Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

বাইফোকাল লেন্স

সুদানের উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা কতটুকু

Advertisement

Icon

একেএম শামসুদ্দিন

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুদানের উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা কতটুকু

Advertisement

ক্ষমতা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে এখন ভয়ংকর উত্তেজনা বিরাজ করছে। সুদানে বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সেখানকার আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফ-এর প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়।

এ প্রক্রিয়ায় এ দুটি বাহিনীকে একীভূত করার পর নতুন বাহিনীর নেতৃত্বে কে থাকবেন অথবা কে কার অধীনে কাজ করবেন, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং এর জেরেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে জেনারেল দাগালো আরএসএফ-এর সদস্যদের রাস্তায় নামায়, যা শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ লড়াইয়ে রূপ নেয়। এ লড়াই রাজধানী খার্তুমসহ দেশটির অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।

অথচ কিছুদিন আগেও এ দুই জেনারেলের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। ২০১৯ সালে ৩০ বছরের স্বৈরশাসক সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বাশিরকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতে তারা দুজনই একসঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানেও বুরহান ও দাগালো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় ট্রানজিশনাল মিলিটারি কাউন্সিল (টিএমসি)। একপর্যায়ে বুরহানকে টিএমসির প্রধান করা হয়।

এ কাউন্সিল দুই বছরের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বেসামরিক সংগঠন তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে দাবি জানাতে থাকে। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও এ ব্যাপারে চাপ আসে। মাস কয়েক পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে টিএমসি বদলে গঠন করা হয় সার্বভৌম পর্ষদ (এসসি)। সামরিক-বেসামরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গঠিত এ পর্ষদ ২০১৯ সাল থেকে সুদান চালাচ্ছে।

সার্বভৌম পর্ষদ গঠনের পর তার প্রধান হন বুরহান। পর্ষদের উপনেতা আরএসএফ-এর প্রধান দাগালো। সার্বভৌম পর্ষদের নেতা হিসাবে বুরহান কার্যত সুদানের সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হন। এ পর্ষদ দেশটির গণতন্ত্রপন্থি বেসামরিক শক্তিগুলোর সঙ্গে কাজ করে আসছিল।

তবে দেশ পরিচালনায় কিছুদিনের মধ্যেই তাদের ভেতর মতপার্থক্য দেখা দেয়। ফলে দিনদিন সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। এমন এক পরিস্থিতিতে ২০২১ সালে আরও একটি সামরিক অভ্যুত্থান হলে এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে চলে যেতে হয়। অতঃপর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে একটি বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির এক চুক্তি স্বাক্ষরও হয়। তবে তাদের ভেতর পুনরায় মতবিরোধের জন্য সেই সমঝোতাও চূড়ান্ত রূপ লাভ করতে পারেনি। তারপর থেকেই বুরহান ও দাগালোর মধ্যে বিরোধ তীব্র হতে থাকে।

যে বিষয়টি বিরোধের একেবারে কেন্দ্রে চলে আসে তা হলো, আরএসএফকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা। একপর্যায়ে দাগালো আরএসএফ-এর সশস্ত্র সদস্যদের দেশের বিভিন্ন অংশে মোতায়েন করেন। তার এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি সুদানের সেনাবাহিনী। তারা এ ব্যবস্থাকে তাদের জন্য হুমকি হিসাবে ধরে নেয়। ফলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ উত্তেজনা প্রশমনে তাদের মধ্যে অল্পবিস্তর আলোচনাও শুরু হয়েছিল।

তাতে আশা করা গিয়েছিল যে, এ আলোচনার মধ্য দিয়ে হয়তো সমাধানের কোনো উপায় বেরিয়ে আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। অতএব উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়; যা এখনো অব্যাহত আছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দেশটিতে এতদিন ধরে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, এ সংঘাতের ফলে তা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

যদিও ২৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ৭২ ঘণ্টা করে দুই দফায় অস্ত্রবিরতি শুরু হয়; কিন্তু সে অস্ত্রবিরতি বেশিক্ষণ টিকেনি। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই আছে। অস্ত্রবিরতির মধ্যেই সুদানের বিমানবাহিনী রাজধানী খার্তুমে প্রেসিডেন্ট ভবনের কাছেই অবস্থিত আরএসএফ-এর অবস্থানের ওপর বিমান হামলা চালায়। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর সাধারণ নাগরিকসহ সুদানে কর্মরত জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার স্টাফরা হুমকির মধ্যে পড়ে যায়।

এ সংঘর্ষে এযাবৎ আনুমানিক ৬০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। ৩০ থেকে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ সুদান ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশ চাঁদে আশ্রয় গ্রহণ করে। বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনসহ সে দেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে সুদানে আনুমানিক দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিক আটকা পড়ে আছেন। বাংলাদেশি নাগরিকদের মের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দেশে প্রত্যাবর্তন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ লেখা যখন লিখছি, জানা গেছে তখন পর্যন্ত মোট ৭০০ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরে আসার জন্য তাদের নাম নিবন্ধন করিয়েছেন।

উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানের আয়তন ১৮,৮৬,০৬৮ বর্গকিলোমিটার। জনগণের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার। দেশটিতে সুন্নি মুসলমানের সংখ্যাই বেশি। মুসলমানরা আবার দুই ভাগে বিভক্ত। স্থানীয় বা নুবিয়ান মুসলমান ও আরব বংশোদ্ভূত মুসলমান। সুদান পেট্রোলিয়াম ও খনিজ তেলসমৃদ্ধ দেশ। তেল ছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাস, সোনা, রুপা, জিপসাম, জিংক, লোহা, সিসা, ইউরেনিয়াম, কপার, গ্রানাইট, নিকেল, তামাসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ দেশ সুদান।

সুদান প্রায় শতবছরের ওপর ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। সে সময় ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী সুদানের মুসলমান অধ্যুষিত উত্তর অংশকে উত্তর সুদান এবং খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ ও খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ দক্ষিণ অংশকে দক্ষিণ সুদান হিসাবে বিভক্ত করে শাসন করে। অনেক বিক্ষোভ ও আন্দোলনের পর ১৯৫৬ সালে সুদান স্বাধীনতা লাভ করে। তবে সুদান ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে ব্রিটিশদের ইন্ধনেই খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণ সুদানে ১৯৫৫ সালে গৃহযুদ্ধ বাধে, যা ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চলে। ফলে ১৯৭২ সালে দক্ষিণ সুদান স্বায়ত্তশাসন লাভ করে।

পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালে সামরিক জান্তা জাফর নিমেরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে সুদানে ফেডারেল সরকার ও ইসলামি আইন চালুর উদ্যোগ নিলে দক্ষিণ সুদানে পুনরায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের মদদে; এরপরই স্বায়ত্তশাসনের দাবি পরিণত হয় স্বাধীনতার দাবিতে। এ গৃহযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষে প্রায় ২০ লাখ মানুষ নিহত হয় এবং বাস্তুহারা হয় প্রায় ৫০ লাখ। শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ২০১১ সালে এক গণভোটের মাধ্যমে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা লাভ করে।

২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হলে অধিকাংশ তেলক্ষেত্র হারায় সুদান। তখন দেশটির ক্ষমতায় ছিল একনায়ক শাসক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বাশির। প্রেসিডেন্ট বাশির সরকারের ওপর আগে থেকেই চলে আসছিল মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। ফলে সুদানের অর্থনীতি প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়ে। এ নিষেধাজ্ঞার জন্য তেল রপ্তানি থেকে আয় দিনদিন কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বেশকিছু ব্যয় সংকোচনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকার। অনেক ভর্তুকিও কমানো হয়। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য সুদানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু সরকারের এ কর্মসূচিতে হিতে বিপরীত হয়।

রুটি ও জ্বালানি তেলের ভর্তুকি কমানোর পরিণতিতে সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড চাপে পড়ে যায়। ফলে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও অসন্তোষ শুরু হয়। প্রথমে বিক্ষোভের প্রধান ইস্যু ছিল অর্থনৈতিক দুর্দশা-বাজারে পণ্যের উচ্চমূল্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাব। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই বিক্ষোভের প্রধান দাবি হয়ে ওঠে প্রেসিডেন্ট বাশিরের পদত্যাগ এবং তার ৩০ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান। ওমর আল-বাশিরকে গদিচ্যুত করতে যে গণবিক্ষোভ হয়েছিল, তার নেতৃত্বে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো ভূমিকা ছিল না। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিল সুদানিজ প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন বা এসপিএ নামে একটি পেশাজীবী সংগঠন। প্রধানত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইনজীবীরা মিলে এ সংগঠনটি গড়ে তুলেছিল।

সুদান সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের জন্ম সুদানের উত্তরাঞ্চলে। স্বৈরশাসক ওমর আল-বাশিরের প্রায় ৩০ বছরের শাসনামলে একজন সেনা কমান্ডার হিসাবে তার উত্থান। অভ্যুত্থানের পর তিনিই কার্যত সুদানের ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন। ওমর আল-বাশিরকে যখন ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়, তখন তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর ইনস্পেকটর জেনারেল। দারফুর সংঘাতের সময় তিনি আলোচনায় আসেন এবং এ সময়েই তার ক্ষমতার উত্থান ঘটে।

অপরদিকে জেনারেল দাগালোর জন্ম দারফুর অঞ্চলে। উট চরানো আরব গোত্রের সদস্য তিনি। অভ্যুত্থানের পর আল-বুরহানের পরের অবস্থানে অভিষিক্ত হন তিনি। জেনারেল দাগালোর নেতৃত্বাধীন আরএসএফ গঠিত হয় ২০১৩ সালে। এ বাহিনীর মূলে রয়েছে কুখ্যাত জানজাওয়িদ মিলিশিয়া দল, যারা দারফুরের বিদ্রোহীদের নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছিল। আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও ওমর আল-বাশির এ দলটিকে ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আধাসামরিক বাহিনী হিসাবে স্বীকৃতি দিতে আইন পাশ করেন। এ আইনের বলে আরএসএফ একটি স্বতন্ত্র বাহিনীর রূপ পায়।

ক্ষমতার দিক দিয়ে দ্রুত উত্থানের সঙ্গে ওমর আল-বাশিরের মাধ্যমে দাগালোর ব্যবসায়িক অবস্থানও সুসংহত হতে থাকে। এ সময় তার নেতৃত্বে সুদানের বেশ কয়েকটি সোনার খনিতে তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ উঠেছে। সামরিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা দেশটির সেনাবাহিনীর বাইরে এরকম শক্তিশালী একটি বাহিনীর উপস্থিতিকে সুদানের অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ হিসাবে দেখছেন।

পশ্চিমা বিশ্ব ও আফ্রিকান ইউনিয়নের নেতারা উত্তেজনা প্রশমন ও দেশটিতে শান্তি স্থাপন করে বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে আনার জন্য উভয় পক্ষের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে সংঘর্ষ বন্ধে আরও জোরালো ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ করেছে।

সুদানে অবস্থিত বৈদেশিক যে কূটনৈতিক মিশনগুলো রাষ্ট্রক্ষমতা বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন, তারাও সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে এ দুই জেনারেলকে আলোচনার টেবিলে বসাতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আরএসএফ-এর প্রধান জেনারেল দাগালো সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমরা সুদানকে ধ্বংস করতে চাই না। বর্তমান এ পরিস্থিতির জন্য তিনি জেনারেল আল-বুরহানকে দায়ী করে বলেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তার সেনাদের ওপর অবিরাম গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। গোলাবর্ষণ বন্ধ না হলে কোনো আলোচনা নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমি আলোচনায় বসতে রাজি, তবে এজন্য যুদ্ধবিরতি মানতে হবে। শত্রুতা বন্ধ করলেই আমরা আলোচনায় বসতে পারি।’ এ লেখা যখন লিখছি, তখন পর্যন্ত এ বিষয়ে জেনারেল আল-বুরহানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, সুদান সেনাবাহিনীর মোট জনবলের সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি। অপরদিকে আরএসএফ বাহিনীর সদস্য প্রায় এক লাখ; তবে তারা অনেক বেশি সুসংহত। তারা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রেও সজ্জিত। কিন্তু সেনাবাহিনীর পক্ষে বিমানবাহিনী থাকায় শক্তির দিক থেকে সশস্ত্র বাহিনীকেই এগিয়ে রাখা যায়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতির শর্ত মান্য না করলে এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এ মুহূর্তে বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করে সুদানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই হবে সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এজন্য উভয় জেনারেলকে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে সুদানের এ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি প্রশমনের সম্ভাবনা ক্ষীণ দেখা যাচ্ছে।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, কলাম লেখক

Advertisement

সুদান

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম