১৪ আগস্টেরই ধারাবাহিকতা ২৬ মার্চ
jugantor
শতফুল ফুটতে দাও
১৪ আগস্টেরই ধারাবাহিকতা ২৬ মার্চ

  ড. মাহবুব উল্লাহ্  

০৪ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় ভিন্ন ধরনের একটি দেশ। এ দেশটি দুবার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। প্রথমবার ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট এবং দ্বিতীয়বার ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের কবল থেকে। অষ্টাদশ থেকে বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল।

ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ সম্পর্কে বলা হতো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে কখনো সূর্য অস্তমিত হয় না। কারণটি নিছক ভৌগোলিক। আহ্নিক গতির ফলে পৃথিবীর সব স্থানে একসঙ্গে সূর্যোদয় হয় না, সূর্যাস্তও হয় না। ফলে দিবাময় যে কোনো সময় যে কোনো একটি বা একাধিক দেশ সূর্যালোকিত থাকত।

এ কারণেই বলা হতো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না। ১৯৪৭-এ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম, এ অর্জন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ব্রিটিশশাসিত ঔপনিবেশিক ভারতে জনগণকে অনেক লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে স্বাধীনতার জন্য। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এ স্বাধীনতার সংগ্রাম ভারতের দুটি প্রধান ধর্মের অনুসারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে করতে পারেনি।

হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল তার মূলে ছিল অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিপূর্ণ স্বাধীনতার দাবি সংগ্রামের প্রথম দিকে বা মধ্যভাগে উত্থাপিত হয়নি।

স্বাধীনতা কথাটিকে যথাসম্ভব আড়াল করার জন্য বলা হতো স্বরাজ, স্ব-শাসন ও হোমরুল (Homerule)। বাংলাদেশের ক’জন মানুষ জানে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি প্রকাশ্যে উত্থাপন করেছিলেন মওলানা হসরাত মোহানি। তিনি ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের এক অধিবেশনে এ দাবিটি উত্থাপন করেছিলেন।

তাওয়ারিখে মোতাখ্খেরিন গ্রন্থে ব্রিটিশ শাসনপূর্ব ভারতে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিবরণ লেখা হয়েছে। সুতরাং ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা কেবল ইংরেজ শাসকদের দ্বারা সৃষ্ট কোনো বিষয় নয়। তবে এ কথা সত্য যে, ইংরেজ শাসকরা ভারতবর্ষে তাদের শাসন এবং শোষণ দীর্ঘায়িত করার জন্য হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাবকে ব্যবহার করেছে।

১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভারতের শাসন ক্ষমতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনে চলে যায়। সে সময় মোরাদাবাদের কমান্ডেন্ট বললেন, Divide et empera. অর্থাৎ ভাগ করো ও শাসন করো।

ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ যেটিকে ইংরেজ ঐতিহাসিকরা সিপাহি বিদ্রোহ নামে উল্লেখ করেছেন, সেই বিদ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য একটি গুজব কাজ করেছে। গুজবটি হলো সৈন্যদের ব্যবহারের জন্য যে এনফিল্ড রাইফেলের প্রচলন করা হয়েছিল তার কার্তুজের মধ্যে শূকর ও গরুর চর্বিমিশ্রিত ছিল।

এ কার্তুজ দাঁত দিয়ে ভেঙে ব্যবহার করতে হতো। ফলে হিন্দু ও মুসলমান সিপাহিরা তাদের ধর্ম নষ্ট হওয়ার প্রবল আশঙ্কা এর মধ্যে দেখতে পেয়েছিল। ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু ও মুসলমান সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় পবিত্রতা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়। এ থেকে ইংরেজ শাসকরা এ শিক্ষা নিল যে, ভারতবর্ষের দুটি প্রধান ধর্মের অনুসারীদের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারলে তাদের পক্ষে শাসন অব্যাহত রাখা সহজ হবে।

কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের, বিশেষ করে কংগ্রেসের একচোখা নীতির ফলে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছিল। এ অবস্থার মুখে ইংরেজ শাসকরা ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা দিতে গিয়ে ভারতকে দুটি খণ্ডে বিভক্ত করা ছাড়া আর কোনো সমাধানের কথা ভাবতে পারেনি।

ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি ভিন্ন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটল এ উপমহাদেশে। সাম্প্রদায়িক বিভেদ কমিয়ে আনার জন্য কিছু চেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সফল হয়নি। ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দলে সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন অনেক প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তাদের কট্টর অবস্থানের ফলে ভারতবর্ষকে অখণ্ড রাখা যায়নি।

ইংরেজ শাসকরা যখন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার দিনক্ষণ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে তখন ঘটেছিল রক্তক্ষয়ী হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা। পাঞ্জাব, বিহার, কলকাতা ও নোয়াখালীর দাঙ্গা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। পাকিস্তান অর্জিত হয়েছিল রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে।

বর্তমান বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অংশ হিসাবে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিতি পায়। তবে এ পরিচিতি চূড়ান্তভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ। পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান যেটি রচনা করতে ৯ বছর লেগেছিল, সে সংবিধান বাতিল করা হলো ১৯৫৮’র সামরিক শাসনের ক্ষমতাবলে।

১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের পর পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ববঙ্গ বা পূর্ববাংলা নামে অভিহিত করা হতো। সরকারি দাপ্তরিক কাজেও এ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৫৬ সালে সংবিধান প্রণয়নকালে যখন পূর্ববঙ্গের নামকরণ পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত করা হলো, তখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান এ নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন। স্পষ্টতই তিনি চেয়েছিলেন এ প্রদেশের নাম পূর্ববঙ্গ রাখা হোক।

বাংলাদেশের জন্য ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের স্বাধীনতা কোনোক্রমেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এ স্বাধীনতার ফলে আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও বৃহৎ উপনিবেশবাদী শাসকের কবল থেকে মুক্ত হয়েছিলাম।

এর জন্য প্রায় ২০০ বছর লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে। করতে হয়েছে বিশাল আত্মবলিদান। বাংলাদেশ সংগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় নেতারা পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে এ কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেখ মুজিবুর রহমান বিশেষভাবে উল্লেখ্য।

১৯৪৭-এর স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের যে রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে উঠেছিল, সেই কাঠামো থেকে ইতোমধ্যে যেসব নেতার নাম এখানে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের প্রান্তিক পর্যায়ে ঠেলে দেওয়া হয়। অথচ পূর্ববঙ্গই একমাত্র প্রদেশ যেখানে ১৯৪৬-এর নির্বাচনে মুসলিম লীগ নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হয়েছিল।

মুসলিম লীগের এ বিজয়ে তৎকালীন বঙ্গীয় মুসলিম লীগের প্রগতিমনা সাধারণ সম্পাদক মরহুম আবুল হাশেমের বিরাট অবদান ছিল। আবুল হাশেম সাহেবকে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য কারারুদ্ধ করা হয়। সত্যিকার জনসংশ্লিষ্ট নেতারা বাধ্য হলেন মুসলিম লীগবিরোধী একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে। ১৯৪৯-এর ২৩ জুন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি করে প্রতিষ্ঠা করা হলো আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল।

শামসুল হককে এ দলের সম্পাদক এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এভাবে পাকিস্তানে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য শর্ত পূরণ করা হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথম ২৩ বছর রাজনৈতিকভাবে খুবই ঘটনাবহুল।

এ সময় বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বিশাল ছাত্র গণ-আন্দোলন সৃষ্টি হয়, ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের নির্বাচনী ভরাডুবি ঘটে, ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানী পাকিস্তানকে আস্সালামু আলাইকুম জানান।

অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন না দিলে পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বের হয়ে আসা অনিবার্য হয়ে উঠবে। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির পেছনে কাজ করেছে এক বিশাল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। কাগমারী সম্মেলনের পর মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেন।

এ পার্টির মূলমন্ত্র ছিল পাকিস্তানের বিভিন্ন ভাষাভাষী অঞ্চলের জন্য পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং স্বাধীন জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ। সে সময় এ পার্টিতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রখ্যাত নেতারা যোগদান করেছিলেন। অনেক নামের মধ্যে একটি নাম উচ্চারণ করলেই বোঝা যাবে দলটি কী পরিমাণ গণবান্ধব ছিল। সীমান্ত গান্ধী খান আবদুল গাফ্ফার খান এ দলের অন্যতম নেতা ছিলেন। অবশ্য তকে বেশিরভাগ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

১৯৫৯ সালের নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলে এবং ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি না হলে সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি রাষ্ট্র ক্ষমতার বিন্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হতো। এর ফলে মার্কিনিদের প্রিয় যুদ্ধজোট বাগদাদ প্যাক্ট, সিয়াটো জোট এবং পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ত।

এ পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য মার্কিনিদের প্ররোচনায় সামরিক শাসন জারি করা হয় এবং বহু রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয় এবং শাসক গোষ্ঠীর অপছন্দের নেতাদের বিরুদ্ধে এবডো আইন (EBDO) প্রয়োগ করা হয়।

এর ফলে এসব নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। পাকিস্তানের ২৩ বছরজুড়ে আন্দোলন হয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য, একটি গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের জন্য এবং নিপীড়িত জাতিসত্তার মুক্তির জন্য। এ প্রসঙ্গে ১৯৬২-এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয় স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এ সময় কিছু পূর্ব পাকিস্তানি বুদ্ধিজীবী দুই অর্থনীতির তত্ত্ব উত্থাপন করেন এবং এর যৌক্তিকতাও ব্যাখ্যা করেন।

এ ছাড়া সমাজতন্ত্রের দাবিও মুহুর্মুহু উচ্চারিত হতে থাকে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে উচ্চারিত একটি স্লোগান খুবই প্রাসঙ্গিক। স্লোগানটি ছিল, ‘কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না।’ পশ্চিম পাকিস্তানে রুটি, কাপড়া ও মাকান-এর দাবি শতসহস্র কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে। মওলানা ভাসানী আমাকে বলেছেন, তার পশ্চিম পাকিস্তান সফরের সময় ‘সোশ্যালিজম-আবেই আবে’। অনেকটা জপমন্ত্রের মতো।

পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান রাষ্ট্রটির ঐক্য ও সংহতির জন্য ছিল এক বিশাল অন্তরায়। এ ব্যাপারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একটি উক্তি খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের সংহতির জন্য মাত্র দুটি দুর্বল সূত্র আছে। এর একটি হলো PIA বিমান এবং অন্যটি হলো স্বয়ং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৭০-এর নির্বাচনের পর পাকিস্তানি জেনারেলরা কল্পনাতীত অবস্থার মুখোমুখি হয়ে পড়ে।

এরা ভাবতে পারেনি আওয়ামী লীগের এত বিশাল জয় হবে। সে নির্বাচনের বিজয় নস্যাৎ করার জন্য ২৫ ও ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর মধ্যরাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা শুরু করে।

এ গণহত্যাকে প্রতিরোধের জন্য মেজর জিয়া উই রিভল্ট উচ্চারণ করে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠনিক সূচনা করেন। স্বাধীনতার পর সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন, তিনি ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছিলেন। বীরের রক্তস্রোত ও মায়ের অশ্রুধারার মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের। ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট যদি না ঘটত, ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর আসত না।

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

শতফুল ফুটতে দাও

১৪ আগস্টেরই ধারাবাহিকতা ২৬ মার্চ

 ড. মাহবুব উল্লাহ্ 
০৪ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় ভিন্ন ধরনের একটি দেশ। এ দেশটি দুবার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। প্রথমবার ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট এবং দ্বিতীয়বার ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের কবল থেকে। অষ্টাদশ থেকে বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল।

ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ সম্পর্কে বলা হতো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে কখনো সূর্য অস্তমিত হয় না। কারণটি নিছক ভৌগোলিক। আহ্নিক গতির ফলে পৃথিবীর সব স্থানে একসঙ্গে সূর্যোদয় হয় না, সূর্যাস্তও হয় না। ফলে দিবাময় যে কোনো সময় যে কোনো একটি বা একাধিক দেশ সূর্যালোকিত থাকত।

এ কারণেই বলা হতো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না। ১৯৪৭-এ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম, এ অর্জন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ব্রিটিশশাসিত ঔপনিবেশিক ভারতে জনগণকে অনেক লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে স্বাধীনতার জন্য। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এ স্বাধীনতার সংগ্রাম ভারতের দুটি প্রধান ধর্মের অনুসারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে করতে পারেনি।

হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল তার মূলে ছিল অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পার্থক্য। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিপূর্ণ স্বাধীনতার দাবি সংগ্রামের প্রথম দিকে বা মধ্যভাগে উত্থাপিত হয়নি।

স্বাধীনতা কথাটিকে যথাসম্ভব আড়াল করার জন্য বলা হতো স্বরাজ, স্ব-শাসন ও হোমরুল (Homerule)। বাংলাদেশের ক’জন মানুষ জানে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি প্রকাশ্যে উত্থাপন করেছিলেন মওলানা হসরাত মোহানি। তিনি ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের এক অধিবেশনে এ দাবিটি উত্থাপন করেছিলেন।

তাওয়ারিখে মোতাখ্খেরিন গ্রন্থে ব্রিটিশ শাসনপূর্ব ভারতে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিবরণ লেখা হয়েছে। সুতরাং ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িকতা কেবল ইংরেজ শাসকদের দ্বারা সৃষ্ট কোনো বিষয় নয়। তবে এ কথা সত্য যে, ইংরেজ শাসকরা ভারতবর্ষে তাদের শাসন এবং শোষণ দীর্ঘায়িত করার জন্য হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাবকে ব্যবহার করেছে।

১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ভারতের শাসন ক্ষমতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনে চলে যায়। সে সময় মোরাদাবাদের কমান্ডেন্ট বললেন, Divide et empera. অর্থাৎ ভাগ করো ও শাসন করো।

ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ যেটিকে ইংরেজ ঐতিহাসিকরা সিপাহি বিদ্রোহ নামে উল্লেখ করেছেন, সেই বিদ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য একটি গুজব কাজ করেছে। গুজবটি হলো সৈন্যদের ব্যবহারের জন্য যে এনফিল্ড রাইফেলের প্রচলন করা হয়েছিল তার কার্তুজের মধ্যে শূকর ও গরুর চর্বিমিশ্রিত ছিল।

এ কার্তুজ দাঁত দিয়ে ভেঙে ব্যবহার করতে হতো। ফলে হিন্দু ও মুসলমান সিপাহিরা তাদের ধর্ম নষ্ট হওয়ার প্রবল আশঙ্কা এর মধ্যে দেখতে পেয়েছিল। ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দু ও মুসলমান সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় পবিত্রতা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়। এ থেকে ইংরেজ শাসকরা এ শিক্ষা নিল যে, ভারতবর্ষের দুটি প্রধান ধর্মের অনুসারীদের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারলে তাদের পক্ষে শাসন অব্যাহত রাখা সহজ হবে।

কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের, বিশেষ করে কংগ্রেসের একচোখা নীতির ফলে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছিল। এ অবস্থার মুখে ইংরেজ শাসকরা ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা দিতে গিয়ে ভারতকে দুটি খণ্ডে বিভক্ত করা ছাড়া আর কোনো সমাধানের কথা ভাবতে পারেনি।

ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি ভিন্ন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটল এ উপমহাদেশে। সাম্প্রদায়িক বিভেদ কমিয়ে আনার জন্য কিছু চেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সফল হয়নি। ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দলে সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন অনেক প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তাদের কট্টর অবস্থানের ফলে ভারতবর্ষকে অখণ্ড রাখা যায়নি।

ইংরেজ শাসকরা যখন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার দিনক্ষণ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে তখন ঘটেছিল রক্তক্ষয়ী হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা। পাঞ্জাব, বিহার, কলকাতা ও নোয়াখালীর দাঙ্গা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। পাকিস্তান অর্জিত হয়েছিল রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে।

বর্তমান বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অংশ হিসাবে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিতি পায়। তবে এ পরিচিতি চূড়ান্তভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ। পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান যেটি রচনা করতে ৯ বছর লেগেছিল, সে সংবিধান বাতিল করা হলো ১৯৫৮’র সামরিক শাসনের ক্ষমতাবলে।

১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের পর পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ববঙ্গ বা পূর্ববাংলা নামে অভিহিত করা হতো। সরকারি দাপ্তরিক কাজেও এ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৫৬ সালে সংবিধান প্রণয়নকালে যখন পূর্ববঙ্গের নামকরণ পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত করা হলো, তখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান এ নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন। স্পষ্টতই তিনি চেয়েছিলেন এ প্রদেশের নাম পূর্ববঙ্গ রাখা হোক।

বাংলাদেশের জন্য ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের স্বাধীনতা কোনোক্রমেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এ স্বাধীনতার ফলে আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও বৃহৎ উপনিবেশবাদী শাসকের কবল থেকে মুক্ত হয়েছিলাম।

এর জন্য প্রায় ২০০ বছর লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে। করতে হয়েছে বিশাল আত্মবলিদান। বাংলাদেশ সংগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় নেতারা পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে এ কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেখ মুজিবুর রহমান বিশেষভাবে উল্লেখ্য।

১৯৪৭-এর স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের যে রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে উঠেছিল, সেই কাঠামো থেকে ইতোমধ্যে যেসব নেতার নাম এখানে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের প্রান্তিক পর্যায়ে ঠেলে দেওয়া হয়। অথচ পূর্ববঙ্গই একমাত্র প্রদেশ যেখানে ১৯৪৬-এর নির্বাচনে মুসলিম লীগ নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হয়েছিল।

মুসলিম লীগের এ বিজয়ে তৎকালীন বঙ্গীয় মুসলিম লীগের প্রগতিমনা সাধারণ সম্পাদক মরহুম আবুল হাশেমের বিরাট অবদান ছিল। আবুল হাশেম সাহেবকে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য কারারুদ্ধ করা হয়। সত্যিকার জনসংশ্লিষ্ট নেতারা বাধ্য হলেন মুসলিম লীগবিরোধী একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে। ১৯৪৯-এর ২৩ জুন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি করে প্রতিষ্ঠা করা হলো আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল।

শামসুল হককে এ দলের সম্পাদক এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এভাবে পাকিস্তানে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য শর্ত পূরণ করা হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথম ২৩ বছর রাজনৈতিকভাবে খুবই ঘটনাবহুল।

এ সময় বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বিশাল ছাত্র গণ-আন্দোলন সৃষ্টি হয়, ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের নির্বাচনী ভরাডুবি ঘটে, ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানী পাকিস্তানকে আস্সালামু আলাইকুম জানান।

অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন না দিলে পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বের হয়ে আসা অনিবার্য হয়ে উঠবে। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির পেছনে কাজ করেছে এক বিশাল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। কাগমারী সম্মেলনের পর মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেন।

এ পার্টির মূলমন্ত্র ছিল পাকিস্তানের বিভিন্ন ভাষাভাষী অঞ্চলের জন্য পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং স্বাধীন জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ। সে সময় এ পার্টিতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রখ্যাত নেতারা যোগদান করেছিলেন। অনেক নামের মধ্যে একটি নাম উচ্চারণ করলেই বোঝা যাবে দলটি কী পরিমাণ গণবান্ধব ছিল। সীমান্ত গান্ধী খান আবদুল গাফ্ফার খান এ দলের অন্যতম নেতা ছিলেন। অবশ্য তকে বেশিরভাগ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

১৯৫৯ সালের নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলে এবং ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি না হলে সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি রাষ্ট্র ক্ষমতার বিন্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হতো। এর ফলে মার্কিনিদের প্রিয় যুদ্ধজোট বাগদাদ প্যাক্ট, সিয়াটো জোট এবং পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ত।

এ পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য মার্কিনিদের প্ররোচনায় সামরিক শাসন জারি করা হয় এবং বহু রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয় এবং শাসক গোষ্ঠীর অপছন্দের নেতাদের বিরুদ্ধে এবডো আইন (EBDO) প্রয়োগ করা হয়।

এর ফলে এসব নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। পাকিস্তানের ২৩ বছরজুড়ে আন্দোলন হয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য, একটি গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের জন্য এবং নিপীড়িত জাতিসত্তার মুক্তির জন্য। এ প্রসঙ্গে ১৯৬২-এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয় স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এ সময় কিছু পূর্ব পাকিস্তানি বুদ্ধিজীবী দুই অর্থনীতির তত্ত্ব উত্থাপন করেন এবং এর যৌক্তিকতাও ব্যাখ্যা করেন।

এ ছাড়া সমাজতন্ত্রের দাবিও মুহুর্মুহু উচ্চারিত হতে থাকে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে উচ্চারিত একটি স্লোগান খুবই প্রাসঙ্গিক। স্লোগানটি ছিল, ‘কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না।’ পশ্চিম পাকিস্তানে রুটি, কাপড়া ও মাকান-এর দাবি শতসহস্র কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে। মওলানা ভাসানী আমাকে বলেছেন, তার পশ্চিম পাকিস্তান সফরের সময় ‘সোশ্যালিজম-আবেই আবে’। অনেকটা জপমন্ত্রের মতো।

পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান রাষ্ট্রটির ঐক্য ও সংহতির জন্য ছিল এক বিশাল অন্তরায়। এ ব্যাপারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একটি উক্তি খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের সংহতির জন্য মাত্র দুটি দুর্বল সূত্র আছে। এর একটি হলো PIA বিমান এবং অন্যটি হলো স্বয়ং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৭০-এর নির্বাচনের পর পাকিস্তানি জেনারেলরা কল্পনাতীত অবস্থার মুখোমুখি হয়ে পড়ে।

এরা ভাবতে পারেনি আওয়ামী লীগের এত বিশাল জয় হবে। সে নির্বাচনের বিজয় নস্যাৎ করার জন্য ২৫ ও ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর মধ্যরাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা শুরু করে।

এ গণহত্যাকে প্রতিরোধের জন্য মেজর জিয়া উই রিভল্ট উচ্চারণ করে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠনিক সূচনা করেন। স্বাধীনতার পর সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন, তিনি ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছিলেন। বীরের রক্তস্রোত ও মায়ের অশ্রুধারার মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের। ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট যদি না ঘটত, ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর আসত না।

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন