Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন!

Advertisement

Icon

একেএম শামসুদ্দিন

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন!

Advertisement

ইউক্রেনে আক্রমণের ছয় সপ্তাহ চলে গেলেও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মনে হচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধের ‘সেন্টার অব গ্রেভেটি’ বা ‘ভরকেন্দ্র’-এর পরিবর্তন ঘটেছে। ১০ এপ্রিল মস্কোর এক মহাকাশ কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের রুশ ভাষাভাষী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাশিয়ার প্রধানতম লক্ষ্য। রাশিয়ার এক সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাও বলেছেন, ‘এখন তাদের বাহিনীর মূল লক্ষ্য হবে ডনবাসের পুরোপুরি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এতদিন জেনে এসেছি ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া ছিল রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য, তবে প্রধানতম নয়। তাদের সেই অন্যতম লক্ষ্য যখন প্রধানতম লক্ষ্যে পরিবর্তন হয়েছে তখন স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়ার যুদ্ধের ভরকেন্দ্রেরও পরিবর্তন ঘটেছে। আক্রমণের পর গত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যুদ্ধবিশারদরা ধারণা করেছিলেন, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখল করে সেখানে মস্কোপন্থি সরকার বসিয়ে শাসনব্যবস্থা কায়েম করাই ছিল রাশিয়ার এ যুদ্ধের ‘সেন্টার অব গ্রেভেটি।’ উল্লেখ্য, যে কোনো বড় যুদ্ধে আক্রমণকারীরা আগে থেকেই তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনে ‘সেন্টার অব গ্রেভেটি’ নির্ধারণ করেই যুদ্ধ পরিচালনা করে থাকে। যুদ্ধের সেন্টার অব গ্রেভেটি পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মেইন অবজেক্টিভ বা মূল লক্ষ্য অর্জন করার অভিপ্রায় ঠিক রেখে সেন্টার অব গ্রেভেটির পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা যুদ্ধের রণকৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও বটে। তবে এ যুদ্ধে রাশিয়া তাদের মূল লক্ষ্য কী, তা সরাসরি পরিষ্কার করেনি। বিভিন্ন মিডিয়া বা তথ্য বিশ্লেষণে তাদের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে যা কিছু শোনা যায় তা অনেকটাই অনুমাননির্ভর। প্রশ্ন হচ্ছে, রাশিয়া পূর্বাঞ্চলে শক্তিবৃদ্ধি করে ডনবাস অঞ্চল দখল করে তাদের মূল লক্ষ্য বা আসল উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারবে কি?

পশ্চিমানির্ভর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ পর্যন্ত ইউক্রেনের তুলনায় রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে বেশি। সামরিক বিষয়াদি নিয়ে কাজ করে এমন একটি পশ্চিমা ওয়েবসাইট ‘অরিক্স’-তাদের এক বিশ্লেষণে হিসাব করে দেখিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৪০০টির অধিক ব্যাটেল ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। এছাড়াও ২০টি যুদ্ধবিমান ও ৩২টি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। শত শত যুদ্ধযান ও অন্যান্য যুদ্ধের সরঞ্জাম অকেজো হয়ে গেছে। তবে এসব তথ্যের সঠিকতা নিয়ে সন্দেহ আছে বলে অনেক যুদ্ধবিশেষজ্ঞ মতপ্রকাশ করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজ পক্ষের সেনাদের মনোবল উঁচু রাখতে এবং বিরোধীপক্ষের সেনা সদস্যদের মনোবল দুর্বল করার জন্য এমন প্রপাগান্ডা পরিচালিত করা যুদ্ধেরই একটি অংশ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। পশ্চিমা মিডিয়া সেই কাজটি করছে কি না, তা বিবেচনা করার প্রয়োজন আছে। অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যুদ্ধকালীন পশ্চিমা বিশ্বের প্রপাগান্ডা মেশিন বেশি সক্রিয় থাকে। ইতঃপূর্বে কুয়েত দখল করার পর ‘অপারেশন ডেজার্ট হান্ট’ ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় পশ্চিমা বিশ্বকে এমন প্রপাগান্ডা করতে আমরা দেখেছি। এ কথা সত্য, যে পরিসংখ্যান ওপরে দেখানো হয়েছে তা যদি সঠিক হয়, তাহলে পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধে এর প্রভাব পড়বে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে এসব ঘাটতি পূরণ করার সক্ষমতা রাশিয়ার আছে। রাশিয়ার উৎপাদন ক্ষমতা আছে বলে অস্ত্র ধ্বংস হলেও তা পূরণ করতে সমস্যা হবে না।

এ পর্যন্ত যুদ্ধের ফলাফল কী বলে? বাস্তবতা হলো-কিয়েভ দখল করতে গিয়ে রাশিয়া ইউক্রেন বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে, তাদের সেনা সদস্যসহ সামরিক সরঞ্জামাধির ক্ষতিসাধনও হয়েছে প্রচুর। ব্যাপক সৈন্যসমাবেশ ঘটিয়ে সহজেই কিয়েভ দখল করে নিবে বলে যে প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়েছিল, তা অর্জনে রাশিয়া আপাতত মার খেয়েছে। ইউক্রেন সেনাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে তাদের সে উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে। অতএব রাশিয়া তাদের যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। রাশিয়ার এই পিছুটান মানেই পিছু হটা নয়। এমনও হতে পারে, ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এ ভূখণ্ডকে তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনের বার্গেনিং টুল হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। উদ্দেশ্য তাদের যাই-ই থাক, রাশিয়া যে ব্যাপক সমাবেশের মাধ্যমে ওই অঞ্চল দখলের ব্যাপক আয়োজন করছে, তা ইউক্রেন সেনাবাহিনীও স্বীকার করেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী পূর্বাঞ্চলে রুশ অভিযানের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, রুশ বাহিনী লুহানস্ক, দোনিয়েৎস্কসহ বেশ কটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে বলে তারা মনে করছে। ওই অঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর মারিউপোলের নিয়ন্ত্রণ রুশ সেনাদের হাতে চলে যেতে পারে বলেও ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন। উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনিয়েৎস্কো ও লুহানস্ক অঞ্চলকে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। রুশ ভাষাভাষী অধ্যুষিত এ দুটি অঞ্চল একত্রে ডনবাস নামে পরিচিত। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর রাশিয়া অঞ্চল দুটিতে বেসামরিকীকরণের কথা বলে আসছিল। রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে বর্তমান অভিযানের মূল লক্ষ্যই হবে অঞ্চল দুটি থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে রুশপন্থি সশস্ত্র যোদ্ধাদের কাছে কর্তৃত্ব হস্তান্তর করা।

পূর্বাঞ্চলে রুশ সেনাদের মোকাবিলা করতে ইউক্রেন সেনাবাহিনীও সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তারা সেখানে সামরিক সরঞ্জামসহ ব্যাপক সেনা সমাবেশের ব্যবস্থা করেছে। পূর্বাঞ্চলে নিয়োজিত ইউক্রেনীয় সেনাদের অনেকেই অনেক বেশি অভিজ্ঞ। কারণ, ২০১৪ সাল থেকেই সশস্ত্র রুশপন্থিদের মোকাবিলা করছে তারা। এখন এসব সেনা সদস্যের সঙ্গে নতুন সেনা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সামরিক শক্তি বাড়ানো হবে। কিয়েভ থেকে রুশ সেনারা সরে যাওয়ায় সেখানে আর তেমন ব্যাপক সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। কিয়েভ থেকে সেনাদলগুলোকে সরিয়ে নিয়ে পূর্বাঞ্চলে নতুন করে নিয়োগ করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও ডনবাস অঞ্চলে যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসাবে ইউক্রেন ইতোমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্ট্যালিজেন্স-ইনফরমেশন পেতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে ইউক্রেনকে রুশ সেনাদের ওপর কার্যকরী ফায়ার করতে সাহায্য করছে।

৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সেক্রেটারি লয়েড অস্টিন সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে জানিয়েছেন, কিয়েভ আক্রমণের সময় রাশিয়ার সেনাদের ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য পেন্টাগন ইউক্রেন সেনাবাহিনীকে সর্বক্ষণিক ইন্টেলিজেন্স সরবরাহ করে গেছে। যে কারণে ইউক্রেন সেনাবাহিনী রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, কিয়েভ ঘেরাও করে রাখার সময় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, সেনা সমাবেশ, লজিস্টিক ও সামরিক স্থাপনা ও কনভয় সম্পর্কে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইনফরমেশন দিয়ে ইউক্রেন সেনাদের সাহায্য করেছে। যে কারণে ইউক্রেন সেনারা রাশিয়ার ওইসব লক্ষ্যবস্তুর ওপর অনায়াসে নির্ভুল ফায়ার করে সমূলে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রাশিয়া কিয়েভ দখলের প্রচেষ্টা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এভাবেই ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের সময়সীমাকে দীর্ঘায়িত করতে সক্ষম হয়েছে। তা না হলে রাশিয়া যদি একবার কিয়েভ দখল করে নিতে সক্ষম হতো, তাহলে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের হয়তো সেখানেই পরিসমাপ্তি ঘটত। যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সেক্রেটারির বক্তব্যের মাধ্যমে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সাহায্য ছাড়াও ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে যুদ্ধে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে ৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। মিসিসিপির রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার সিনেট কমিটির শুনানিতে ডিফেন্স সেক্রেটারি অস্টিনকে প্রশ্ন করেন, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদিত ৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে মাত্র ৯ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে কেন? বাকি অর্থের সামরিক সাহায্য কবে নাগাদ পাঠানো হবে? জবাবে অস্টিন বলেন, এ মুহূর্তে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ আছে এমন ক্ষুদ্র অস্ত্রই সরবরাহ করা হচ্ছে। যেসব অস্ত্রের জন্য মাসের অধিক সময় ধরে প্রশিক্ষণ দরকার তেমন ভারী অস্ত্রের সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো যাচ্ছে না। শুনানিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো এ পর্যন্ত ৬০ হাজার অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক, ও ২৫ হাজার অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট অস্ত্র ইউক্রেনে পাঠিয়েছে। আর্মড ও আর্টিলারি গান কীভাবে পাঠানো যায় সে সুযোগ খোঁজা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের শেষ কোথায়, তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। এ যুদ্ধে রাশিয়ার মূল লক্ষ্য অর্জিত হবে কি হবে না, তা যেমন এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না, তেমনই এ যুদ্ধে ইউক্রেন জনগণের আর কত দুর্ভোগ পোহাতে হবে, তাও বলা যাচ্ছে না। অর্থাৎ যুদ্ধের লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলানো সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণ অঙ্ক বলে, যে কোনো যুদ্ধে জয়-পরাজয় থাকলেও সব সময়ে মানবতারই পরাজয় হয়েছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর কোরিয়ান যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, সোমালিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, ইরাক ও আফগানিস্তানে যে যুদ্ধের কথাই বলি না কেন, মানবতার পরাজয় হয়েছে সব যুদ্ধেই। তবে একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না; যুদ্ধে মানবতার ক্ষতি হলেও একটি গোষ্ঠী কিন্তু সব সময়ই যুদ্ধের ময়দান থেকে তাদের লাভের ভাগ তুলে নিয়েছে। যুদ্ধ থেকে লাভ করে অনেকেই। এর মধ্যে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা যুদ্ধ থেকে সরাসরি লাভবান হয়। কারণ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা চলে যুদ্ধ ও অশান্তির ওপর। যত যুদ্ধবিগ্রহ, তত লাভ। দেখা গেছে একটি যুদ্ধ চলাকালীন আরও একটি যুদ্ধক্ষেত্রের প্রস্তুতি চলে সমভাবে। এ কারণেই আমরা দেখতে পাই, আফ্রিকায় কোনো না কোনো দেশে গৃহযুদ্ধ লেগেই আছে। রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে নেতা-নেত্রীদের ক্ষমতার লাভের টোপ গিলিয়ে এসব দেশের ঝগড়াবিবাদ লাগিয়ে রেখে ফায়দা লুটে তারা।

যুদ্ধের কথা বলতে গেলে প্রথমেই প্রশ্ন জাগে, যুদ্ধ চায় কারা? দুর্ভাগ্যজনক হলে সত্য, যুদ্ধ হয় শাসকশ্রেণি বা পেশিশক্তির ইচ্ছায়। পরের সম্পদ দখল, ক্ষমতাবিস্তারের লোভ এবং দেশ বা ব্যক্তির আত্মগরিমা প্রকাশের ইচ্ছায়। আর এ যুদ্ধের সর্বাধিক বলি হয় সেসব অগণিত সাধারণ মানুষ, যারা কোনোদিনই যুদ্ধ চায়নি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রতিটি যুদ্ধের আগে যুদ্ধবাজরা প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে কিছু একটা বুঝিয়ে তাদের মনোভাবকে যুদ্ধের পক্ষে নিয়ে আসে। সেজন্য তারা কখনো ব্যবহার করেছে উগ্র জাতীয়তাবাদ, কখনো ধর্মীয় জিকির ও প্রতিপক্ষ দেশ ও সেখানকার মানুষ সম্পর্কে দূরভিসন্ধিমূলক মিথ্যা প্রচার। প্রপাগান্ডা মেশিনের প্রভাবে অনেকেই তখন প্রভাবিত হয়ে পড়ে। যুদ্ধবাজরা তখন সে সুযোগ গ্রহণ করে। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ এর জলন্ত উদাহরণ। পৃথিবীর ক্ষমতাবানরা নিজেদের স্বার্থে দুর্বলের ওপর যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে। যার মাশুল চুকিয়েছে সে দেশের সাধারণ মানুষ, জীবন ও স্বাধীনতার বিনিময়ে।

ইউক্রেন যুদ্ধও এর ব্যতিক্রম নয়। ইউক্রেনে অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে যে যুদ্ধের আগুন লাগিয়েছে, সে আগুনে ঘি ঢেলেছে আরেক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। আর পেছন থেকে বাতাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের লেজুরবৃত্তি করা অন্য আরেক পরাশক্তি যুক্তরাজ্য। ফলস্বরূপ, ইউক্রেনের এক কোটি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লাখ মানুষ দেশছাড়া হয়েছে। আরও কত লাখ অসহায় মানুষ যে বাস্তুচ্যুত হবে, তা হয়তো ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিই বলতে পারবে।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

Advertisement

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ভরকেন্দ্রে পরিবর্তন

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম