পেঁয়াজ সংকটের জন্য কে দায়ী
jugantor
পেঁয়াজ সংকটের জন্য কে দায়ী

  এস এম নাজের হোসাইন  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গেল বছর ঠিক এই সেপ্টেম্বর মাসেই ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণায় লাফিয়ে লাফিয়ে এর দাম বেড়েছিল। এবারও ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো হল; তারা পুরনো কায়দায় জনগণের পকেট কাটা শুরু করলেন। পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি হওয়ায় অনেক নতুন ব্যবসায়ী এ ব্যবসায়ে ঝুঁকছেন এবং কিছু বড় কর্পোরেট হাউসও এ ব্যবসায় লগ্নি করেছে।

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে? এটা কি পেপারলেস কমিশন ব্যবসার আড়ালে কারসাজি, নাকি দেশীয় উৎপাদিত পেঁয়াজের অসম বণ্টন- নাকি দাম বাড়লে ভোক্তাদের ‘হুমড়ি খেয়ে পড়া’ আচরণ দায়ী? এ বিষয়েই আলোকপাত করার চেষ্টা করব।

পেঁয়াজের বাজারে কারসাজির জন্য বৈধ আমদানির ছাড়পত্র, এলসি খোলার কাগজপত্র ছাড়া আমদানিকারকের কমিশন এজেন্ট, আড়তদার পরিচয়ে কিছু ব্যবসায়ী জনগণকে জিম্মি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম।

দেশের চাহিদার সিংহভাগ দেশীয় উৎপাদন দিয়ে মেটানো সম্ভব হলেও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ, পেপারলেস ব্যবসা হওয়ার কারণে আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের সহজেই বোকা বানানো যায়। আর এক ফোনেই দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়িয়ে দেয়া যায়। যেহেতু আমদানির কোনো কাগজপত্র প্রদর্শন করতে হয় না, সে কারণে প্রশাসন ও ভোক্তাদের বোকা বানিয়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়ানো যায়।

পেঁয়াজের কারসাজি ও দাম বাড়ার বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সহজ উচ্চারণ- দাম বাড়ানোর কারসাজির সঙ্গে তারা জড়িত নন। তারা আমদানিকারকের কমিশন এজেন্ট ও আড়তদার। পেঁয়াজ সংকট চলাকালে জেলা প্রশাসন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিদফতরের সমন্বিত বাজার অভিযানকালে যে বিষয়টি বেশি করে দেখা গেছে তা হল, আমদানিকারক আমদানি করে আড়তদারদের হাতে পণ্য পৌঁছানোর সময় তাদের হাতে কোনো রসিদ দেয় না।

অনেকের মতে, ট্রাকে করে আমদানিকারক পেঁয়াজ আড়তদারদের কাছে পাঠায়, তারা বিক্রি করে ওই ট্রাকে করে টাকা পাঠায়। তারা জানে না, কে আমদানিকারক ও কত টাকা আমদানি মূল্য। আবার অনেকে আমদানিকারকদের কাছে টাকা পাঠান; কিন্তু নাম-ঠিকানা জানেন না। বিষয়টি অনেকটাই অদৃশ্য ব্যবসার মতো।

রসিদ, আমদানি মূল্য ও আমদানিকারকের নাম-ঠিকানা ছাড়া যদি কেউ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে, তাহলে এটি অদৃশ্য ব্যবসা ছাড়া কিছু হতে পারে না। কমিশন এজেন্ট হিসেবে তারা কেজিপ্রতি পঞ্চাশ পয়সা পান। সিংহভাগ আমাদিকারক সীমান্তের ওপারের ও সীমান্তবর্তী এলাকার। তাদের ওপর নজরদারি বাড়ালে পেঁয়াজের বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে- এ কথা ৫-৭ বছর ধরে উচ্চারিত হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

গত বছর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কমিশন এজেন্ট, আড়তদার ও ক্যাব প্রতিনিধিসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি সভা করেছিল। সেখানে বৈধ আমদানির কাগজপত্র, বিশেষ করে এলসির কপি, কাস্টমস চালান ছাড়া ব্যবসা না করার বিষয়ে কমিশন এজেন্ট ও আড়তদাররা অঙ্গীকার করেছিলেন। এখন বিষয়টি তারা বেমালুম ভুলে গেছেন।

তাই পেঁয়াজ আমদানিকারক, আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায় এ ধরনের অদৃশ্য ব্যবসাকে একটি কাঠামোর মধ্যে না আনা হলে কৃত্রিম সংকটের এ সিন্ডিকেট প্রথা ভাঙা সম্ভব হবে না। মজার কাহিনী হল, বর্তমানে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ২০-২২ টাকা হলেও পাইকারিতে পণ্যটির মূল্য ৮০-৯০ টাকা।

২০১৯ সালেও এসব ব্যবসায়ী একই কায়দায় পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। এবারও তারা একই কায়দায় ক্রেতাদের পকেট কাটছে। ৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ভোক্তা অধিদফতর ঢাকার শ্যামবাজারে অভিযান চালানোর পরদিন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্রি বন্ধ রাখে। মূলত এরাই দেশে চোরাচালানি কায়দায় পেপারলেস ব্যবসার নামে জনগণকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে।

প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেই ধর্মঘটসহ নানা হুমকি দিচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব অপকর্মের হোতাদের বিরুদ্ধে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরিবর্তে জামাই আদর করায় তারা বারবার এ ধরনের অপকর্ম করার সাহস পাচ্ছে।

আমরা প্রায়ই দেখি, যখনই কোনো ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ে; তখন ব্যবসায়ীরা সাধারণ ভোক্তাদের নিয়ে খেলেন, তামাশা করেন। দাম বাড়ার জন্য তারা কখনও আমদানিকারক, আবার কখনও খুচরা বিক্রেতাদের দোষারোপ করবেন। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা দোষ চাপান পাইকারি বিক্রেতাদের ওপর। বড় বড় কর্পোরেট হাউস ও ব্যবসায়ী নেতারা ঋণের সুদ বেশি, পরিবহন খরচ, শ্রমিকদের বেতনভাতা বেশি ও সরকারি ভ্যাট, ট্যাক্স ইত্যাদির ওপর দোষ চাপান। কিন্তু একজন ক্রেতা কোনোভাবেই এসবের কোনোটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত না হলেও সব মাশুল তাকেই গুনতে হচ্ছে, যা মেনে নেয়া যায় না।

সরকারের ট্যারিফ কমিশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩০ লাখ টন। আর দেশে উৎপাদিত হয় ২২-২৪ লাখ টন। তাহলে ঘাটতি থাকে মাত্র ৬-৮ লাখ টন, যার জন্য বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, মিয়ানমার, চীন, ইরান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করে থাকে। তবে মজার কাহিনী হল, দেশীয় পেঁয়াজে চাহিদার সিংহভাগ মেটানো সম্ভব হলেও বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ পাওয়া দুষ্কর।

এর কারণ অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, কমিশন এজেন্ট, আড়তদারা দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রিতে আগ্রহী নয়। কারণ, দেশীয় পেঁয়াজ যদি বিক্রি করা হয়, তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ভোক্তা অধিদফতরের লোকজন বিক্রেতার ক্রয় রসিদ দেখতে চাইবে। তখন তাদের গোমর ফাঁস হয়ে যাবে। আর অদৃশ্য ফোনকলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়ানো যাবে না।

এর বাইরে যখন দেশীয় কৃষকের পেঁয়াজ ঘরে উঠবে, তখন আমদানিকৃত পেঁয়াজে দেশীয় বাজার ভরপুর হয়ে যায়। ফলে প্রতি বছরই দেশীয় কৃষক পেঁয়াজ চাষে লোকসানে পড়েন। যদি দেশীয় পেঁয়াজ ঘরে ওঠার সময় বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি নিষিদ্ধ করা যায়, তাহলে কৃষক লাভবান হতে পারতেন।

কিন্তু বিধিবাম, পেঁয়াজ ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, আড়তদার, কমিশন এজেন্টসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু লোকজন নিজেদের স্বার্থে আমদানিপত্র খুলতে মরিয়া হন। ফলে কৃষকের স্বার্থ ভূলুণ্ঠিত হয়। কৃষক প্রতি বছর উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ওই পণ্য চাষে আগ্রহ হারান। আবার দেশীয় ভোক্তারা দেশে উৎপাদিত পণ্যটি সব জেলায় সমানভাবে পায় না, যার মূল কারণ মধ্যস্বত্বভোগীদের বিপণন সমস্যা।

এদিকে বাজার ও ভোক্তা খাতের অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে সবসময় সহজলভ্য না হলেও এর মাধ্যমে পেঁয়াজের সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। কৃষিতে অনেক আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে। পুরো বছরজুড়ে অনেক কৃষিপণ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় গরু ছাড়া দেশীয় গবাদিপশুর উৎপাদন বাড়িয়ে কোরবানির গরুর সংকট মোকাবেলার মতো পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়ে ও দেশব্যাপী সমবণ্টন নিশ্চিত করে এ সংকট নিরসন সম্ভব।

তবে কৃষক যখন ঘরে পেঁয়াজ ঘরে তুলবে, তখন ভারতীয় ও অন্য উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে। কৃষককে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য উৎদপানকালীন বিদেশি পেঁয়াজ আমদানিতে উচ্চহারে কর আরোপ করতে হবে। এছাড়াও প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে স্বল্প সুদে ঋণ, উৎপাদিত পণ্যের বিপণন ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত, ভর্তুকি প্রদান, কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য খাদ্য গুদাম, হিমাগার নির্মাণ করা যেতে পারে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয় করে ঢাকা শহরে ট্রাকে কিছু পেঁয়াজ বিক্রি করলেও নিজেরা আন্তর্জাতিক উৎস থেকে আমদানি করে না। ফলে বঙ্গবুন্ধর হাতে গড়া টিসিবি জনগণের সংকটকালে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত অফিস ও জনবল এবং ডিলারের বিশাল বহর বেকার বসে অলস সময় কাটাচ্ছে।

গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সরকার টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি না করে কিছু বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছিল। এভাবে কালক্ষেপণের কারণে সমস্যাটি আরও ঘনীভূত হয়। বৃহৎ শিল্প গ্রুপের খোলা এলসিগুলোর সিংহভাগ পেঁয়াজ শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারে আসেনি। সরকার যদি নিজে পেঁয়াজ আমদানি করত, তাহলে ব্যবসায়ীদের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়ত না। মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছাত না। বাজার ও ভোক্তা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ আমদানিকারক ও বড় ব্যবসায়ী কর্তৃক পণ্যের হাতবদল ও অসম বণ্টন ব্যবস্থা। কারণ যখনই হাতবদল হয়, তখনই লাভের অঙ্ক বেড়ে যায়।

ক্রেতা হিসেবে আমাদের দেশের ভোক্তারা অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে অসচেতন। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে ব্যবসায়ীরা বলে থাকেন- দাম আরও বাড়বে, পারলে কিছু মজুদ করে রাখেন। তারা চিন্তা করেন না, পণ্যের দাম চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভরশীল। চাহিদা বেশি হলে দাম বাড়বে। যেমন চালের দাম একটু বাড়লেই ভোক্তারা চাল মজুদে আগ্রহী হন। ভোক্তা হিসেবে আমাদের আচরণ সংযত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মূল নেয়ামক না হয়ে ভোক্তারাই মূল নেয়ামক হতে পারেন।

জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকরী ও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সমন্বিত বাজার তদারকি কার্যক্রম চলমান ছিল। বর্তমান বাজার তদারকিতে দেখা যাচ্ছে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় দিচ্ছেন না। প্রশাসনের নানাবিধ কাজে জড়িত থাকায় বাজারে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে অভিযান পরিচালনার সময় তার থাকে না। ফলে অনেকটাই দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করে দু-একটি জরিমানা করেই কাজ শেষ করতে চান অনেকে।

মোবাইল কোর্ট আইন বা অন্যান্য আইনেও বলা আছে ফলোআপ করার কথা। অর্থাৎ আজকে যে অপরাধের জন্য একজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হচ্ছে, তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে দেখা যে, পরবর্তী সময়ে সে কী করছে? ব্যবসায়ীরা অনেক সময় মোবাইল কোর্টে জরিমানা দিতে আগ্রহী। এর কারণ তার ধারণা, যদি আজকে জরিমানা প্রদান করা হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তার দোকানে আগামী এক মাস আসবেন না। ফলে সে আবারও বেপরোয়া হয়ে অপরাধে লিপ্ত হতে পারবে।

বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে আছে- যে যেভাবে পারে লুটপাট করছে, জনগণের পকেট কাটছে। এর বিপরীতে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের নীরবতায় সর্বত্রই অসাধু ব্যবসায়ীদের লুটপাটের রাজত্ব কয়েম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের নানা উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও তার কার্যকারিতা কতটুকু, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এস এম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

[email protected]

পেঁয়াজ সংকটের জন্য কে দায়ী

 এস এম নাজের হোসাইন 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গেল বছর ঠিক এই সেপ্টেম্বর মাসেই ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণায় লাফিয়ে লাফিয়ে এর দাম বেড়েছিল। এবারও ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো হল; তারা পুরনো কায়দায় জনগণের পকেট কাটা শুরু করলেন। পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি হওয়ায় অনেক নতুন ব্যবসায়ী এ ব্যবসায়ে ঝুঁকছেন এবং কিছু বড় কর্পোরেট হাউসও এ ব্যবসায় লগ্নি করেছে।

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে? এটা কি পেপারলেস কমিশন ব্যবসার আড়ালে কারসাজি, নাকি দেশীয় উৎপাদিত পেঁয়াজের অসম বণ্টন- নাকি দাম বাড়লে ভোক্তাদের ‘হুমড়ি খেয়ে পড়া’ আচরণ দায়ী? এ বিষয়েই আলোকপাত করার চেষ্টা করব।

পেঁয়াজের বাজারে কারসাজির জন্য বৈধ আমদানির ছাড়পত্র, এলসি খোলার কাগজপত্র ছাড়া আমদানিকারকের কমিশন এজেন্ট, আড়তদার পরিচয়ে কিছু ব্যবসায়ী জনগণকে জিম্মি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম।

দেশের চাহিদার সিংহভাগ দেশীয় উৎপাদন দিয়ে মেটানো সম্ভব হলেও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ, পেপারলেস ব্যবসা হওয়ার কারণে আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের সহজেই বোকা বানানো যায়। আর এক ফোনেই দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়িয়ে দেয়া যায়। যেহেতু আমদানির কোনো কাগজপত্র প্রদর্শন করতে হয় না, সে কারণে প্রশাসন ও ভোক্তাদের বোকা বানিয়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়ানো যায়।

পেঁয়াজের কারসাজি ও দাম বাড়ার বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সহজ উচ্চারণ- দাম বাড়ানোর কারসাজির সঙ্গে তারা জড়িত নন। তারা আমদানিকারকের কমিশন এজেন্ট ও আড়তদার। পেঁয়াজ সংকট চলাকালে জেলা প্রশাসন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিদফতরের সমন্বিত বাজার অভিযানকালে যে বিষয়টি বেশি করে দেখা গেছে তা হল, আমদানিকারক আমদানি করে আড়তদারদের হাতে পণ্য পৌঁছানোর সময় তাদের হাতে কোনো রসিদ দেয় না।

অনেকের মতে, ট্রাকে করে আমদানিকারক পেঁয়াজ আড়তদারদের কাছে পাঠায়, তারা বিক্রি করে ওই ট্রাকে করে টাকা পাঠায়। তারা জানে না, কে আমদানিকারক ও কত টাকা আমদানি মূল্য। আবার অনেকে আমদানিকারকদের কাছে টাকা পাঠান; কিন্তু নাম-ঠিকানা জানেন না। বিষয়টি অনেকটাই অদৃশ্য ব্যবসার মতো।

রসিদ, আমদানি মূল্য ও আমদানিকারকের নাম-ঠিকানা ছাড়া যদি কেউ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে, তাহলে এটি অদৃশ্য ব্যবসা ছাড়া কিছু হতে পারে না। কমিশন এজেন্ট হিসেবে তারা কেজিপ্রতি পঞ্চাশ পয়সা পান। সিংহভাগ আমাদিকারক সীমান্তের ওপারের ও সীমান্তবর্তী এলাকার। তাদের ওপর নজরদারি বাড়ালে পেঁয়াজের বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে- এ কথা ৫-৭ বছর ধরে উচ্চারিত হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

গত বছর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কমিশন এজেন্ট, আড়তদার ও ক্যাব প্রতিনিধিসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি সভা করেছিল। সেখানে বৈধ আমদানির কাগজপত্র, বিশেষ করে এলসির কপি, কাস্টমস চালান ছাড়া ব্যবসা না করার বিষয়ে কমিশন এজেন্ট ও আড়তদাররা অঙ্গীকার করেছিলেন। এখন বিষয়টি তারা বেমালুম ভুলে গেছেন।

তাই পেঁয়াজ আমদানিকারক, আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায় এ ধরনের অদৃশ্য ব্যবসাকে একটি কাঠামোর মধ্যে না আনা হলে কৃত্রিম সংকটের এ সিন্ডিকেট প্রথা ভাঙা সম্ভব হবে না। মজার কাহিনী হল, বর্তমানে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ২০-২২ টাকা হলেও পাইকারিতে পণ্যটির মূল্য ৮০-৯০ টাকা।

২০১৯ সালেও এসব ব্যবসায়ী একই কায়দায় পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। এবারও তারা একই কায়দায় ক্রেতাদের পকেট কাটছে। ৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ভোক্তা অধিদফতর ঢাকার শ্যামবাজারে অভিযান চালানোর পরদিন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্রি বন্ধ রাখে। মূলত এরাই দেশে চোরাচালানি কায়দায় পেপারলেস ব্যবসার নামে জনগণকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে।

প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেই ধর্মঘটসহ নানা হুমকি দিচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব অপকর্মের হোতাদের বিরুদ্ধে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরিবর্তে জামাই আদর করায় তারা বারবার এ ধরনের অপকর্ম করার সাহস পাচ্ছে।

আমরা প্রায়ই দেখি, যখনই কোনো ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ে; তখন ব্যবসায়ীরা সাধারণ ভোক্তাদের নিয়ে খেলেন, তামাশা করেন। দাম বাড়ার জন্য তারা কখনও আমদানিকারক, আবার কখনও খুচরা বিক্রেতাদের দোষারোপ করবেন। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা দোষ চাপান পাইকারি বিক্রেতাদের ওপর। বড় বড় কর্পোরেট হাউস ও ব্যবসায়ী নেতারা ঋণের সুদ বেশি, পরিবহন খরচ, শ্রমিকদের বেতনভাতা বেশি ও সরকারি ভ্যাট, ট্যাক্স ইত্যাদির ওপর দোষ চাপান। কিন্তু একজন ক্রেতা কোনোভাবেই এসবের কোনোটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত না হলেও সব মাশুল তাকেই গুনতে হচ্ছে, যা মেনে নেয়া যায় না।

সরকারের ট্যারিফ কমিশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩০ লাখ টন। আর দেশে উৎপাদিত হয় ২২-২৪ লাখ টন। তাহলে ঘাটতি থাকে মাত্র ৬-৮ লাখ টন, যার জন্য বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, মিয়ানমার, চীন, ইরান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করে থাকে। তবে মজার কাহিনী হল, দেশীয় পেঁয়াজে চাহিদার সিংহভাগ মেটানো সম্ভব হলেও বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ পাওয়া দুষ্কর।

এর কারণ অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, কমিশন এজেন্ট, আড়তদারা দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রিতে আগ্রহী নয়। কারণ, দেশীয় পেঁয়াজ যদি বিক্রি করা হয়, তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ভোক্তা অধিদফতরের লোকজন বিক্রেতার ক্রয় রসিদ দেখতে চাইবে। তখন তাদের গোমর ফাঁস হয়ে যাবে। আর অদৃশ্য ফোনকলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়ানো যাবে না।

এর বাইরে যখন দেশীয় কৃষকের পেঁয়াজ ঘরে উঠবে, তখন আমদানিকৃত পেঁয়াজে দেশীয় বাজার ভরপুর হয়ে যায়। ফলে প্রতি বছরই দেশীয় কৃষক পেঁয়াজ চাষে লোকসানে পড়েন। যদি দেশীয় পেঁয়াজ ঘরে ওঠার সময় বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি নিষিদ্ধ করা যায়, তাহলে কৃষক লাভবান হতে পারতেন।

কিন্তু বিধিবাম, পেঁয়াজ ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, আড়তদার, কমিশন এজেন্টসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু লোকজন নিজেদের স্বার্থে আমদানিপত্র খুলতে মরিয়া হন। ফলে কৃষকের স্বার্থ ভূলুণ্ঠিত হয়। কৃষক প্রতি বছর উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ওই পণ্য চাষে আগ্রহ হারান। আবার দেশীয় ভোক্তারা দেশে উৎপাদিত পণ্যটি সব জেলায় সমানভাবে পায় না, যার মূল কারণ মধ্যস্বত্বভোগীদের বিপণন সমস্যা।

এদিকে বাজার ও ভোক্তা খাতের অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে সবসময় সহজলভ্য না হলেও এর মাধ্যমে পেঁয়াজের সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। কৃষিতে অনেক আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে। পুরো বছরজুড়ে অনেক কৃষিপণ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় গরু ছাড়া দেশীয় গবাদিপশুর উৎপাদন বাড়িয়ে কোরবানির গরুর সংকট মোকাবেলার মতো পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়ে ও দেশব্যাপী সমবণ্টন নিশ্চিত করে এ সংকট নিরসন সম্ভব।

তবে কৃষক যখন ঘরে পেঁয়াজ ঘরে তুলবে, তখন ভারতীয় ও অন্য উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে। কৃষককে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য উৎদপানকালীন বিদেশি পেঁয়াজ আমদানিতে উচ্চহারে কর আরোপ করতে হবে। এছাড়াও প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে স্বল্প সুদে ঋণ, উৎপাদিত পণ্যের বিপণন ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত, ভর্তুকি প্রদান, কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য খাদ্য গুদাম, হিমাগার নির্মাণ করা যেতে পারে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয় করে ঢাকা শহরে ট্রাকে কিছু পেঁয়াজ বিক্রি করলেও নিজেরা আন্তর্জাতিক উৎস থেকে আমদানি করে না। ফলে বঙ্গবুন্ধর হাতে গড়া টিসিবি জনগণের সংকটকালে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত অফিস ও জনবল এবং ডিলারের বিশাল বহর বেকার বসে অলস সময় কাটাচ্ছে।

গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সরকার টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি না করে কিছু বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছিল। এভাবে কালক্ষেপণের কারণে সমস্যাটি আরও ঘনীভূত হয়। বৃহৎ শিল্প গ্রুপের খোলা এলসিগুলোর সিংহভাগ পেঁয়াজ শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারে আসেনি। সরকার যদি নিজে পেঁয়াজ আমদানি করত, তাহলে ব্যবসায়ীদের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়ত না। মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছাত না। বাজার ও ভোক্তা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ আমদানিকারক ও বড় ব্যবসায়ী কর্তৃক পণ্যের হাতবদল ও অসম বণ্টন ব্যবস্থা। কারণ যখনই হাতবদল হয়, তখনই লাভের অঙ্ক বেড়ে যায়।

ক্রেতা হিসেবে আমাদের দেশের ভোক্তারা অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে অসচেতন। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে ব্যবসায়ীরা বলে থাকেন- দাম আরও বাড়বে, পারলে কিছু মজুদ করে রাখেন। তারা চিন্তা করেন না, পণ্যের দাম চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভরশীল। চাহিদা বেশি হলে দাম বাড়বে। যেমন চালের দাম একটু বাড়লেই ভোক্তারা চাল মজুদে আগ্রহী হন। ভোক্তা হিসেবে আমাদের আচরণ সংযত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মূল নেয়ামক না হয়ে ভোক্তারাই মূল নেয়ামক হতে পারেন।

জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকরী ও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সমন্বিত বাজার তদারকি কার্যক্রম চলমান ছিল। বর্তমান বাজার তদারকিতে দেখা যাচ্ছে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় দিচ্ছেন না। প্রশাসনের নানাবিধ কাজে জড়িত থাকায় বাজারে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে অভিযান পরিচালনার সময় তার থাকে না। ফলে অনেকটাই দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করে দু-একটি জরিমানা করেই কাজ শেষ করতে চান অনেকে।

মোবাইল কোর্ট আইন বা অন্যান্য আইনেও বলা আছে ফলোআপ করার কথা। অর্থাৎ আজকে যে অপরাধের জন্য একজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হচ্ছে, তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে দেখা যে, পরবর্তী সময়ে সে কী করছে? ব্যবসায়ীরা অনেক সময় মোবাইল কোর্টে জরিমানা দিতে আগ্রহী। এর কারণ তার ধারণা, যদি আজকে জরিমানা প্রদান করা হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তার দোকানে আগামী এক মাস আসবেন না। ফলে সে আবারও বেপরোয়া হয়ে অপরাধে লিপ্ত হতে পারবে।

বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে আছে- যে যেভাবে পারে লুটপাট করছে, জনগণের পকেট কাটছে। এর বিপরীতে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের নীরবতায় সর্বত্রই অসাধু ব্যবসায়ীদের লুটপাটের রাজত্ব কয়েম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের নানা উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও তার কার্যকারিতা কতটুকু, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এস এম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

[email protected]

 

ঘটনাপ্রবাহ : পেঁয়াজের বাজার আবারও অস্থির