Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

পাকিস্তানি বুদ্ধিজীবীর সত্যকথন

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানি বুদ্ধিজীবীর সত্যকথন

Advertisement

কিছুদিন আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বরফ নাকি গলতে শুরু করেছে। এ খবরে আমরা, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা স্বাভাবিক কারণেই শঙ্কিত। আমাদের মনে প্রশ্ন, পাকিস্তান তাদের কোন স্বার্থ হাসিলের জন্য এবং আমাদের কোন সর্বনাশ করার জন্য আমাদের দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টায় পাগল হয়ে আছে, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নির্বাচনের সময় যখন ঘনিয়ে আসছে।

২০০১ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান যে বিএনপি-জামায়াতকে প্রচুর পয়সা দিয়েছিল সেই দল দুটির নির্বাচন জয়ের জন্য, সে কথা মনে রাখার সঙ্গে সঙ্গে অধ্যাপক ড. হুদভয় নামের পাকিস্তানের একজন প্রগতিশীল ও অত্যন্ত খ্যাতিমান পদার্থবিজ্ঞানী পাকিস্তান যেসব বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড করছে তার যে ফিরিস্তি দিয়েছেন, তা সবাইকে জানানো প্রয়োজন যাতে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করি। আমাদের দেশে যারা পাকিস্তান প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে, যারা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পোক্ত করার জন্য যারপর নাই চেষ্টা করে যাচ্ছে, অধ্যাপক ড. হুদভয়ের কথাগুলো তাদের বেশি করে জানা উচিত। সম্প্রতি লেখা এক প্রবন্ধে পাকিস্তানের স্বনামধন্য সেই পদার্থ/আণবিক বিজ্ঞানী এবং বিশিষ্ট চিন্তাবিদ লিখেছেন, তারা (পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ) বলেছিলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে না, নরম সুরে ফের পাকিস্তানে অঙ্গীভূত হওয়ার অনুরোধ জানাবে। পাকিস্তানের সে ইচ্ছা কখনো পূরণ হয়নি। বাংলাদেশ গৌরবের সঙ্গে স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করছে, আর সারা বিশ্ব দেখছে সামাজিক, অর্থনৈতিক সূচকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পরবর্তী এশিয়ান বাঘ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

২০২১ সালের মার্চে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখেছিলেন। ঢাকা সে চিঠির জবাব দিয়েছে। যাই হোক, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অবশ্যই আগে ‘কাঁটা’ অপসারণ জরুরি। পাকিস্তান এখনো শর্তহীন ক্ষমা চায়নি। অন্ধকার অতীতের মোকাবিলা না করে কোনো জাতি সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। পাকিস্তানের আগের অনেক পদক্ষেপ বাংলাদেশকে বিরক্ত করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায, পাকিস্তানের সংসদ বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এদের মধ্যে এমন অপরাধী ছিল, যারা ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল এবং ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল। পাকিস্তান সব সময় ১৯৭১ সালের তিক্ত ইতিহাস অন্ধকারেই রাখতে বেশি আগ্রহী।

একদিকে পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ভান করে, অন্যদিকে তারা পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইনটেলিজেন্সের (আইএসআই) পুতুল পাবলিক নিউজের উপস্থাপক মারিফ জাদুনের দ্বারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে যে ষড়যন্ত্র-তার পেছনের সত্যটা আজও জানা যায়নি। যাই হোক, এটি নিশ্চিত পাকিস্তান সেনাবাহিনী-আইএসআই এবং বাংলাদেশে তাদের সহযোগীরা ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে কলকাঠি নেড়েছে-যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা হয়। অধ্যাপক হুদভয় আরও উল্লেখ করেছেন, ইসলামাবাদভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিক্যুরিটি স্টাডিজ বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে একটি নীতিগত সংলাপের উদ্যোগ নেয়, যার আলোচ্য বিষয়, অতীত ভুলে যাওয়া এবং এখনো ক্ষমা চাওয়া সম্পর্কিত দাবির যৌক্তিকতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা।

গত ৯ নভেম্বর পাকিস্তান-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আরও একটি উদ্যোগ নিয়েছিল আইএসআই। এর আগে ‘খেল খেল মে’ নামের একটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল তারা। আইএসআই তাদের সেই আক্রমণাত্মক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে ১৬ ডিসেম্বরে প্রদর্শিত পাকিস্তানের ড্রামা সিরিজ ‘জো বিচার গায়ি’-এর মাধ্যমে। সেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অপরাধী এবং পাকিস্তানি সৈন্যদের ‘নিপাট ভদ্রলোক’ হিসাবে জাহির করা হয়েছে। বিজয়ের বাংলাদেশের আবেগ ক্ষুণ্ন করতে তারা ‘সেপারেশন অব ইস্ট পাকিস্তান : দি আনটোল্ড স্টোরি’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করে। পাকিস্তান তাদের ভুয়া প্রোপাগান্ডা নানাভাবে অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তান তাদের ভুল স্মরণ করতে চায় না, এ ইতিহাস তারা ভুলে যেতেই বেশি আগ্রহী। পাকিস্তানকে ভরসা করা যায় না-বিষয়টি উপলব্ধি করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ইসলামাবাদে গত ডিসেম্বরে তার সফর বাতিল করেন। গত বছর পাকিস্তানের ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর করে। দলের অনুশীলনে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের নিজ দেশের পতাকা বহন বাংলাদেশের অনেকেই ভালোভাবে নেয়নি। বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষে পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের এমন কাণ্ডের অনেকেই সমালোচনা করেছেন। সিভিল সোসাইটি নির্মূল কমিটিও পাকিস্তানের এমন আচরণের সমালোচনা করেছিলেন।

২০২১-এর নভেম্বরে আইএসআই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের সেতু তৈরির উদ্দেশ্যে ‘পাকিস্তান বাংলাদেশ সম্মেলন’ নামে এক সভা ডেকেছিল। এর পরই তারা ‘খেল খেল মে’ নামক একটি ছায়াছবি তৈরি করে তা প্রদর্শন করে ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর। ছবিটি দুটি প্রজন্মের জন্য। যার একটি ১৯৭১-এর প্রজন্ম, যারা বাংলাদেশের বিজয় ঠেকানোর জন্য যুদ্ধ করেছিল অথবা তা দেখেছিল, আর একটি হচ্ছে বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম, যাদের অধিকাংশ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যারা ৭১-এর যুদ্ধের সময় সংঘটিত আসল পৈশাচিক ঘটনাগুলো জানতে চায়। এ ছাড়া আইএসআই তাদের আক্রমণাত্মক ভুয়া প্রচারণা চালানোর জন্য ‘জো বিছার গায়া’ নামে একটি ড্রামা সিরিজ চালিয়ে ব্যর্থ চেষ্টা করছে সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকার, অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে। এ ড্রামা সিরিজে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ছাত্ররা ছিল কুলাঙ্গার আর পাকিস্তানিরা ছিল ন্যায়ের দিশারি ভদ্র সমাজ।

বাংলাদেশের বিজয়ের মাসে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ‘সেপারেশন অব ইস্ট পাকিস্তান : দি আনটোল্ড স্টোরি’ নামে আরও একটি ডকুমেন্টারি প্রচার শুরু করে ঠিক ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালে তাদের লজ্জাজনক পরাজয়ের কথা ভুলে গিয়ে এবং সম্প্রতি চট্টগ্রামে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কী হয়েছিল, তা ভুলে গিয়ে আবার দ্বিতীয়বারের মতো ‘পাকিস্তান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স’ ঘটিয়েছিল ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি, লাহোরে। বেশিরভাগ দেশ তাদের গ্লানিকর কথাই বেশি স্মরণ করে। এর ফলে তারা যেন অতীতের গ্লানি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের ধস থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান যে বিশ্বের অন্যতম জঘন্য ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিল, তা অনুধাবন করতে পারছে না। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান শুধু তার একটি অংশই হারায়নি, বরং হারিয়েছে তাদের গর্ব এবং সম্মান। কিন্তু বেশিরভাগ পাকিস্তানি বরং সেই মর্যাদাহানি ভুলে যেতে চায়, সেই গ্লানিকর পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে। সেই গ্লানিকর পরাজয়ের পর পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি হামুদুর রহমানের নেতৃত্বে পরাজয়ের খুঁটিনাটি তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করলেও তার প্রতিবেদন আজও প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু ৩০ বছর পর প্রতিবেদনটি লিক হয়ে গেলেও পাকিস্তানিরা তাকে অবজ্ঞা করতেই বেশি আগ্রহী। সেই প্রতিবেদন পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের প্রধান ইয়াহিয়া খান এবং তার সাঙ্গপাঙ্গর ব্যক্তিস্বার্থকে উন্মোচন করে দিয়েছে।

২০২১ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তান ক্রিকেট দল খেলার অনুশীলনকালে তাদের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার চেতনাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছিল, ঠিক সে সময় যখন বাঙালিরা তাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং তাদের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ব্যস্ত ছিল। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা কঠোরভাবে এর প্রতিবাদ ও নিন্দা করে এবং বলে পাকিস্তানি ক্রিকেট দল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি অবমাননা প্রদর্শনে ইচ্ছাকৃতভাবেই এটি করেছে।

সময় এসেছে পাকিস্তানিদের এ বাস্তবতা মেনে নেওয়া যে, বাংলাদেশ এখন গর্বিত বাঙালি জাতির একটি স্বাধীন দেশ। পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তাহলে প্রথমেই তাদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধ করার জন্য। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত হাজার হাজার বিহারিকে ফেরত নিতে হবে, ১৯৩ জন পাকিস্তানি সৈন্যের বিচার করতে হবে যারা ১৯৭১-এ বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে এবং বাংলাদেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ পাকিস্তান ১৯৭১-এ চালিয়েছিল, তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এসব পদক্ষেপ দ্বারাই পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের সূচনা আশা করতে পারবে।

অধ্যাপক হুদভয়ের উপরে উল্লিখিত কথাগুলো পাকিস্তানের ব্যাপারে আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তারপরও আমরা দেখতে পাচ্ছি, যে সময়টায় আমরা ১৯৭১ সালের পাকিস্তান কর্তৃক বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, ঠিক সে সময়টায় পাকিস্তান সেই প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার কাজে উঠেপড়ে লেগেছে। অতীতেও মূলত পাকিস্তানের কারণেই আমাদের দেশে সংঘটিত গণহত্যা, যার তুলনা সারা বিশ্বে বিরল, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সম্প্রতি ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়টি উত্থাপন করলে পাকিস্তান এবং তার ঘনিষ্ঠতম দোসর চীন তার বিরোধিতায় লেগে যায়। পাকিস্তান সব সময়ই চেষ্টা করে আসছে তাদের প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতায় বসাতে। এ উপলক্ষ্যে তারা ২০০৪ সালে বাংলাদেশে গ্রেনেড প্রেরণ করেছিল সে সময়ের বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতকে অঢেল অর্থ প্রদানের কথা আইএসআই প্রধান পাকিস্তানি আদালতে প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছে এই বলে যে, বিএনপি-জামায়াতকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানেরই স্বার্থে। আইএসআই-এর কর্মকর্তারা যে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মিলিত হচ্ছে, ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে, তা বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যমেই প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি ব্রাসেলসে বিএনপি একটি সম্মেলন করেছে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে তিরস্কার করে। সেই সম্মেলনে ব্রাসেলসের এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর আমির নাঈম এবং ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্সের এক পাকিস্তানি সদস্য অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সমালোচনার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের ওপরও দোষারোপ করেছিলেন এ কথা বলে যে, ভারতের চাপে পড়েই বাংলাদেশ সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে না। গোপন খবরে প্রকাশ, ব্রাসেলসের এ সম্মেলনে আইএসআই-এরও হাত ছিল। ব্রাসেলসের বিএনপি নেতারা অন্য কোনো দেশের কোনো রাজনীতিককে না এনে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের জড়িত করে আবার নতুন করে প্রমাণ করল যে, তাদের আনুগত্য পাকিস্তানের দিকে। একইসঙ্গে পাকিস্তানও প্রমাণ করল যে, বাংলাদেশে তাদের বান্ধব দল হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত, সুতরাং তাদের ক্ষমতায় বসানোই হবে পাকিস্তানের সাফল্য। তাই তো নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, পাকিস্তানের বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ততো বেগবান হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিয়াজি বাংলাদেশে আসার জন্য উন্মাদ হয়ে গেছে, যেমনি উন্মাদ হয়েছিল ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো। এটি আজ পরিষ্কার, যে কথা অধ্যাপক হুদভয়ও উল্লেখ করেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ হাত ছিল। এটিও আজ পরিষ্কার যে, ১৯৭৪ ভুট্টো বাংলাদেশে এসেছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার নীলনকশা প্রণয়ন করতে।

স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে প্রশ্ন, ইমরান খান নিয়াজিও কি একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসার জন্য পাগল হয়ে গেছে? পাকিস্তান যে সুদূর ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগকে সহ্য করতে পারবে না, সে ব্যাপারে কোনো বিতর্ক থাকতে পারে না, কেননা এ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, যার কারণে বাংলার মাটিতে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যকে অত্যন্ত অবমাননাকরভাবে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল।

পাকিস্তান আজও সেই গ্লানি ভুলতে পারছে না এবং আদৌ কোনোদিন ভুলতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে খোদ অধ্যাপক হুদভয়ই প্রশ্ন তুলেছেন। অধ্যাপক হুদভয় পাকিস্তানের একজন গণ্যমান্য নাগরিক হয়েও যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা নিয়ে চিন্তিত, আমরা কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে অতটা চিন্তিত নই। কিন্তু সময় এসেছে আমাদেরও এ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করার। সম্প্রতি প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে, পাকিস্তানে ভারতীয় নকল মুদ্রা ছাপিয়ে সেগুলো বাংলাদেশে আনা হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতে তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এর পেছনেও যে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হাত রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। অতীতে ঢাকাস্থ পাকিস্তানের দূতাবাসের এক কূটনীতিক ভারতীয় নকল মুদ্রাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছিল। এর পেছনের উদ্দেশ্য বাংলাদেশ এবং ভারতের অর্থনীতিতে ধস নামানো। পাকিস্তানের উদ্দেশ্য কী, তা কিন্তু আমাদের অজানা থাকার কথা নয়। সুতরাং সাধু সাবধান!

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক : আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

Advertisement

পাকিস্তান বুদ্ধিজীবী সত্যকথন

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম