বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হোক

 নাসরীন সুলতানা 
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ সমাবর্তন। অর্থাৎ বাংলাদেশের দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একই মাসে কাছাকাছি সময়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বয়সের বিচারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার যৌবন পেরিয়ে পূর্ণবয়স্ক, যার বয়স বাংলাদেশের বয়সের সমান। অন্যদিকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বয়সের দিক থেকে একেবারে নবীন। এ বছর চতুর্থ সমাবর্তনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে এক হাজার ৮৩৪ জন গ্র্যাজুয়েটকে সনদ প্রদান করে; যার মধ্য থেকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ৫৭ জন স্বর্ণপদক ও অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে ২২ জন গ্র্যাজুয়েট চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক, ২৬ জন ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড এবং ৯ জন ডিন অ্যাওয়ার্ড পান (themailbd.com, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। অন্যদিকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ষষ্ঠ সমাবর্তনে অংশ নেবেন ১৫ হাজার ২১৯ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্য থেকে ১৬ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে (ঢাকা পোস্ট, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)।

ওই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দুটির তথ্য থেকে দেখা যায়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ বছরে চতুর্থবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সমান বয়সি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৫২ বছরে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৬ বার। অন্যদিকে শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২২ সালে ৫৩তম সমাবর্তনের আয়োজন করে। অর্থাৎ বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিতভাবে একটা লম্বা বিরতিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। অথচ প্রতিবছরই ছাত্র ভর্তি করার সময় তাদের শিক্ষাজীবন শেষে সনদ প্রদানের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবর্ষে ছাত্র ভর্তি করার সময় হলগুলোতে কী সংখ্যক আসন শূন্য আছে, বিভাগগুলোর কী পরিমাণ ধারণক্ষমতা আছে ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ছাত্রকল্যাণ ফান্ড এবং বিভাগ ছাত্রসংসদে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষাদান এবং পরীক্ষা শেষে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় না। আমি অনুমান করতে পারছি, এটি প্রায় বাংলাদেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল চিত্র। অথচ সমাবর্তন তথা শিক্ষাজীবন শেষে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সনদপ্রাপ্তির আনুষ্ঠানিকতা ছাত্র মাত্রেরই অধিকার। যে কোনো ট্রেনিং প্রোগ্রাম শেষেও একটি আনুষ্ঠানিক সনদ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অথচ কোটি কোটি টাকার বাজেটের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে সময় লাগে কয়েক বছর। অনেকেই এ সময়ের মধ্যে কর্মজীবনেও কয়েক বছর পার করে দেন; ফলে সনদপ্রাপ্তির আনন্দটা সময়মতো উপভোগ করতে না পেরে তিনি যেন ক্রমেই ম্লান হতে থাকেন। সত্যিকার অর্থেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো ছাত্রবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি।

অনেকে যুক্তি দিয়ে থাকেন, সমাবর্তন আয়োজন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। চার-পাঁচ বছরের দীর্ঘ বিরতিতে সমাবর্তন আয়োজন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া বৈকি। আর এ ব্যয়ের একটি বড় অংশ বরাদ্দ করা হয় ১০-১৫ হাজার গ্র্যাজুয়েটের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন প্যান্ডেল তৈরি করতে। পত্রপত্রিকা মারফত জানতে পারলাম, এ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ষষ্ঠ সমাবর্তনের প্যান্ডেল বাবদ খরচ হতে যাচ্ছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। করোনা-পরবর্তী এ প্রচ্ছন্ন দুর্ভিক্ষের সময়ে এ এক অবশ্যম্ভাবী বিলাসিতা বৈকি! বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্র্যাজুয়েট উভয়ের জন্যই এটা গলায় বিঁধা কাঁটার মতো। প্যান্ডেল ছাড়া সমাবর্তন আয়োজন সম্ভব নয়, আবার এত টাকার জোগান দেওয়াও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এ অর্থ জোগানের চাপ গিয়ে পড়েছে রেজিস্ট্রেশন ফি’র ওপর। গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বিরাজ করছে অসন্তোষ, ফেসবুকের টাইমলাইন ছেয়ে যাচ্ছে খেদভরা পোস্টে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুব সহজেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারে। প্রতিবছর প্রথমবর্ষে ছাত্র ভর্তি করার সময় বিভাগের ছাত্রকল্যাণ তহবিল, বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত ফান্ডের মতো সমাবর্তন তথা শিক্ষাজীবন শেষে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদানের বিষয়টি মাথায় রেখে একটা অর্থ বরাদ্দ দিতে পারে। এটি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটে কিংবা শিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি এর মাধ্যমে এ আয়োজন করা যেতে পারে, যেমনটি এখন করা হচ্ছে। একইভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন হতে পারে অডিটোরিয়াম বা কোনো হলরুমে। এতে করে প্রতিবছর অল্পসংখ্যক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আয়োজন করতে হবে বলে সমাবর্তন আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বেগ পেতে হবে না। আবার অন্যদিকে একটা বিশাল অঙ্কের অর্থ অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের এক মাইলফলক। তাই সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসাবে গ্র্যাজুয়েটদের সামনে এমন একজন ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যার জীবন থেকে গ্র্যাজুয়েটরা একটি সুন্দর এবং বাস্তবধর্মী দিকনির্দেশনা পাবেন। সমাবর্তন বক্তা হতে পারেন শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সফল এবং বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব। একটু লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাব-স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে একবার সমাবর্তন বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টেকনোলজি জগতের অন্যতম পুরোধা অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস, যিনি তার বক্তব্যে তার জীবনের তিনটি ঘটনা বর্ণনা করে গ্র্যাজুয়েটদের ভবিষ্যতে কী করণীয়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং যা বিশ্বের কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বর্তমান যুগ বিশ্বায়নের যুগ। তাই একজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সমাবর্তন বক্তা হিসাবে আমন্ত্রণ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করতে পারে। এতে সদ্য শিক্ষাজীবন সমাপ্তকারী গ্র্যাজুয়েটরা নিজেরা এ ধরনের সম্মানসূচক ডিগ্রি অর্জনের জন্য অনুপ্রাণিত হবেন, কর্মজীবনে সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন, সমাজ এবং মানবতার কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন। মোটকথা, প্রতিটি সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা দায়িত্ব হলো, গ্র্যাজুয়েটদের সামনে কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জনকারী একজন আইডল তুলে ধরা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ করি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারেনি কিংবা সমাবর্তন বক্তা নির্বাচন করার ক্ষেত্রে নিজেদের প্রচলিত কনভেনশনের বাইরে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সমাবর্তন বক্তব্য গ্র্যাজুয়েটদের জন্য মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে না।

সমাবর্তনের অন্যতম এক আকর্ষণ স্বর্ণপদক প্রদান। স্বর্ণপদক একদিকে যেমন একজন গ্র্যাজুয়েটের জন্য তার কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি, অন্যদিকে তেমনি এটি বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের প্রেরণা। যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে পুরস্কার এবং স্বীকৃতি মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহ প্রদান করে। তাই স্বর্ণপদক প্রদানের ক্ষেত্র এবং পরিধি বাড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিসির একটা অংশ হওয়া উচিত। কিন্তু দিনে দিনে টাকার অবমূল্যায়ন এবং স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণপদক প্রদান করা সম্ভব হয় না কিংবা কয়েক বছরের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে হয়তো একজন বা দুজন গ্র্যাজুয়েটকে ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়; যেমন-এ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মোফাসসিল উদ্দিন আহমেদ স্বর্ণপদক ১১ জন গ্র্যাজুয়েটের মধ্য থেকে ১ জনকে প্রদান করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ স্বর্ণপদকের জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ আছে, তাতে একজনকেই কেবল এ পদক প্রদান করা যাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ সংবাদ পড়ার পর খুবই মর্মাহত হয়েছি। মোফাসসিল উদ্দিন আহমেদ স্বর্ণপদকপ্রাপ্তির যে শর্ত, তাতে এ ১১ জনের ফলাফলই সেই শর্ত পূরণ করে। কিন্তু অর্থ সংকুলান করতে না পারার কারণে অনেকেই তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্র্যাজুয়েট উভয়ের জন্যই বিব্রতকর বটে।

এখন কথা হচ্ছে, ক্রমবর্ধমান মূল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্বর্ণপদকের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে? আমরা যদি একটু উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকাই, তাহলে সহজেই এ সমস্যার সমাধান খুঁজে পাব। একটি বিশ্ববিদ্যালয় একজন গ্র্যাজুয়েটের জন্য দ্বিতীয় আঁতুড়ঘর। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গ্র্যাজুয়েটের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত তার প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য লিপিবদ্ধ রাখা। আর বর্তমান যুগে এটি কঠিন কোনো কাজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের কাছে স্বর্ণপদকের ফান্ড গঠনের জন্য অনুরোধ করা যেতে পারে। আমি মাঝেমধ্যেই ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে ইমেইল পাই গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের জন্য বার্সারি ফান্ডে কিছু সহায়তা করার জন্য। ইউনিভার্সিটি থেকে দীর্ঘ একটি ইমেইল পাঠানো হয়, যেখানে আমার পাঠানো ১০০ কিংবা ৫০ ডলার কী করে একজন মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি স্টুডেন্টের টিউশন ফি প্রদানে সহায়ক হতে পারে, তার বর্ণনা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একজন অ্যালামনাইয়ের সম্পর্ক যেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস কিংবা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আগমন, র‌্যালি, স্মৃতিচারণ ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশালসংখ্যক অ্যালামনাইকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড গঠনের জন্য কাজে লাগাতে পারে। এতে একদিকে একজন অ্যালামনাই এবং তার ‘আল্মা ম্যাটারের’ (alma mater) মধ্যকার বন্ধন আরও অটুট হবে; অন্যদিকে স্বর্ণপদক প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক জটিলতা থাকলে সেটা নিরসন করা সম্ভব হবে। অ্যালামনাই ফান্ড থেকে দরিদ্র এবং মেধাবী কয়েকজন ছাত্রকে সারা বছরের জন্য বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

আমাদের দেশে সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চলে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় যেন ব্যস্ত থাকে এ আয়োজনকে ঘিরে। এ প্র্যাকটিস থেকেও আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েটদের অনুষ্ঠান। এটির আয়োজন যেন বর্তমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

পরিশেষে বলতে চাই, স্বাধীনতার ৫২ বছরে দেশ অনেক দূর এগিয়েছে। অর্থনীতি আর নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে এক বিস্ময়। দেশে এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৩। বিশ্ববিদ্যালয় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এক একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা শিক্ষাজীবন শেষে অনতিবিলম্বে একটি সুন্দর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদপ্রাপ্ত হয়ে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পাক।

নাসরীন সুলতানা : সহযোগী অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; পিএইচডি শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও, কানাডা

nsultana00ju@juniv.edu

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন