Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শিশুর ঝুঁকি

Advertisement

Icon

ডা. সেলিনা সুলতানা

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শিশুর ঝুঁকি

Advertisement

২০২২ সালের শেষে আবারও সারা বিশ্বে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। চীনে জিরো কোভিড নীতি প্রত্যাহারের পরই ব্যাপকভাবে বেড়েছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা।

হাসপাতালগুলোয় আক্রান্তদের জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। শুধু চীন নয়; জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবারও বাড়ছে সংক্রমণ। বিবিসির মতে, এমন বাস্তবতায় সতর্কতার অংশ হিসাবে ৫ জানুয়ারি থেকে চীন, হংকং ও ম্যাকাও থেকে আগত যাত্রীদের জন্য কোভিড পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অটিস্টিক শিশু ও তাদের অভিভাবকদের সব ধরনের সহায়তার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় ডাক্তার, থেরাপিস্ট ও সাইকোলজিস্টরা নিয়োজিত আছেন। মানসিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্যারেন্টস কাউন্সেলিংও দেওয়া হচ্ছে। তারপরও অভিভাবকদের চিন্তা থাকছে তাদের অটিস্টিক শিশু নিয়ে।

এ বিশেষ শিশুরা তাদের নিজেদের রক্ষার জন্য WHO (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) গাইডলাইন ফলো করা শুরু করেছে, তাদের অভিভাবক বা সহায়তাকারীর সহায়তায়। সহায়তাকারী ভালোভাবে নিরাপদ থাকলেই শিশুটিও নিরাপদে থাকবে। সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে নিয়মিত কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে, সহায়তাকারীর হাত পরিষ্কার করতে হবে অবশ্যই অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে।

যিনি বিশেয শিশুর সঙ্গে থাকবেন, যেমন বাবা-মা বা সাহায্যকারী, তাকেও পারিবারিক ব্যবস্থাপনায় এ শিশুটির সহায়তা শুরুর আগে নিয়মিত হাত ধুয়ে নিতে হবে। সহায়তাকারী যদি করোনাভাইরাসের উপসর্গ অনুভব করেন, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। যখন তিনি হাসপাতালে ভর্তি হবেন, তখন অবশ্যই বিশেষ শিশুটির জন্য পরবর্তী একজন নির্ভরযোগ্য সেবাদানকারীর (বাসা বা থেরাপি সেন্টার) থেকে সহায়তা নিতে হবে, যাকে সব শিখিয়ে দিতে হবে।

তাকে শিশুটির যত্নের যাবতীয় তথ্যাবলি অভিভাবকের কাছ থেকে শিখে নিতে হবে। কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে শিশুটির সঙ্গে কাজ করতে হবে মাস্ক পরে। শিশুটির সহায়তাকারীকে কাশি বা হাঁচির সময় অবশ্যই ভাঁজ করা কনুইয়ে হাঁচি দিতে হবে। শিশুটিকে সহায়তার জন্য তাকে কাশি বা হাঁচির সময় টিসু ব্যবহার শেখাতে হবে এবং ব্যবহারের পর ময়লা ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।

সঙ্গে সঙ্গে হাত আবার জীবাণুমুক্ত করতে হবে। শিশুটি না পারলে যিনি সহায়তা করবেন তাকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। কখনই তিনি চোখে বা মুখে হাত জীবাণুমুক্ত না করে স্পর্শ করবেন না। সহায়তাকারী নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এ কাজগুলো পালন করবেন।

প্রাপ্তবয়স্ক মানসিক প্রতিবন্ধী বা অটিজমে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক শিশুটি যখন কাজ করে, তারা অসুস্থবোধ করলে যেন বাসায় থাকে, এটি নিশ্চিত করতে হবে। ধূমপান করার অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করতে প্রতিবন্ধী শিশুটির অভিভাবক বা সহায়তাকারীকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

ধূমপান শরীর বা ফুসফুসকে দুর্বল করে দেয়, যা ভাইরাসের সংক্রমণকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কোনো প্রয়োজন ছাড়া তিনি বাইরে বের হবেন না এবং মানুষের সমাগম থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন, যেমন মার্কেট, বাজার, অনেক লোক সমাবেশ যেখানে।

অনেক বিশেষ শিশু বা অটিজম আক্রান্ত প্রতিবন্ধীর চলাফেরার জন্য সহায়তাকারী যন্ত্রের (Assistive Device) প্রয়োজন হয়, যেমন হুইলচেয়ার, লাঠি। এগুলোকে সাবানপানি দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। যদি অটিজম আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক, প্রতিবন্ধী শিশুটি আক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

সেক্ষেত্রে যেসব ডাক্তার এসব নিয়ে কাজ করছেন, তাদের বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তারাই বুঝতে পারবেন চিকিৎসার পাশাপাশি এদের মানসিক প্রশান্তি ও থেরাপি দেওয়া কীভাবে সম্ভব। এখানে একটা মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমওয়ার্ক কাজ করবে; থেরাপিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, কাউন্সেলর, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সঙ্গে থাকবেন।

একটি সুস্থ স্বাভাবিক শিশুর আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে একটি বিশেষ শিশুর আক্রান্ত হওয়াকে খুব বেশি পার্থক্য করা যাবে না। শুধু একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, সাধারণ শিশুটিকে বোঝানো যাবে ভাইরাসটি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর কী কী নিয়মকানুন তাকে মেনে চলতে হবে।

কিন্তু বিশেষ শিশুটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় বোঝাতে হবে এবং তাকে নিরাপদ রাখার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিতে হবে। বিশেষ শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক বিশেষ শিশুটিকে সুস্থ রাখার জন্য পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি, তরল খাদ্য, ভিটামিন সি-যুক্ত পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে, যাতে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

করোনা প্রতিরোধে টিকা কর্মসূচি চলছে। অবশ্যই বয়স অনুযায়ী টিকা নিতে হবে সব শিশুকে।

ডা. সেলিনা সুলতানা : কনসালটেন্ট: নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্ট, বেটার লাইফ হসপিটাল; সাবেক অটিজম বিশেষজ্ঞ

Advertisement

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি শিশুর ঝুঁকি

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম