Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটির যথেচ্ছ ব্যবহার পীড়াদায়ক

Advertisement

Icon

একেএম শামসুদ্দিন

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটির যথেচ্ছ ব্যবহার পীড়াদায়ক

Advertisement

গত দশ বছরে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি যে কতভাবে এবং কত ভঙ্গিমায় ব্যবহৃত হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। এ শব্দটি যত না ভালো উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে মতলববাজদের মতলব হাসিলের কাজে। এমন বহুবিদ ব্যবহার দেখে আমাদের মন খারাপ হলেও এর থেকে উদ্ধারের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সবার মনে হয়তো একটি ভয় কাজ করে, তা হল এ নিয়ে যদি কেউ বাড়াবাড়ি করে, তাহলে হয়তো তার নামের পাশে ‘রাজাকার’ তকমাটাই না লেগে যায়। মতের অমিল হলে আজকাল গণহারে যেভাবে মানুষদের রাজাকার-শিবির বানিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাতে নিজ থেকে যে কেউ এগিয়ে যাবে, সে সুযোগও কোথায়? মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধাদেরই যেভাবে রাজাকার বানিয়ে দিচ্ছে, সেখানে আমাদের সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়? ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের,’ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,’ ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ ইত্যাদি শব্দমালা যতই আবেগময় হোক না কেন, এ সবের যথেচ্ছ ব্যবহার, মানুষের মনের ভেতরের আবেদনকেই ম্লান করে দিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে সংগঠনের নাম লেখার হিড়িকের সর্বশেষ সংযোজন ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।’ এ সংগঠনের সদস্যরা এরই মধ্যে তাদের কৃতকর্মের মাধ্যমে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কৃতিত্ব দেখিয়েছে। সম্প্রতি ডাকসুর ভিপি নূরুল হক ও তার সঙ্গীদের বেধড়ক পিটিয়ে ওরা এরই মধ্যে আরও একটি সাফল্যের পালক অর্জন করে নিয়েছে। পাঠক একটু লক্ষ করলেই বুঝতে পারবেন, ক্ষমতাবলয়ের আশপাশের সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের ভেতরই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটির ব্যবহারের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

এক সময় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র কথা শোনা যেত যত্রতত্র। এখন অবশ্য কম শোনা যায়। কথায় কথায় এ শব্দযুগল উচ্চারণ করেন পরিচিত এমন অনেকের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল স্পিরিট সম্পর্কে জানতে চেয়ে হতাশই হয়েছি। আবার অনেকেই আছেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে ব্যাখ্যা দেয়া আছে, তা হুবহু মুখস্থ বলে দিতে পারেন (আমার এক আত্মীয়)। তবে বছর ঘুরতে না ঘুরতে শুনি, দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে আমার সেই আত্মীয়টি তার গ্রামের বাড়ির এক গরিব মুক্তিযোদ্ধা কৃষককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়ে সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে তিনি এলাকবাসীর রোষানলে পড়ে সাহায্যের জন্য এসেছিলেন, না করে দিয়েছি।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টি আমাদের একটি আবেগের জায়গা। এ দেশের এমন কোনো পরিবার নেই যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হয়েছে। কেউ সরাসরি আবার কেউ বা পরোক্ষভাবে। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ এলে আমরা বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। চোখের সামনে যখন দেখি, একশ্রেণির মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে, তখন মর্মাহত হই বৈকি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ফারুক-রশীদের গড়া ফ্রিডম পার্টির মতো, অথবা তারও আগে, ষাটের দশকে মোনায়েম খানের শাসনামলে পাঁচপাত্তুর স্টাইলে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামধারীরা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র অঙ্গসংগঠনের প্রচ্ছায়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি যে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাতে মানুষ শুধু বিরক্তই হয়নি বরং আশঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ আশঙ্কা আরও বেড়ে যায় যখন শুনি এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের অধিকারী ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বর্তমান নেতারা এসব সন্ত্রাসীর পক্ষে সাফাই গান।

ডাকসু ভবনে ঢুকে ডাকসুর ভিপিসহ তার সঙ্গীদের যে বেধড়ক মারধর করা হয়, ভিডিওর মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ ন্যক্কারজনক ঘটনাটি যারাই ঘটিয়ে থাকুক না কেন, ঘটনার প্রমাণ যেন না থাকে সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানীর প্রত্যক্ষ মদদ ও হস্তক্ষেপে ডাকসু ভবনের সিসিটিভির ফুটেজ গায়েব করে দেয়া হয়েছে। চেহারা যাতে না চেনা যায় সে জন্য সন্ত্রাসীরা ডাকসু ভবনের বাতি নিভিয়ে মারধর করে। এসব সন্ত্রাসীর এ রকম স্মার্ট কর্মকাণ্ড দেখে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা নিজেদের চেহারা লুকানোর জন্য হেলমেট পরে শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল, সে কথা মনে পড়ে যায়। শোনা যায়, ডাকসু ভবনে দু’পর্বে মারধরের ঘটনা ঘটে। প্রথম পর্বে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ অংশগ্রহণ করলেও শেষ পর্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা যোগ দেয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর তিনটি মামলা হয়। মারামারিতে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কর্মীদের বিরুদ্ধে আহত ভিপি নূর একটি মামলা করেন। অপরদিকে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ডিএম সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে ভিপি নূরদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে তৃতীয় মামলাটি দেয়। এখানে কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা হল, ভিপি নূরের দেয়া অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। এটি জিডি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ডাকসু ভবনে ভিপি নূর ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় একই পক্ষের একাধিক মামলা নেয়ার নিয়ম নেই। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাব্বিরের মামলাটি আদালতে পাঠালে আদালত যথারীতি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে দেন। পুলিশের দায়েরকৃত এ মামলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ হামলায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগের কর্মীদের মামলার অভিযোগ থেকে বাদ দিয়ে শুধু মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ, এই জঘন্য ঘটনায় ছাত্রলীগের কর্মীদের আড়াল করার জন্য পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবেই স্বপ্রণোদিত হয়ে এ মামলাটি করেছে এবং মামলায় ছাত্রলীগের কারও নাম উল্লেখ করেনি। অথচ নূরের করা মামলার অভিযোগে মারামারিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগের নেতাদের নাম ছিল। যেহেতু নূরের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি, কাজেই ছাত্রলীগের সদস্যদের নাম মামলার কোথাও রইল না। মন্দ লোকেরা অবশ্য বলেন, নিজ থেকে নয়, শীর্ষ পর্যায় থেকে আদিষ্ট হয়েই পুলিশ এ মামলাটি সাজিয়েছে।

নূর ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা থেকে শুরু করে বর্তমান ছাত্রনেতারা বিভিন্ন মিডিয়ায় নানা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এসব নেতা যে যার মতো করে তাদের মতামত তুলে ধরছেন। ঘটনার পর ডাকসুর ভিপি নূরের কিছু কিছু বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা সমালোচনায় মুখর হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দু’জন শীর্ষ নেতার বক্তব্য আমার দৃষ্টি কেড়েছে। তারা হলেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ। মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্য নিয়ে পরে আলোচনা করছি। প্রথমে আসি তোফায়েল আহমেদের বক্তব্য নিয়ে। তোফায়েল আহমেদ এ ঘটনা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন সেই মন্তব্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে তোফায়েল আহমেদ এ দেশের জন্য যে অবদান রেখেছেন তার জন্য আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করি। তিনি ডাকসুর ভিপিও ছিলেন। ‘৬৯-এর সেই উত্তাল দিনগুলোয় বহুবার পল্টন ময়দানে তাকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অগ্নিঝরা বক্তৃতা দিতে দেখেছি। পল্টন ময়দানের পাশে আরামবাগে আমাদের বাসা। পল্টন ময়দান খুব বেশি দূরে নয় বলে ওই ছোট বয়সেও তখন ছুটে যেতাম পল্টনের জনসভাগুলোয়। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মনির বাড়িও ছিল আরামবাগে।

আমার ভগ্নিপতির এক ভাই সে সময় তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে ছাত্রলীগ করেন। তার নাম আবুল কাশেম। আমরা তাকে কাশেম ভাই বলে ডাকি। কাশেম ভাইদের বাসাও আরামবাগে। তিনি অবশ্য অনেকদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন। নটর ডেম কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে আরামবাগের প্রবেশমুখেই একটি রেস্টুরেন্ট আছে। রেস্টুরেন্টটির তখন নাম ছিল মেট্রোপলিটন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। এটির মালিকের বাড়ি নোয়াখালী হওয়ায় হোটেলটি নোয়াখালীর হোটেল নামে অধিক পরিচিত ছিল। ’৬৯-এর গণআন্দোলনের সময় কাশেম ভাইয়ের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ ও অন্য অনেক ছাত্রলীগ নেতাকে অনেকবার এ রেস্টুরেন্টে রাজনৈতিক আড্ডা দিতে দেখেছি। বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করা, ৬ দফা, ১১ দফা ইত্যাদি আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো তাদের। ওই কম বয়সে বেশি কিছু না বুঝলেও সে আলোচনায় যে একটি উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হতো সেটি অনুভব করতাম ভালোভাবে। তাদের আলোচনা শুনে মনে হতো, বাংলাদেশ তখনই স্বাধীন হল বলে! তোফায়েল আহমেদ একজন প্রাজ্ঞ ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ। বর্ষীয়ান এ নেতা ভিপি নূরুল হক সম্পর্কে বলেছেন, ‘ভিপি নূরুল হক নূরের অতিমাত্রায় রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়। তিনি নূরকে পরামর্শ দেন, তার আরও সতর্ক হয়ে কথা বলা উচিত।’ তার এ মন্তব্য নিয়েই তরুণ সমাজের এক অংশ বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। টিভি টকশোতেও আলোচনা হচ্ছে বিস্তর। ডাকসুর ভিপি থাকাকালীন তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নূরকে এমন পরামর্শ দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন অনেকে। তোফায়েল আহমেদের একজন অনুগামী হয়ে তার এমন মন্তব্যে আমিও কম অবাক হইনি! তবে ডাকসু ভবনে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ দুর্ভাগ্য এ ধরনের ঘটনা ঘটে। আমি দুঃখিত, বিব্রত এবং লজ্জিত। আমার এ প্রসঙ্গে বলার কিছুই নেই।’ তার বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, ছাত্ররাজনীতি, বিশেষ করে ছাত্রলীগের বর্তমান অবনতিশীল কর্মকাণ্ডে মর্মাহত হলেও রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে অনেক কথা বলতে চাইলেও তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না।

১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম নূরের ওপর হামলার ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। তাই বলে ডাকসুর ভিপির ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। মুক্তিযুদ্ধের নামে সংগঠন করে হামলা করবেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়ার নয়।’ তিনি নূরের ওপর হামলাকারীদের যাতে কোনো ছাড় দেয়া না হয় সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। এখানে নাসিমের বক্তব্যে এ হামলাকারী বলতে শুধু মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামধারী সন্ত্রাসীদেরই বোঝানো হয়নি। দ্বিতীয় পর্বে হামলায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী অংশ নিয়েছিল, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথাও বোঝানো হয়েছে। দেরিতে হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘চেষ্টা অব্যাহত আছে। ভিডিও ফুটেজ আসুক তারপর সব খতিয়ে দেখা হবে।’ ভালো খবর এই যে, তার এ বক্তব্য ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার সম্ভাবনাকে অন্তত জাগিয়ে রাখল বলে মনে হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক কৌশলের জন্য তোফায়েল আহমেদ এবং মোহাম্মদ নাসিমের মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা সরাসরি না বললেও তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সম্পর্কে যে ইঙ্গিতটি তারা দিয়েছেন, আশাকরি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই মূল সুরটি অনুধাবন করতে পেরেছেন।

সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বক্তব্য শুনে আমি হতাশ হয়েছি। তিনি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা বললেও ভিডিও ফুটেজ গায়েবকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কিনা, সে কথা বলেননি। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিও ফুটেজ গায়েবের সঙ্গে অনেকের নাম শোনা গেলেও এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কী, তা জানা যায়নি। ফুটেজ গায়েবকারীদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। এমনটি ভাবার যথেষ্ট যুক্তিও আছে। কারণ একদিকে কথায় কথায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কোটা আন্দোলনের সময় ভিসির বাসার সিসিটিভির ফুটেজ গায়েবের প্রসঙ্গ টেনে এনে নূর ও তার অনুসারীদের দোষারোপ করেন, অপরদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই সিসিটিভির ফুটেজ গায়েবকারীদের কোনো তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে কিনা এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা, তা আজও দেশের মানুষ জানতে পারেনি।

একেএম শামসুদ্দিন : সাবেক সেনা কর্মকর্তা

Advertisement

মুক্তিযুদ্ধ

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম