কোম্পানি তাদের প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক বিষয়গুলো দেখভালের বিষয়টি বুদ্ধিমান মেশিনের ওপর ছেড়ে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন।

বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, ২০৪৯ সালের মধ্যে রোবট বেস্ট সেলার বুক লিখতে সক্ষম হবে। যদিও জাপানে বুদ্ধিমান মেশিনের রচিত ছোট উপন্যাস সাহিত্য পুরস্কারের জন্য ইতিমধ্যে বিবেচিত হয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী অভিমত ব্যক্ত করেছেন, আগামী ১২০ বছরের মধ্যে মানুষের সব কাজ বুদ্ধিমান মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারবে।

স্ট্যাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দাবি করেছেন, তারা এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছেন; যেটি সহজেই শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা করে কবে মানুষের মৃত্যু হবে, সেটা গণনা করে বলে দেবে। আশঙ্কার কথা, ৫০টিরও বেশি দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য রোবট তৈরি করছে- যেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করবে এবং শত্র“কে হত্যার কাজটি করবে। এ ধরনের রোবট এবং ড্রোনের গবেষণায় প্রচুর অর্থও ব্যয় করা হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি নীতি গবেষণা কেন্দ্র ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ জানিয়েছে আগামী ৪ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২২ সালের মধ্যে রোবটের কারণে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৭ কোটি লোক চাকরি হারাবে।

তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, একই সময়ে নতুন প্রযুক্তির কারণে ১৩ কোটিরও বেশি কাজের সুযোগের সৃষ্টি হবে। ডাটা এনালিস্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপার, সোশ্যাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট এ ধরনের কাজ অনেক বাড়বে। এছাড়া শিক্ষক বা কাস্টমার সার্ভিস কর্মীর মতো কাজ, যাতে কিনা অনেক সুস্পষ্ট মানবিক গুণাবলীর দরকার হয়, সেরকম অনেক কাজও তৈরি হবে।

বোদ্ধামহল মনে করছেন, বুদ্ধিমান মেশিনের এনে দেয়া প্রাচুর্যের ফলে ওই মানবিক কাজের চাহিদা অনেকাংশে বাড়বে বৈ কমবে না। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে লেখকের অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিল।

সেখানে একজন ব্রিটিশ বক্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বক্তৃতায় এর প্রয়োগ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বলেন, আগামী দিনগুলোয় দাফতরিক কাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান দুই-ই বাড়বে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে কয়েকজন বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞের অভিমত এখানে তুলে ধরা হল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে একবিংশ শতাব্দীর সাড়া জাগানো বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন, এরা এক সময়ে আমাদের অতিক্রম করে যাবে। এর ফলে মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে এর স্রষ্টাকে অতিক্রম করতে পারে এবং তা মানবজাতির জন্য হুমকি বয়ে আনতে পারে, এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন কৌশল এমন স্তরে পৌঁছবে, যাতে মানুষের সাহায্য ছাড়াই এরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের উন্নতি ঘটাতে পারবে। আর যদি এমনটি ঘটে, তাহলে আমাদের বুদ্ধিমত্তার বিস্ফোরণের সম্মুখীন হতে হবে; যার ফলে যান্ত্রিক বুদ্ধি আমাদের অতিক্রম করবে। Space X-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নকে ‘Summoning the Demon’ অর্থাৎ দৈত্যকে ডেকে আনার শামিল আখ্যায়িত করে এটাকে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি এটাকে আণবিক বোমার চেয়েও অধিক বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানান।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বলেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রুখতে নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলা। আর কীভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার হতে পারে, তা নিয়ে আগেই ভাবা উচিত। শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করলেই চলবে না, সে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন মানবসভ্যতার বিপক্ষে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ইন বার্কলেতে কিউইবট নামের খাবার পরিবেশনকারী ছোট্ট এক রোবটে যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে আগুন লেগে গেলে এ নিয়ে বেশ হইচই পড়ে যায়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের সঙ্গে পৃথিবীর পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্পর্কটি বিজ্ঞানীরা হিসাবে এনেছেন কিনা- সে বিষয়ে বিশেষ কিছু জানা যায়নি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরিতে যেসব সরঞ্জামের জোগান লাগবে এবং ব্যবহারের পর অকেজো হয়ে পড়া এসব যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ যখন বর্জ্যে পরিণত হবে, এ উভয় ক্ষেত্রেই পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রসার অন্যান্য সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক বিপর্যয়ের সঙ্গে পরিবেশের দূষণের মতো ভয়াবহ বিষয়টিও ঘটতেই থাকবে। শুধু পলিথিন এবং পেট বোতলের জঞ্জালই প্রশান্ত মহাসাগরসহ অন্যান্য সাগর-মহাসাগরকে মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সাগরের নীল জলরাশিতে বেঁচে থাকা প্রাণীকুলসহ উদ্ভিদরাজি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অধিকন্তু হাল জামানার কম্পিউটার, মোবাইলসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের বর্জ্য পরিবেশকে যেভাবে ভারাক্রান্ত করছে, তাতে আগামী পৃথিবীর পরিবেশ-প্রতিবেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে; তা নিয়ে ভাববার অবকাশ রয়েছে বৈকি! ইতিমধ্যে পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের যে নমুনা দৃষ্টিগ্রাহ্য হচ্ছে, তাতে পৃথিবীবাসীর জন্য বিপদ ঘনীভূত হচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে পিপার নামের হেঁটে-চলে বেড়ানো একটি রোবটকে শিক্ষাবিষয়ক কমিটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব’ বিষয়ক শুনানিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

শুনানিকালে কমিটির সদস্যরা পিপারকে জিজ্ঞেস করেন, যখন বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রাজত্ব চলবে, তখন কি মানুষের জন্য কোনো জায়গা থাকবে? জবাবে পিপার কমিটির সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেছে, সব সময়ই সূক্ষ্ম কিছু দক্ষতার প্রয়োজন পড়বে, যা কেবল মানুষেরই থাকে। এসব দক্ষতার মধ্যে রয়েছে বোধশক্তি এবং প্রযুক্তি তৈরি ও পরিচালনা।

পিপার নামক যন্ত্রমানব যাই বলুক না কেন, প্রকৃত প্রস্তাবে পৃথিবীব্যাপী কর্মক্ষম মানুষগুলোকে অকর্মণ্য করে দেয়ার মধ্যে কোনো ভালো কিছু খুঁজে বেড়ানো বুদ্ধির পরিচায়ক নয় নিশ্চয়ই। অলস মস্তিষ্ক যেমন শয়তানের কারখানা, তেমনি কর্মহীন মানুষগুলো সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে, যা এই পৃথিবীকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে- এটি কারও কাম্য হতে পারে না।

তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অযাচিত প্রসার রোধকল্পে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পৃথিবীর বিবেকবান গবেষক, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী, সর্বোপরি বিশ্ব নেতৃবর্গকে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে।

ড. মো. আবুবকর সিদ্দিক : ব্যাংকার ও গবেষক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×