বন্যা মোকাবেলার প্রস্তুতি থাকতে হবে
jugantor
বন্যা মোকাবেলার প্রস্তুতি থাকতে হবে

  ভাস্কর রাসা  

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যা প্রাকৃতিক বির্বতনের একটি প্রক্রিয়া। বাংলা সাহিত্যে বাংলাদেশ ভাটির দেশ। পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ অঞ্চল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পানির বিরাট অংশ বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গপোসাগরে গিয়ে পড়ে। এ বিশাল জলরাশি বয়ে নিয়ে আসে পলি মাটি। প্রতিবার কম-বেশি পলিমাটির প্রলেপ জমে জমিতে। বর্ষা ঋতু প্রতিবার আসে।

বন্যা প্রতি বছর হয় না, কয়েক বছর পরপর হঠাৎ হয়। মূলত আমাদের দেশে বন্যা হয় প্রতিবেশী দেশের পাহাড়ি পানির ঢল থেকে। বর্ষায় যে পরিমাণ জমি পানিতে ডুবে যায়, বন্যায় তার থেকে বহুগুণ বেশি জমি, ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। গত কয়েক দশক ধরে বন্যা হচ্ছে ঘনঘন।

এর কারণ হতে পারে নদীর স্বাভাবিক নাব্য হারানো এবং নদী শাসনের নামে বাঁধ, ড্যাম, কালভার্ট ইত্যাদি তৈরির ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব। বন্যায় গৃহস্থ কৃষক ও নিচু অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। আর বন্যা যদি এক বছরে একাধিকবার হয়, তাহলে গ্রামবাংলার মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

গবাদি সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়, ঘটে ফসলহানি। গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে নিচু অঞ্চলের মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নেয় বাঁধে, রাস্তায়, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে। তবে যে সংখ্যক মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়, সেই অনুপাতে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।

বন্যায় আক্রান্ত মানুষ পতিত হয় নানাবিধ সমস্যায়। এর মধ্যে দেখা দেয় খাদ্য সংকট (মানুষ ও গবাদিপশুর)। পানযোগ্য পানির অভাব হয় তীব্র, জলবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রার্দুভাব প্রকট আকার ধারণ করে। বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ দেখা যায়।

তবে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অসন্তুষ্টি বা নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ উঠে প্রায় প্রতিবার। এ ক্ষেত্রে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিতরণ পরিকল্পনা আরও সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাসমান গৃহ নির্মাণ করে বন্যা আক্রান্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করতে পারে সরকার- যেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকবে, থাকবে ল্যাট্রিন ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা বক্স, ভাসমান গৃহের চাল থেকে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির পানি পানযোগ্য পদ্ধতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা।

বন্যায় পশু খাদ্যের তীব্র অভাব দেখা দেয়, এ ক্ষেত্রেও কলার ভেলার মতো কৃত্রিম ভেলায় পশু খাদ্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে। বন্যার পর এসব কৃত্রিম গৃহ ও ভেলা ভাগ ভাগ করে খুলে মাচা বেঁধে সংরক্ষণ করতে পারে কৃষক।

বন্যার ভয়াবহতা প্রকট রূপ নেয় নদীভাঙনের মধ্য দিয়ে। সচ্ছল গৃহস্থ কৃষক নদীভাঙনের ফলে মুহূর্তের মধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এ রকম হাজার হাজার কৃষক ও গৃহস্থ পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। নদীভাঙনের অনেক কারণের একটি হল নদীর তলদেশে পলি জমে স্বাভাবিক নাব্য হারানো।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীর নাব্য স্বাভাবিক রাখার জন্য সারা বছর ড্রেজিং ব্যবস্থা থাকতে পারে। যেখানে যখন দরকার সেখানেই ড্রেজিং শুরু করতে হবে, তবেই নদীর নাব্য স্বাভাবিক থাকবে। আমি নৌপথে যাতায়াত করতে গিয়ে পদ্মা নদীতে দেখেছি নদী ড্রেজিং করে নদীতেই ড্রেজিংয়ের বালি ফেলা হচ্ছে।

ড্রেজিংয়ের বালি দিয়ে তো নদীর পাড় ভরাট করা যায় অনায়াসে। এভাবে কয়েক বছর নদীর পাড়ে ড্রেজিংয়ের পলি দিয়ে ভরাট করা হলে নদীভাঙনের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে। নৌপথ হল সভ্যতার যোগাযোগ ব্যবস্থার আঁতুড়ঘর। নৌপথে পরিবহনে ব্যয় তুলনামূলক কম, ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও কম।

প্রতিবারই বন্যার সময় পত্রিকার পাতায় দেখি অমুক স্থানের বাঁধ ভেঙে গেছে। এসব বাঁধ কি টেকসইভাবে করা হয় না? বর্ষার প্রধান ধান হচ্ছে আমন। এক সময় বহু জাতের আমন ধানের চাষ হতো বাংলাজুড়ে। বর্ষার পানিতে পাট ধোয়া হয় আদিকাল থেকে।

বাংলাদেশ বানভাসির দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। এ দুর্যোগ মোকাবেলা করে জনগণ হাজার হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে। বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়, আবার কিঞ্চিত লাভও হয়। জমির ক্ষেত্রে বিশাল প্লাবনের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিমাণ পলি জমিতে পড়ে উর্বর হয়।

সচরাচর দেখা যায় বন্যার পর ফসল ভালো হয়। বন্যার সময় অনেক বাঁধ, রাস্তা ভেঙে গেলে গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ওই স্থানগুলো মেরামতের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে বন্যা বা বর্ষার আগে স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ মিলে চিহ্নিত করতে পারে বন্যা হলে বাঁধ, সড়কের কোন কোন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সেজন্য কী কী ব্যবস্থা তৈরি রাখতে হবে। তখন বন্যার ক্ষতি মোকাবেলার আগাম প্রস্তুতি মাঠ পর্যায়ে থাকবে।

আমরা ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস করতে পারি সহজেই বর্ষা ও বন্যার পানি ধরে রেখে। এ ক্ষেত্রে নদী-খাল খনন করা, বিশাল জল সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা দরকার। রাজশাহীর পদ্মার বালি সরিয়ে রিজার্ভার তৈরি করা যেতে পারে। রাজশাহীর পদ্মার বালি রফতানি কিংবা নিঝুম দ্বীপের উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

অথবা এ বালি দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট বানানো যায় অনায়াসে। এর ফলে ইট বানানোর জন্য প্রতি বছর যে পরিমাণ মাটি ব্যবহৃত হয়, তা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। আবহাওয়ার উষ্ণায়ন ও ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক সম্পদ বেপরোয়াভাবে উত্তোলনের জন্যই প্রাকৃতিক বিপর্যয় হচ্ছে ঘনঘন। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, কখনও বা একই বছর ২-৩ বার হচ্ছে। বন্যা মোকাবেলায় এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী টেকসই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ সময়ের দাবি।

বন্যা-পরবর্তী সময়ে বন্যা আক্রান্ত এলাকায় রোগব্যাধি বেড়ে যায়, বিশেষ করে পেটের পীড়া ও চর্মরোগ। এক্ষেত্রে ফিল্ড মেডিকেল টিম গঠন করে আক্রান্ত ব্যক্তির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া দরকার। বন্যা আক্রান্ত গবাদিপশুর হয় নানা ব্যাধি।

পশু চিকিৎসকও ওই মেডিকেল টিমে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বন্যা-পরবর্তী কৃষিক্ষেত্রের বিষয়ে বিভিন্ন কৃষি সহায়তাকে জরুরি বিবেচনায় আনতে হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি পুনর্নিমাণের বিষয়েও সরকারি সহায়তা থাকতে হবে।

ভাস্কর রাসা : জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ভাস্কর্য শিল্পী

বন্যা মোকাবেলার প্রস্তুতি থাকতে হবে

 ভাস্কর রাসা 
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যা প্রাকৃতিক বির্বতনের একটি প্রক্রিয়া। বাংলা সাহিত্যে বাংলাদেশ ভাটির দেশ। পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ অঞ্চল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পানির বিরাট অংশ বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গপোসাগরে গিয়ে পড়ে। এ বিশাল জলরাশি বয়ে নিয়ে আসে পলি মাটি। প্রতিবার কম-বেশি পলিমাটির প্রলেপ জমে জমিতে। বর্ষা ঋতু প্রতিবার আসে।

বন্যা প্রতি বছর হয় না, কয়েক বছর পরপর হঠাৎ হয়। মূলত আমাদের দেশে বন্যা হয় প্রতিবেশী দেশের পাহাড়ি পানির ঢল থেকে। বর্ষায় যে পরিমাণ জমি পানিতে ডুবে যায়, বন্যায় তার থেকে বহুগুণ বেশি জমি, ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। গত কয়েক দশক ধরে বন্যা হচ্ছে ঘনঘন।

এর কারণ হতে পারে নদীর স্বাভাবিক নাব্য হারানো এবং নদী শাসনের নামে বাঁধ, ড্যাম, কালভার্ট ইত্যাদি তৈরির ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব। বন্যায় গৃহস্থ কৃষক ও নিচু অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। আর বন্যা যদি এক বছরে একাধিকবার হয়, তাহলে গ্রামবাংলার মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

গবাদি সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়, ঘটে ফসলহানি। গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে নিচু অঞ্চলের মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নেয় বাঁধে, রাস্তায়, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে। তবে যে সংখ্যক মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়, সেই অনুপাতে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।

বন্যায় আক্রান্ত মানুষ পতিত হয় নানাবিধ সমস্যায়। এর মধ্যে দেখা দেয় খাদ্য সংকট (মানুষ ও গবাদিপশুর)। পানযোগ্য পানির অভাব হয় তীব্র, জলবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রার্দুভাব প্রকট আকার ধারণ করে। বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ দেখা যায়।

তবে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অসন্তুষ্টি বা নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ উঠে প্রায় প্রতিবার। এ ক্ষেত্রে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিতরণ পরিকল্পনা আরও সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাসমান গৃহ নির্মাণ করে বন্যা আক্রান্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করতে পারে সরকার- যেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকবে, থাকবে ল্যাট্রিন ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা বক্স, ভাসমান গৃহের চাল থেকে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির পানি পানযোগ্য পদ্ধতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা।

বন্যায় পশু খাদ্যের তীব্র অভাব দেখা দেয়, এ ক্ষেত্রেও কলার ভেলার মতো কৃত্রিম ভেলায় পশু খাদ্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে। বন্যার পর এসব কৃত্রিম গৃহ ও ভেলা ভাগ ভাগ করে খুলে মাচা বেঁধে সংরক্ষণ করতে পারে কৃষক।

বন্যার ভয়াবহতা প্রকট রূপ নেয় নদীভাঙনের মধ্য দিয়ে। সচ্ছল গৃহস্থ কৃষক নদীভাঙনের ফলে মুহূর্তের মধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এ রকম হাজার হাজার কৃষক ও গৃহস্থ পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। নদীভাঙনের অনেক কারণের একটি হল নদীর তলদেশে পলি জমে স্বাভাবিক নাব্য হারানো।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীর নাব্য স্বাভাবিক রাখার জন্য সারা বছর ড্রেজিং ব্যবস্থা থাকতে পারে। যেখানে যখন দরকার সেখানেই ড্রেজিং শুরু করতে হবে, তবেই নদীর নাব্য স্বাভাবিক থাকবে। আমি নৌপথে যাতায়াত করতে গিয়ে পদ্মা নদীতে দেখেছি নদী ড্রেজিং করে নদীতেই ড্রেজিংয়ের বালি ফেলা হচ্ছে।

ড্রেজিংয়ের বালি দিয়ে তো নদীর পাড় ভরাট করা যায় অনায়াসে। এভাবে কয়েক বছর নদীর পাড়ে ড্রেজিংয়ের পলি দিয়ে ভরাট করা হলে নদীভাঙনের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে। নৌপথ হল সভ্যতার যোগাযোগ ব্যবস্থার আঁতুড়ঘর। নৌপথে পরিবহনে ব্যয় তুলনামূলক কম, ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও কম।

প্রতিবারই বন্যার সময় পত্রিকার পাতায় দেখি অমুক স্থানের বাঁধ ভেঙে গেছে। এসব বাঁধ কি টেকসইভাবে করা হয় না? বর্ষার প্রধান ধান হচ্ছে আমন। এক সময় বহু জাতের আমন ধানের চাষ হতো বাংলাজুড়ে। বর্ষার পানিতে পাট ধোয়া হয় আদিকাল থেকে।

বাংলাদেশ বানভাসির দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। এ দুর্যোগ মোকাবেলা করে জনগণ হাজার হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে। বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়, আবার কিঞ্চিত লাভও হয়। জমির ক্ষেত্রে বিশাল প্লাবনের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিমাণ পলি জমিতে পড়ে উর্বর হয়।

সচরাচর দেখা যায় বন্যার পর ফসল ভালো হয়। বন্যার সময় অনেক বাঁধ, রাস্তা ভেঙে গেলে গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ওই স্থানগুলো মেরামতের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে বন্যা বা বর্ষার আগে স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ মিলে চিহ্নিত করতে পারে বন্যা হলে বাঁধ, সড়কের কোন কোন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সেজন্য কী কী ব্যবস্থা তৈরি রাখতে হবে। তখন বন্যার ক্ষতি মোকাবেলার আগাম প্রস্তুতি মাঠ পর্যায়ে থাকবে।

আমরা ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস করতে পারি সহজেই বর্ষা ও বন্যার পানি ধরে রেখে। এ ক্ষেত্রে নদী-খাল খনন করা, বিশাল জল সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা দরকার। রাজশাহীর পদ্মার বালি সরিয়ে রিজার্ভার তৈরি করা যেতে পারে। রাজশাহীর পদ্মার বালি রফতানি কিংবা নিঝুম দ্বীপের উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

অথবা এ বালি দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট বানানো যায় অনায়াসে। এর ফলে ইট বানানোর জন্য প্রতি বছর যে পরিমাণ মাটি ব্যবহৃত হয়, তা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। আবহাওয়ার উষ্ণায়ন ও ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক সম্পদ বেপরোয়াভাবে উত্তোলনের জন্যই প্রাকৃতিক বিপর্যয় হচ্ছে ঘনঘন। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, কখনও বা একই বছর ২-৩ বার হচ্ছে। বন্যা মোকাবেলায় এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী টেকসই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ সময়ের দাবি।

বন্যা-পরবর্তী সময়ে বন্যা আক্রান্ত এলাকায় রোগব্যাধি বেড়ে যায়, বিশেষ করে পেটের পীড়া ও চর্মরোগ। এক্ষেত্রে ফিল্ড মেডিকেল টিম গঠন করে আক্রান্ত ব্যক্তির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া দরকার। বন্যা আক্রান্ত গবাদিপশুর হয় নানা ব্যাধি।

পশু চিকিৎসকও ওই মেডিকেল টিমে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বন্যা-পরবর্তী কৃষিক্ষেত্রের বিষয়ে বিভিন্ন কৃষি সহায়তাকে জরুরি বিবেচনায় আনতে হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি পুনর্নিমাণের বিষয়েও সরকারি সহায়তা থাকতে হবে।

ভাস্কর রাসা : জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ভাস্কর্য শিল্পী

 

ঘটনাপ্রবাহ : বন্যা ২০২০