বাঁশ, বাঁশি, বাঁশাবাঁশি ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ
jugantor
বাঁশ, বাঁশি, বাঁশাবাঁশি ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ

  বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ  

০৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘বিষের বাঁশি’ গীতিকাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় লিখছেন, ‘বাঁশে ও বাঁশিতে বাঁশাবাঁশি লাগলে বাঁশিরই ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কেননা, বাঁশি হচ্ছে সুরের, আর বাঁশ হচ্ছে অসুরের!’ অসুরের কাছে সুরের আরেকটা মর্মান্তিক পরাজয় দেখলাম গত ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

সেদিন ধর্মান্ধ দল, সুযোগের সদ্ব্যবহারকারী দোসররা বাঁশের চেয়েও মারাত্মক হাতিয়ারসজ্জিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করেছে ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’। এই প্রথমবার যে সংগীত কেন্দ্রটি অসুরের দলের রোষানলে দগ্ধ হয়েছে তা নয়, ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারিতেও সেখানে মঞ্চস্থ হয়েছিল তাদের সাগ্নিক তাণ্ডব নৃত্য।

ধ্বংসলীলার পুনরাবৃত্তির ফলে এ আশঙ্কা হচ্ছে যে, যার নামে ওই সংগীতাঙ্গন সেই মহান সংগীত কলাকারকে আমরা কজনে চিনি বা জানি। তাই আগে তার সম্বন্ধে দুটো কথা। সংগীত জগতের অমর শিল্পী কিংবদন্তিতুল্য ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। তিনি প্রথম বাঙালি যিনি সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যে এই উপমহাদেশের রাগসংগীতকে পরিচিতি ও প্রচারণা দান করেন। তিনি সংগীতজগতে এক নতুন ঘরানার প্রবর্তন করেন, যা ‘আলাউদ্দিন ঘরানা’ বা শ্রেণি ‘মাইহার ঘরানা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

তিনি অনেক রাগরাগিণী সৃষ্টি করেন, যেমন: হেমন্ত, দুর্গেশ্বরী, মেঘবাহার, প্রভাতকেলী, মোহাম্মদ (আরাধনা) ইত্যাদি। তিনি ছিলেন সর্ববাদ্য বিশারদ। প্রধানত সরোদ বাজানোতে বিখ্যাত হলেও তিনি বাঁশি, পিকলু, সেতার, ম্যান্ডোলিন, ব্যাঞ্জো, ভায়োলিন ইত্যাদি দেশি-বিদেশি বাদ্যযন্ত্র সমান দক্ষতার সঙ্গে বাজাতেন। আলাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে কয়েকটি নতুন বাদ্যযন্ত্র উদ্ভাবিত হয়, তন্মধ্যে ‘চন্দ্রসারং’ ও ‘সুরশৃঙ্গার’ উল্লেখযোগ্য।

ভায়োলিন শব্দের বাংলা তিনি করেছিলেন বাহুলীন, যেহেতু তা শিল্পীর বাহুতে লীন হয়ে থাকে। এই তাবৎ সৃজনশীলতা অর্জনে আলাউদ্দিনের সাধনার কাহিনি উপন্যাসের কল্পচরিত্রকেও হার মানায়। আহমদ ছফা লিখছেন, ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের সাধনায় ভারতীয় ধ্রুপদ সংগীতের একটি বিশেষ শাখা এমন পরিপ্লুতি, এমন পরিশ্রুতি অর্জন করেছে, সংগীত সাধনার ইতিহাসে যার তুলনা সত্যি সত্যি বিরল।

আলাউদ্দিন খানের ব্যক্তিগত জীবনের কাহিনি যেমন দুর্লঙ্ঘ্য পর্বতারোহীর দুঃসাহসিক ঊর্ধারোহণের সঙ্গে তুলনীয়, তেমনি তার সংগীত আহরণের ক্ষেত্রও বিচিত্র ও বিস্ময়কর।’ কথিত আছে, তাকে ব্রিটিশ সরকার ‘খাঁ সাহেব’ এবং রানী এলিজাবেথ ‘সুরসম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ভারত সরকার তাকে ‘সংগীত নাটক আকাদেমী সম্মান’, ‘পদ্মভূষণ’, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দেশীকোত্তম’ এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে।

নিজের সিদ্ধিকে তিনি অন্যের মাঝে সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন। তার সফল শিষ্যদের মধ্যে পুত্র ওস্তাদ আলী আকবর খান, জামাতা পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ভ্রাতুষ্পুত্র বাহাদুর হোসেন খান, কন্যা রওশন আরা বেগম (অন্নপূর্ণা), তিমির বরণ, ফুলঝুরি খান, খাদেম হোসেন খান, মীর কাশেম খান, পণ্ডিত যতীন ভট্টাচার্য, পান্নালাল ঘোষ, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, পৌত্র আশীষ খান, ধ্যানেশ খান, খুরশীদ খান, ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

এই ক্ষণজন্মা সংগীতজ্ঞ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে বিখ্যাত এক সংগীত পরিবারে আনুমানিক ১৮৬২ সালের এপ্রিল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যবয়সে ওস্তাদের কাছে বড় ভাই আফতাবউদ্দিনের সংগীত শেখার সময় বসে থাকতেন আর স্কুলে যাওয়ার নাম করে শিববাড়িতে সাধুদের ডেরায় গিয়ে গান শুনতেন। ধরা পড়ার পর মা দিলেন বেদম পিটুনি। একদিন রাতে ঘুমন্ত মার আঁচলের চাবি নিয়ে বাক্স থেকে টাকা চুরি করে বেরিয়ে গেলেন; ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে সোজা কলকাতায়।

শুরু হলো সংগীত শেখার অদম্য নেশায় আচ্ছন্ন এক সাধকের ঘটনাবহুল সফর। এক গুরু থেকে আরেক গুরুর কাছে ঘুরে ফিরেছেন সংগীতের বিবিধ কলা আয়ত্ত করার জন্য। কলকাতা, মুক্তাগাছা, রামপুর হয়ে থিতু হলেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহারে গিয়ে। বয়স ৪৫ পার হয়ে গিয়েছে তখন। আলাউদ্দিন খাঁকে মাইহারের রাজা ব্রিজনাথ সিংহ নিজের সংগীতগুরুর আসনে অধিষ্ঠিত করেন। মাইহারেই তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন; সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর।

যেসব ধর্মান্ধ দুষ্কৃতকারী ওই সংগীতাঙ্গনে বহ্ন্যুৎসব করেছে, তারা কি জানে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন। দৈনিক নামাজ পড়তেন। তখন তিনি তানসেন বংশীয় ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর কাছে সরোদ শিখছেন, তার বাসাতেই। আত্মজীবনী ‘আমার কথা’য় বলছেন, ‘সারাদিন গুরুর জুতা, হুঁকো, পানদান, মেডেল পরিষ্কার করি।

দিনের বেলা রেওয়াজ করার সময় পেতাম না। রাত্রে চারটার সময় বসতাম রেওয়াজ করতে। সকালে নামাজ পড়ে এসে মাটির হাঁড়িতে গোবর মাখিয়ে একটু চা খাওয়া হয়।’ ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণেও রয়েছে নাটকীয়তা। তার কাছে বাজনা শিখবেন, ধনুর্ভঙ্গ পণ। কিন্তু ৬ মাস ঘোরাঘুরি করেও কাজ হলো না; দারোয়ান দরোজাই পার হতে দিল না।

দুই তোলা আফিম কিনলেন, খেয়ে জীবন দিয়ে দেবেন। মসজিদে ফজরের নামাজ পড়লেন, মন খারাপের কারণ জিজ্ঞেস করলেন মৌলভী; সত্যটাই বললেন। মৌলভী বললেন, ‘হিম্মতে মর্দা, মদতে খুদা’; তিনিই তাকে বুদ্ধি বাতলে দিলেন। সেই বুদ্ধিতেই কাজ হলো। নবাবের মাধ্যমে ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর শিষ্যত্ব লাভ করলেন আলাউদ্দিন খাঁ। লক্ষণীয়, একজন মৌলভীর আনুকূল্য পেতে সেদিন অসুবিধা হয়নি বাজনা শেখার জন্য নাছোড়বান্দা একজনের।

সংগীতসাধনার সঙ্গে ধর্মচর্চাকে গুলিয়ে ফেলেননি তিনি। ১৯৩৫ সাল, বিশ্বখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের সঙ্গে তিনি ইউরোপ ভ্রমণ করছেন। পরে স্মৃতিচারণ করছেন, ‘প্যালেস্তাইন, তুর্কি, মিসর অঞ্চলের মুসলমানদের দেখে বুঝেছি আমাদের দেশের মুসলমানদের থেকে তারা কত পৃথক। মোল্লাদের লম্বা দাড়ি নেই। কিন্তু কী সুন্দর তারা কোরআন পড়ে, আজান দেয়। দেশের মোল্লাদের শিক্ষায় মনে হতো ইসলামে বুঝি সংগীতের স্থান নেই। কিন্তু ওদেশে সংগীতের অনাদর নেই।

ওদের গ্রামের ছেলেমেয়েদের কী সুন্দর সব নাচ রয়েছে!’ পবিত্র হজব্রত পালন করছিলেন, সাধারণ মানুষের মতো। সে খবর পৌঁছে যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর কানে; মাধ্যম ছিল ইন্দিরা গান্ধী, যার বান্ধবী ছিল তার কন্যা রওশন আরা অন্নপূর্ণা। নেহেরু সৌদি আরবের ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হজ করার ব্যবস্থা করে দেন।

সৌদি সরকারও গানের মানুষ বলে সেদিন আলাউদ্দিন খাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। আমাদেরই যত জ্বালা। মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানকারী একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী, যিনি মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানের কারণে কারাবরণ করেছিলেন, তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দিতে আমাদের ধ্বংসাত্মক আপত্তি, প্রাণহরণ ইত্যাদি।

ওরা কি জানে তিনি অনেক সমাজসেবামূলক কাজ করেছিলেন। ১৯৫৬ সালে আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। শিবপুর গ্রামে তিনি স্থাপত্যসৌন্দর্যমণ্ডিত একটি মসজিদ নির্মাণ করেন; কালের সাক্ষী হয়ে তা আজও দাঁড়িয়ে আছে। পানি পানের জন্য একটি পুকুর খনন করিয়ে দেন। তার পিতা সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁ ও মাতা সুন্দরী বেগমের সমাধিও সেখানে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসবাস করার ইচ্ছায় শহরের পুরোনো জেল রোডের বাড়িটি তিনি কিনে নেন।

কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার প্রত্যাবর্তন স্থায়ী হয়নি। শোনা যায়, এক আলাপচারিতায় তিনি কতিপয় সুহৃদকে বলেছিলেন, ‘জীবনযাপনের জন্য জায়গাটা এখন আর মোটেও নিরাপদ নয়।’ চলে গেলেও তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ ও আরেক ভ্রাতা নায়েবউদ্দিন খাঁকে দায়িত্ব দিলেন ওই বাড়িতে সংগীত একাডেমি করার জন্য।

আয়েত আলী খাঁ থাকতেন কুমিল্লায়, সেখান থেকে গিয়ে তিনি ওই কাজ করতেন। সেই বাড়িই এখন ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’, যেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি জাদুঘর’। এখানে কণ্ঠ, যন্ত্রসংগীত, চিত্রাঙ্কন ও নৃত্যকলা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সেই প্রতিষ্ঠানে ২০১৬ সালে হামলা হয়; আলাউদ্দিন খাঁর ব্যবহৃত সরোদ, বেহালা, সন্তুর, ব্যাঞ্জো ও সারেঙ্গি, হাতে লেখা চিঠি, হজের সময় সৌদি আরবের বাদশাহর দেওয়া জায়নামাজ, রাজা ব্রিজনাথ সিংহের দেওয়া রেওয়াজের গালিচা, দুষ্প্রাপ্য অনেক আলোকচিত্র আগুনের গ্রাসে পরিণত হয়। এ বছরের আক্রমণ আরও ভয়াবহ।

প্রতিটি কক্ষ বেছে বেছে ভাঙচুর করা হয়। ছয়টি কক্ষের মধ্যে একটি জাদুঘর, তিনটি ক্লাসরুম, মুক্ত আলোচনার সরোদ মঞ্চ, প্রশাসনিক কক্ষ ও স্টোররুমে থাকা বাদ্যযন্ত্র, চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাব সবকিছু ভেঙে তছনছ করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তার অনুসারীরা। বংশীবাদক পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া বেদনার্ত হয়ে বলেছেন, ‘এটা মানবতার মৃত্যু। ওই ধরনের ঘটনা সামাজিক কাঠামোকেই বিপর্যস্ত করে।’ পণ্ডিত যশরাজ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, ‘বাংলাদেশ সংগীত এত ভালোবাসে। সেখানে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে!’ ক’বছর আগে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগীতে অংশ নেন ওস্তাদ রশিদ খান।

ভারতের দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার ‘ওস্তাদ রশিদ খান: অ্যাটাক অন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন ইজ শকিং’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, ‘মানুষ কীভাবে এতটা নিচে নামতে পারে! যেখানে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে!’ এরা সবাই ভারতের। দুঃখজনক হচ্ছে, সেই তুলনায় বাংলাদেশের সংগীতজগৎ থেকে প্রতিবাদী উচ্চকণ্ঠ শোনা যায়নি। কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকারদের বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে; সবাই নিশ্চুপ ছিলেন।

কথা হচ্ছিল আলাউদ্দিন খাঁর যোগ্য উত্তরাধিকারী, বাংলা সংগীতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র সুরকার শেখ সাদী খানের সঙ্গে। আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল তার কণ্ঠে, ‘প্রথমবার আক্রমণকারীদের কেউ আজও সাজা পায়নি বলেই দ্বিতীয়বার আক্রমণ হয়েছে। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বংশধর হিসাবে আমাদেরকে আর ওই সংগীতাঙ্গন বা শিবপুরের আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় না’।

মুক্তিযুদ্ধে যারা সংগীত পরিচালক আলতাফ মাহমুদ ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিচার চলমান রয়েছে। কয়েকজনের ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। শুভবুদ্ধির মানুষরা দেখতে চায় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এই ন্যক্কারজনক ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে।

বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ : মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, লেখক ও গীতিকার

বাঁশ, বাঁশি, বাঁশাবাঁশি ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ

 বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ 
০৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘বিষের বাঁশি’ গীতিকাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় লিখছেন, ‘বাঁশে ও বাঁশিতে বাঁশাবাঁশি লাগলে বাঁশিরই ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কেননা, বাঁশি হচ্ছে সুরের, আর বাঁশ হচ্ছে অসুরের!’ অসুরের কাছে সুরের আরেকটা মর্মান্তিক পরাজয় দেখলাম গত ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

সেদিন ধর্মান্ধ দল, সুযোগের সদ্ব্যবহারকারী দোসররা বাঁশের চেয়েও মারাত্মক হাতিয়ারসজ্জিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করেছে ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’। এই প্রথমবার যে সংগীত কেন্দ্রটি অসুরের দলের রোষানলে দগ্ধ হয়েছে তা নয়, ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারিতেও সেখানে মঞ্চস্থ হয়েছিল তাদের সাগ্নিক তাণ্ডব নৃত্য।

ধ্বংসলীলার পুনরাবৃত্তির ফলে এ আশঙ্কা হচ্ছে যে, যার নামে ওই সংগীতাঙ্গন সেই মহান সংগীত কলাকারকে আমরা কজনে চিনি বা জানি। তাই আগে তার সম্বন্ধে দুটো কথা। সংগীত জগতের অমর শিল্পী কিংবদন্তিতুল্য ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। তিনি প্রথম বাঙালি যিনি সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যে এই উপমহাদেশের রাগসংগীতকে পরিচিতি ও প্রচারণা দান করেন। তিনি সংগীতজগতে এক নতুন ঘরানার প্রবর্তন করেন, যা ‘আলাউদ্দিন ঘরানা’ বা শ্রেণি ‘মাইহার ঘরানা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

তিনি অনেক রাগরাগিণী সৃষ্টি করেন, যেমন: হেমন্ত, দুর্গেশ্বরী, মেঘবাহার, প্রভাতকেলী, মোহাম্মদ (আরাধনা) ইত্যাদি। তিনি ছিলেন সর্ববাদ্য বিশারদ। প্রধানত সরোদ বাজানোতে বিখ্যাত হলেও তিনি বাঁশি, পিকলু, সেতার, ম্যান্ডোলিন, ব্যাঞ্জো, ভায়োলিন ইত্যাদি দেশি-বিদেশি বাদ্যযন্ত্র সমান দক্ষতার সঙ্গে বাজাতেন। আলাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে কয়েকটি নতুন বাদ্যযন্ত্র উদ্ভাবিত হয়, তন্মধ্যে ‘চন্দ্রসারং’ ও ‘সুরশৃঙ্গার’ উল্লেখযোগ্য।

ভায়োলিন শব্দের বাংলা তিনি করেছিলেন বাহুলীন, যেহেতু তা শিল্পীর বাহুতে লীন হয়ে থাকে। এই তাবৎ সৃজনশীলতা অর্জনে আলাউদ্দিনের সাধনার কাহিনি উপন্যাসের কল্পচরিত্রকেও হার মানায়। আহমদ ছফা লিখছেন, ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের সাধনায় ভারতীয় ধ্রুপদ সংগীতের একটি বিশেষ শাখা এমন পরিপ্লুতি, এমন পরিশ্রুতি অর্জন করেছে, সংগীত সাধনার ইতিহাসে যার তুলনা সত্যি সত্যি বিরল।

আলাউদ্দিন খানের ব্যক্তিগত জীবনের কাহিনি যেমন দুর্লঙ্ঘ্য পর্বতারোহীর দুঃসাহসিক ঊর্ধারোহণের সঙ্গে তুলনীয়, তেমনি তার সংগীত আহরণের ক্ষেত্রও বিচিত্র ও বিস্ময়কর।’ কথিত আছে, তাকে ব্রিটিশ সরকার ‘খাঁ সাহেব’ এবং রানী এলিজাবেথ ‘সুরসম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ভারত সরকার তাকে ‘সংগীত নাটক আকাদেমী সম্মান’, ‘পদ্মভূষণ’, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দেশীকোত্তম’ এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে।

নিজের সিদ্ধিকে তিনি অন্যের মাঝে সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন। তার সফল শিষ্যদের মধ্যে পুত্র ওস্তাদ আলী আকবর খান, জামাতা পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ভ্রাতুষ্পুত্র বাহাদুর হোসেন খান, কন্যা রওশন আরা বেগম (অন্নপূর্ণা), তিমির বরণ, ফুলঝুরি খান, খাদেম হোসেন খান, মীর কাশেম খান, পণ্ডিত যতীন ভট্টাচার্য, পান্নালাল ঘোষ, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, পৌত্র আশীষ খান, ধ্যানেশ খান, খুরশীদ খান, ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

এই ক্ষণজন্মা সংগীতজ্ঞ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে বিখ্যাত এক সংগীত পরিবারে আনুমানিক ১৮৬২ সালের এপ্রিল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যবয়সে ওস্তাদের কাছে বড় ভাই আফতাবউদ্দিনের সংগীত শেখার সময় বসে থাকতেন আর স্কুলে যাওয়ার নাম করে শিববাড়িতে সাধুদের ডেরায় গিয়ে গান শুনতেন। ধরা পড়ার পর মা দিলেন বেদম পিটুনি। একদিন রাতে ঘুমন্ত মার আঁচলের চাবি নিয়ে বাক্স থেকে টাকা চুরি করে বেরিয়ে গেলেন; ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে সোজা কলকাতায়।

শুরু হলো সংগীত শেখার অদম্য নেশায় আচ্ছন্ন এক সাধকের ঘটনাবহুল সফর। এক গুরু থেকে আরেক গুরুর কাছে ঘুরে ফিরেছেন সংগীতের বিবিধ কলা আয়ত্ত করার জন্য। কলকাতা, মুক্তাগাছা, রামপুর হয়ে থিতু হলেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহারে গিয়ে। বয়স ৪৫ পার হয়ে গিয়েছে তখন। আলাউদ্দিন খাঁকে মাইহারের রাজা ব্রিজনাথ সিংহ নিজের সংগীতগুরুর আসনে অধিষ্ঠিত করেন। মাইহারেই তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন; সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর।

যেসব ধর্মান্ধ দুষ্কৃতকারী ওই সংগীতাঙ্গনে বহ্ন্যুৎসব করেছে, তারা কি জানে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন। দৈনিক নামাজ পড়তেন। তখন তিনি তানসেন বংশীয় ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর কাছে সরোদ শিখছেন, তার বাসাতেই। আত্মজীবনী ‘আমার কথা’য় বলছেন, ‘সারাদিন গুরুর জুতা, হুঁকো, পানদান, মেডেল পরিষ্কার করি।

দিনের বেলা রেওয়াজ করার সময় পেতাম না। রাত্রে চারটার সময় বসতাম রেওয়াজ করতে। সকালে নামাজ পড়ে এসে মাটির হাঁড়িতে গোবর মাখিয়ে একটু চা খাওয়া হয়।’ ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণেও রয়েছে নাটকীয়তা। তার কাছে বাজনা শিখবেন, ধনুর্ভঙ্গ পণ। কিন্তু ৬ মাস ঘোরাঘুরি করেও কাজ হলো না; দারোয়ান দরোজাই পার হতে দিল না।

দুই তোলা আফিম কিনলেন, খেয়ে জীবন দিয়ে দেবেন। মসজিদে ফজরের নামাজ পড়লেন, মন খারাপের কারণ জিজ্ঞেস করলেন মৌলভী; সত্যটাই বললেন। মৌলভী বললেন, ‘হিম্মতে মর্দা, মদতে খুদা’; তিনিই তাকে বুদ্ধি বাতলে দিলেন। সেই বুদ্ধিতেই কাজ হলো। নবাবের মাধ্যমে ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর শিষ্যত্ব লাভ করলেন আলাউদ্দিন খাঁ। লক্ষণীয়, একজন মৌলভীর আনুকূল্য পেতে সেদিন অসুবিধা হয়নি বাজনা শেখার জন্য নাছোড়বান্দা একজনের।

সংগীতসাধনার সঙ্গে ধর্মচর্চাকে গুলিয়ে ফেলেননি তিনি। ১৯৩৫ সাল, বিশ্বখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের সঙ্গে তিনি ইউরোপ ভ্রমণ করছেন। পরে স্মৃতিচারণ করছেন, ‘প্যালেস্তাইন, তুর্কি, মিসর অঞ্চলের মুসলমানদের দেখে বুঝেছি আমাদের দেশের মুসলমানদের থেকে তারা কত পৃথক। মোল্লাদের লম্বা দাড়ি নেই। কিন্তু কী সুন্দর তারা কোরআন পড়ে, আজান দেয়। দেশের মোল্লাদের শিক্ষায় মনে হতো ইসলামে বুঝি সংগীতের স্থান নেই। কিন্তু ওদেশে সংগীতের অনাদর নেই।

ওদের গ্রামের ছেলেমেয়েদের কী সুন্দর সব নাচ রয়েছে!’ পবিত্র হজব্রত পালন করছিলেন, সাধারণ মানুষের মতো। সে খবর পৌঁছে যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর কানে; মাধ্যম ছিল ইন্দিরা গান্ধী, যার বান্ধবী ছিল তার কন্যা রওশন আরা অন্নপূর্ণা। নেহেরু সৌদি আরবের ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হজ করার ব্যবস্থা করে দেন।

সৌদি সরকারও গানের মানুষ বলে সেদিন আলাউদ্দিন খাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। আমাদেরই যত জ্বালা। মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানকারী একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী, যিনি মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানের কারণে কারাবরণ করেছিলেন, তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদা দিতে আমাদের ধ্বংসাত্মক আপত্তি, প্রাণহরণ ইত্যাদি।

ওরা কি জানে তিনি অনেক সমাজসেবামূলক কাজ করেছিলেন। ১৯৫৬ সালে আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। শিবপুর গ্রামে তিনি স্থাপত্যসৌন্দর্যমণ্ডিত একটি মসজিদ নির্মাণ করেন; কালের সাক্ষী হয়ে তা আজও দাঁড়িয়ে আছে। পানি পানের জন্য একটি পুকুর খনন করিয়ে দেন। তার পিতা সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁ ও মাতা সুন্দরী বেগমের সমাধিও সেখানে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসবাস করার ইচ্ছায় শহরের পুরোনো জেল রোডের বাড়িটি তিনি কিনে নেন।

কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার প্রত্যাবর্তন স্থায়ী হয়নি। শোনা যায়, এক আলাপচারিতায় তিনি কতিপয় সুহৃদকে বলেছিলেন, ‘জীবনযাপনের জন্য জায়গাটা এখন আর মোটেও নিরাপদ নয়।’ চলে গেলেও তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ ও আরেক ভ্রাতা নায়েবউদ্দিন খাঁকে দায়িত্ব দিলেন ওই বাড়িতে সংগীত একাডেমি করার জন্য।

আয়েত আলী খাঁ থাকতেন কুমিল্লায়, সেখান থেকে গিয়ে তিনি ওই কাজ করতেন। সেই বাড়িই এখন ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন’, যেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি জাদুঘর’। এখানে কণ্ঠ, যন্ত্রসংগীত, চিত্রাঙ্কন ও নৃত্যকলা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সেই প্রতিষ্ঠানে ২০১৬ সালে হামলা হয়; আলাউদ্দিন খাঁর ব্যবহৃত সরোদ, বেহালা, সন্তুর, ব্যাঞ্জো ও সারেঙ্গি, হাতে লেখা চিঠি, হজের সময় সৌদি আরবের বাদশাহর দেওয়া জায়নামাজ, রাজা ব্রিজনাথ সিংহের দেওয়া রেওয়াজের গালিচা, দুষ্প্রাপ্য অনেক আলোকচিত্র আগুনের গ্রাসে পরিণত হয়। এ বছরের আক্রমণ আরও ভয়াবহ।

প্রতিটি কক্ষ বেছে বেছে ভাঙচুর করা হয়। ছয়টি কক্ষের মধ্যে একটি জাদুঘর, তিনটি ক্লাসরুম, মুক্ত আলোচনার সরোদ মঞ্চ, প্রশাসনিক কক্ষ ও স্টোররুমে থাকা বাদ্যযন্ত্র, চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাব সবকিছু ভেঙে তছনছ করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তার অনুসারীরা। বংশীবাদক পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া বেদনার্ত হয়ে বলেছেন, ‘এটা মানবতার মৃত্যু। ওই ধরনের ঘটনা সামাজিক কাঠামোকেই বিপর্যস্ত করে।’ পণ্ডিত যশরাজ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, ‘বাংলাদেশ সংগীত এত ভালোবাসে। সেখানে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে!’ ক’বছর আগে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগীতে অংশ নেন ওস্তাদ রশিদ খান।

ভারতের দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার ‘ওস্তাদ রশিদ খান: অ্যাটাক অন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন ইজ শকিং’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, ‘মানুষ কীভাবে এতটা নিচে নামতে পারে! যেখানে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে!’ এরা সবাই ভারতের। দুঃখজনক হচ্ছে, সেই তুলনায় বাংলাদেশের সংগীতজগৎ থেকে প্রতিবাদী উচ্চকণ্ঠ শোনা যায়নি। কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকারদের বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে; সবাই নিশ্চুপ ছিলেন।

কথা হচ্ছিল আলাউদ্দিন খাঁর যোগ্য উত্তরাধিকারী, বাংলা সংগীতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র সুরকার শেখ সাদী খানের সঙ্গে। আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল তার কণ্ঠে, ‘প্রথমবার আক্রমণকারীদের কেউ আজও সাজা পায়নি বলেই দ্বিতীয়বার আক্রমণ হয়েছে। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বংশধর হিসাবে আমাদেরকে আর ওই সংগীতাঙ্গন বা শিবপুরের আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় না’।

মুক্তিযুদ্ধে যারা সংগীত পরিচালক আলতাফ মাহমুদ ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিচার চলমান রয়েছে। কয়েকজনের ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। শুভবুদ্ধির মানুষরা দেখতে চায় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এই ন্যক্কারজনক ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে।

বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ : মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, লেখক ও গীতিকার

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন