Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমন মন্তব্য অনভিপ্রেত

Advertisement

Icon

একেএম শামসুদ্দিন

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমন মন্তব্য অনভিপ্রেত

লক্ষ প্রাণের বিনিময় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ নামক এই স্বাধীন রাষ্ট্রটি পেয়েছি

Advertisement

‘মুক্তিযুদ্ধ’ বাঙালির জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। গৌরবময় এ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই বিশ্ব দরবারে বাঙালি যোদ্ধার জাতি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে এবং বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বাংলাদেশের এ অভ্যুদয় কোনো সহজ পথ ধরে আসেনি। লক্ষ প্রাণের বিনিময় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ নামক এই স্বাধীন রাষ্ট্রটি পেয়েছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা তাই আমাদের পরম শ্রদ্ধার পাত্র। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের গর্ব ও আমাদের অহংকার। তাদের আত্মসম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব তাই আমাদেরই নিতে হবে। তারা বীর, আমরা তাদের বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসাবে গ্রহণ করেছি। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, রাজনৈতিক স্বার্থোন্মত্ততা, দ্বন্দ্ব, হিংসা-প্রতিহিংসা আজ এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে মুক্তিযুদ্ধ এখন একটি মহলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কথায় কথায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধকে এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে যে মুক্তিযুদ্ধের মূল স্পিরিটের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই তা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমন কথাও বলা হচ্ছে যা শুনলে বক্তব্য প্রদানকারীর মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে! প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কি জেনেশুনেই এমন করছেন? নাকি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে প্রকৃত অর্থেই তাদের জ্ঞানের অভাব আছে? এমন মনে করার অবশ্য কারণও আছে। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় বসে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে গিয়ে কেউ যখন মুক্তিবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশকেই ‘ভুয়া বাহিনী’ বলে বসেন, তখন তাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত জ্ঞানের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন করা যেতেই পারে।

সেদিন ২৯ আগস্ট টেলিভিশনে দেখেছি, বাংলাদেশ সরকারের একজন মাননীয় মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ‘জেড ফোর্স’ কমান্ডার জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জেড ফোর্স নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন যা সত্যিই আপত্তিকর। তিনি বক্তব্য দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে জেড ফোর্সকে একটি ‘ভুয়া বাহিনী’ বলে অভিহিত করেছেন। মন্ত্রী হয়তো নিজেও জানেন না, মুক্তিযুদ্ধে প্রভূত অবদানকারী জেড ফোর্সকে ‘ভুয়া বাহিনী’ বলতে গিয়ে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্মুখ সারির কতশত মুক্তিযোদ্ধাকে মর্মাহত করেছেন। টেলিভিশনে তিনি বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই বলেছেন; তার ভাষায়, জিয়াউর রহমানকে প্রমাণ করতে হবে যে সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কারণ হচ্ছে তার কর্মকাণ্ডে ভারতে যাওয়া ছাড়া, ‘জেড ফোর্স’ নামের একটি ‘ভুয়া বাহিনী’ ছাড়া তার কর্মকাণ্ডে আমরা কখনো দেখি নাই যে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন। প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে অথবা ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রীর জিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকতেই পারে। জিয়ার কর্মকাণ্ডে তিনি বিক্ষুব্ধ হতেই পারেন। আইনবিরোধী কিংবা দেশবিরোধী কাজ করে জিয়া যদি কোনো অন্যায় করেই থাকেন, তাতে মন্ত্রী জিয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেই পারেন। কিন্তু তাই বলে জিয়ার ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে গিয়ে মুক্তিবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা ফোর্সকে তিনি ‘ভুয়া বাহিনী’ বলতে পারেন না। তিনি যে জেড ফোর্সকে ভুয়া বাহিনী বলছেন, তিনি কি জানেন, সম্মুখযুদ্ধে এই জেড ফোর্সের কতশত মুক্তিযোদ্ধা অকাতরে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন? প্রশ্ন হচ্ছে, মন্ত্রীর ভাষায়, ‘জেড ফোর্স’ যদি ভুয়া বাহিনীই হয়ে থাকে, তাহলে এসব শহিদ মুক্তিযোদ্ধাও কি ভুয়া হয়ে যান? ব্যক্তিগত খেদ বা রাজনৈতিক অভিলাষে কাউকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে মন্ত্রী মহোদয় জিয়াকে অপমানিত করতে পারেন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তিনি শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করতে পারেন না। সে অধিকার তাকে কেউ দেয়নি।

কোনো বাহিনী বা ফোর্স সম্পর্কে কিছু বলার আগে সে ফোর্স সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা উচিত। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ফোর্স সদস্যদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও বিস্তারিত ধারণা থাকা উচিত। এভাবে আবেগতাড়িত হয়ে কথা বলা ঠিক নয়। আমার ধারণা, মন্ত্রী নিশ্চয়ই জানেন যে, মুক্তিযুদ্ধের মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি সংগঠন তৎকালীন প্রবাসী সরকারের অনুমোদনক্রমেই সংগঠিত হয়েছিল। জেড ফোর্সও সেভাবেই গঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জুনে ৮ নম্বর থিয়েটার রোড কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘সেক্টর কমান্ডার’ কনফারেন্সে মুক্তিবাহিনীর প্রথম নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড হিসাবে জেড ফোর্স গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই এই পদাতিক ব্রিগেডের নামকরণ করা হয়নি। জিয়াকে ব্রিগেড কমান্ডার নিয়োগের পরই তার নামের আদ্যাক্ষর ‘জেড’ দিয়ে ব্রিগেডের নামকরণ করা হয় ‘জেড ফোর্স’। এভাবে পরে তৎকালীন মেজর শফিউল্লাহ্র নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে ‘এস ফোর্স’ ও মেজর খালেদ মোশারফের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে ‘কে ফোর্স’ নামে আরও দুটো পদাতিক ব্রিগেড গঠন করা হয়। এই নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড রেইজ (সংগঠন) করা হয় প্রতিরোধ যুদ্ধকে জোরদার করার জন্য। ‘হিট অ্যান্ড রান’ গেরিলা রণকৌশলের বদলে সুসংহত নিয়মিত বাহিনী দিয়ে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি মোকাবিলা করে ভূমি নিজেদের দখলে আনাই ছিল এ ব্রিগেডগুলো গঠনের মূল উদ্দেশ্য। একটি কথা মনে রাখতে হবে, গেরিলা যুদ্ধে শত্রুকে ব্যতিব্যস্ত করা যায়, পরাজিত করা যায়, কিন্তু বেশিদিন ভূমি দখল করে রাখা যায় না। যে কোনো যুদ্ধে ভূমি দখল ছাড়া কোনো পক্ষই যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে বলে দাবি করতে পারে না। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে গণবাহিনীর পাশাপাশি নিয়মিত বাহিনী ধীরে ধীরে ভূমি দখলের মাধ্যমে দেশকে শত্রুমুক্ত করবে এই উদ্দেশ্য নিয়েই ব্রিগেড তিনটি গঠিত হয়েছিল। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল নিয়ে আনুমানিক প্রায় আড়াই হাজার সদস্যের সমন্বয়ে জেড ফোর্স গঠিত হয়েছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বহুবিধ গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের রেকর্ড আছে এই ফোর্স সদস্যদের। কামালপুর, বাহাদুরাবাদ, নকশীযুদ্ধ, চিলমারী, ছাতক, কোদালকাটি, বকশীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, টেংরাটিলা, বড়লেখায় এই ফোর্স সদস্যদের বীরত্বগাথা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। এই ফোর্স সদস্যদের অন্য অনেক অভিযানের কথা বাদই দিলাম। পুরো মুক্তিযুদ্ধে শুধু কামালপুর যুদ্ধের চার-চারটি অভিযানে জেড ফোর্সের শহিদ বীরউত্তম ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মমতাজসহ সর্বমোট ১৯৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হয়েছেন এবং বীরউত্তম কর্নেল তাহের ও বীরবিক্রম মেজর জেনারেল আমিন আহমেদ (তৎকালে ক্যাপ্টেন)সহ আহত হয়েছেন দুই শতাধিকেরও অধিক। অপরদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদবির অফিসারসহ ২২০ জন নিহত হয়েছেন। এ অভিযানে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মোট ২৯ জন মুক্তিযোদ্ধা সাহসিকতার পদকও পেয়েছেন। উল্লেখ্য, কামালপুর অভিযানে নিজেদের জনবলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতিও কম ছিল না। একবার এক অভিযানের পর ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মানেকশ জেড ফোর্স হেডকোয়ার্টারে সফর করতে এসে ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছিলেন,’ Z Force Showed up Real Tiger Corrector. কাজেই জিয়ার নামের আদ্যাক্ষর ‘জেড’ দিয়ে এই বাহিনীর নামকরণ জেড ফোর্স হয়েছে বলে ভুয়া বাহিনী বলার আগে মন্ত্রী মহোদয়ের একবারও কি জানা উচিত ছিল না, মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ধরে এই ‘ভুয়া ফোর্স’র মোট ২৮৭ জন সদস্য শহিদ হয়েছেন, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ এ বাহিনী কমান্ডারের অধীনেই যুদ্ধ করে শহিদ হয়েছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। এ ফোর্সেরই ৭ জন বীরউত্তম, ৫ জন বীরবিক্রম ও ১ জন বীরপ্রতীক খেতাব লাভ করেছেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। অনেকেই খোঁজখবর না নিয়েই এমনসব বক্তব্য দিয়ে ফেলেন যে তাদের পদমর্যাদার সঙ্গে তা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বাঙালি মাত্রই আমরা আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। আবেগ থাকা ভালো, তবে তা ক্ষেত্রবিশেষে নিয়ন্ত্রণ করাও আমাদের দায়িত্ব। আবেগের বশবর্তী হয়ে যা মনে আসবে তাই বলব তা হতে পারে না। আমরা যখন একটি ফোর্স সম্পর্কে কথা বলব তখন ওই ফোর্স কিভাবে গঠিত হয়, কতগুলো ব্যাটালিয়ন নিয়ে গঠিত হয়, ব্যাটালিয়নে প্লাটুন অথবা সেকশন কতগুলো থাকে, তাদের কার কোথায় কী ভূমিকা; ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক থেকে শুরু করে সাধারণ সৈনিকের কার কী দায়িত্ব সে সম্পর্কে না জেনে-শুনে তর্কের খাতিরে অনভিপ্রেত মন্তব্য করে ফোর্সের অধীন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ব্যাটালিয়ন সদস্যদের মনোবলে আঘাত করতে পারি না।

আমার সামরিক জীবনে এমন অনেক মাঠ পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, যাদের অনেকেই জেড ফোর্সের অধীন বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের মুখেই মুক্তিযুদ্ধের অনেক বীরত্বগাথা শুনেছি। তাদের অনেকেই এখন বেঁচে নেই। দু’একজনের নাম এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। সুবেদার আব্দুল হাই ও সুবেদার আব্দুস শহীদ ৩য় ইস্ট বেঙ্গলের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার পরে অন্য অনেকের মতো এ দুজন মুক্তিযোদ্ধা সদস্য ও আমি যে ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলাম সেই ৫ ইস্ট বেঙ্গলে বদলি হয়ে আসেন এবং উভয়েই অনারারি ক্যাপ্টেন হিসাবে অবসরে যান। আজ তারা বেঁচে নেই। মন্ত্রী মহোদয়ের মুখে ‘ভুয়া বাহিনী’র কথা শুনে সাবেক অনেক মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক টেলিফোনে তাদের মনঃক্ষুণ্নের কথা জানিয়েছেন। তারপর থেকেই কেন যেন মনে হচ্ছে, অনারারি ক্যাপ্টেন আব্দুল হাই ও অনারারি ক্যাপ্টেন আব্দুস শহীদ যদি কবর থেকে উঠে এসে জিজ্ঞেস করেন, ‘স্যার, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস এত আত্মত্যাগ, এত যুদ্ধ করে আমরা কি আজও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাই রয়ে গেলাম’? মনে মনে ভাবি, আমি তখন তাদের এই প্রশ্নের জবাব কী দেব!

মুক্তিযুদ্ধ যেমন গৌরবের, তেমনই স্পর্শকাতরও বটে। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তাই কিছু বলার আগে আমাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। আমাদের এমন কিছু বলা উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতাসীন সবাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে সাজানোর অপচেষ্টা করে গেছেন। তাতে লাভ কিছু হয়েছে বলে মনে হয় না। এমন হীন মনোবৃত্তি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে বর্তমান প্রজন্ম ইতিহাসের ভুল শিক্ষা গ্রহণ করবে। যার জবাবদিহি আমাদেরই করতে হবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে-‘ধর্মের ঢোল আপনি বাজে’, সত্য কোনোদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না। ইতিহাসের সত্য কাহিনি একদিন বেরিয়ে আসবেই। সত্যের জয় অনিবার্য।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

Advertisement

মুক্তিযোদ্ধা

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম