সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে অগ্রাধিকার পাক ভোক্তা অধিকার

  এস এম না জে র হো সা ই ন ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভোক্তা অধিকার

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে জোরেশোরে প্রস্তুতি চলছে। প্রার্থীদের ঘুম হারাম। নগরীর অলিগলিতে ভোটারদের দরজায় দরজায় ভোট প্রার্থনা চলছে। ১ ফেব্রুয়ারি এ দুই সিটির বহুকাক্সিক্ষত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রার্থীরা জনগণের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি প্রদান করছেন।

আশা করছি, সম্মানিত প্রার্থী ও তাদের নীতিনির্ধারকরা সাধারণ জনগণের ভোক্তা অধিকার, হয়রানি ও মনোবেদনার কথাগুলো শুনবেন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে তা গুরুত্ব পাবে, এ প্রত্যাশা করি। ‘ভোক্তা’ শব্দের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। ভোক্তার ইংরেজি শব্দ কনজুমার যার অর্থ ভোগকারী।

অর্থাৎ কেউ কোনো পণ্য, খাদ্য, পানীয় দ্রব্য বা সেবা প্রদানকারীর সেবা গ্রহণকারী অর্থাৎ যারা ভোগ করে তাদেরকে ভোক্তা বলে। দেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ২০০৯-এর আওতায় ভোক্তা হলেন ‘তিনিই যিনি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ব্যতীত, সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করে বা সম্পূর্ণ বাকিতে পণ্য বা সেবা ক্রয় করেন, অথবা কিস্তিতে পণ্য বা সেবা ক্রয় করেন।’

দেশের ১৭ কোটি মানুষই ভোক্তা। দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সমস্যা তাদের ব্যতিব্যস্ত করে তুলছে। বিশেষ করে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, গণপরিবহন, নিরাপদ খাদ্য, সুস্থ পরিবেশে বসবাস ও জীবনযাপন করার অধিকার। এ অধিকার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করতে পারছে না।

ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য ও পানীয় : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনগুলো খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে সেভাবে সক্রিয় হতে পারেনি। সিটি কর্পোরেশন আইনে নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ খাদ্য ও পানীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে পুরো নগরই যেন ভেজালের স্বর্গরাজ্য। সিটি কর্পোরেশনের যেভাবে নজরদারি করা দরকার ছিল, তা পুরোপুরি অনুপস্থিত।

ফরমালিন, কার্বাইড, কাপড়ের রং, সিসা, ক্রোমিয়াম, মনো সোডিয়াম গ্লুটামেটসহ নানা বিপজ্জনক বিষ মিশে আছে আমাদের খাবারে। খাদ্য উৎস থেকে বিপণন, গুদামজাতকরণ, কী পরিবেশন- সব স্তরে নজরদারি বজায় রাখতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

ভোগ্যপণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা : নগরজীবনে একটি বড় সমস্যা হল নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, মজুতদারি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে থাকেন। সিটি কর্পোরেশন এখানে একবারেই নীবর। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বাজারের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বাজারগুলোতে নজরদারির পরিমাণ খুবই নগণ্য।

সিটি কর্পোরেশনগুলোর ধারণা, বাজার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ। সে কারণে বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের তদারকি করতে তারা আগ্রহী নয়; যার কারণে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। তাই বাজারগুলোতে নিয়মিতভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর মনিটরিং, মূল্য তালিকা টাঙানো নিশ্চিতবরণ, বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিটি কর্পোরেশনগুলো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : জনঅংশগ্রহণমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের সিটি কর্পোরেশনগুলো পিছিয়ে আছে। যদিও এটি তাদের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু এটি যথাযথভাবে হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। কারণ পুরো নগরকে অনেক সময় মনে হয় ডাস্টবিনের মতো। সকালে রাস্তার পাশের ডাস্টবিনগুলোর ময়লা পরিষ্কারের বিধান থাকলেও অনেক সময় দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যাও হয়ে যায়। আর ময়লার গন্ধে রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে যায়।

পরিচ্ছন্নকর্মীরা নালা থেকে বর্জ্যগুলো তুলে রাস্তায় স্তূপ করে রাখে চলে যায়। আরেকটি পক্ষ এসে এগুলো অপসারণ করতে অনেক সময় নিয়ে থাকে। ফলে ময়লাগুলো যেখান থেকে উত্তোলন করা হয়, সেখানেই আবারও চলে যায়। মহল্লাভিত্তিক বর্জ্য পরিষ্কারের প্রক্রিয়াটি অনেকটাই ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করে এখান থেকে নগরবাসীর সেবায় সে সম্পদকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

আন্তঃসংস্থা সমন্বয় : নগর পরিকল্পনাবিদদের মতো, নগরীতে ৫২টি সংস্থা বিভিন্ন সেবা প্রদান করে থাকে। কিন্তু সেবাপ্রদানকারী এসব সংস্থার মাঝে কার্যকর আন্তঃসমন্বয় না থাকায় একেকটি সংস্থার একেকবার রাস্তা খোঁড়াখুড়ির কারণে ধুলাবালির যন্ত্রণায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সিটি কর্পোরেশন রাস্তার উন্নয়ন করবে; কিন্তু সেটি যেন বছরের পর বছর ধুলাবালির কারণ না হয়।

জলাবদ্ধতা ও পয়ঃনিষ্কাশন : জলাবদ্ধতা সিটি কর্পোরেশনগুলোর একটি বৃহৎ সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নালা-নর্দমাগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করা ও এগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। নালার ওপর দোকান, অবৈধ স্থাপনা, নালা-নর্দামগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করার কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করে। আবার নগরীতে বাড়িঘর তৈরিতে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ না রেখে বাড়ি তৈরি অনুমোদনও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

যানজট ও নিরাপদ সড়ক : যানজট সমস্যার কারণে ঢাকা বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে অচল নগরীগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। নিরাপদ সড়ক মানে কেবল দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক নয়, এখানে নারীসহ সবার যাতায়াত নির্বিঘ্ন হতে হবে। ঢাকা নগরীতে যানজট এখন মানবসৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। যার কারণে সাধারণ নাগরিকদের কোটি কোটি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যদি নগরে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হয় তাহলে মানুষ নিজস্ব পরিবহন বাদ দিয়ে গণপরিবহনে ভ্রমণে আগ্রহী হবে।

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ : নগরজীবনে বাড়ি ভাড়া মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা নির্বাহে একটি বড় সমস্যা। সরকার বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ করলেও অদ্যাবধি আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি এ আইনের বিধিমালাও প্রণীত হয়নি।

আইনটি কোন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে, তারও কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকের মধ্যে কোনো জটিলতা হলে সালিশ করতে পারে, এলাকা অনুযায়ী বাড়ি ভাড়ার একটি তালিকা তৈরি করে দিতে পারে। আবার সীমিত আয়ের ভাড়াটিয়াদের দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির ভিত্তিতে আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারে।

হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ : সিটি কর্পোরেশনগুলোর বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযোগ- হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে নৈরাজ্য। সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বাড়ি, দোকান ও স্থাপনার মালিকদের বিশাল অঙ্কের হোল্ডিং ট্যাক্সের নোটিশ দিয়ে পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে আপসরফার প্রস্তাব দেয়; যার কারণে সিটি কর্পোরেশনের কাছে ট্যাক্সের টাকা না গিয়ে এর সিংগভাগই রাজস্ব বিভাগের কিছু কর্মকর্তার পকেটে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নগরীর সব বাড়ি, স্থাপনার তালিকা হালনাগাদ ও ডাটাবেস করা, ভোগান্তি নিরসনে ত্রিপাক্ষিক গণশুনানির আয়োজন করা যেতে পারে।

সচল ফুটপাত ও ওয়াকওয়ে : পৃথিবীর সবক’টি নগরীতে যথেষ্ট হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে থাকলেও বাংলাদেশে এর বিপরীত। সকাল-বিকাল বা প্রয়োজনে নাগরিকরা যদি হাঁটতে পারে তাহলে ডায়াবেটিসসহ নানা রোগমুক্তি সহজ হতো। সিটি কর্পোরেশন রাস্তা সংস্কার করার পরপরই হকারদের দখলে চলে যায়। যদি কোনো অংশ খালি থাকে তাহলে সেটি রিকশা, ট্যাক্সির স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা দোকান দিয়ে দখল হয়ে থাকে।

রাস্তা বা মার্কেটগুলোর সামনে এভাবে হকারদের বসিয়ে পুরো নগরীর সৌন্দর্য বিঘ্নিত করা হচ্ছে। মেয়র ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য হকারদের উচ্ছেদ, রিকশা বা গ্যারেজ উচ্ছেদে আগ্রহী নয়। আর এ সুযোগে একটি মহল দৈনিক চাঁদা আদায়ের বিশাল ফাঁদ তৈরি করে থাকে। ফুটপাত ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের টাকা উপার্জনের অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে; যা নগরীর সুস্থ, সুন্দর পরিবেশকে বিনষ্ট করলেও কেউ এ ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ করছে না।

ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ : গতবছর ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ঢাকাসহ পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। কত পরিবার তাদের প্রিয়জনহারা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবু কমেনি আশঙ্কা, তবু তৎপর হয়নি সমন্বিত নির্মূল ব্যবস্থাপনা। ডেঙ্গু ও মশা নিধনে পুরো বছরব্যাপী সমন্বিত পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। মশার উৎপত্তিস্থল ও পরিবেশ বিনষ্ট করতে হবে।

নদী, জলাভূমি, মাঠ ও উন্মুক্তস্থান সংরক্ষণ : ঢাকার প্রাণ হিসেবে পরিচিত ১৯ খাল ছিল, যা এখন মুমূর্ষু লাশ। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী, বংশী নদীর ধারায় গড়ে ওঠা এ নগরে এখন নদীর গন্ধ নেই। ঢাকাকে রক্ষা করতে হলে ঢাকার চারধারের নদীগুলো সুরক্ষায় সাহসী ও অগ্রণী হতে হবে। এখানে নতুন প্রজন্মের জন্য খেলা ও বিনোদনের মাঠ ও নানামুখী সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য উন্মুক্ত স্থান একেবারেই নেই। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে পর্যাপ্ত জলাভূমি, খাল, লেক, মাঠ ও উন্মুক্ত প্রান্তরগুলোকে ‘পাবলিক প্লেস’ হিসেবে সুরক্ষা করতে হবে।

বায়ু ও শব্দদূষণ রোধ : বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর এক নম্বর ঢাকা। শব্দদূষণেও কাহিল এ নগর। বায়ু ও শব্দদূষণের সব উৎস বন্ধে কঠোর আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যথাযথ পরিবেশ বিধিবিধান মেনে না চলা, ইটভাটা এবং শিল্প-কলকারখানার কালোধোঁয়ায় কারণে বায়ুদূষিত হচ্ছে। যত্রতত্র গাড়ির হর্ন ও অযথা কোলাহল ও নৈরাজ্যকারী শব্দদূষণ কঠোরভাবে থামাতে হবে।

পলিথিন ও প্লাস্টিকমুক্ত নগর : ঢাকার জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ পলিথিন ও প্লাস্টিক। পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে নজর দেয়া না হলে এ থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়। যত্রতত্র এ ধরনের কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ যেমন জরুরি, তেমনি জনসাধারণকে প্লাস্টিক ব্যবহারের অপকারিতা সম্পর্কে ব্যাপকভাবে সচেতন করতে হবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক ও পলিথিনের বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

এসএম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

[email protected]

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৬১২৬
বিশ্ব ১০,৩০,৩২৪২,১৯,৮৯৬৫৪,২০৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×