শতফুল ফুটতে দাও
ঢাকা কলেজের হারানো গৌরব ফিরে আসুক
Advertisement
ড. মাহবুব উল্লাহ্
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৯৬১-৬২ এবং ১৯৬২-৬৩ সালে আমি ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলাম। সেই সময় শিক্ষা জগতে ঢাকা কলেজের খুব সুনাম ছিল।
যেসব শিক্ষার্থী ঢাকার কোনো কলেজে ভর্তি হতে চাইত, তাদের প্রথম পছন্দ ছিল ঢাকার দুটি কলেজ। এই কলেজ দুটি হলো ঢাকা কলেজ এবং নটর ডেম কলেজ।
আমার ক্ষেত্রেও এর কোনো ব্যতিক্রম ছিল না। আমার পিতা অনেক খোঁজখবর নিয়ে এবং অভিজ্ঞজনের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিলেন আমার উচ্চমাধ্যমিক স্তরের লেখাপড়া হবে ঢাকা কলেজে।
একজন মধ্যবিত্ত পিতার সন্তান হিসাবে আমার ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্তটি খুব সহজ ছিল না। ভিন্ন শহর থেকে এসে ঢাকায় পড়াশোনা করা অর্থনৈতিক দিক থেকে ছিল একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। সহজেই বুঝতে পারা যায়, ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আমার পিতার পক্ষে সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ করাটা খুবই কঠিন ছিল। এসব সত্ত্বেও আমার পিতা আমাকে ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে লেখাপড়া চালানোর ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কখনো অনুতাপ করেননি। তিনি চাইতেন আমরা যেন উন্নতমানের শিক্ষা গ্রহণ করি।
নিঃসন্দেহে ঢাকা কলেজ ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসন আমলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কলেজের মর্যাদায় আসীন ছিল। আমি যখন ভর্তি হই, তখন ঢাকা কলেজ ঢাকা নিউমার্কেটের পাশে স্থানান্তরিত হয়। ওই সময় এই এলাকা নিউমার্কেটকেন্দ্রিক অবস্থানের দিক থেকে অভিজাতই ছিল। ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা, আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন করে তৈরি করা আবাসিক এলাকা, মেয়েদের জন্য নির্মাণ করা ইডেন কলেজের নতুন ক্যাম্পাস, হোম ইকোনমিক্স কলেজ এবং শিক্ষা সম্প্রসারণ কেন্দ্র যা বর্তমান আমলে নায়েম বলে পরিচিত-এ প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা কলেজের পরিবেশকে অনন্য রূপ দিয়েছিল। ঢাকা কলেজের পাশেই ছিল পিলখানা। এ পিলখানারও একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস ছিল। পিলখানায় নবাবের হস্তীবাহিনীর জন্য আবাসভূমি তৈরি করা হয়েছিল। ‘পিল’ শব্দটি আরবি ‘ফিল’ শব্দটিরই অপভ্রংশ। এজন্যই পরবর্তীকালে এখানে সীমান্ত প্রহরী সংস্থার হেডকোয়ার্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা যখন ঢাকা কলেজের ছাত্র তখন বলাকা সিনেমা হলটি এই এলাকায় নির্মাণ করা হয়। সেই আমলে বলাকা সিনেমা হলে উচ্চমানের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতো। ঢাকা কলেজের ছাত্ররা বলাকা সিনেমা হলকে বিনোদনের জন্য চমৎকার একটি উৎস বলে গণ্য করত। সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসাবে ঢাকা কলেজের অবস্থানকে আদর্শ অবস্থান রূপেই বিবেচনা করা হতো।
সেই সময় ঢাকা কলেজে একদল জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তির সমাবেশ ঘটেছিল। আমি এই মুহূর্তে যেসব জ্ঞানী-গুণীর নাম স্মরণ করতে পারি, তাদের মধ্যে ছিলেন অক্সফোর্ডে পড়া আবু রুশদ মতিন উদ্দীন (তার লেখক হিসাবে পরিচিতি ছিল আবু রুশদ হিসাবে), কবি ও ফকলোরিস্ট হিসাবে সুখ্যাতি অর্জন করা ড. আশরাফ সিদ্দিকী, অর্থনীতিতে গোলাম রহমান, দর্শনে আবদুল ওহাব, ভূগোলে প্রফেসর মফিজুল ইসলাম চৌধুরী, প্রফেসর জালাল উদ্দিন আহমদ, প্রফেসর ইদ্রিস মিয়া, প্রফেসর হেশাম উদ্দিন, প্রফেসর নোমান, প্রফেসর রওশন আরা, ড. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। এসব শিক্ষক নিয়মিতভাবে ক্লাস নিতেন। আমি এমন কোনো দিনের কথা স্মরণ করতে পারছি না, যেদিন আমার কোনো শিক্ষক ক্লাস নেননি। একজন অধ্যাপকের নাম বলতে ভুলে গেছি, তিনি হলেন সু-সাহিত্যিক প্রফেসর শওকত ওসমান। অনেকেই জানেন না, শওকত ওসমান নামটি লেখকের পরিচয়বাচক। আসলে তার নাম ছিল আজিজুর রহমান। অধ্যাপক শওকত ওসমান বড় মাপের সাহিত্যিক ছিলেন। তার গল্প ও উপন্যাসগুলো বিদ্যমান সমাজের নানা ধরনের অসঙ্গতি তুলে ধরত। তিনি ক্লাস নিতে গিয়ে বাংলা সাহিত্যের কয়েকটি নির্বাচিত প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিড়াল’ গল্পটি নিয়ে তিনি আলোচনার সূত্রপাত ঘটালেন। দু-একদিন ক্লাস নেওয়ার পর প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে অন্য আলোচনা তিনি উপস্থাপন করলেন। তার আলোচনা ছিল ভাষাতত্ত্ব নিয়ে। ভাষাতত্ত্বের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সঙ্গে ভাষাতত্ত্বের সম্পর্ক আলোচনা করে মুগ্ধতা সৃষ্টি করেছিলেন। বাংলা ভাষায় আমরা ‘বিলেতি’ শব্দটি বহু প্রসঙ্গে ব্যবহার করি। যেমন টমেটোকে বলা হয় বিলেতি বেগুন। পাশ্চাত্যের কোনো ব্যক্তি আমাদের দেশে এলে তাকে বলা হয় বিলেতি সাহেব। বিলেতি শব্দটির আরও অনেক প্রয়োগ আছে। বিলেতি সাহেব যেমন আছে, তেমন আছে বিলেতি মেম সাহেব। স্বদেশি আন্দোলনের সময় বিলেতি পণ্যসামগ্রী ব্যবহার না করার একটি চল সৃষ্টি হয়েছিল। এ থেকেই ব্রিটিশ ভারতে খাদি বস্ত্র ব্যবহারের চল সৃষ্টি হয়। তবে শওকত ওসমান সাহেব এই শব্দটির মূলে যেতে চেয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় এবং ক্ষমতার মসনদ থেকে উচ্ছেদের পর তৎকালীন বঙ্গদেশ কার্যত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে চলে যায়। এ সময়ে কিশোর ও তরুণ ইংরেজরা পালতোলা জাহাজে করে ভাগ্যান্বেষণে আমাদের দেশে আসতে শুরু করে। এরা যখন কলকাতার কাছাকাছি চাঁদপাল-এর ঘাটে অবতরণ করত, তখন কলকাতার এক জাতের মানুষ যারা বাবু হিসাবে পরিচিত ছিলেন তারা ওইসব কিশোর ও যুবক ইংরেজদের অভ্যর্থনা জানাতে ঘাটে অবস্থান করত। বাবুরা জানত এসব কিশোর ও যুবক এদেশে এসেছেন কপর্দকহীনভাবে। এ সময় তাদের প্রয়োজন আহার ও বাসস্থানের সুযোগ। বাবুরা সেটা নিশ্চিত করত। তারা জানত এই সাদা চামড়ার মানুষগুলো ভবিষ্যতে কোনো জেলার কালেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পাবে। তখন কালেক্টর সাহেবদের কাছ থেকে এ বাবুরা জমিজমার বন্দোবস্ত পেতেন। বিলেত থেকে আসা কিশোর ও যুবক সাহেবদের দেখার জন্য চাঁদপালের ঘাটে জেলেদের ছেলেমেয়েরা ভিড় করত। সাদা চামড়ার মানুষ দেখলে এখনো বাংলাদেশের মফস্বল এলাকায় মানুষজন ভিড় করে। যারা ওই আমলে সাদা চামড়ার লোকদের দেখার জন্য চাঁদপালের ঘাটে ভিড় করত, তাদের অধিকাংশই ছিল জেলে সম্প্রদায়ভুক্ত। নিয়মিতভাবে মাছ নিয়ে কাজ করার ফলে তাদের দেহ থেকে মাছের গন্ধ বের হতো। সাদা চামড়ার অল্প বয়সি কিশোর ও তরুণরা এভাবে ভিড় করা পছন্দ করত না। তারা বলত-Blighter Blighter, অভিধানে Blight শব্দটির অর্থ দেওয়া হয়েছে, উদ্ভিদের এক ধরনের রোগ এবং অনিষ্ট, ক্ষতি, ধ্বংসে অনিষ্টের কারণ। এ ছাড়াও রয়েছে ক্ষতি বা ধ্বংস করা, রোগাক্রান্ত করা এবং অপছন্দনীয় বা বিরক্তিকর ব্যক্তি। এদেশি বালক ও তরুণরা এদেরকে ব্লাইটি সাহেব হিসাবে চিহ্নিত করেছে। ব্লাইটি বলে যে সাহেব, তাকে বলা হচ্ছিল ব্লাইটি সাহেব বা বিলেতি সাহেব। অধ্যাপক শওকত ওসমান এইভাবে আমাদের ভাষাতাত্ত্বিক সমাজতত্ত্বের কথা বলেছেন।
এককথায় বলতে পারি, এসব শিক্ষক আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন, যা পাঠ্যপুস্তক ও নোট বইতে পাওয়া যায় না। নতুন কিছু শিখছি বলে আমরা উৎফুল্লবোধ করতাম। পাঠ্যসূচিতে যা কিছু ছিল সেসব আমরা নিজেরাই সামাল দিতে পারতাম। ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা আমাদের তৃতীয় নয়ন উন্মোচিত করেছিলেন। এখন বোধহয় এ মাপের শিক্ষক দেশে অত্যন্ত বিরল প্রজাতি। প্রিন্সিপাল জালাল উদ্দিন সাহেব আমাদের ইংরেজি সাহিত্য পড়াতেন। তিনি আমাদের ব্রিটিশ কাউন্সিলে গিয়ে ইংরেজি সাহিত্যের ওপর রেফারেন্স বইগুলো পড়তে উদ্বুদ্ধ করতেন। প্রয়োজনে তিনি আমাদের তার বাসস্থানে গিয়ে পড়াশোনার সমস্যাগুলো জানাতে অভয় দিয়েছিলেন। এ রকম দায়িত্ববোধসম্পন্ন শিক্ষক ইদানীংকালে খুব কমই পাওয়া যায়। আমার শিক্ষাজীবনে ঢাকা কলেজ অধ্যায়টি খুবই আনন্দের ছিল। শিক্ষকদের স্নেহ এবং বন্ধু-বান্ধবদের উষ্ণ সাহচর্য পেয়েছিলাম। এসব কারণে ঢাকা কলেজ আমার স্মৃতিতে অম্লান।
গত কয়েক বছর ধরে সংবাদপত্রে ঢাকা কলেজ সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদে খুবই কষ্ট পাচ্ছি। এ লেখা যখন লিখছি তখন ঢাকা কলেজ মে মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রদের হোস্টেল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ হয়েছে। একটি দৈনিকে গত মঙ্গলবারের সংঘর্ষ সম্পর্কে শিরোনাম করা হয়েছে, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ গভীর রাতে নিউমার্কেট এলাকা রণক্ষেত্র।’ পত্রিকাটি জানিয়েছে, রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়েছে। গত সোমবার মধ্যরাতে ওই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। রাত ১টার দিকে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, ঢাকা কলেজের নর্থ হলের দুই শিক্ষার্থী সোমবার রাত ৯টার দিকে নিউ সুপার মার্কেটে কেনাকাটা করতে যান। ওই সময়ে দোকানিদের সঙ্গে দরদাম নিয়ে তাদের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে দোকান কর্মচারী ওই দুই শিক্ষার্থীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন।
অবশ্য এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ী কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিউমার্কেট এলাকার একজন ব্যবসায়ী নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদ সামনে রেখে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রাত ১২টার দিকে হোস্টেলের শত শত শিক্ষার্থী কলেজের সামনের রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। একপর্যায়ে তারা আশপাশের মার্কেটে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। তখন দোকান কর্মচারীরাও তাদের লাঠি দিয়ে ধাওয়া দেয়। ওই ঘটনার জেরে মধ্যরাতে নিউমার্কেট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশে যানজট দেখা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ দুপক্ষের মাঝে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেলও নিক্ষেপ করে। এর আগে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।
সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন কেনাকাটার সময়ে দরদাম নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রথমে এক দোকানির ঝামেলা হয়। এর জেরে সংঘর্ষ হয়। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেট এবং আশপাশের অন্যান্য মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাঝে মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যানজট পরিস্থিতি দূরবর্তী সড়কগুলোর যান চলাচল প্রায় বন্ধ করে ফেলে। এবার ঢাকা কলেজ ছাত্রদের জন্য কিছুটা হলেও সহানুভূতি প্রকাশ করা যায়। তাদের একজন দোকান কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়। দু-পক্ষে উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে এ ঘটনাটি ঘটে। তারপরও বলা যায়, শিক্ষার্থীরা নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারেন না। এদেশে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং যথার্থভাবে বিচার না হওয়ার ফলে এ ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ঢাকা কলেজে যারা পড়াশোনা করে তাদের প্রতি আমার এক ধরনের দুর্বলতা আছে। আমার ঢাকা কলেজের বন্ধু-বান্ধবরা অনেকেই দেশ ও রাষ্ট্রের শীর্ষে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। ঢাকা কলেজ সুনাগরিক সৃষ্টিতে অতীতে বিশাল অবদান রেখেছে। আজ যখন দেখি ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে দোকানিদের সংঘর্ষ হচ্ছে, তখন খুব কষ্ট পাই। ঢাকা কলেজের পুরোনো গৌরব উদ্ধার করতে হলে প্রয়োজন উচ্চতর জ্ঞানেমণ্ডিত শিক্ষক। আসলে ছাত্ররা যখন বিচ্যুত হয়, তখন পুলিশি কার্যক্রম দিয়ে অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। একমাত্র শিক্ষকরাই পারেন ছাত্রদের মনোজগতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে। আমি আশা করব আমাদের সময়ে ঢাকা কলেজে শিক্ষার যে চমৎকার পরিবেশ ছিল, তা এখনকার শিক্ষার্থীরা পুনরুদ্ধার করে তাদের প্রতি দেশবাসীর সুনজর প্রতিষ্ঠিত করবে।
ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ
