ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও নবাব সলিমুল্লাহ

  ড. এসএম মোস্তাফিজুর রহমান ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতিষ্ঠার শতবর্ষে পা দিল। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ।

কেন যেন আজকাল আমরা অনেকের কৃতিত্বই ভুলে যেতে চাইছি। ৭ জুন নবাব সলিমুল্লাহর ১৪৯তম জন্মদিন চলে গেল। আমাদের মিডিয়ায় নবাব সলিমুল্লাহ অনেকটা আড়ালেই যেন রয়ে গেলেন। বিষয়টি আমাকে পীড়া দিয়েছে বলেই এ লেখাটির অবতারণা।

শিক্ষা, সমাজ, জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক চিন্তা ও কর্ম ছিল নবাব সলিমুল্লাহর জীবনের অপরিহার্য অংশ। তার পৃষ্ঠপোষকতার ফলে উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে বিশ শতকের প্রায় দেড় দশক পর্যন্ত শাহবাগের নওয়াব বাড়ি শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মস্থলই নয়, নাটক, সঙ্গীত, চিত্রকলা, ক্রীড়া তথা দেশের প্রধান সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।

শিক্ষান্নোতির জন্যই তিনি নিজ তহবিল থেকে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে শিক্ষা-সমিতি ও রাজনৈতিক সভা-সমিতির আয়োজন করেন। জাতির উন্নতির জন্য তাকে গভর্নমেন্ট থেকে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ধার নিতে হয়েছিল। সলিমুল্লাহ ছিলেন পূর্ববঙ্গের সমাজ-প্রাণ এবং বদান্যতার গুণে গুণান্বিত। তাই তিনি নিজ তহবিল উজাড় করে দান করতে পেরেছিলেন। মুসলিম শিক্ষার্থীদের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিরত থাকার অন্যতম একটি কারণ ছিল- মুসলিম শিক্ষক ও মুসলিম পরিদর্শকের অভাব- এ কারণটিও সলিমুল্লাহ ভালোভাবে উপলব্ধি করেন। এজন্যই তিনি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় অধিক সংখ্যক মুসলিম শিক্ষক ও মুসলিম পরিদর্শক নিয়োগের দাবি জানান। এক্ষেত্রে নবাব সলিমুল্লাহ খান বাহাদুর আহছান উল্লাহকে (১৮৭৩-১৯৬৫, আহছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা) শিক্ষকতা পেশা থেকে ফিরিয়ে এনে শিক্ষা বিভাগের পরিদর্শক হিসেবে সরকারি চাকরির জন্য উৎসাহ প্রদান ও সহযোগিতা করেছিলেন।

মুসলিম শিক্ষার প্রতি সলিমুল্লাহর বিশেষ আগ্রহ ছিল। স্বল্পকালের মধ্যেই তার উৎসাহে ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী ইত্যাদি শহরে মুসলিম ছাত্রদের জন্য ‘ফুলার হোস্টেল’ স্থাপিত হয়। আলীগড় কলেজ-বোর্ডিং হাউসের নমুনায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজের পাশে একটি ‘মোহামেডান হল’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছিল অন্যতম।

এ প্রস্তাবিত হল বা হোস্টেলের জন্য নবাব সলিমুল্লাহ ও নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী যথাক্রমে ১,৮৬,৯০০ টাকা ও ৩৫,১৫০ টাকা দানের কথা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করেন। ১৯১১ সালের ১৫ মার্চ বুধবার ও ১৭ মার্চ শুক্রবার নবাব সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে ঢাকায় তার বাসভবন আহসান মঞ্জিলে ‘প্রাদেশিক মুসলিম লীগ’-এর এক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনে স্থির হয় যে, প্রাদেশিক মুসলমান সমিতির কর্তব্য হবে প্রদেশের শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণমূলক কর্মতৎপরতা জোরদার করা। এ অধিবেশনে নবাব সলিমুল্লাহ মুসলমান সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য একটি মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং মৌলবী আযীয মির্যা বিষয়টির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করেন। অতঃপর আলীগড়ে একটি মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহের জন্য নবাব সলিমুল্লাহকে সভাপতি এবং রেভিনিউ বোর্ডের জুনিয়র সেক্রেটারি মুহীবুদ্দীন আহমদকে সেক্রেটারি করে একটি কমিটি গঠিত হয়। নবাব ইতোপূর্বে ‘মুসলিম ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশন’ কমিটির অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

বঙ্গভঙ্গ রদ এবং নবগঠিত পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ বাতিলের ফলে এ অঞ্চলের মুসলমান জনসাধারণের মধ্যে যে হতাশা নেমে আসে, তাতে প্রলেপদানের জন্য ক্ষতিপূরণস্বরূপ ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়। বলা চলে বঙ্গভঙ্গ রদ না হলে যেমন পরিণতিতে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন অপরিহার্য ছিল, তেমনি আবার বঙ্গভঙ্গ রদের পরেও সে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন অনিবার্য হয়ে পড়ে।

সুতরাং বলা যায়, প্রথমত বঙ্গভঙ্গ এবং তা রদের ফলেই ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। এ কথাও বলা যায়, বঙ্গভঙ্গ না হলে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হতো না। বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ‘বঙ্গভঙ্গ রদ’ পরবর্তী পর্যায়ে মুসলমান ঘনবসতিপূর্ণ পূর্ববঙ্গের মানুষের মধ্যে যে কয়েকটি দাবি জনপ্রিয়তা পায়, ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছিল এর মধ্যে অন্যতম।

বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সম্মেলন সাড়া জাগায়। পূর্ববঙ্গে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আওয়াজ তোলেন সর্বপ্রথম ‘মোহামেডান এডুকেশন্যাল কনফারেন্স’-এর অনারারি জয়েন্ট সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাহেবজাদা আফতাব আহমদ খাঁ। ১৯০৬ সালে ঢাকায় আয়োজিত সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মুসলিমপ্রধান পূর্ব বাংলার উচ্চশিক্ষার জন্য আমার প্রথম প্রস্তাব হল- এ প্রদেশে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।’

লর্ড হার্ডিঞ্জ ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন। ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ প্রতিনিধি দলে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী এবং একে ফজলুল হকও ছিলেন।

তারা মানপত্রে উল্লেখ করেন, হিন্দুদের তুলনায় মুসলমানরা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্বারা উপকৃত হয়নি বললেই চলে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে তাদের শিক্ষান্নোতির ধারাবাহিকতা হয়তো বিঘ্নিত হবে।

মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালো দাবি উত্থাপন করেন বলে মুহাম্মদ আবদুর রহীম উল্লেখ করেন।

সুফিয়া আহমদ বলেন, নবাব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে আহমদ হাসান দানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি ছিল খুব সম্ভবত গভর্নমেন্ট প্রণোদিত।

মুসলিম নেতারা লর্ড হার্ডিঞ্জকে পূর্ব বাংলার শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত না করার আবেদন জানান এবং ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুরোধ করেন।

তখন লর্ড হার্ডিঞ্জ বুঝতে পারেন যে, বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ায় মুসলমানদের খুব ক্ষতি হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষার মাধ্যমেই ভারতের মুসলমানরা তাদের উন্নতি করতে পারবে।

তিনি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেন, নতুন প্রশাসনে মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণ করা হবে এবং মুসলমানদের ক্ষতি পূরণের জন্য ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। অতঃপর ২ ফেব্রুয়ারি ১৯১২ সালে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। লর্ড হার্ডিঞ্জের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণাকে মুসলমানরা বঙ্গ বিভাগ প্রত্যাহারের ক্ষতিপূরণ মনে করে নয়, বরং উচ্চশিক্ষা লাভের সোপান বিবেচনা করেই স্বাগত জানান।

নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন পূর্ব বাংলার শিক্ষান্নোতির জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ঘোষিত হওয়ায় তিনি বঙ্গ বিভাগ রদজনিত নিরাশার অন্ধকারেও তার স্বপ্নে দেখা উজ্জ্বল পূর্ব বাংলার অনেকটা আভা দেখতে পান এবং সেই ঘোষণাকে স্বাগত জানান; কিন্তু হিন্দু বুদ্ধিজীবীদের তুমুল বিরোধিতায় তিনি খুবই ব্যথিত হন।

পূর্ববাংলা ও আসাম প্রাদেশিক মুসলমান শিক্ষা সমিতি এবং প্রাদেশিক মুসলিম লীগ, বিদায়ী ছোটলাট হেয়ারকে যে অভিনন্দনপত্র দেয়, তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। মুসলমান সমিতির উক্ত অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

শিক্ষাই মুসলমানদের মুক্তির একমাত্র পথ- এ বিবেচনায় গভর্নমেন্ট সর্বান্তকরণে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নবাব সলিমুল্লাহ ভারত সচিবের কাছে সুপারিশ করেন। তদনুসারে ১৯১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি কমিটির অধীনে ইউনিভার্সিটির পাঠ্যসূচি রচনার উদ্দেশ্যে ২৫টি সাব-কমিটি গঠিত হয়। ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ বিষয়ের সাব-কমিটির সঙ্গে নবাব সলিমুল্লাহ ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

১৯২১ সালের জুলাই মাসে যথারীতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা আরম্ভ হয়। নবাব সলিমুল্লাহ তার স্বপ্নে দেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেখে যেতে পারেননি। তার অবদানকে স্মরণীয় করার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এর প্রথম নির্মিত হলের নামকরণ করা হয় ‘সলিমুল্লাহ মুসলিম হল’।

নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ৭ জুন ১৮৭১ সালে ঢাকার বিখ্যাত খাজা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ৭ জুন ২০২০ সাল; প্রায় ১৪৯ বছর সময় অতিবাহিত হল। তার ১৫০তম জন্মদিনে ঢাকার সাভারে নওয়াব এস্টেটের জমিতে ‘নবাব সলিমুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার প্রস্তাব পেশ করছি।

পূর্ব বাংলার শিক্ষা বিস্তারে যিনি মেধা, ভূমি, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন; বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিদান একটি বড় অবদান হিসেবে ঢাবির শততম বর্ষপূর্তিতে তাকে মূল্যায়ন করার সময় এসেছে।

ঢাবির শতবর্ষ উদযাপনে নবাব সলিমুল্লাহর ওপর একটি বিশেষ সেশনের ব্যবস্থা করা। তার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি ‘গবেষণা কেন্দ্র’, ‘সলিমুল্লাহ অধ্যাপক’, ‘নবাব সলিমুল্লাহ চেয়ার’ প্রতিষ্ঠা করার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঢাবি কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।

নওয়াব পরিবারের সদস্যরা, নবাব সলিমুল্লাহর অনুরাগী তথা বাংলাদেশের জনসাধারণসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, সরকারের সব পর্যায়ের ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন বলে প্রত্যাশা করি।

ড. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান : খণ্ডকালীন শিক্ষক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

[email protected]

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত