করোনাকালে টেকসই কৃষি উন্নয়নের গতিপথ
jugantor
করোনাকালে টেকসই কৃষি উন্নয়নের গতিপথ

  ড. মো. মামুনুর রশীদ  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খোলা হাওয়াই কৃষির উপযোগী। পানি, বাতাস, আলো, মাটি ইত্যাদিই উদ্ভিদের প্রাণ-প্রকৌশল। মানুষ পৃথিবীতে না থাকলেও এদের কিছুই যায় আসে না। বটবৃক্ষের শিকড়ে কখনও জল সেচন পড়ে না, তবুও এর বাড়-বাড়তি নজরকাড়া। সহজ কথায়- এটা পরম সত্য যে, মানুষের জন্য উদ্ভিদ অপরিহার্য, উদ্ভিদের জন্য মানুষ প্রয়োজনীয় নয়। তবে উদ্ভিদ নিজের জীবনকে স্রষ্টার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে উৎসর্গ করে মানুষকে। মানুষ মহান ও সৃষ্টির সেরা বলে কথা! খোলাখুলিভাবে তাই তৃণ ও উদ্ভিদের কাছে মানুষের জবাবদিহিতার প্রশ্ন, অবশ্য পরিত্রাণের উপায় হল মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করা।

ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত মানুষের চিকিৎসা ছিল সম্পূর্ণ উদ্ভিদনির্ভর। আর উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরাই ছিলেন চিকিৎসক। আজ অবধি ওষুধের মৌলিক উপকরণ ঔষধি উদ্ভিদ। খাদ্য, পুষ্টি, পোশাক ও চিকিৎসা চাহিদার ক্ষেত্রেও কৃষি অভিভাবক কর্তা। এটা অনেকটাই সত্য যে, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মানুষ গৃহ অপেক্ষা কৃষি ক্ষেতে অধিক সময় থাকত, প্রচুর লোককে মাঠে কাজ করতে দেখা যেত। পাকিস্তানি সেনারা মাঠে কম যেত। এ দুর্যোগকালে খাদ্যাভাব ছিল না। স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ও পরে দুর্ভিক্ষ দেখা গেছে। করোনায় লকডাউন থাকলেও কৃষির ক্ষেত্রে তা ছিল না, তাই খোলা মাঠে কৃষি খেলছে ভালো। পানি, বাতাস, আলো ও মাটি করোনায় ভয় পায় না। এবার কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় আমাদের কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেটা ভিন্ন বিষয়।

অর্থাৎ, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও বিশ্বব্যাপী করোনাযুদ্ধে এ দেশে খাদ্য উৎপাদনের প্রচলিত ধারা বিদ্যমান ছিল এবং আপৎকালীন মানুষের সেবায় কাঙ্ক্ষিত গতিময়তা দেখিয়েছে। কিন্তু সে জন্য কি এ সেক্টর বিশেষ প্রায়োরিটিতে বা সম্মানে আছে? ভৌগোলিক ও ঋতু বৈচিত্র্যে কৃষিই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নিরাপদ মেডিসিন। অধিকন্তু বাণিজ্যিক সংজ্ঞার্থে এ দেশে ‘কৃষি একটি উচ্চ পরম সুবিধা খাত, যেখানে কোনো একজন কৃষক/উদ্যোক্তা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিপুণ দক্ষতার সঙ্গে স্বল্প খরচ, সহজ, তাৎক্ষণিক ও ক্রমাগত সেবা বিনিয়োগ করে জুতসই কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং সরাসরি বিক্রয় অথবা রফতানি দ্বারা অর্থ আয়সহ নিজেদের নানা সমন্বিত প্রয়োজন মেটায়।’ এখানে যে সর্বজনবিদিত গোপনীয়তা তা হল- কৃষি পরহিতে পরিচালিত, জীবে-জীবে সম্পর্কিত, স্রষ্টায় সমর্পিত এবং কৃষকের মনের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা, যেখানে সর্বদা তাদের কানে কানে প্রাণের বার্তা বাজে- ‘ভুল পথে যেও না’। এতে অর্থবিত্ত উপার্জন ধীরগতিতে প্রবাহিত হয় বিধায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমাজে ভারসাম্যে রাখে এবং তুলনামূলক বিচারে তাকে অপরাধশূন্য করতে পারে। তাছাড়া শিক্ষণ ও দায়িত্ববোধ পদ্ধতি গুরুগৃহ প্রকৃতির-আজন্ম সমাজে ও পরিবারের পরিচিত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জীবনমুখী দক্ষতার চূড়ান্ত ধাপে উন্নীত হয়, যা অন্য কোনোভাবেই সম্ভব নহে। কৃষিব্যবস্থা কর্তব্যনিষ্ঠায়- ঠিক যেমন এক রাজা রাজকার্যের ব্যস্ততার মাঝে মৃত্যুবরণ করার সময় বলেছিলেন, জলদি করো, কোনো কাজ যদি বাকি থাকে, নিয়ে আসো! দৃষ্টান্তগুলো ভেবে দেখুন, কী রকম খেলে কৃষি!

কৃষির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সংযোগ কোথায়? প্রথমত, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে নিয়মিত। অধিকন্তু কোভিড ব্যবস্থাপনায় কৃষি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বল্প ত্রুটি সূচকে আছে। খোলা হাওয়ায় ব্যক্তির অর্জিত ধারাবাহিক বংশগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, উচ্চ পরিবেশগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নিম্ন ঘনমাত্রার করোনা অণুর কারণে গ্রামীণ পরিবেশে কোভিড সংক্রমণ তুলনামূলক বিচারে নিম্নমাত্রায় দেখা যাচ্ছে (কিছু করোনার জন্য অনুপ্রবেশ দায়ী)। দূষণমুক্ত খোলা-হাওয়া, পরিবেশবান্ধব কৃষিশ্রম, উন্মুক্ত সূর্যালোক, প্রকৃতিমুখো নানা সেবা, দ্রুত শয়ন ও শয্যাত্যাগ, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, পরিচিত সুরক্ষাব্যবস্থা, দৃঢ় সামাজিক বিশ্বাস, সাদাসিধে জীবনশৈলী, প্রয়োজনীয় টাটকা খাবার গ্রহণ, স্থানভেদে ঔষধি খাবার যেমন আজওয়া খেজুর, মেথি, গার্ডেন ক্রেস, জাফরান, দারুচিনি, অলিভওয়েল, মধু, কালিজিরা, পুদিনা, আদা, রসুন, হলুদ, তীনফল, গোলমরিচ, সিরকা, লেবু ইত্যাদি কৃষিজ দ্রব্য আজ অবধি কোভিড রোগ প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব পণ্য রোগ নিরাময়ে ও এক ধরনের ভীতি দূরীকরণেও কাজ করছে। নিঃসন্দেহে সুস্পষ্ট দিবা-নিশি সামঞ্জস্যে খাওয়া, ত্রুটিহীন ও উৎফুল্ল কৃষি শ্রম, ভাবনাহীন ঘুমানো এবং উদ্ভিদ-প্রাণির নিবিড় আন্তঃসম্পর্ক বা সংযোগ ইত্যাদি সুস্থ জীবনের ধারণা দেয়।

কথায় বলে, ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই জ্ঞানীর কাজ। কোভিডে ক্ষতি বেশি না ভীতি? আগস্ট ২০২০ অবধি বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত ছিল শতকরা আনুমানিক ০.১৮ জন (আক্রান্ত তিন লাখ ধরে) আর ভীতিতে আচ্ছাদিত ছিল ১৬-১৭ কোটি (৯৯.৮২ শতাংশ)। তবে ভীতিতে ঠিক এত লোক হবে না, বাদ পড়বে গ্রামের সাধারণ কৃষি কাজে যুক্ত মানুষ, আল্লাহর তাওয়াক্কুলে বিশ্বাসীরা, যারা সতর্কও বটে আর কিছু সাধারণ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। একটি সুপ্রসিদ্ধ হাদিস হল- ‘ইন্নামাল আমালু বিন নিয়াত’ অর্থাৎ পরিকল্পনা সাপেক্ষেই তার সব কর্ম। বিশ্লেষণে দেখা যায়, করোনা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক কাঙ্ক্ষিত কিছু পরিবর্তন এনেছে। পরিবেশেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। গৃহে অবস্থানের কারণে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে, পরস্পরকে জানার বা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিবেশে মানুষের দ্বারা ক্ষতি ও বিভিন্নমুখী অপরাধ সম্ভাবনাও কমে এসেছে। তাতে নানা ধরনের মুক্ত পোকামাকড়, জীবজন্তু ও পাখির আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত বৃক্ষ কর্তন ও রোপণ উভয়ই কম হচ্ছে, এতে ভারসাম্য অবস্থা তৈরি হচ্ছে। অফিসের নামে ব্যক্তিস্বার্থে ও অহেতুক ভ্রমণ এবং অপ্রয়োজনীয় কর্ম, পীড়ন ও অর্থব্যয় হ্রাস পেয়েছে। ঝগড়া, দ্বন্দ্ব, অবৈধ অর্থ উপার্জন ও হত্যার গড় কিছুটা নিম্নমুখী সূচকে আছে। দেখা গেছে এবার বর্ষাকালের ভিন্ন সূক্ষ্ম সাজন- মেঘেদের সাদা-নীল-কালো শাড়ি উড়িয়ে মুক্ত আকাশে সশব্দে ঘুরে বেড়ানোর অন্যরকম চঞ্চলতা, দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ঝেড়ে বর্ষার নিজ রূপ প্রকাশ। পরিবেশে তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহে কিছুটা ভিন্ন ছন্দ লক্ষ করা গেছে। মাঠ ফসলে রোগের তীব্রতা কম ছিল, এমনকি মানুষের গড় রোগ আক্রমণতা হ্রাস পেয়েছে। শব্দ ও বায়ুদূষণ বেশ কম হয়েছে। অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও কৃষিতে আগের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বিদ্যমান আছে। উৎপাদনে গ্রামীণ পদ্ধতি বিরূপ পরিবেশেও টিকে থাকার বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যাপিঠে চর্চিত জ্ঞান অর্জন অপেক্ষা প্রকৃতি থেকে অর্জিত জ্ঞান টেকসই ও ফলপ্রসূ হচ্ছে। কিছু কিছু অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে সঠিকতা না থাকায় অনেকাংশে ভুল প্রমাণিতও হচ্ছে। ভুল কার্য মেলে ধরতেই এ করোনা দুর্যোগ পৃথিবীব্যাপী মানুষের মুখমণ্ডলে ঘোমটা এনেছে বা নিয়ন্ত্রণ করেছে; অর্থাৎ যা ইচ্ছা করা যাবে না বা যা ইচ্ছা বলা যাবে না। এসবও উন্নয়নের কারক।

প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু কৃষি দিয়েই কি দেশের উন্নয়ন সম্ভব? লেখার উদ্দেশ্য শুধু তা নয়, করোনায় কৃষির ভূমিকা দর্শন ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। সেখানে দর্শক ও খেলোয়াড় অপেক্ষা খেলাটা ভালো দেখতে পাওয়াই স্বাভাবিক। তবে এরূপ বহুধা ধারার প্রাকৃতিক সম্পদ দ্বারা যে উন্নয়ন সম্ভব নয়, তা-ই বা কে প্রমাণ করেছে? প্রকৃতি শান্ত বলে কথা! উদ্ভিদের জীবন আছে আর তাতে নরম একটি হৃদয়ও আছে; তাই তো তাজা ফুলে এত হাসি, এত আত্মগৌরব। চীন দেশের একটি প্রসিদ্ধ প্রবাদ হল- ‘যে মুখে হাসি নেই সে যেন আজ দোকান না খোলে’। প্রবন্ধের সহায়ক প্রবাদ- ‘পেলে দুই পয়সা খাদ্য ও ফুলে সমানে বহিবে সাধা’। প্রকৃতিগত যোগ্যতার (সৃষ্টিগতভাবে যে যোগ্যতা বর্তমান এবং উদ্দেশ্য অনুযায়ী তৈরি) প্রকাশরূপে এ জগতের সব তৃণলতা ও বৃক্ষ আল্লাহতায়ালার সামনে সেজদারত আছে, সতত আল্লাহর আনুগত্যে থেকে নিজ নিজ কর্তব্য পালনের মাধ্যমে মানুষের উপকার সাধন করে যাচ্ছে আর পৃথিবী হয়ে উঠছে ফুলে-ফলে সজ্জিত, উন্নত। এমনিভাবেই তো হল্যান্ড তাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে শুধু টিউলিপ ফুল দিয়ে। ইতিবাচক ভাইরাস সংক্রমণে জিনগত পরিবর্তন আসে টিউলিপ ফুলের পাপড়িতে, আর এ কাঙ্ক্ষিত বর্ণবৈচিত্র্য হল্যান্ডের জন্য ‘থিওরি অব অ্যাবসলুট অ্যাডভানটেজ’ হিসেবে কাজ করে। স্মরণে থাকা অতি উত্তম- ‘কৃষি পণ্য’ বিদেশ থেকে সহজে আমদানি করতে নেই, রফতানি করা গেলে জোয়ার-জলের মতো অর্র্থ উপার্জিত হতে থাকে। কারণ, রফতানিকারক দেশ যা লাভ করে, আমদানিকারক দেশ তা দ্রুত হারায়। ‘কৃষি বা গম সংজ্ঞার্থ, অ্যাবসলুট অ্যাডভানটেজ ও কোভিড পরিত্রাণ’ থেকে মূল্যায়ন করা যায় কৃষির কথা।

বিখ্যাত স্কটিস অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অ্যাডাম স্মিথ তার ‘দ্য ওয়েলথ অব নেশন্স’ গ্রন্থে জাতি গঠনের যে মৌলিক তত্ত্ব দিয়েছেন এবং তা ধরে পথ হাঁটতে বলেছেন, সেটিও কৃষি। আশ্চর্য মনে হলেও রবার্ট টি কিওসাকি তার ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ গ্রন্থে প্রকৃত সার্থক জীবন গড়তে তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে কর্মদক্ষতা অর্জনে অধিক গুরুত্ব আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান করোনার সময়ে তরুণরা পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্যোগের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। মজার ব্যাপার হল, সেখানে একমাত্র কৃষি ব্যবস্থাপনাই নিবিড় যত্নে বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের জন্ম কথা এবং জীবনব্যাপী দীর্ঘ ধারাবাহিক দক্ষতা লাভ ও সেবা প্রদানের সহজ উপায় হিসেবে আজও বিদ্যমান। সাধারণত সেবা প্রদানে কৃষি যেখানে-সেখানে, যখন-তখন বর্তমান। এমনকি এ ধারাবাহিক জীবনপথে নির্দিষ্ট একটি সমাজে বসবাসকারী মানুষের মাঝে স্বভাবের ও দক্ষতার মিল পাওয়া একটি সাধারণ ব্যাপার, অর্থাৎ এরা একে অন্যের সঙ্গে তেমন কোনো পার্থক্য করে না; ফলে ভুল আরোপিত চেতনা ছাড়া কৃষি গতির নিয়ম অনুযায়ী এরূপ সমাজে বিরোধ সৃষ্টি কম হয়। সমাজ সংহতি সুসংহত করতে করোনাকাল ধরে সে পরিবর্তনের নতুন যাত্রা শুরুর এ আহ্বান।

কৃষি আমাকে দিয়ে যা বলাতে চায় আমি ঠিক তা-ই বলেছি। তাই এ প্রেরণায় দেনামুক্ত হতে বিশ্লেষণ করেছি ‘টেকসই কৃষি উন্নয়নের গতিপথ’। সে ক্ষেত্রে কৃষিকে সঠিক স্থানে স্থাপন করা চূড়ান্তভাবেই জরুরি। এ ক্ষেত্রে চিন্তার সব ব্যবধান মেলে ধরতেই অবারিত মাঠে কৃষি-খেলার এ আয়োজন, যার অন্তরালেই রয়েছে সমাধান। এ খেলার জয়-পরাজয়ের পয়েন্ট তালিকা ধরে শুধু উন্নয়নের শিকড় খোঁজার এ প্রচেষ্টা।

ড. মো. মামুনুর রশীদ : অধ্যাপক, প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর

করোনাকালে টেকসই কৃষি উন্নয়নের গতিপথ

 ড. মো. মামুনুর রশীদ 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খোলা হাওয়াই কৃষির উপযোগী। পানি, বাতাস, আলো, মাটি ইত্যাদিই উদ্ভিদের প্রাণ-প্রকৌশল। মানুষ পৃথিবীতে না থাকলেও এদের কিছুই যায় আসে না। বটবৃক্ষের শিকড়ে কখনও জল সেচন পড়ে না, তবুও এর বাড়-বাড়তি নজরকাড়া। সহজ কথায়- এটা পরম সত্য যে, মানুষের জন্য উদ্ভিদ অপরিহার্য, উদ্ভিদের জন্য মানুষ প্রয়োজনীয় নয়। তবে উদ্ভিদ নিজের জীবনকে স্রষ্টার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে উৎসর্গ করে মানুষকে। মানুষ মহান ও সৃষ্টির সেরা বলে কথা! খোলাখুলিভাবে তাই তৃণ ও উদ্ভিদের কাছে মানুষের জবাবদিহিতার প্রশ্ন, অবশ্য পরিত্রাণের উপায় হল মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করা।

ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত মানুষের চিকিৎসা ছিল সম্পূর্ণ উদ্ভিদনির্ভর। আর উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরাই ছিলেন চিকিৎসক। আজ অবধি ওষুধের মৌলিক উপকরণ ঔষধি উদ্ভিদ। খাদ্য, পুষ্টি, পোশাক ও চিকিৎসা চাহিদার ক্ষেত্রেও কৃষি অভিভাবক কর্তা। এটা অনেকটাই সত্য যে, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মানুষ গৃহ অপেক্ষা কৃষি ক্ষেতে অধিক সময় থাকত, প্রচুর লোককে মাঠে কাজ করতে দেখা যেত। পাকিস্তানি সেনারা মাঠে কম যেত। এ দুর্যোগকালে খাদ্যাভাব ছিল না। স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ও পরে দুর্ভিক্ষ দেখা গেছে। করোনায় লকডাউন থাকলেও কৃষির ক্ষেত্রে তা ছিল না, তাই খোলা মাঠে কৃষি খেলছে ভালো। পানি, বাতাস, আলো ও মাটি করোনায় ভয় পায় না। এবার কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় আমাদের কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেটা ভিন্ন বিষয়।

অর্থাৎ, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও বিশ্বব্যাপী করোনাযুদ্ধে এ দেশে খাদ্য উৎপাদনের প্রচলিত ধারা বিদ্যমান ছিল এবং আপৎকালীন মানুষের সেবায় কাঙ্ক্ষিত গতিময়তা দেখিয়েছে। কিন্তু সে জন্য কি এ সেক্টর বিশেষ প্রায়োরিটিতে বা সম্মানে আছে? ভৌগোলিক ও ঋতু বৈচিত্র্যে কৃষিই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নিরাপদ মেডিসিন। অধিকন্তু বাণিজ্যিক সংজ্ঞার্থে এ দেশে ‘কৃষি একটি উচ্চ পরম সুবিধা খাত, যেখানে কোনো একজন কৃষক/উদ্যোক্তা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিপুণ দক্ষতার সঙ্গে স্বল্প খরচ, সহজ, তাৎক্ষণিক ও ক্রমাগত সেবা বিনিয়োগ করে জুতসই কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং সরাসরি বিক্রয় অথবা রফতানি দ্বারা অর্থ আয়সহ নিজেদের নানা সমন্বিত প্রয়োজন মেটায়।’ এখানে যে সর্বজনবিদিত গোপনীয়তা তা হল- কৃষি পরহিতে পরিচালিত, জীবে-জীবে সম্পর্কিত, স্রষ্টায় সমর্পিত এবং কৃষকের মনের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা, যেখানে সর্বদা তাদের কানে কানে প্রাণের বার্তা বাজে- ‘ভুল পথে যেও না’। এতে অর্থবিত্ত উপার্জন ধীরগতিতে প্রবাহিত হয় বিধায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমাজে ভারসাম্যে রাখে এবং তুলনামূলক বিচারে তাকে অপরাধশূন্য করতে পারে। তাছাড়া শিক্ষণ ও দায়িত্ববোধ পদ্ধতি গুরুগৃহ প্রকৃতির-আজন্ম সমাজে ও পরিবারের পরিচিত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জীবনমুখী দক্ষতার চূড়ান্ত ধাপে উন্নীত হয়, যা অন্য কোনোভাবেই সম্ভব নহে। কৃষিব্যবস্থা কর্তব্যনিষ্ঠায়- ঠিক যেমন এক রাজা রাজকার্যের ব্যস্ততার মাঝে মৃত্যুবরণ করার সময় বলেছিলেন, জলদি করো, কোনো কাজ যদি বাকি থাকে, নিয়ে আসো! দৃষ্টান্তগুলো ভেবে দেখুন, কী রকম খেলে কৃষি!

কৃষির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সংযোগ কোথায়? প্রথমত, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে নিয়মিত। অধিকন্তু কোভিড ব্যবস্থাপনায় কৃষি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বল্প ত্রুটি সূচকে আছে। খোলা হাওয়ায় ব্যক্তির অর্জিত ধারাবাহিক বংশগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, উচ্চ পরিবেশগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নিম্ন ঘনমাত্রার করোনা অণুর কারণে গ্রামীণ পরিবেশে কোভিড সংক্রমণ তুলনামূলক বিচারে নিম্নমাত্রায় দেখা যাচ্ছে (কিছু করোনার জন্য অনুপ্রবেশ দায়ী)। দূষণমুক্ত খোলা-হাওয়া, পরিবেশবান্ধব কৃষিশ্রম, উন্মুক্ত সূর্যালোক, প্রকৃতিমুখো নানা সেবা, দ্রুত শয়ন ও শয্যাত্যাগ, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, পরিচিত সুরক্ষাব্যবস্থা, দৃঢ় সামাজিক বিশ্বাস, সাদাসিধে জীবনশৈলী, প্রয়োজনীয় টাটকা খাবার গ্রহণ, স্থানভেদে ঔষধি খাবার যেমন আজওয়া খেজুর, মেথি, গার্ডেন ক্রেস, জাফরান, দারুচিনি, অলিভওয়েল, মধু, কালিজিরা, পুদিনা, আদা, রসুন, হলুদ, তীনফল, গোলমরিচ, সিরকা, লেবু ইত্যাদি কৃষিজ দ্রব্য আজ অবধি কোভিড রোগ প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব পণ্য রোগ নিরাময়ে ও এক ধরনের ভীতি দূরীকরণেও কাজ করছে। নিঃসন্দেহে সুস্পষ্ট দিবা-নিশি সামঞ্জস্যে খাওয়া, ত্রুটিহীন ও উৎফুল্ল কৃষি শ্রম, ভাবনাহীন ঘুমানো এবং উদ্ভিদ-প্রাণির নিবিড় আন্তঃসম্পর্ক বা সংযোগ ইত্যাদি সুস্থ জীবনের ধারণা দেয়।

কথায় বলে, ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই জ্ঞানীর কাজ। কোভিডে ক্ষতি বেশি না ভীতি? আগস্ট ২০২০ অবধি বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত ছিল শতকরা আনুমানিক ০.১৮ জন (আক্রান্ত তিন লাখ ধরে) আর ভীতিতে আচ্ছাদিত ছিল ১৬-১৭ কোটি (৯৯.৮২ শতাংশ)। তবে ভীতিতে ঠিক এত লোক হবে না, বাদ পড়বে গ্রামের সাধারণ কৃষি কাজে যুক্ত মানুষ, আল্লাহর তাওয়াক্কুলে বিশ্বাসীরা, যারা সতর্কও বটে আর কিছু সাধারণ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। একটি সুপ্রসিদ্ধ হাদিস হল- ‘ইন্নামাল আমালু বিন নিয়াত’ অর্থাৎ পরিকল্পনা সাপেক্ষেই তার সব কর্ম। বিশ্লেষণে দেখা যায়, করোনা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক কাঙ্ক্ষিত কিছু পরিবর্তন এনেছে। পরিবেশেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। গৃহে অবস্থানের কারণে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে, পরস্পরকে জানার বা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিবেশে মানুষের দ্বারা ক্ষতি ও বিভিন্নমুখী অপরাধ সম্ভাবনাও কমে এসেছে। তাতে নানা ধরনের মুক্ত পোকামাকড়, জীবজন্তু ও পাখির আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত বৃক্ষ কর্তন ও রোপণ উভয়ই কম হচ্ছে, এতে ভারসাম্য অবস্থা তৈরি হচ্ছে। অফিসের নামে ব্যক্তিস্বার্থে ও অহেতুক ভ্রমণ এবং অপ্রয়োজনীয় কর্ম, পীড়ন ও অর্থব্যয় হ্রাস পেয়েছে। ঝগড়া, দ্বন্দ্ব, অবৈধ অর্থ উপার্জন ও হত্যার গড় কিছুটা নিম্নমুখী সূচকে আছে। দেখা গেছে এবার বর্ষাকালের ভিন্ন সূক্ষ্ম সাজন- মেঘেদের সাদা-নীল-কালো শাড়ি উড়িয়ে মুক্ত আকাশে সশব্দে ঘুরে বেড়ানোর অন্যরকম চঞ্চলতা, দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ঝেড়ে বর্ষার নিজ রূপ প্রকাশ। পরিবেশে তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহে কিছুটা ভিন্ন ছন্দ লক্ষ করা গেছে। মাঠ ফসলে রোগের তীব্রতা কম ছিল, এমনকি মানুষের গড় রোগ আক্রমণতা হ্রাস পেয়েছে। শব্দ ও বায়ুদূষণ বেশ কম হয়েছে। অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও কৃষিতে আগের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বিদ্যমান আছে। উৎপাদনে গ্রামীণ পদ্ধতি বিরূপ পরিবেশেও টিকে থাকার বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যাপিঠে চর্চিত জ্ঞান অর্জন অপেক্ষা প্রকৃতি থেকে অর্জিত জ্ঞান টেকসই ও ফলপ্রসূ হচ্ছে। কিছু কিছু অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে সঠিকতা না থাকায় অনেকাংশে ভুল প্রমাণিতও হচ্ছে। ভুল কার্য মেলে ধরতেই এ করোনা দুর্যোগ পৃথিবীব্যাপী মানুষের মুখমণ্ডলে ঘোমটা এনেছে বা নিয়ন্ত্রণ করেছে; অর্থাৎ যা ইচ্ছা করা যাবে না বা যা ইচ্ছা বলা যাবে না। এসবও উন্নয়নের কারক।

প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু কৃষি দিয়েই কি দেশের উন্নয়ন সম্ভব? লেখার উদ্দেশ্য শুধু তা নয়, করোনায় কৃষির ভূমিকা দর্শন ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। সেখানে দর্শক ও খেলোয়াড় অপেক্ষা খেলাটা ভালো দেখতে পাওয়াই স্বাভাবিক। তবে এরূপ বহুধা ধারার প্রাকৃতিক সম্পদ দ্বারা যে উন্নয়ন সম্ভব নয়, তা-ই বা কে প্রমাণ করেছে? প্রকৃতি শান্ত বলে কথা! উদ্ভিদের জীবন আছে আর তাতে নরম একটি হৃদয়ও আছে; তাই তো তাজা ফুলে এত হাসি, এত আত্মগৌরব। চীন দেশের একটি প্রসিদ্ধ প্রবাদ হল- ‘যে মুখে হাসি নেই সে যেন আজ দোকান না খোলে’। প্রবন্ধের সহায়ক প্রবাদ- ‘পেলে দুই পয়সা খাদ্য ও ফুলে সমানে বহিবে সাধা’। প্রকৃতিগত যোগ্যতার (সৃষ্টিগতভাবে যে যোগ্যতা বর্তমান এবং উদ্দেশ্য অনুযায়ী তৈরি) প্রকাশরূপে এ জগতের সব তৃণলতা ও বৃক্ষ আল্লাহতায়ালার সামনে সেজদারত আছে, সতত আল্লাহর আনুগত্যে থেকে নিজ নিজ কর্তব্য পালনের মাধ্যমে মানুষের উপকার সাধন করে যাচ্ছে আর পৃথিবী হয়ে উঠছে ফুলে-ফলে সজ্জিত, উন্নত। এমনিভাবেই তো হল্যান্ড তাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে শুধু টিউলিপ ফুল দিয়ে। ইতিবাচক ভাইরাস সংক্রমণে জিনগত পরিবর্তন আসে টিউলিপ ফুলের পাপড়িতে, আর এ কাঙ্ক্ষিত বর্ণবৈচিত্র্য হল্যান্ডের জন্য ‘থিওরি অব অ্যাবসলুট অ্যাডভানটেজ’ হিসেবে কাজ করে। স্মরণে থাকা অতি উত্তম- ‘কৃষি পণ্য’ বিদেশ থেকে সহজে আমদানি করতে নেই, রফতানি করা গেলে জোয়ার-জলের মতো অর্র্থ উপার্জিত হতে থাকে। কারণ, রফতানিকারক দেশ যা লাভ করে, আমদানিকারক দেশ তা দ্রুত হারায়। ‘কৃষি বা গম সংজ্ঞার্থ, অ্যাবসলুট অ্যাডভানটেজ ও কোভিড পরিত্রাণ’ থেকে মূল্যায়ন করা যায় কৃষির কথা।

বিখ্যাত স্কটিস অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অ্যাডাম স্মিথ তার ‘দ্য ওয়েলথ অব নেশন্স’ গ্রন্থে জাতি গঠনের যে মৌলিক তত্ত্ব দিয়েছেন এবং তা ধরে পথ হাঁটতে বলেছেন, সেটিও কৃষি। আশ্চর্য মনে হলেও রবার্ট টি কিওসাকি তার ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ গ্রন্থে প্রকৃত সার্থক জীবন গড়তে তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে কর্মদক্ষতা অর্জনে অধিক গুরুত্ব আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান করোনার সময়ে তরুণরা পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্যোগের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। মজার ব্যাপার হল, সেখানে একমাত্র কৃষি ব্যবস্থাপনাই নিবিড় যত্নে বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের জন্ম কথা এবং জীবনব্যাপী দীর্ঘ ধারাবাহিক দক্ষতা লাভ ও সেবা প্রদানের সহজ উপায় হিসেবে আজও বিদ্যমান। সাধারণত সেবা প্রদানে কৃষি যেখানে-সেখানে, যখন-তখন বর্তমান। এমনকি এ ধারাবাহিক জীবনপথে নির্দিষ্ট একটি সমাজে বসবাসকারী মানুষের মাঝে স্বভাবের ও দক্ষতার মিল পাওয়া একটি সাধারণ ব্যাপার, অর্থাৎ এরা একে অন্যের সঙ্গে তেমন কোনো পার্থক্য করে না; ফলে ভুল আরোপিত চেতনা ছাড়া কৃষি গতির নিয়ম অনুযায়ী এরূপ সমাজে বিরোধ সৃষ্টি কম হয়। সমাজ সংহতি সুসংহত করতে করোনাকাল ধরে সে পরিবর্তনের নতুন যাত্রা শুরুর এ আহ্বান।

কৃষি আমাকে দিয়ে যা বলাতে চায় আমি ঠিক তা-ই বলেছি। তাই এ প্রেরণায় দেনামুক্ত হতে বিশ্লেষণ করেছি ‘টেকসই কৃষি উন্নয়নের গতিপথ’। সে ক্ষেত্রে কৃষিকে সঠিক স্থানে স্থাপন করা চূড়ান্তভাবেই জরুরি। এ ক্ষেত্রে চিন্তার সব ব্যবধান মেলে ধরতেই অবারিত মাঠে কৃষি-খেলার এ আয়োজন, যার অন্তরালেই রয়েছে সমাধান। এ খেলার জয়-পরাজয়ের পয়েন্ট তালিকা ধরে শুধু উন্নয়নের শিকড় খোঁজার এ প্রচেষ্টা।

ড. মো. মামুনুর রশীদ : অধ্যাপক, প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর