বৈশ্বিক উষ্ণতায় ঝুঁকিতে শরণার্থীরা
jugantor
বৈশ্বিক উষ্ণতায় ঝুঁকিতে শরণার্থীরা

  যুগান্তর ডেস্ক  

১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশ্বিক উষ্ণতায় ঝুঁকিতে শরণার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিপদ ও ঝুঁকির মুখে পড়ছে শরণার্থীরা। যতই দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে এই বিপদ। ঝড়, বন্যা, ভূমিধস, খরা, দাবানল ও প্রচণ্ড তাপমাত্রার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা শরণার্থী শিবিরগুলো।

ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে আশ্রিত কোটি কোটি শরণার্থী।

এমনকি অনেক সময় শিবিরগুলো থেকে ফের উদ্বাস্তু হচ্ছে অনেকেই। জাতিসংঘের পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের অভিমতের আলোকে এসব তথ্য দিয়েছে বিবিসি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সমস্যার সবচেয়ে বড়টি বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এর ফলে বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রগর্ভে। বাস্তুহারা হচ্ছে মানুষ।

পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলছেন, তাপমাত্রা এখনই নিয়ন্ত্রণ করা হলে এবং এটা অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা একটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হবে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক মুখপাত্র শাইমা মান্তু বলেন, পরিবেশগত বিপর্যয় আমাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বাস্তু মানুষের জন্য শরণার্থী শিবিরগুলো প্রতিনিয়ত নানা বিপর্যয়ে আক্রান্ত হচ্ছে।

জলবায়ু শরণার্থী হল তারাই, যারা পরিবেশের আকস্মিক ও স্থায়ী পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে তাদের বাসস্থান হায়ায়। গত কয়েক দশকে শরণার্থীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। শুধু ২০১৮ সালেই ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে শরণার্থী হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষই শরণার্থী হয়েছে আবহাওয়া ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে।

জাতিসংঘের এক হিসাবে বিশ্বজুড়ে মোট শরণার্থীর সংখ্যা ৭ কোটি। আর বিশাল সংখ্যক এই শরণার্থী বিশ্বজুড়ে ছোটবড় অসংখ্য শিবিরের আশ্রয়ে রয়েছে। কিন্তু ঝড়, বন্যা, ভূমিধস ও খরার মতো বিপর্যয় সেগুলোতে হানা দিচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্যা।

চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকায় আঘাত হানে ঘূণিঝড় ইদাই। ঝড়ের তাণ্ডবলীলায় নিহত হয় ১ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময় জিম্বাবুয়ের একটি শরণার্থী শিবিরও ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়।

ইউএনএইচসিআরের মতে, ঝড়ের আঘাতে ১৩ হাজারের ওই শিবিরের অনেকেই গুরুতর আহত হয়। কাদা ও ইট দিয়ে তৈরি অন্তত ২ হাজার ঘর ভেঙে যায়।

ছয়শ’র বেশি টয়লেট ভেঙে পড়ে। শিবিরে বন্যার পানি ঢুকে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের অক্টোবরে একই পরিস্থিতির শিকার হয় দক্ষিণ সুদানের একটি শরণার্থী শিবির। সুদান থেকে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১৫ হাজারের শিবিরটি নজিরবিহীন বন্যায় আক্রান্ত হয়।

এ ছাড়া নাইজেরিয়ার মাইদুগুরি, মোজাম্বিকের কাবো দেলগাদো, সুদানের দারফুর, লেবাননের আরসাল, ইয়েমেনের হাজ্জাহ শরণার্থী শিবির বিরূপ আবহাওয়ার শিকার হয়েছে। এশিয়ায় সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির এখন বাংলাদেশের কক্সবাজারে।

মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির গণহত্যার মুখে পালিয়ে এখানে কয়েকটি শরণার্থী শিবিরে গত দুই বছর ধরে আশ্রয় নিয়ে আছে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী। শিবিরগুলোতে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাদের।

গত বছরের বর্ষা মৌসুমে শিবিরগুলো শুধু বন্যাই নয়, ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়ে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতে, বর্তমানে প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে শিবিরগুলো।

বৈশ্বিক উষ্ণতায় ঝুঁকিতে শরণার্থীরা

 যুগান্তর ডেস্ক 
১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বৈশ্বিক উষ্ণতায় ঝুঁকিতে শরণার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিপদ ও ঝুঁকির মুখে পড়ছে শরণার্থীরা। যতই দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে এই বিপদ। ঝড়, বন্যা, ভূমিধস, খরা, দাবানল ও প্রচণ্ড তাপমাত্রার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা শরণার্থী শিবিরগুলো।

ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে আশ্রিত কোটি কোটি শরণার্থী।

এমনকি অনেক সময় শিবিরগুলো থেকে ফের উদ্বাস্তু হচ্ছে অনেকেই। জাতিসংঘের পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের অভিমতের আলোকে এসব তথ্য দিয়েছে বিবিসি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সমস্যার সবচেয়ে বড়টি বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এর ফলে বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রগর্ভে। বাস্তুহারা হচ্ছে মানুষ।

পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলছেন, তাপমাত্রা এখনই নিয়ন্ত্রণ করা হলে এবং এটা অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা একটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হবে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক মুখপাত্র শাইমা মান্তু বলেন, পরিবেশগত বিপর্যয় আমাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বাস্তু মানুষের জন্য শরণার্থী শিবিরগুলো প্রতিনিয়ত নানা বিপর্যয়ে আক্রান্ত হচ্ছে।

জলবায়ু শরণার্থী হল তারাই, যারা পরিবেশের আকস্মিক ও স্থায়ী পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে তাদের বাসস্থান হায়ায়। গত কয়েক দশকে শরণার্থীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। শুধু ২০১৮ সালেই ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে শরণার্থী হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষই শরণার্থী হয়েছে আবহাওয়া ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে।

জাতিসংঘের এক হিসাবে বিশ্বজুড়ে মোট শরণার্থীর সংখ্যা ৭ কোটি। আর বিশাল সংখ্যক এই শরণার্থী বিশ্বজুড়ে ছোটবড় অসংখ্য শিবিরের আশ্রয়ে রয়েছে। কিন্তু ঝড়, বন্যা, ভূমিধস ও খরার মতো বিপর্যয় সেগুলোতে হানা দিচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্যা।

চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকায় আঘাত হানে ঘূণিঝড় ইদাই। ঝড়ের তাণ্ডবলীলায় নিহত হয় ১ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময় জিম্বাবুয়ের একটি শরণার্থী শিবিরও ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়।

ইউএনএইচসিআরের মতে, ঝড়ের আঘাতে ১৩ হাজারের ওই শিবিরের অনেকেই গুরুতর আহত হয়। কাদা ও ইট দিয়ে তৈরি অন্তত ২ হাজার ঘর ভেঙে যায়।

ছয়শ’র বেশি টয়লেট ভেঙে পড়ে। শিবিরে বন্যার পানি ঢুকে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের অক্টোবরে একই পরিস্থিতির শিকার হয় দক্ষিণ সুদানের একটি শরণার্থী শিবির। সুদান থেকে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১৫ হাজারের শিবিরটি নজিরবিহীন বন্যায় আক্রান্ত হয়।

এ ছাড়া নাইজেরিয়ার মাইদুগুরি, মোজাম্বিকের কাবো দেলগাদো, সুদানের দারফুর, লেবাননের আরসাল, ইয়েমেনের হাজ্জাহ শরণার্থী শিবির বিরূপ আবহাওয়ার শিকার হয়েছে। এশিয়ায় সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির এখন বাংলাদেশের কক্সবাজারে।

মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির গণহত্যার মুখে পালিয়ে এখানে কয়েকটি শরণার্থী শিবিরে গত দুই বছর ধরে আশ্রয় নিয়ে আছে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী। শিবিরগুলোতে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাদের।

গত বছরের বর্ষা মৌসুমে শিবিরগুলো শুধু বন্যাই নয়, ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়ে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতে, বর্তমানে প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে শিবিরগুলো।

 

ঘটনাপ্রবাহ : বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট