ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণ ও প্রতিকার
jugantor
ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণ ও প্রতিকার

  একেএম সাইফুল ইসলাম  

২৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি বছর বর্ষার সময় আমরা দেখি ঢাকা ও অন্যান্য বড় নগরীতে জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা দেখা দেয়। এ বছর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নদী বন্যা, যেমনটি আমরা ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮ ও ২০০৭ সালে দেখেছিলাম। ঢাকার চারদিকের নদীগুলো উজানের বৃষ্টির পানি বহন করায় নদী বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানির সমতল যখন বাঁধের ভেতরের পানি সমতলের চেয়ে বেশি থাকে, তখন রেগুলেটর ও স্লুইস গেট বন্ধ করে পাম্প চালু করে বৃষ্টির পানি বের করতে হয়।

এ রকম সময় জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে, এখন যেমনটা দেখছি। কিন্তু কিভাবে আমরা এ রকম অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারি সেটা বুঝতে হলে এর প্রধান কারণগুলো জেনে নেয়া ভালো। যেসব কারণ ঢাকার জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যার জন্য দায়ী মনে করা হয় সেগুলোর প্রধান কয়েকটি উল্লেখ করা হল :

১. নগরীতে যতগুলো প্রাকৃতিক খাল আছে তার অনেকাংশ দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। ২. জলাশয় ও ডোবা বৃষ্টির পানির আধার হিসেবে কাজ করে থাকে। অবৈধভাবে অনেক জলাশয় ভরে সেখানে ঘরবাড়ি, আবাসন প্রকল্প, অফিস ভবন অথবা শপিংমল করা হয়েছে। ৩. ঢাকা অতিদ্রুত নগরায়ণের ফলে বৃষ্টির পানির সব অংশই নর্দমা ও প্রাকৃতিক খালের মধ্যে যাচ্ছে এবং মাটির নিচে তেমন পানির প্রবাহ যেতে পারছে না।

৪. কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ময়লা-আবর্জনায় নর্দমা ও প্রাকৃতিক খাল ভরাট হয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহের ক্ষমতা অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। ৫. ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্নয়হীনতা এ সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ৬. গ্রিন গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টির তীব্রতা ও বন্যার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনেক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে।

৭. নগর বন্যার কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা না থাকায় আগাম পরিকল্পনা, রেগুলেটর ও পাম্প পরিচালনায় সমন্নয়হীনতা দেখা দেয়। ৮. অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও কার্যকর পরিকল্পনার অভাবে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা দেখা দিচ্ছে। ৯. রেগুলেটর ও স্লুইস গেট নষ্ট হয়ে যাওয়া ও সঠিকভাবে পরিচলনা না করার কারণে ধীরগতিতে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। ১০. ঢাকার চারদিকের নদীগুলো ভরাট হওয়ার কারণে নদীর পানি ধীরগতিতে নামছে ও নগর বন্যার স্থায়িত্ব বাড়ছে।

এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কী করা যেতে পারে? ইতঃপূর্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সংস্থা গবেষণার মাধ্যমে বন্যা ও নগর বন্যার অনেক পরামর্শপত্র তৈরি করেছে। ঢাকা ওয়াসা ২০১৫ সালে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে, যার বাস্তবায়নের অগ্রগতি কিংবা সুফল নগরবাসীর চোখে পড়ছে না। সার্বিকভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা দূর করার জন্য করণীয় কী হতে পারে, তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেয়া হল।

১. ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান ২০১৫-এ মোট ৪৭টি খালের কথা উল্লেখ আছে। এ খালগুলো উদ্ধার করতে হবে এবং এর সীমানা নির্ধারণ করা দরকার। ২. জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ অনুসারে গুরুত্বপূর্ণ শহর ও রাজধানী অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে বন্যামুক্ত করার কথা বলা হয়েছে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার সুপারিশ করা হয়েছে। ৩. ঢাকার পূর্বদিকের প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ফ্লাড কন্ট্রোল এম্ব্যাঙ্কমেন্ট-কাম-ইস্টার্ন-বাইপাস রোড মাল্টিপারপাস’ প্রকল্পটি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তবে প্রকল্পটি পরিবেশের সঙ্গে সহনীয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিমুক্ত হওয়া দরকার।

৪. প্রাকৃতিক খাল, জলাশয় ও ডোবার সীমানা নির্ধারণ ও সংরক্ষণ করা একান্ত প্রয়োজন। বক্স কালভার্টের পরিবর্তে প্রাকৃতিক খালের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ৫. কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ময়লা-আবর্জনা যাতে নর্দমা ও প্রাকৃতিক খালে ভরাট হতে না পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। ৬. বর্ষা মৌসুমের আগেই নর্দমা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। নর্দমা নির্মাণ, মেরামত ও খননের কাজ শুকনো মৌসুমের মধ্যেই করা জরুরি। ৭. ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের হাতে নর্দমা, প্রাকৃতিক খাল, স্লুইস গেট, বাঁধ, রেগুলেটর ও পাম্প হাউসের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ করা দরকার।

৮. ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে ড্রেনেজ সার্কেল স্থাপন করা জরুরি। সেখানে নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার ৫ বছর অন্তর অন্তর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ৯. আবহাওয়া অধিদফতরের সহায়তায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে একটি নগর বন্যার কার্যকর আগাম সতর্কতা মডেলিং সেল খোলা দরকার। ১০. নগর বন্যার আগাম সতর্কতা অনুসারে স্লুইস গেট, রেগুলেটর ও পাম্প চালু ও বন্ধ করার ব্যবস্থা করা দরকার। ১১. রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের মাধ্যমে বাড়ির ছাদের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও তা মাটির নিচে প্রবাহ করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ১২. প্লাস্টিক ব্যাগ ও সিঙ্গেল ব্যবহারের প্লাস্টিক অবশ্যই জরুরিভিত্তিতে নিষিদ্ধ করতে হবে।

১৩. ঢাকার চারদিকের নদী ইন্টেলিজেন্ট ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খনন করা ও নাব্যতা বৃদ্ধি জরুরি। ১৪. নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো, যাতে ময়লা-আবর্জনা নর্দমা ও প্রাকৃতিক খালে না ফেলা হয়। বাড়ি তৈরির বালু, ইট, পাথর ও খোয়া অবশ্যই ঢেকে রাখা দরকার। ১৫. জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি করা প্রয়োজন।

নগরীর জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। অন্যথায় আমাদের অল্প বৃষ্টিতেই নগর বন্যার কবলে প্রতিনিয়ত পড়তে হবে, যা নগরবাসীর কাম্য নয়।

একেএম সাইফুল ইসলাম : অধ্যাপক, পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউট, বুয়েট

ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণ ও প্রতিকার

 একেএম সাইফুল ইসলাম 
২৫ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি বছর বর্ষার সময় আমরা দেখি ঢাকা ও অন্যান্য বড় নগরীতে জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা দেখা দেয়। এ বছর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নদী বন্যা, যেমনটি আমরা ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮ ও ২০০৭ সালে দেখেছিলাম। ঢাকার চারদিকের নদীগুলো উজানের বৃষ্টির পানি বহন করায় নদী বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানির সমতল যখন বাঁধের ভেতরের পানি সমতলের চেয়ে বেশি থাকে, তখন রেগুলেটর ও স্লুইস গেট বন্ধ করে পাম্প চালু করে বৃষ্টির পানি বের করতে হয়।

এ রকম সময় জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে, এখন যেমনটা দেখছি। কিন্তু কিভাবে আমরা এ রকম অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারি সেটা বুঝতে হলে এর প্রধান কারণগুলো জেনে নেয়া ভালো। যেসব কারণ ঢাকার জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যার জন্য দায়ী মনে করা হয় সেগুলোর প্রধান কয়েকটি উল্লেখ করা হল :

১. নগরীতে যতগুলো প্রাকৃতিক খাল আছে তার অনেকাংশ দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। ২. জলাশয় ও ডোবা বৃষ্টির পানির আধার হিসেবে কাজ করে থাকে। অবৈধভাবে অনেক জলাশয় ভরে সেখানে ঘরবাড়ি, আবাসন প্রকল্প, অফিস ভবন অথবা শপিংমল করা হয়েছে। ৩. ঢাকা অতিদ্রুত নগরায়ণের ফলে বৃষ্টির পানির সব অংশই নর্দমা ও প্রাকৃতিক খালের মধ্যে যাচ্ছে এবং মাটির নিচে তেমন পানির প্রবাহ যেতে পারছে না।

৪. কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ময়লা-আবর্জনায় নর্দমা ও প্রাকৃতিক খাল ভরাট হয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহের ক্ষমতা অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। ৫. ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্নয়হীনতা এ সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ৬. গ্রিন গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টির তীব্রতা ও বন্যার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনেক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে।

৭. নগর বন্যার কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা না থাকায় আগাম পরিকল্পনা, রেগুলেটর ও পাম্প পরিচালনায় সমন্নয়হীনতা দেখা দেয়। ৮. অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও কার্যকর পরিকল্পনার অভাবে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা দেখা দিচ্ছে। ৯. রেগুলেটর ও স্লুইস গেট নষ্ট হয়ে যাওয়া ও সঠিকভাবে পরিচলনা না করার কারণে ধীরগতিতে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। ১০. ঢাকার চারদিকের নদীগুলো ভরাট হওয়ার কারণে নদীর পানি ধীরগতিতে নামছে ও নগর বন্যার স্থায়িত্ব বাড়ছে।

এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কী করা যেতে পারে? ইতঃপূর্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সংস্থা গবেষণার মাধ্যমে বন্যা ও নগর বন্যার অনেক পরামর্শপত্র তৈরি করেছে। ঢাকা ওয়াসা ২০১৫ সালে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে, যার বাস্তবায়নের অগ্রগতি কিংবা সুফল নগরবাসীর চোখে পড়ছে না। সার্বিকভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা দূর করার জন্য করণীয় কী হতে পারে, তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেয়া হল।

১. ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান ২০১৫-এ মোট ৪৭টি খালের কথা উল্লেখ আছে। এ খালগুলো উদ্ধার করতে হবে এবং এর সীমানা নির্ধারণ করা দরকার। ২. জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ অনুসারে গুরুত্বপূর্ণ শহর ও রাজধানী অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে বন্যামুক্ত করার কথা বলা হয়েছে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার সুপারিশ করা হয়েছে। ৩. ঢাকার পূর্বদিকের প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ফ্লাড কন্ট্রোল এম্ব্যাঙ্কমেন্ট-কাম-ইস্টার্ন-বাইপাস রোড মাল্টিপারপাস’ প্রকল্পটি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তবে প্রকল্পটি পরিবেশের সঙ্গে সহনীয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিমুক্ত হওয়া দরকার।

৪. প্রাকৃতিক খাল, জলাশয় ও ডোবার সীমানা নির্ধারণ ও সংরক্ষণ করা একান্ত প্রয়োজন। বক্স কালভার্টের পরিবর্তে প্রাকৃতিক খালের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ৫. কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ময়লা-আবর্জনা যাতে নর্দমা ও প্রাকৃতিক খালে ভরাট হতে না পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। ৬. বর্ষা মৌসুমের আগেই নর্দমা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। নর্দমা নির্মাণ, মেরামত ও খননের কাজ শুকনো মৌসুমের মধ্যেই করা জরুরি। ৭. ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের হাতে নর্দমা, প্রাকৃতিক খাল, স্লুইস গেট, বাঁধ, রেগুলেটর ও পাম্প হাউসের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ করা দরকার।

৮. ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে ড্রেনেজ সার্কেল স্থাপন করা জরুরি। সেখানে নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার ৫ বছর অন্তর অন্তর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ৯. আবহাওয়া অধিদফতরের সহায়তায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে একটি নগর বন্যার কার্যকর আগাম সতর্কতা মডেলিং সেল খোলা দরকার। ১০. নগর বন্যার আগাম সতর্কতা অনুসারে স্লুইস গেট, রেগুলেটর ও পাম্প চালু ও বন্ধ করার ব্যবস্থা করা দরকার। ১১. রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের মাধ্যমে বাড়ির ছাদের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও তা মাটির নিচে প্রবাহ করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ১২. প্লাস্টিক ব্যাগ ও সিঙ্গেল ব্যবহারের প্লাস্টিক অবশ্যই জরুরিভিত্তিতে নিষিদ্ধ করতে হবে।

১৩. ঢাকার চারদিকের নদী ইন্টেলিজেন্ট ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খনন করা ও নাব্যতা বৃদ্ধি জরুরি। ১৪. নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো, যাতে ময়লা-আবর্জনা নর্দমা ও প্রাকৃতিক খালে না ফেলা হয়। বাড়ি তৈরির বালু, ইট, পাথর ও খোয়া অবশ্যই ঢেকে রাখা দরকার। ১৫. জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি করা প্রয়োজন।

নগরীর জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। অন্যথায় আমাদের অল্প বৃষ্টিতেই নগর বন্যার কবলে প্রতিনিয়ত পড়তে হবে, যা নগরবাসীর কাম্য নয়।

একেএম সাইফুল ইসলাম : অধ্যাপক, পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউট, বুয়েট

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন