গণতন্ত্রের মিছিলে যোগ দিতেই ইউরোপ সফর
jugantor
গণতন্ত্রের মিছিলে যোগ দিতেই ইউরোপ সফর

  জো বাইডেন  

০৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে বুধবার ইউরোপ যাচ্ছি। এটি এমন একটা সফর, যেখানে আমাদের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি গণতান্ত্রিক মিত্র দেশের সঙ্গে আমার বৈঠক রয়েছে।

বৈঠক রয়েছে জি-৭ভুক্ত দেশ, আমাদের মিত্র ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে আমার এই বৈঠক শেষ হবে। এমন একটা অনিশ্চয়তার মুহূর্তে বিশ্ব যখন একটা মহামারির সঙ্গে লড়ছে, তখন আমাদের মিত্র ও অংশীদের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া ও তাদের প্রতি আমেরিকার নতুন প্রতিশ্রুতির উপলব্ধি এবং সেই সঙ্গে নতুন যুগের হুমকি ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই আমার এই সফরের মূল লক্ষ্য।

বিশ্ব থেকে করোনা মহামারির অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রেই হোক আর জলবায়ু সংকট মোকাবিলাই হোক কিংবা চীন ও রাশিয়ার সরকারের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডগুলোকে প্রতিরোধ করাই হোক-সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী অবস্থান থেকে নেতৃত্ব দেবে।

আমেরিকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ও অভ্যন্তরীণ টিকাদান কৌশলের সুবাদে আমাদের অর্থনীতি গত ৪০ বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে দ্রুততর গতিতে বাড়ছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি চাকরি ও কর্মসংস্থান তৈরি করেছি। মার্কিন শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে। আমেরিকার অর্থনীতি যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে, তখন আমরা আরও শক্তিশালী এবং আরও সক্ষম হয়ে উঠব।

এই সফরে এসব এজেন্ডাই আমি প্রতি পদক্ষেপে এগিয়ে নেব। ব্রিটেনে আমাদের দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক আরও মজবুত করতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠক করব। এরপর জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেব। বিশ্বের নেতৃস্থানীয় গণতন্ত্র ও অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোট করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর এক জায়গায় বসতে পারেনি। মহামারির অবসান, স্বাস্থ্য সুরক্ষার আরও উন্নত করা এবং সর্বোপরি বৈশ্বক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারই হবে এবারের সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য। বিশ্বব্যাপী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সর্বনিম্ন ১৫% কর ধার্য করার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে একটি নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করেছেন জি-৭’র অর্থমন্ত্রীরা। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু আবার তার আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে, এক্ষেত্রে আরও উচ্চাভিলাসী সব প্রকল্পের মাধ্যমে অগ্রগতি করার সুযোগ আমাদের রয়েছে, যা একই সঙ্গে জলাবায়ু সংকট কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিতের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

বাড়িতে যেভাবে আমরা আমাদের পরিবারকে রক্ষা করি, ঠিক একইভাবে আমাদের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং শত্রুর অদৃশ্য হুমকি থেকে আমাদের জনগণকে রক্ষা করতে হবে।

এজন্য অবকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশ্বের বড় বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীনের বিকল্প হিসাবে উন্নত ডিজিটাল ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো সামনে নিয়ে আসবে, যা আরও টেকসই ও বৈশ্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে।

প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তি আমাদের বিশ্বকে তাৎপর্যভাবে পালটে দিচ্ছে। এগুলো আমাদের দুর্বলতাগুলোকেও দেখিয়ে দিচ্ছে। উদাহরস্বরূপ, র‌্যানসমওয়্যার অ্যাটাক তথা মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে সাইবার হামলা।

আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারির মতো নতুন নতুন হুমকি দেখা দিচ্ছে। প্রযুক্তির এসব হুমকি মোকাবিলায় বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, এসব প্রযুক্তি ও আবিষ্কার এবং এগুলোর ব্যবহার আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দ্বারাই চালিত হবে, কোনো একনায়কের স্বার্থে নয়।

চিরাচরিত এই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোই বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল জোটগুলোর টিকে থাকার একমাত্র ভিত্তি। ব্রাসেলসের ন্যাটো সম্মেলনে যে আর্টিকেল ৫-এর মাধ্যমে আমাদের জোট গড়ে উঠেছে, সেই আর্টিকেলের প্রতি আমি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত প্রতিশ্রুতিই নতুন করে জানাতে চাই। পাশাপাশি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সাইবার হামলার মতো হুমকিসহ প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখে আমাদের জোট শক্তিশালী ও সমুন্নত রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে চাই।

ব্রাসেলসে আমি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করব। বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেসবই আলোচনা হবে এই বৈঠকে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, চীন বা অন্য কোনো কিছু নয়-গণতন্ত্র ও উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতিই একবিংশ শতকের ব্যবসায় ও প্রযুক্তির ইতিহাস লিখবে। আমরা ইউরোপকে একটি মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে সমর্থন অব্যাহত রাখব।

এরপর আমি জেনেভায় ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করব। আমাদের বন্ধু, অংশীদার ও জোটের নেতাদের সঙ্গে উচ্চস্তরের বৈঠকের পরই এটা অনুষ্ঠিত হবে। ইউরোপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা রাশিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছি।

ইউক্রেন থেকে শুরু করে ইউরোপের সুরক্ষায় রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলা করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। এছাড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায়ও সন্দেহের অবকাশ নেই। এ বিষয়কে আমরা আমাদের স্বার্থ থেকে আলাদা করতে পারি না। পুতিন জানেন যে ভবিষ্যতের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আমি দ্বিধা করব না।

আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন একটাই-একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আমাদের জনগণের প্রকৃত সুরক্ষা দিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো কি এক কাতারে দাঁড়াতে পারবে? আমার বিশ্বাস, উত্তরটা অবশ্যই হ্যাঁ হবে। চলতি সপ্তাহে ইউরোপে বসে সেটা প্রমাণ করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।

জো বাইডেন : প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র

ভাষান্তর : জামির হোসেন, সাংবাদিক

গণতন্ত্রের মিছিলে যোগ দিতেই ইউরোপ সফর

 জো বাইডেন 
০৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে বুধবার ইউরোপ যাচ্ছি। এটি এমন একটা সফর, যেখানে আমাদের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি গণতান্ত্রিক মিত্র দেশের সঙ্গে আমার বৈঠক রয়েছে।

বৈঠক রয়েছে জি-৭ভুক্ত দেশ, আমাদের মিত্র ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে আমার এই বৈঠক শেষ হবে। এমন একটা অনিশ্চয়তার মুহূর্তে বিশ্ব যখন একটা মহামারির সঙ্গে লড়ছে, তখন আমাদের মিত্র ও অংশীদের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া ও তাদের প্রতি আমেরিকার নতুন প্রতিশ্রুতির উপলব্ধি এবং সেই সঙ্গে নতুন যুগের হুমকি ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই আমার এই সফরের মূল লক্ষ্য।

বিশ্ব থেকে করোনা মহামারির অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রেই হোক আর জলবায়ু সংকট মোকাবিলাই হোক কিংবা চীন ও রাশিয়ার সরকারের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডগুলোকে প্রতিরোধ করাই হোক-সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী অবস্থান থেকে নেতৃত্ব দেবে।

আমেরিকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ও অভ্যন্তরীণ টিকাদান কৌশলের সুবাদে আমাদের অর্থনীতি গত ৪০ বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে দ্রুততর গতিতে বাড়ছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি চাকরি ও কর্মসংস্থান তৈরি করেছি। মার্কিন শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে। আমেরিকার অর্থনীতি যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে, তখন আমরা আরও শক্তিশালী এবং আরও সক্ষম হয়ে উঠব।

এই সফরে এসব এজেন্ডাই আমি প্রতি পদক্ষেপে এগিয়ে নেব। ব্রিটেনে আমাদের দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক আরও মজবুত করতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠক করব। এরপর জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেব। বিশ্বের নেতৃস্থানীয় গণতন্ত্র ও অর্থনীতির দেশগুলোর এই জোট করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর এক জায়গায় বসতে পারেনি। মহামারির অবসান, স্বাস্থ্য সুরক্ষার আরও উন্নত করা এবং সর্বোপরি বৈশ্বক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারই হবে এবারের সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য। বিশ্বব্যাপী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সর্বনিম্ন ১৫% কর ধার্য করার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে একটি নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করেছেন জি-৭’র অর্থমন্ত্রীরা। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু আবার তার আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে, এক্ষেত্রে আরও উচ্চাভিলাসী সব প্রকল্পের মাধ্যমে অগ্রগতি করার সুযোগ আমাদের রয়েছে, যা একই সঙ্গে জলাবায়ু সংকট কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিতের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

বাড়িতে যেভাবে আমরা আমাদের পরিবারকে রক্ষা করি, ঠিক একইভাবে আমাদের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং শত্রুর অদৃশ্য হুমকি থেকে আমাদের জনগণকে রক্ষা করতে হবে।

এজন্য অবকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশ্বের বড় বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীনের বিকল্প হিসাবে উন্নত ডিজিটাল ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো সামনে নিয়ে আসবে, যা আরও টেকসই ও বৈশ্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে।

প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তি আমাদের বিশ্বকে তাৎপর্যভাবে পালটে দিচ্ছে। এগুলো আমাদের দুর্বলতাগুলোকেও দেখিয়ে দিচ্ছে। উদাহরস্বরূপ, র‌্যানসমওয়্যার অ্যাটাক তথা মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে সাইবার হামলা।

আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারির মতো নতুন নতুন হুমকি দেখা দিচ্ছে। প্রযুক্তির এসব হুমকি মোকাবিলায় বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, এসব প্রযুক্তি ও আবিষ্কার এবং এগুলোর ব্যবহার আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দ্বারাই চালিত হবে, কোনো একনায়কের স্বার্থে নয়।

চিরাচরিত এই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোই বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল জোটগুলোর টিকে থাকার একমাত্র ভিত্তি। ব্রাসেলসের ন্যাটো সম্মেলনে যে আর্টিকেল ৫-এর মাধ্যমে আমাদের জোট গড়ে উঠেছে, সেই আর্টিকেলের প্রতি আমি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত প্রতিশ্রুতিই নতুন করে জানাতে চাই। পাশাপাশি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সাইবার হামলার মতো হুমকিসহ প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখে আমাদের জোট শক্তিশালী ও সমুন্নত রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে চাই।

ব্রাসেলসে আমি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করব। বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সেসবই আলোচনা হবে এই বৈঠকে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, চীন বা অন্য কোনো কিছু নয়-গণতন্ত্র ও উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতিই একবিংশ শতকের ব্যবসায় ও প্রযুক্তির ইতিহাস লিখবে। আমরা ইউরোপকে একটি মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে সমর্থন অব্যাহত রাখব।

এরপর আমি জেনেভায় ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করব। আমাদের বন্ধু, অংশীদার ও জোটের নেতাদের সঙ্গে উচ্চস্তরের বৈঠকের পরই এটা অনুষ্ঠিত হবে। ইউরোপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা রাশিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছি।

ইউক্রেন থেকে শুরু করে ইউরোপের সুরক্ষায় রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলা করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। এছাড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায়ও সন্দেহের অবকাশ নেই। এ বিষয়কে আমরা আমাদের স্বার্থ থেকে আলাদা করতে পারি না। পুতিন জানেন যে ভবিষ্যতের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আমি দ্বিধা করব না।

আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন একটাই-একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আমাদের জনগণের প্রকৃত সুরক্ষা দিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো কি এক কাতারে দাঁড়াতে পারবে? আমার বিশ্বাস, উত্তরটা অবশ্যই হ্যাঁ হবে। চলতি সপ্তাহে ইউরোপে বসে সেটা প্রমাণ করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।

জো বাইডেন : প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র

ভাষান্তর : জামির হোসেন, সাংবাদিক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন